নিমোনিক : কালী কিন্তু কালিদাস, কালীনাম কিন্তু কালিমাতা

কালী কিন্তু কালিদাস, কালীনাম কিন্তু কালিমাতা
ড. মোহাম্মদ আমীন
উ-কার’-এর পর ‘দীর্ঘ ঊ-কার’। তাই, দুর্গার পর পূজা। এজন্য দুর্গায় ‘উ-কার’, কিন্তু পূজায় ‘ঊ-কার’। কারণ, ‘উ-কার’ নিয়ে ‘দুর্গা’ আসার পর ‘ঊ-কার’ নিয়ে ‘পূজা’ আসে। অনেকে বলেন, ‘দুর্গা’, ‘দুর্গতি’ নাশ করেন বলে তাঁর নামে ‘উ-কার’।  দুর্গা পূজার পর লক্ষ্মী পূজা। লক্ষ্মীর ক্ষ-তে ‘ম’ ও ‘ঈ-কার’ না দিলে লক্ষ্মী কোনো মঙ্গল করে না। ম-য়ে মঙ্গল, তো ‘ম’- না-থাকলে ‘লক্ষ্মী’ মঙ্গল করবে কীভাবে? লক্ষ্মী পূজার পর আসে কালী পূজা। কালীতেও দীর্ঘ ঈ-কার। লক্ষ্মী ও কালীর মতো ভগবতী, সরস্বতী, জগদ্ধাত্রী,

পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.

ষোড়শী, ভুবনেশ্বরী, ভৈরবী, ধূমাবতী, মাতঙ্গী, চণ্ডী, গৌরী, ষষ্ঠী, পঞ্চমী- সবাই ‘ঈ-কার’ বহন করে।

কালীমূর্তি, কালীমন্দির, কালীপট, কালীক্ষেত্র, কালীঘাট, কালীনাম, কালীতলা, কালীসেবা, কালী-আরাধনা সবখানে দীর্ঘ ঈ-কার। কিন্তু কবির বেলায় কালিদাস। কেন? জ্যোতিভূষণ চাকীর বাংলা ভাষার ব্যাকরণ গ্রন্থে লিখেছেন, “কালী, চণ্ডী, দেবী, ষষ্ঠী ইত্যাদি শব্দের পর ‘দাস’ থাকলে নাম বোঝাতে সমাসে পূর্বপদের ‘ঈ-কার’ পরিবর্তিত হয়ে ‘ই-কার’ হয়ে যায়। যেমন—কালিদাস, চণ্ডিদাস, দেবিদাস, ষষ্ঠিদাস ইত্যাদি।তবে, “উপাসক অর্থে ‘ঈ-কার’ বজায় থাকবে। যেমন: কালীদাস, চণ্ডীদাস ইত্যাদি।”
মনে রাখুন:  ‘কালী’ শব্দের পর দাস এলে  উচ্চবংশের দাবিদার ‘ঈ-কার’ সরে গিয়ে সামনে ছাতা রূপী ‘ই-কার’ বসিয়ে দেয়। কারণ ‘ঈ-কার’ দাস-এর পাশে থাকতে চায় না। বাধ্য হয়ে ‘কালি’ ছাতা রূপী হ্রস্ব ‘ই-কার’ মহাশয়কে সঙ্গে নিয়ে কালিদাস হয়ে যায়। এজন্য দাস-যুক্ত সবই ‘কালি’।  যেমন: কালিদাস, কালিদাস কান্ত, কালিদাস ভট্টাচার্য, কালিদাস রায়, কালিদাস নাগ ইত্যাদি।
একটা মজার কথা:  চণ্ডির সাথে ‘ঈ-কার’ ও ‘ই-কার’ ‍দুটোই চলে। যেমন: চণ্ডীদাস, চণ্ডিদাস। তবে চণ্ডীর পর দাস না থেকে অন্য কেউ থাকলে চণ্ডী সবসময়  ‘ঈ-কার’ নিয়ে চলে। যেমন: চণ্ডীচরণ, চণ্ডীপাঠ, চণ্ডীপ্রসাদ, চণ্ডীপদ। কিন্তু দোয়াতের কালি, কলমের কালি জুতোর কালি ইত্যদি ‘ই-কার’।
দম ফাটানো মজা ও কালিমাতা
‘কালী’ কিন্তু ‘মাতা’র সঙ্গে যুক্ত হলে ‘ঈ-কার’ ছেড়ে ছাতারূপী ‘ই-কার’ মাথায় দিয়ে মায়ের সঙ্গে চলে। তাই কালিমাতা। মনে রাখবেন, ‘ই-কার’ ছাতা এবং ‘ঈ-কার’ পেছন থেকে আসা শাড়ির ঘোমটা।
কালিদাস চণ্ডীদাস পাণিনি: কালিদাস শব্দের বানানে স্ত্রী প্রত্যয় হ্রস্ব হয়। তাই, কালীদাস না হয়ে হবে কালিদাস। পাণিনির সূত্রটি হলো: “ঙ্যাপোঃ সংজ্ঞাছন্দসোর্বহুলম্ (৬/৩/৬৩)”। এই একই সূত্র অনুসারে চণ্ডিদাস সিদ্ধ। তবে বিকল্পে চণ্ডীদাসও হবে। বাংলা একাডেমি আধুুনিক বাংলা অভিধান অনুযায়ী চণ্ডীদাস প্রমিত। তেমনি চণ্ডীপাঠ, চণ্ডীমঙ্গল, চণ্ডীমণ্ডপ।
মনে রাখবেন, দেবদেবী সম্পর্কিত সব বানানের শেষে ঈ-কার। যেমন: সরস্বতী, পার্বতী, কালী, লক্ষ্মী, সত্যবতী, রুক্মিণী, কৌশিকী, জয়ন্তী – – -। চণ্ডীদাসের রজকিনি দেবী ছিলেন না, তাই তার নামে ই-কার। ব্যতিক্রম উদাহরণে আনবেন না। এটি নিমোনিক মাত্র।

সূত্র: ড. মোহাম্মদ আমীন,ব্যাবহারিক প্রমিত বাংলা বানান সমগ্র,পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.

লিংক: https://draminbd.com/নিমোনিক-কালী-কিন্তু-কালি/
error: Content is protected !!