নাই শুধু নাই উনিশ কিন্তু ঊনবিংশ

ড. মোহাম্মদ আমীন

অনেক কিছুর অভাব আছে জীবনে, অজীবনে। অনেকের রায়েছে অভাব; তবে নাই-এর কোনো অভাব নাই। চারদিকে শুধু নাই নাই নাই নাই নাই এবং নাই। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানে পৃথক ভুক্তিতে ছয়টি নাই ঠাঁই পেয়েছে স-ইজ্জতে। রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন:
 
নাই নাই নাই যে বাকি, সময় আমার–
শেষের প্রহর পূর্ণ করে দেবে না কি।।
বারে বারে কারা করে আনাগোনা,
কোলাহলে সুরটুকু আর যায় না শোনা–
 
১. বাংলা নাই অর্থ (অব্যয়ে) নিষেধাজ্ঞা, নিষেধ ( নাই বা গেলে আজ); প্রশ্ন ( সে যায় নাই?); (বিশেষণে) অনুচিত (দুষ্টোমি করতে নেই), দারিদ্র্যপীড়িত (নাইঘরে খাঁই বেশি)।
 
২.সংস্কৃত নাস্তি থেকে উদ্ভূত নাই অর্থ (বিশেষ্যে) অভাব ( কোথাও শান্তি নাই)। (বিশেষণে) অস্তিত্বহীন (নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো)। নাইয়ের মাঝে বসে আছে অনন্ত বিশ্বাস। নাই নাই ভয়, হবে হবে জয় (রবীন্দ্রনাথ)।
 
৩. সংস্কৃত স্নেহ থেকে উদ্ভূত নাই অর্থ আশকারা, প্রশ্রয়। বেশি নাই দিলে মাথায় ওঠে। শিশুদের বেশি নাই দিতে নাই।
 
৪. সংস্কৃত নাভি থেকে উদ্ভূত নাই অর্থ (বিশেষ্যে) নাভি। নাই কাটল ধাই, ভয়ের কিছু নাই।
 
৫. সংস্কৃত নাপিত থেকে উদ্ভূত নাই অর্থ (বিশেষ্যে) নাপিত। নাইয়ের হাতে আধার। নাই এসেছে নাই চুল কাটবে সবার, তাড়াতাড়ি পালাই।
 
৬. বাংলা নাই অর্থ স্নান, গোসল। আমি স্নানঘরে নাই। নাইতে গেলেন রাধা, কলসি ঘাটে বাঁধা।
 
“নাই বা ঘুমালে প্রিয় , রজনি এখনও বাকি
প্রদীপ নিভিয়া যায়, শুধু জেগে থাক তব আঁখি।”
 

উনিশ কিন্তু ঊনবিংশ

“উনিশ লিখতে উ, কিন্তু ঊনত্রিশ/ঊনপঞ্চাশ….. ঊননব্বই লিখতে দীর্গ উ (ঊ) ব্যবহার হয় কেন? সঠিক লজিক্যাল ব্যাখা দিবেন।”
জনাব, আপনার ধারণা সঠিক নয়। উনিশ বানানের মতো উনত্রিশ, উনপঞ্চাশ— উননব্বই বানানেও উ-কার ব্যবহার করা হয়। অনুরূপ: উনত্রিশ, উনচল্লিশ, উনষাট, উনসত্তর, উনআশি শব্দের বানানেও উন। কারণ এগুলো অতৎসম শব্দ।অতৎসম শব্দে সাধারণত ঊ-কার হয় না। অতৎসম উন অর্থ কম।
তবে ঊনবিংশ (১৯), ঊনত্রিংশ,(২৯), ঊনচত্বারিংশ (৩৯), ঊনপঞ্চাশৎ (৪৯), ঊনষষ্টি (৫৯), ঊনসপ্ততি (৬৯), ঊনাশীতি (৭৯), ‍ঊননবতি (৮৯) বানানে ঊন ব্যবহার করা হয়। কারণ এগুলো তৎসম শব্দ। তৎসম ঊন অর্থ কম।

অযোগবাহ

সংস্কৃত অযোগবাহ (অযোগ+বহ্‌+অ) অর্থ এমন বিশেষ ধরনের বর্ণ যে বর্ণের সঙ্গে অন্য স্বর বা ব্যঞ্জনের যোগ কল্পিত হয়নি বা যোগ হয় না; যে বর্ণের সঙ্গে অন্য কোনো স্বর বা বর্ণ যুক্ত হয় না। যেমন: অনুস্বার ও বিসর্গ। এই বর্ণ দুটি অন্য কোনো স্বর বা ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয় না। তাই তাদের অযোগবাহ বর্ণ বলা হয়।
 
 
শুবাচ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পোস্টসমূহ: All link
সূত্র:
১. ব্যাবহারিক প্রমিত বাংলা বানান সমগ্র, ড. মোহাম্মদ আমীন, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.
২. কোথায় কী লিখবেন বাংলা বানান: প্রয়োগ  ও অপপ্রয়োগ,  ড. মোহাম্মদ আমীন, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.
৩. বাংলা ভাষার মজা, ড. মোহাম্মদ আমীন, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.
 
 
 

 

error: Content is protected !!