নিশিকুটুম্ব, সফেন, নারীত্ব নারিত্ব; স্বার্থনিজ ও স্বার্থপর

ড. মোহাম্মদ আমীন
সংযোগ: https://draminbd.com/নিশিকুটুম্ব-সফেন-নারীত্/
সফেন
সংস্কৃত ‘সহ’ ও ‘ফেন’ মিলে সফেন (সহ+ফেন)। এর অর্থ: ফেনাময়, ফেনাযুক্ত, ফেনায় ভরা, ফেনায় উদ্‌বেল। তৎসম ‘সফেন’ শব্দটি বাক্যে সাধারণত বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
“আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন,
আমারে দু-দণ্ড শান্তি দিয়েছিল নাটোরের বনলতা সেন।” জীবনানন্দ 
নারীত্ব না কি নারিত্ব
 ‘নারী’ শব্দটি ইন্-প্রত্যয়ান্ত নয়। তাই এর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হলে ই-কার হয়ে যাবে না। ‘নারী’ আসলে ইন্-প্রত্যয়ান্ত শব্দ নয়। নারী= নর+ঈ। ইন্‌-প্রত্যয়ান্ত শব্দের সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হলে ঈ-কার বদলে ই-কার হয়। যেমন: √মন্ত্র্ +ইন্‌= মন্ত্রী, কিন্তু মন্ত্রিত্ব; প্রাণী, কিন্তু প্রাণিত্ব। অনুরূপ, একাকী, কিন্তু একাকিত্ব। স্বামী, কিন্তু স্বামিত্ব প্রভৃতি। অতএব, ‘নারিত্ব’ ব্যাকরণগতভাবে অশুদ্ধ। শুদ্ধ হবে নারীত্ব।

স্বার্থনিজ না-হয়ে বানানটি স্বার্থপর কেন?

সংস্কৃত স্বার্থ (স্ব+অর্থ) শব্দেরঅর্থ— (বিশেষ্যে) নিজ প্রয়োজনের বিবেচনা; নিজের মঙ্গল বা হিত। অন্যদিকে, স্বার্থপর (স্বার্থ+পর) অর্থ (বিশেষণে)— পরের বা অন্যের সুবিধা-অসুবিধা না দেখে সর্বদা নিজের স্বার্থসিদ্ধিতে তৎপর এমন, পরকে উপেক্ষাকারী ব্যক্তি স্বার্থপর। আভিধানিক অর্থ হতে দেখা যায়, স্বার্থপর লোক নিজের স্বার্থ অর্থাৎ নিজের মঙ্গল বা হিত করার জন্য অন্যকে পর করে দেয়। তাই শব্দটির বানান স্বার্থপর।যদি এমন লোক নিজের স্বার্থ ত্যাগ করে অন্যকে নিজের করে নিত তাহলে শব্দটির বানান হতো স্বার্থনিজ

নিশিকুটুম্ব

‘নিশি’  ‘কুটুম্ব’ মিলে ‘নিশিকুটুম্ব’। নিশি অর্থ— গভীর রাত এবং কুটুম্ব মানে— আত্মীয়। সুতরাং ‘নিশিকুটুম্ব’ মানে গভীর রাতের আত্মীয়। শাব্দিক অর্থ রাতের আত্মীয় বোঝালেও ‘নিশিকুটুম্ব’ প্রকৃতপক্ষে গভীর রাতে আগত কোনো আত্মীয় বা কুটুম্ব নয়। এই কুটুম্ব সবার অলক্ষে আসে— গোপনে চুপিচুপি, কেউ যেন জেনে না যায়। তস্কর, চোর প্রভৃতি বোঝাতে ‘নিশিকুটুম্ব’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। চোর, তস্কর, চুরি-করা প্রভৃতি শব্দ অশালীন। তাই অনেকে উচ্চারণ করতে চান না। এজন্য বলেন— নিশিকুটুম্ব। কারণ তারা নিশিরাতে আসে। অন্যদিকে, চোরেরাও নিজেদের চোর না-বলে নিশিকুটুম্ব বলে।কারণ তারা নিশিরাতে চুরি করতে যায়। চক্ষুদান অর্থ চুরি করা। অনেকে ‘চুরি করা’ বাগ্‌ভঙ্গি ব্যবহার না-করে বলেন— ‘চক্ষুদান’। অশালীন শব্দের এমন শালীন ব্যবহারকে মঞ্জুভাষ বলা হয়।
দুই খণ্ডে বিস্তৃত নিশিকুটম্ব মনোজ বসুর লেখা একটি বিখ্যাত উপন্যাস। অনেকে পড়েছেন হয়তো, বইটি অকাদেমি পুরস্কার পেয়েছে। বেশ ভালো, ভিন্নধর্মী উপন্যাস। পড়তে পারেন।
error: Content is protected !!