নিশ্চয়ার্থক ই: তাই তা-ই, চাই চা-ই,

এবি ছিদ্দিক
 
https://draminbd.com/নিশ্চয়ার্থক-ই-তাই-তা-ই-চাই/
 
“নিশ্চয়ার্থক ‘ই’ শব্দের সঙ্গে কার-চিহ্ন রূপে যুক্ত না হয়ে পূর্ণ রূপে যুক্ত হবে।”— বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়মের বিবিধ অংশের ৩.৫ নম্বর এই নিয়মটিতে শব্দের শেষে নিশ্চয়ার্থক ‘ই’ লেখার সহজ একটি নিয়ম উল্লেখ করা হয়েছে। এই নিয়মে যদি কারও সামান্যটুকুও বিভ্রান্তি থাকে, তবে তা হচ্ছে ‘নিশ্চয়ার্থক’ পদটি নিয়ে: ‘ই’ কখন নিশ্চয়ার্থক অর্থে যুক্ত হয়েছে, তা কীভাবে বোঝা যাবে? এই অস্বস্তি থেকে পরিত্রাণ একেবারেই সহজ, এবং এই ছোট্ট লেখাটির পরবর্তী অংশটুকুতে সেটি বিবৃত করবার চেষ্টা করা হয়েছে।
 
যা দিয়ে কোনোকিছুর নিশ্চয়তা নির্দেশ করা হয়, তাই (তা-ই) নিশ্চয়ার্থক। অর্থাৎ, যে ‘ই’ কোনো শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ওই শব্দটি যে অর্থ নির্দেশ করে, তাতে নিশ্চয়তা বা জোর দেয়, তাই (তা-ই) হচ্ছে নিশ্চয়ার্থক। কোনো বিষয়ে নিশ্চিত বা নিঃসন্দেহ হওয়ার জন্যে প্রমাণ বা প্রত্যয়ন পত্রের দরকার পড়ে। শব্দের শেষে যুক্ত হওয়া ‘ই’-কে এরূপ প্রমাণ বা প্রত্যয়ন পত্রের সঙ্গে তুলনা করা যায়। প্রমাণ বা প্রত্যয়ন পত্র ছাড়াও কোনো বিষয়ে বিশ্বাস রাখা যায়, কিন্তু নিশ্চিত বা নিঃসন্দেহ হওয়া যায় না। একইভাবে, নিশ্চয়ার্থক ‘ই’ ছাড়াও কাঙ্ক্ষিত ভাব প্রকাশ করা যায়, কিন্তু তাতে নিশ্চয়তা বা জোর থাকে না। মোদ্দা কথায় বললে— বাক্যস্থিত কোনো শব্দের সঙ্গে যুক্ত হওয়া যে ‘ই’ উঠিয়ে নিলেও বাক্যের অর্থে কোনো পরিবর্তন আসে না, তবে বাক্য সামান্য জোর হারায় বা হারিয়েছে বলে মনে হয়, তাই (তা-ই) হচ্ছে নিশ্চয়ার্থক ‘ই’, এবং এটি সর্বদা শব্দের সঙ্গে পূর্ণ (বর্ণ) রূপে যুক্ত হবে। যেমন: এখনই, তখনই, একই প্রভৃতি। মাঝখানে কোনো হাইফেন বসবে না।  সুতরাং, তাই হবে তা-ই নয়, চাই হবে চা-ই নয়; যাবই হবে যাব-ই নয়।
 
প্রয়োগোদাহরণ: ১. আমি এখনই খেতে বসব।
২. সে কালই ঢাকায় পৌঁছাবে।
৩. এটির মূল্য পুরো এগারো হাজারই নেব।
৪. ব্যাপারটি এমনই ছিল।
৫. যখনই কাজ শেষ হয়েছে, তখনই তার পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
৬. আমার খেলনাটি অমনই ছিল।
এখানে বাক্যগুলোর এখনই, কালই, হাজারই, এমনই, যখনই, তখনই ও অমনই শব্দ থেকে ‘ই’ উঠিয়ে নিলেও বাক্যের সামগ্রিক অর্থে কোনো পরিবর্তন আসে না, তাই এসব ‘ই’ হচ্ছে নিশ্চয়ার্থক ‘ই’, এবং এগুলো পূর্ণ রূপে লেখা হয়েছে।
আবার—
ক. আমি এক্ষুনি যাচ্ছি।
খ. সে এমনি রাগ করেছিল।
গ. যখনই কাদায় পা বাড়াল, অমনি পিছলে পড়ে হাতটা ভাঙল।
এই বাক্যসমূহে ব্যবহৃত এক্ষুনি, এমনি ও অমনি থেকে ‘ই’ নিয়ে নিলে বাক্যের অর্থ বদলে যায় কিংবা অর্থহীন বাক্যে পরিণত হয়, তাই এসব ‘ই’ নিশ্চয়ার্থক ‘ই’ নয়, এবং সে-কারণে এগুলো পূর্ণ রূপে যুক্ত করা হয়নি।
 
 
 
নিচের লিংকে ক্লিক করুন:
error: Content is protected !!