নিউটনের ছাত্রী: এক মলাটে নিউটনের ছাত্রী: সমগ্র পর্ব: কিশোর উপন্যাস

২০

সেলিমা বিষণ্ন মনে বসে আছে। টেবিলে খাতা, চোখে জল, মুখে কষ্ট। সাহেদ সান্ত্বনা দিয়ে যাচ্ছে। আমি ঢোকার পরও সেলিমার ভাবান্তর হলো না। কেবল দাঁড়িয়ে নিস্পৃহভঙ্গিতে সালাম দিয়ে আবার বসে পড়ল। আমার দিকে একবার তাকিয়ে দুহাতকে কাঁচি বানিয়ে টেবিলে রেখে সেজদার মতো মাথাটা তার ওপর নুয়ে দিল।
আবার কী হলো?
সেলিমা টেবিল থেকে মুখ না তুলে বলল, গতকাল বাবা ডেকে বলেছেন—
কী বলেছেন?
মেয়েদের বেশি পড়া ঠিক নয়।
তুমি কিছু বলনি?
কী বলব? তিনি কি আমার কথা শুনবেন। বরং কিছু বললে রেগেমেগে আরো তাড়াতাড়ি লেখাপড়া বন্ধ করে দেবেন। খুব একগুঁয়ে মানুষ।
তুমি কী করতে চাও?
আমার পড়ার ইচ্ছা, অনেক পড়ার ইচ্ছা। আমি আরো পড়ব।
বিয়ের পরও পড়া যায়।
যদি না পারি?
বড়ো লোকের মেয়ে, মেধাবী, পারবে না কেন? টাকা থাকলে সব হয়।
টাকা থাকলে সব হয় না, স্যার।
কী যে বলো-না, আমি টাকার জন্য টিউশনি করি।
বললাম-না, বাবা আমার বিয়ের দিকে মনযোগ দিয়েছেন।
এখন তো এসএসসি পরীক্ষা।
হ্যাঁ।
তাহলে?
পরীক্ষার পর বিয়ে দিয়ে দেবেন।
এজন্য মন খারাপ?
এবার সশব্দে কেঁদে উঠে সেলিমা। সাহেদের চোখও জলে ভরে গেল। আমার চোখ মলিন হয়ে গেল। মলিন মুখে হাসি এনে বললাম, একবার কী হয়েছিল জান?
সাহেদ বলল, কী হয়েছিল স্যার?
ভীষণ ভয়ানক একটা কিছু হয়েছিল। কিন্তু সেলি যে কাঁদছে!
“কার হয়েছিল?” সেলিমা কান্না থামিয়ে বলল, “কীভাবে হয়েছিল? কেন হয়েছিল? বলুন-না স্যার?
সেলিমা আখতার নামের এক মেধাবী ছাত্রীর মেন্টর নিউটনের।
আপনি মজা করছেন, সাহেদ বলল।
জিভটা দিয়ে মজা করতে না পারলে রেখে লাভ কী?
নিউটনের কী হয়েছিল?
মুহূর্তের মধ্যে সেলিমা স্বাভাবিক হয়ে গেল।
ক্লাশে শিক্ষক ছাত্রকে বললেন- – -।
কী বললেন, সেলিমার আগ্রহ উপছে।
শিক্ষক বললেন, নিউটন গাছের নিচে বসেছিলেন। এসময় একটা আপল পড়ল। এই পতন থেকে নিউটন মাধ্যাকর্ষণ শক্তির সূত্র আবিষ্কার করলেন। পৃথিবী হতবাক হয়ে গেল। তার এই আবিষ্কার বিজ্ঞানের ধারাই বদলে দিয়েছিল। আচ্ছা বাবারা এখন বলো তো— নিউটন কী করলে এই মাধ্যাকর্ষণ সূত্র আবিষ্কার করতে পারতেন না?
ছাত্ররা কী বলেছিল স্যার? সেলিমা বলল, “বলেন-না স্যার, তাড়াতাড়ি।”
ছাত্ররা বলেছিল, আমাদের মতো ক্লাসে বসে বইয়ের মধ্যে মাথা ঢুকিয়ে থাকলে এই মাধ্যাকর্ষণ সূত্র কখনো আবিষ্কৃত হতো না। আমাদের ক্লাস থেকে তুলে আপেল গাছের তলায় নিয়ে যান। পৃথিবীতে আরও কত অজানা আকর্ষণ আছে— সব আবিষ্কার করে ফেলব। আপেল খাব, নিউটন হব। নিউটন হয়ে আপেল খাব।
হেসে দিল সেলিমা। সাহেদও।
“আরেকটা কৌতুক বলুন-না স্যার?”
সাহেদের কথা শেষ হওয়ার আগে দ্রুত রুমে ঢুকল তাহের। আলনা থেকে একটা লুঙ্গি নিয়ে আবার দ্রুত চলে গেল। তাহের চলে যাওয়ার পর সেলিমা বলল, রুমে বিশ্রী একটা গন্ধ পাচ্ছি না?
হ্যাঁ।
তাহের ভাইয়ার জুতোর চাপে লেফটে থাকা মোজার কান্নার গন্ধ।
মোজার গন্ধ না কি ঘামের?
একটি হলেই হলো স্যার।
ঘামের এত গন্ধ কেন? সাহেদ বলল।
আসলে ঘামের কোনো গন্ধ নেই। আমাদের চামড়ায় থাকা ব্যাকটেরিয়া ঘামের গন্ধ সৃষ্টি করে। সবচেয়ে বেশি ঘামে পায়ের তলা। একজন মানুষ গড়ে প্রতিবছর প্রায় ২৭৮ গ্যালন ঘাম ছাড়ে। শুধু পায়ের তলা দিয়ে বের হয় বিশ গ্যালন। এই ঘামে ব্যাকটেরিয়া মিশে মোজাকে দুর্গন্ধ করে দেয়। দোষ হয় মোজার।
মেয়েরা বেশী ঘামে না কি ছেলেরা?
সেলিমা সাহেদের প্রশ্নের উত্তরে বলল, অ্যাকচুয়ালি ঘর্মগ্রন্থির সংখ্যা মেয়েদের বেশি। তবে তারা কম ঘাম ছাড়ে। এরা তোমাদের মতো যেখানে সেখানে অসভ্যতা করে না।
স্যার, আপু কি ঠিক বলেছেন?
একশভাগ।
“মোজার ঘামের গন্ধ মারাত্মক”, সেলিমা বলল, “এর জন্য আমেরিকায় প্রতিবছর ৮২ হাজার বিবাহবিচ্ছেদ হয়। ”
এ তথ্য কোথায় পেলে।
একটা পুস্তকে। নামটা মনে পড়ছে না। মোজা-না, স্যার সোজা না। একমাত্র বাঁকা পোশাক। নিশি রাত বাঁকা চাঁদ আকাশে – – -। পৃথিবীর কোন দেশের মানুষ বেশি জুতো পরে জানেন স্যার? আমেরিকান। প্রতি আমেরিকান বছরে গড়ে উনিশ জোড়া জুতো পরে।
একদম ঠিক। ওরা খুব জুতো কেনে। আমেরিকান সিভিল ওয়ারের সময় একদিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহম লিংকন হোয়াইট হাউজে তার ডাইনিং রুমের মেঝেতে বসে নিজ হাতে নিজের জুতো পালিশ করছিলেন।
এসময় ক্যাবিনেটের সেক্রেটারি অব স্টেট মিস্টার হেনরি শোয়ার্ড খুব জরুরি কাজে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি চাইলেন।
অনুমতি দিলেন লিংকন।
রুমে ঢুকে প্রেসিডেন্টকে জুতো পালিশ করতে দেখে শোয়ার্ড বিস্মিত হয়ে বললেন, স্যার, আপনি কী করছেন?
জুতো পালিশ করছি।
কার জুতো, স্যার?
নিজের জুতো।
শোয়ার্ড বললেন, স্যার, আমাদের দেশে তো কোনো ভদ্রলোক নিজের জুতা পালিশ করেন না।
লিংকন বললেন, তাহলে বলুন, আপনার দেশের ভদ্রলোকেরা কার জুতা পালিশ করেন? মুচির মতো অন্যের?
 

All Link : শুবাচে প্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ লেখা

All Link

All Links/1

All Links/2 শুবাচির প্রশ্ন থেকে উত্তর

All Links/3

১. স্যমন্তক: এক মলাটে স্যমন্তক সম্পূর্ণ উপন্যাস একসঙ্গে

২. অর্হণা: অর্হণা : এক মলাটে সম্পূর্ণ উপন্যাস অর্হণা

৩. সন্মিত্রা: সন্মিত্রা সম্পূর্ণ উপন্যাস : প্রথম থেকে শেষ পর্ব

৪. তিনে দুয়ে দশ: তিনে দুয়ে দশ সম্পূর্ণ উপন্যাস একসঙ্গে

৫. তিনে দুয়ে দশ: এক মলাটে নিউটনের ছাত্রী সমগ্র পর্ব

 

Language
error: Content is protected !!