নত্ববিধি কত সহজ : কেন বানানগুলো এমন : প্রশ্নোত্তরে ণত্ববিধি

ণত্ববিধির খুঁটিনাটি/১

ড. মোহাম্মদ আমীন

১) তৎসম শব্দে ‘ক্ষ’-এর পর সাধারণত মূর্ধণ্য-ণ হয়। যেমন: ক্ষণ, ক্ষীণ, ক্ষীয়মাণ, ক্ষুণ্ন, ক্ষুণ্নমনা ইত্যাদি। ‘ক্ষুণ্ন’, ‘ক্ষুন্নিবৃত্তি’ ও ‘ক্ষুন্নিবারণ’ শব্দের বানান লক্ষ করুন। ‘ক্ষুণ্ন’ শব্দের বানানে /মূর্ধন্য-ণ ফলা/ কিন্তু ‘ক্ষুন্নিবৃত্তি’ ও ‘ক্ষুন্নিবারণ’ শব্দের বানানে /দন্ত্য-ন/ এর দ্বিত্ব হয়েছে। কিন্তু কেন?  এখানে /ণ/ হয়নি কেন?

পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.

উত্তর:  ক্ষুন্নিবৃত্তি = (ক্ষুৎ + নিবৃত্তি) এবং ক্ষুন্নিবারণ =(ক্ষুৎ + নিবারণ)। দুটোই সন্ধিজাত শব্দ। এজন্য এদের বানানে ‘ক্ষ’ থাাকা সত্ত্বেও ‘দন্ত্য-ন’ পরিবর্তন হয়ে মূর্ধন্য-ন হয়নি।

 (২) ‘অন্তঃস্থ- র’ বর্ণের পর  সাধরণত ‘মূর্ধন্য-ণ’ হয়। যেমন: করণ, বরণ, ধারণা ইত্যাদি। কিন্তু ‘ধরণ’ ও ‘দরুন’ বানানে দন্ত্য-ন কেন?

উত্তর: কারণ ‘ধরণ’ শব্দটি তৎসম নয়; সে জন্য দন্ত্য-ন। অন্যদিকে বাক্যে অব্যয় হিসেবে ব্যবহৃত ‘দরুন’ শব্দটি ফারসি তাই ‘দন্ত্য-ন’। এমন আর একটি শব্দ হলো ধরনধারণ।

(৩) তৎসম শব্দের বানানে ‘রেফ’-এর পর ‘মূর্ধন্য-ণ’ হয়। তাই বানানে সাধারণত ‘রেফ’-এর পর ‘দন্ত্য-ন’ দেখা যায় না। কিন্তু  /অহর্নিশ, দুর্নাম, দুর্নিবার/ প্রভৃতি শব্দ তৎসম। তবু  বানানে ‘দন্ত্য-ন’ কেন?

উত্তর:  কারণ  সাধিত শব্দে ণত্ব-বিধি প্রযোজ্য হয় না। অহর্নিশ, দুর্নাম, দুর্নিবার, দুর্নীতি প্রভৃতি সাধিত শব্দ। তাই এসব শব্দের বানানে ‘দন্ত্র-ন’।

(৪) আমরা জানি ‘র’-বর্ণের পরস্থিত তৎসম শব্দের বানানে সাধারণত ‘মূর্ধন্য-ণ’ হয়। কিন্তু, দুর্নীতি, দুরপনেয়, দুর্নাম, দুর্নিবার, দুরন্বয় ইত্যাদি তৎসম শব্দ হওয়া সত্ত্বেও ‘র’- বর্ণের পর  ‘দন্ত্য-ন’; কেন?

উত্তর:  দুর্‌- উপসর্গের পর ণত্ব-বিধান প্রযোজ্য হয় না। অর্থাৎ ‘দন্ত্য-ন’ অপরিবর্তিত থাকে। তাই দুর্নীতি, দুরপনেয়, দুর্নাম,  দুরন্বয় ইত্যাদি শব্দের বানানে ‘দন্ত্য-ন’।দুর’ অর্থ খারাপ বলে হয়তো এমন করে বানান নির্ধারণ করা হয়েছে।

৫.  আমরা জানি, তৎসম শব্দে /ঋ, র, র-ফলা, রেফ, ষ, ক্ষ/ প্রভৃতির পর ‘মূর্ধন্য-ণ’ হয়।  /গণক, গণনা, গণিত, গণৎকার, গণনীয়, গণ্য, গণশক্তি, গণনায়ক/ প্রভৃতি শব্দে /র, ঋ/ বা তাদের কোনো কার-চিহ্ন বা ‘ক্ষ’  নেই; তবু বানানে মূর্ধন্য-ণ কেন?

পুখিনিলয়, বাংলাবাজার

উত্তর: ‘গণ’ হচ্ছে এমন একটি তৎসম শব্দ যার বানানে কোনো বিধি ছাড়াই স্বভাবত ‘মূর্ধন্য-ণ’ বসে। তাই এ শব্দের সঙ্গে যদি কোনো তৎসম শব্দ বা শব্দাংশ যুক্ত হয় তাহলে গণ-এর  ‘মূর্ধন্য-ন’ স্বাভাবিকভাবে অবিকল থেকে যায়। এজন্য গণনা অর্থে গণ ধাতু সহযোগে গঠিত শব্দে /মূর্ধন্য-ণ/ আবশ্যক। যেমন: গণক, গণনা, গণিত, গণৎকার, গণনীয়, গণ্য প্রভৃতি। ‘সমূহ’ অর্থে ‘গণ’ ধাতু যোগে গঠিত শব্দেও /মূর্ধন্য-ণ/ আবশ্যক। যেমন: গণতন্ত্র, গণশক্তি, গণনায়ক, গণজাগরণ, গণসংগীত, গণিকা, জনগণ ইত্যাদি।

 


নত্ববিধি সম্পর্কে বিস্তারিত জানার এবং সহজে ণত্ববিধি আয়ত্তে আনার জন্য দেখতে পারেন:  ণত্ববিধান : ণত্ব-বিধান : মূর্ধন্য-ণ বিধি
——————————————————————————————————————————————————————–

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/১

দৈনন্দিন বিজ্ঞান লিংক

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/২

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/৩

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/৪

কীভাবে হলো দেশের নাম

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র/১

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র/২

শুদ্ধ বানান চর্চা প্রমিত বাংলা বানান বিধি : বানান শেখার বই

বাংলা ভাষার মজা, ড. মোহাম্মদ আমীন, পাঞ্জেরী পাবিলিকেশন্স লি.।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ অভিধান, ড. মোহাম্মদ আমীন, পুথিনিলয়, বাংলাবাজার, ঢাকা।

Language
error: Content is protected !!