নিজস্বী: মুদ্রণপ্রমাদ ভুল অজ্ঞতা না কি ভণ্ডামি, জানতে চাই বাংলা একাডেমি

ড. মোহাম্মদ আমীন 
সংযোগ: https://draminbd.com/নিজস্বী-মুদ্রণপ্রমাদ-ভু/
নিজস্বী:  বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান মতে, সংস্কৃত নিজস্ব থেকে উদ্ভূত খাঁটি বাংলা নিজস্বী অর্থ (বিশেষ্যে)— স্মার্টফোন আইপ্যাড, ল্যাপটপ প্রভৃতির ক্যামেরায় তোলা আত্মপ্রতিকৃতি; selfie.
 বাংলা একাডেমি প্রণীত প্রমিত বানানবিধি অনুযায়ী অভিধানে (বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান) প্রদত্ত নিজস্বী একটি ভুল শব্দ।  ইংরেজি ‍ selfie শব্দের প্রতিশব্দ বা অর্থ  হিসেবে প্রদত্ত কথা ও বানান দুটোই ভুল। দেখুন কেন শব্দটি ভুল।
  • নিজস্বী শব্দটি সংস্কৃত নিজস্ব হতে উদ্ভূত একটি অতৎসম/ খাঁটি বাংলা শব্দ। বাংলা একাডেমি প্রণীত প্রমিত বানানবিধি অনুযায়ী অতৎসম শব্দের বানান ঈ/ঈ-কার বিধেয় নয়। কিন্তু, নিজস্বী অতৎসম হওয়া সত্ত্বেও বানানে ঈ-কার দেওয়া হয়েছে। তাই নিজস্বী বাননটি ভুল ও নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। 
  • যদি অতৎসম নিজস্বী বানানে ঈ-কার দেওয়া  ঠিক হয়, তো অতৎসম ঈদ বানানে কেন ঈ দেওয়া অসংগত হবে? কেন ভুল হবে,  ইসলামি বানানেই ঈ-কার দেওয়া?

  •  বিশ্বব্যাপী প্রয়োগমতে, ইংরেজি selfie শব্দের বাংলা অর্থ স্মার্টফোন আইপ্যাড ল্যাপটপ প্রভৃতির ক্যামেরায় নিজের তোলা নিজের বা নিজেদের আত্মপ্রতিকৃতি। কিন্তু বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান শব্দটির যে অর্থ দিয়েছে সেটি হচ্ছে— “স্মার্টফোন আইপ্যাড, ল্যাপটপ প্রভৃতির ক্যামেরায় তোলা আত্মপ্রতিকৃতি।” এখানে স্পষ্টতই নিজের ছবি নিজে তোলার প্রধান ও অনিবার্য শব্দটি অনুপস্থিত। 
  • ইংরেজি অভিধানমতে, Selfie অর্থ: A photograph that one has taken of oneself, typically one taken with a smartphone or webcam and shared via social media.  অধিকন্তু, এখানে কেবল আত্মপ্রতিকৃতির কথা বলা হয়েছে। অথচ ইংরেজি selfie কেবল অত্মপ্রতিকৃতিতে সীমাবদ্ধ নয়। নিজ ছাড়াও সেলফিতে অনেকের ছবি থাকতে পারে।

বিদেশি শব্দেও বাংলা একাডেমি ঈ/ঈ-কার দিতে শুরু করেছে

চিনাবাদাম নামে পরিচিত খুদে আকারের বাদামের জাতটি চীন বা চায়না নামে পরিচিত দেশ থেকে আসেনি। চিনাবাদাম ও তার প্রারম্ভে অঙ্গীভূত চিনা শব্দের আদি উৎস দক্ষিণ ভারত। এর আসল নাম চিন্নাবাদাম। চিন্না হলো তামিল বা তেলেগু ভাষার শব্দ। যার অর্থ— ছোটো, খুদে, ক্ষুদ্র। অন্যদিকে, বাদাম হচ্ছে— ফারসি উৎসের শব্দ। অর্থাৎ তামিল চিন্না ও ফারসি বাদাম নিয়ে গঠিত চিন্নাবাদাম নামের বীজটিই আমাদের পরিচিত চিনাবাদাম। এটি অতৎসম মিশ্র শব্দ। তাই বাংলা একাডেমি প্রণীত প্রমিত বানানবিধি অনুযায়ী বানানে ঈ-কার হয় না। সুতরাং, শব্দটির বিধিসম্মত বানান: চিনাবাদাম। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান লিখেছে: লেখা আছে চীনাবাদাম। ওই অভিধানমতে, ফারসি উৎসের বাদাম অর্থ (বিশেষ্যে)— ভারতীয় উপমহাদেশ-সহ বিশ্বের উপ-উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলে চাষ করা হয় এমন দ্বিবীজবিশিষ্ট উদ্ভিদের মাটির নিচে জাত কঠিন খোলসাবৃত তেল প্রোটিন ও ভিটামিন বি এবং ই সমৃদ্ধ শক্ত বীজবিশেষ। এটি সম্ভবত ব্যুৎপত্তিজনিত অজ্ঞতা কিংবা মুদ্রণপ্রমাদ।  হয়তো অভিধানটি যারা সংকলণ করেছেন, তারা জানেন না চিনাবাদাম নামে পরিচিত খুদে আকারের বাদামের জাতটি চীন বা চায়না নামে পরিচিত দেশ থেকে আসেনি। বাদাম ফারসি। আর চিন্না> চিনা তামিল শব্দ। সুতরাং, ঈ-কার বিধেয় নয়।  সুতরাং, চিনাবাদাম অর্থ চায়নার বা চায়না হতে আগত বাদাম নয়। এর অর্থ ছোটো বাদাম, খুদে বাদাম।

 চিনাজোঁক বানানটিও ওই অভিধানে ভুল লেখা হয়েছে।  চীনেমাটি কীভাবে হয়? চীনা বানানে কীভাবে ঈ-কার হয়? চীন বানানে ঈ-কার হতে পারে, কারণ এটি তৎসম বলা হচ্ছে। চীনা, চীনে এগুলো বাংলা প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ এবং তৎসম নয়। 
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, চিনাঘাস, চিনাজোঁক, চিনাবাদাম, চিনামাটি, চিনেজোঁক, চিনেমাটি, চিনেবাদাম প্রভৃতি অতৎসম শব্দ। বাংলা একাডেমি প্রণীত প্রমিত বাংলা বানানবিধিতে বলা হয়েছে, “অতৎসম শব্দে ঈ-কার হয় না।” তাই বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান যদি এসব শব্দের বানানে ঈ-কার দিয়ে থাকে, তাহলে ধরে নিতে মুদ্রণপ্রমাদ, নতুবা অজ্ঞতা বা ভুল। আক্কেল থাকলে আগামী সংস্করণে  এসব বিধিবহির্ভূত বানানগুলো তারা শুদ্ধ করে নেবে। এমন আরও অনেক ভুল এই অভিধানে রয়েছে।
অজানা অনেক মজার বিষয়: https://draminbd.com/…
শুবাচ গ্রুপের সংযোগ: www.draminbd.com
শুবাচ যযাতি/পোস্ট সংযোগ: http://subachbd.com/
আমি শুবাচ থেকে বলছি
error: Content is protected !!