নিকারাগুয়া (Nicaragua) : ইতিহাস ও নামকরণ

কীভাবে হলো দেশের নাম ( উত্তর আমেরিকা)

ড. মোহাম্মদ আমীন

নিকারাগুয়া (Nicaragua)

নিকারাগুয়া (Nicaragua) মধ্য আমেরিকা যোজকে অবস্থিত বৃহত্তম দেশ। সরকারি নাম নিকারাগুয়া প্রজাতন্ত্র। যদিও নিকারাগুয়া মধ্য আমেরিকার

প্রকাশক: পুথিনিলয়। উত্তর আমেরিক।

বৃহত্তম রাষ্ট্র, তবে জনসঙ্খ্যা কম। এর উত্তরদিকে রয়েছে হন্ডুরাস, দক্ষিণে কোস্টারিকা। পশ্চিমদিকে প্রশান্ত মহাসাগর, পূর্বদিকে ক্যারিবীয় সাগর। দু’টি বৃহৎ মিষ্ট জলের হ্রদ – মানাগুয়া হ্রদ ও নিকারাগুয়া হ্রদ, অনেকগুলি সুপ্ত ও জীবন্ত আগ্নেয়গিরি ও বিস্তীর্ণ রেনফরেস্ট এই দেশের অন্যতম ভৌগলিক বৈশিষ্ট্য। দেশের জীববৈচিত্রের প্রাচুর্য এ দেশকে মেসোআমেরিকার এক অন্যতম জৈবসম্পদে পূর্ণ দেশে পরিণত করেছে। ১৮২১ খ্রিষ্টাব্দের  ১৫ সেপ্টেম্বর মেক্সিকান বিদ্রোহের পর নিকারাগুয়া স্পেন হতে স্বাধীনতা লাভ করে।

নিকার (Nicarao) ও আগুয়া (agua) শব্দের সমন্বয়ে নিকারাগুয়া নামের উৎপত্তি। এর অর্থ নিকার এর জল। নিকার একজন ব্যক্তির নাম এবং স্প্যানিশ ভাষার শব্দ আগুয়া  অর্থ জল। বর্তমান লেক নিকারাগুয়া (Lake Nicaragua) বা নিকারাগুয়া হ্রদের তীরে ভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর কিছু লোক বসবাস করত। তাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা ছিলেন নিকার। স্প্যানিশ অনুসন্ধানকারী (explorer) গিল গঞ্জালেজ ডাভিলা (Gil González Dávila) বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী শাসিত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এলাকাগুলো একত্রিত করে ভূখণ্ডটির নাম সম্মিলিত নাম দেন নিকারাগুয়া।

নিকারাগুয়া নামের উদ্ভব নিয়ে একাধিক কাহিনি প্রচলিত আছে। জনশ্রুতি অনুযায়ী  স্পেনীয় কঙ্কুইস্তাদোর গিল গঞ্জালেস দাভিলা ১৫২৩ খ্রিষ্টাব্দের  ১৫ অক্টোবর এ অঞ্চলে এসে আধুনিক সান হোর্খে বা রিভাসে উপজাতিপ্রধান নিকারাও ‘Nicarao’এর সাক্ষাৎ পান। তাঁর নাম থেকেই দেশটির নাম হয়

প্রকাশক: পুথিনিলয়। আফ্রিকা

নিকারাগুয়া। অন্যদের মতে নিকান শব্দের অর্থ স্থানীয় নাহুতল Nahuatl ভাষায় ‘এখানে’, আরাহুয়াক মানে ‘মানুষ’। এই দুটি শব্দ থেকেই এসেছে নিকারাগুয়া শব্দটি। আরেকটি মত হলো, স্পেনীয়দের আগমনকালে এখানে আমেরিন্ডিয়ান উপজাতি বাস করতো তাদের নাম ছিল নিকারাও। গিল গঞ্জালেস দাভিলা এই নিকারাও শব্দের সাথে স্পেনীয় শব্দ আকুয়া অর্থাৎ জল যুক্ত করে নিকারাগুয়া শব্দটি তৈরি করেন।

নিকারাও (nicarao) ও আগুয়া (agua) শব্দ হতে নিকারাগুয়া নামের উদ্ভব। নিকারাও একটি ইন্ডিয়ান উপজাতি। ১৫০০ খ্রিস্টাব্দে স্পেনিয়ার্ডদের আগমনকালে নিকারাগুয়া নামে পরিচিত হ্রদটির নিকারাও উপজাতীয়দের দখলে ছিল। তাই স্পেনিশ অভিযাত্রী হ্রদটির নাম রাখেন নিকার+ আগুয়া = নিকারাগুয়া। যার অর্থ নিকারাগুয়াদের জল। উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত এ দেশটি ক্রান্তীয় অঞ্চলে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থিত।

নিকারাগুয়ার মোট আয়তন ১,৩০,৩৭৫ বর্গকিলোমিটার বা ৫০,১৯৩ বর্গমাইল। ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের  হিসাবমতে, জনসংখ্যা ৬০, ৭১,০৪৫ এবং প্রতি বর্গকিলোমিটার লোকসংখ্যা ৫১। আয়তন বিবেচনায় নিকারাগুয়া পৃথিবীর ৯৭তম বৃহত্তম দেশ কিন্তু জনসংখ্যার ঘনত্ব বিবেচনায় পৃথিবীর ১৫৫-তম জনবহুল দেশ । ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের  হিসাবমতে, নিকারাগুয়ার জিডিপি (পিপিপি) ৩১.৭২১ বিলিয়ন ইউএস ডলার এবং মাথাপিছু আয় ৫,০৬৯ ইউএস ডলার। অন্যদিকে, জিডিপি (নমিনাল) ১২.৫৫৭ বিলিয়ন ইউএস ডলার এবং মাথাপিছু আয় ২,০০৬ ইউএস ডলার। মুদ্রার নাম করডোবা। রাজধানী মানাগুয়া।

নিকারাগুয়ার উত্তরে হন্ডুরাস, পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগর, দক্ষিণে কোস্টা রিকা ও পূর্বে ক্যারিবীয় সাগর। প্রাকৃতিকভাবে দেশটি তিনটি অঞ্চলে বিভক্ত। যথা : পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগরীয় নিম্নভূমি, মধ্যভাগের আর্দ্র ও ঠাণ্ডা উচ্চভূমি ও পূর্বদিকের ক্যারিবীয় নিম্নভূমি।

জনসংখ্যার মধ্যে মেস্তিজো, অর্থাৎ শ্বেতকায় ও স্থানীয় আমেরিন্ডিয়ানদের মিশ্রিত জনসংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৬৯.৭ শতাংশ, ১৭.৬ শতাংশ শ্বেতকায়

প্রকাশক: পুথিনিলয়। আফ্রিকা

(মূলত স্পেনীয় বংশোদ্ভূত) ও ৯.২ শতাংশ আফ্রিকান বংশোদ্ভূত। মোট জনসংখ্যার ৯০ শতাংশ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ও মানাগুয়া অঞ্চলের বাসিন্দা। ২০০৫ সালের হিসেব অনুযায়ী ক্যারিবীয় উপকূলের মোট বাসিন্দা মাত্র ৭ লক্ষ। আবার কৃষ্ণাঙ্গ জনসংখ্যার ৯৫ শতাংশই বাস করেন ক্যারিবীয় উপকূল অঞ্চলে। এর ফলে গোটা দেশের সাপেক্ষে সংখ্যা কম হওয়া সত্ত্বেও ক্যারিবীয় উপকূল অঞ্চলে কৃষ্ণাঙ্গরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ (৫৯ শতাংশ)। মোট জনসংখ্যার মাত্র ৩.২ শতাংশ আমেরিন্ডিয়ান। ২০০৫ খ্রিস্টাব্দে হিসাব অনুযায়ী দেশে জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৪২.৭ জন।

নিকারাগুয়ার সরকারি ভাষা স্পেনীয়। ৯৭ শতাংশই মাতৃভাষা হিসেবে এই ভাষায় কথা বলেন। এছাড়াও ক্যারিবীয় উপকূলে বসবাসকারী বিভিন্ন আমেরিন্ডিয়ান উপজাতির মানুষ তাদের নিজস্ব ভাষাতেও কথা বলে থাকেন। এই ভাষাগুলোর মধ্যে মেস্কিটো, মাতাগালপা, মায়াংনা, রামা, সুমো, গারিফুনা, প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। এদের মধ্যে কয়েকটি ভাষায় বর্তমানে এত কম মানুষ কথা বলেন যে সেগুলিকে আশঙ্কাজনক হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যেমন উলুওয়া ভাষা (২০০৯ খ্রিষ্টাব্দের   হিসাব অনুযাায়ী এ ভাষায় মাত্র ৩৫০ জন মানুষ কথা বলেন।

ভাষাবিদদের কাছে বর্তমানে নিকারাগুয়া প্রতীক ভাষা (ইডিওমা দে সেনিয়াস দে নিকারাগুয়া) একটি অত্যন্ত আগ্রহোদ্দীপক বিষয়। ১৯৭০’ এর পরবর্তী সময়ে পশ্চিম নিকারাগুয়ার একদল বধির স্কুল ছাত্রের নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে জন্ম নেওয়া এই ভাষাটি বর্তমানে অনেকের মতেই পৃথিবীর নবীনতম ভাষা। মূলত মানাগুয়া শহর সংলগ্ন এলাকায় বধির মানুষদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এই ভাষায় ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত হিসেব অনুযায়ী প্রায় ৩০০০ মানুষ কথা বলেন।

নিকারগুযার দুটি তটরেখা রয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরের তটরেখা রেয়েছে পশ্চিমে এবং ক্যারিবিয়ান তটরেখা পূর্বে। নিকারাগুয়ার রাজধানী মানাগুয়া হলেও পর্যটকদের নিকট সবচেয়ে প্রিয় শহর গ্রানাডা। এটি ল্যাটিন আমেরিকার প্রাচীনতম শহর। ১৫২৪ খ্রিস্টাব্দে হার্নানডেজ ডি করডোবা Hernandez

প্রকাশক: পুথিনিলয়। দক্ষিণ আমেরিকা।

de Cordoba) এটি প্রতিষ্ঠা করেন। তার নামানুসারে দেশটির মুদ্রার নাম করডোবা (Cordoba) রাখা হয়। নিকারাগুয়া হ্রদের আয়তন ৮,২৬৪ বর্গকিলোমিটার। এখানে ৪৩০টি আগ্নেয়গিরি রয়েছে। এ হ্রদে এমন কিছু প্রজাতির মাছ আছে, যা পৃথিবীর আর কোথাও পাওয়া যায় না।

১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে আমেরিকান জেনারেল ইউলিয়াম ওয়াকার নিজেকে নিকারাগুয়ার প্রেসিডেন্ট দাবি করে এবং দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রের দাস-স্টেট ঘোষণা করে। পরের বছর নিকারাগুয়ার জনগণ জেনারলেকে নিকারাগুয়া হতে দূর করে দেয়।


কিউবা ( Cuba) : ইতিহাস ও নামকরণ

ডোমিনকা (Dominica) : ইতিহাস ও নামকরণ

 ডোমিনিকান রিপাবলিক (Dominican Republic) : ইতিহাস ও নামকরণ

এল স্যালভেডর (El Salvador) : ইতিহাস ও নামকরণ

গ্রেনাডা (Grenada) : ইতিহাস ও নামকরণ

গুয়েতেমালা (Guatemala) : ইতিহাস ও নামকরণ

ইউনাইটেড স্টেটস (United States) : ইতিহাস ও নামকরণ

হাইতি (Haiti) : ইতিহাস ও নামকরণ

হন্ডুরাস (Honduras) : ইতিহাস ও নামকরণ

জ্যামাইকা (Jamaica) : ইতিহাস ও নামকরণ

মেক্সিকো (Mexico) : ইতিহাস ও নামকরণ

সূত্র:  কীভাবে হলো দেশের নাম, ড. মোহাম্মদ আমীন, পুথিনিলয়, বাংলাবাজার, ঢাকা।

All Link

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র

Knowledge Link

বাংলাদেশ ও বাংলাদেশবিষয়ক সকল গুরুত্বপূর্ণ সাধারণজ্ঞান লিংক

আফ্রিকা মহাদেশ : ইতিহাস ও নামকরণ লিংক

ইউরোপ মহাদেশ : ইতিহাস ও নামকরণ লিংক

এশিয়া মহাদেশ : ইতিহাস ও নামকরণ লিংক

error: Content is protected !!