ধরন কিন্তু ধারণ বলো রানি কারণ

বাক্যে বিশেষ্য পদ হিসেবে ব্যবহৃত সংস্কৃত ‘ধরন (√ধৃ+অন)’ শব্দের অর্থ পদ্ধতি, প্রণালি, বর্ষণবিরতি, আকৃতি, ভঙ্গি, চালচলন প্রভৃতি। অন্যদিকে, বিশেষ্য পদ হিসেবে ব্যবহৃত সংস্কৃত ‘ধারণ (√ধারি+অন)’ শব্দের অর্থ অবলম্বন (লেখনী ধারণ), পরিধান (বেশ ধারণ), সংকুলান (পাত্রের ধারণক্ষমতা), বিধৃতকরণ (শব্দ ধারণ), গ্রহণ (উপাধি ধারণ)। ধারণ থেকে ধারণা। ধারণা শব্দের অর্থ বোধ, অনুমান, বিশ্বাস।

ধরন ও ধারণ বানানের দন্ত্য-ন ও মূর্ধন্য-ণ নিয়ে অনেকে সংশয়ে পড়ে যান। সংশয় দূর করার জন্য একটি সহজসূত্র আমি ব্যবহার করি। সূত্রটি আপনারা অনুসরণ করতে পারেন। অবশ্য এর চেয়ে ভালো কোনো নিমোনিক থাকলে দিতে পারে।সহজভাবে মনে রাখুন, মূর্ধন্য-ণ হলে আ এবং দন্ত্য-ন হলে অ।

বিষয়টিকে (১+২)= (২+১) করে হিসেব করুন। অ-এর পরে আ এবং দন্ত্য-ন এর পর মূর্ধন্য-ণ। ধরন বানানে ‘দন্ত্য-ন’ কারণ ধরন বানানের প্রথম বর্ণ অ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দ্বিতীয় বর্ণ দন্ত্য-ন। ধারণ বানানে মূর্ধন্য-ণ, কারণ ধারণ বানানের প্রথম বর্ণে আ অতএব এর সঙ্গে যুক্ত হলো প্রথম বর্ণ মূর্ধন্য-ণ। প্রসঙ্গত, ‘ধারণ’ শব্দের একটি অর্থ গ্রহণ। ‘গ্রহণ’ শব্দে মূর্ধন্য-ণ, তাই ‘ধারণ’ শব্দেও মূর্ধন্য-ণ। ‘ধারণ’ থেকে উদ্ভূত শব্দেও মূর্ধন্য-ণ।

error: Content is protected !!