নাটা নাটাফল; কাটি কাঠি; ঘুণাক্ষর শব্দের উৎপত্তি

ড. মোহাম্মদ আমীন
নাটা নাটাফল:  নাটা বা নাটাফল হলো এক প্রকার কাঁটাযুক্ত গাছের ছোটো ফল বা তার বীজ। এটি লতাকরঞ্জ বা কারঞ্জাফল বা শুধু কারঞ্জা নামেও পরিচিত। নাটা দেশি শব্দ। সম্ভবত সাঁওতাল ভাষা হতে আগত। নাটাফলকে বিখ্যাত করেছেন বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
“. . . আহা দিদির এ সব খেলনা কিছুই নেই— মরে কেবল শুকনো নাটাফল আর রড়ার বীচি কুড়িয়ে. . .” আম আঁটির ভেঁপু, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

কাটি বনাম কাঠি: ট=ঠ: সংস্কৃত কাষ্ঠিকা থেকে উদ্ভূত কাঠি অর্থ— (বিশেষ্যে) কাঠ, বাঁশ, ধাতু প্রভৃতির তৈরি লম্বা ও সরু শলাকা। যেমন: দেশলাইয়ের কাঠি। কাঠির মতো চিকন লোক। কাটি বাংলা শব্দ। বানান ভিন্ন হলেও কাটি আর কাঠি সমার্থক। যেমন: দেশলাইয়ের কাটি। কাটির মতো চিকন লোক। যা লাউ তা কদুর মতো যা কাটি তাই কাঠি।

অর্থাৎ কাটি= কাঠি। সুতরাং, ট=ঠ।
ঘুণাক্ষর শব্দের উৎপত্তি:  ঘুণাক্ষর অর্থ— সামান্যতম ইঙ্গিত বা আভাসমাত্র। শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ— ‘ঘুণপোকাদ্বারা তৈরি করা অক্ষর’। ঘুণপোকা কাঠ কাটে, অবিচল কেটে চলে কোনো চিন্তাভাবনা ছাড়া। দৈবাৎ কোনো কোনো কাটা অংশ কাকতালীয়ভাবে অক্ষরাকৃতি ধারণ করে। ঘুণেপোকাদ্বারা ‍সৃষ্ট অক্ষরাকৃতির এ কাটাকুটিই হচ্ছে ঘুণাক্ষর। মানুষের ভাষার মতো সুনির্দিষ্ট অক্ষর তৈরির ইচ্ছে, জ্ঞান বা সচেতনতা কোনোটাই ঘুণেপোকার নেই। তবু নিজের অজান্তে কাটা-কাঠের কোনো কোনো অংশ অক্ষরের মতো লাগে বা মানুষের তৈরি অক্ষরের মতো হয়ে যায়। বস্তুত ঘুণপোকার অক্ষর সৃষ্টির এ অসচেতন প্রয়াস থেকে ‘ঘুণাক্ষর’ শব্দটির উৎপত্তি। যা হবে বলে কখনও চিন্তা করা হয়নি, তা যদি হয়ে যায় বা দৈবাৎ ঘটে যায়, তখনই ঘুণাক্ষরে জানা-অজানা বিষয়টি উঠে আসে। 
ঘুণাক্ষরেও ভাবিনি এমন হবে আমার।
জানা অজানা অনেক মজার বিষয়: https://draminbd.com/?s=অজানা+অনেক+মজার+বিষয়
শুবাচ গ্রুপের সংযোগ: www.draminbd.com
শুবাচ যযাতি/পোস্ট সংযোগ: http://subachbd.com/
আমি শুবাচ থেকে বলছি
error: Content is protected !!