নেশা লাগিল রে শব্দের গাঁজা

নেশা লাগিল রে শব্দের গাঁজা

ড. মোহাম্মদ আমীন
বইপোকা : বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত বাংলা ‘বইপোকা’ শব্দের অর্থ — পুস্তক ধ্বংসকারী কীট এবং আলংকরিক অর্থ — সারাক্ষণ বই পড়া যার নেশা, বইপ্রেমী। পুস্তকধ্বংসকারী পোকার সঙ্গে সারাক্ষণ ‘বই-পড়ুয়া’ মানুষকে মিলিয়ে ফেলার কারণ কী? কারণ আছে, পোকা পুস্তকের পৃষ্ঠা নষ্ট করে দাঁত দিয়ে কেটে আর কুটে; পড়ুয়া বই নষ্ট করে হাত দিয়ে— বারবার উলটিয়ে আর পালটিয়ে। উলটিয়ে-পালটিয়ে মারার চেয়ে দাঁত দিয়ে কামড়ে মারা অনেক ভালো।
 
বউ-কথা-কও : ‘বউ-কথা-কও’ শব্দের অর্থ— কোকিলজাতীয় পরভৃত পাখিবিশেষ। কিন্তু, ‘বউ, কথা কও’ কথার অর্থ —বউকে কিছু বলার অনুরোধ বা আব্‌দার।
 
বউমানুষ : বউমানুষ শব্দের অর্থ নতুন বউ, কুলবধূ। ‘বউ মানুষ’ মানে ‘মেয়ে ছেলে’ কথার মতো আলংকরিক বাগ্‌ভঙ্গি। যেমন— বউ মানুষ, বাইরে যায় কীভাবে! 
 
বাবাসুট: ‘বাবাকলা’ মানে ‘বড়ো কলা’, এটাকে বাবার কলাও বলা যায়. আবার ‘বাবা ও কলা’ এমনও হতে পারে— সমাস; কিন্তু ‘বাবাসুট’ মানে —ছোটো ছেলেমেয়েদের পরিধেয় একই রঙের জামা ও প্যান্ট। বাবার জামা, বাবাজামা হতে পারে, আবার ‘বাবা ও জামা’— এটিও হতে পারে; কিন্তু ‘বাবাসুট’ কখনও বাবার সুট হতে পারে না। ‘বাবাসুট’ সবসময় শিশুরা পরে— “ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুদের অন্তরে – – -”।
 
বড়ো তামাক : ‘বড়ো গলা’ কথার অর্থ— উচ্চকণ্ঠ, অহংকার; কিন্তু বড়ো তামাক মানে— গাঁজা, যা মহাদেব মনের সুখে টানতেন। তামাকের বড়ো পাতাকেও কোথাও কোথাও ‘বড়ো তামাক’ বলা হয়। কিন্তু ‘বড়ো’ ও ‘তামাক’ শব্দদুটো ঘনিষ্ট হয়ে গেলে গাঁজা হয়ে যায়— “নেশা লাগিল রে, বাঁকা দু-নয়নে নেশা – – -।
 
বড়দা: ‘বড়’ এখন জামিল চৌধুীর অকল্যাণে ‘বড়ো’। বাংলা একাডেমিতে একটা কথা আছে— “কাজে কামে অমিল, মিস্টার জামিল”। তবে, একটা কিন্তু, কিন্তু আছে। তাঁর হাতের পরশে সব ‘বড়’, ‘বড়ো’ হয়ে গিয়েছে; যেমন— বড়ো করা, বড়ো গলা, বড়োজোর, বড়ো ঠাকুর, বড়ো তামাক, বড়োদিন, বড়োবাবু, বড়োমানুষ, বড়োমিঞা, বড়োলাট, বড়োলোক, বড়োশেয়াল, বড়োসড়ো, বড়ো হওয়ার, বড়োহাজরি প্রভৃতি শব্দের ‘বড়’ ও-কার নিয়ে একটু মোটাসেটা হয়ে ‘বড়ো; রূপ ধারণ করে দিব্যি আছে; কিন্তু ‘বড়ো দাদা’ এখনও আগের মতো এখনও ‘বড়দা’ রয়ে গিয়েছে। ‘ছোট’, ‘ছোটো’ হয়ে গেলেও ‘ছোট্ট’ কিন্তু এখনও আগের মতো রয়ে গিয়েছে।
 
বদ্ধাঞ্জলি : ‘বদ্ধাঞ্জলি’ শব্দের সঙ্গে ‘শ্রদ্ধাঞ্জলি’ শব্দের জোড়-গড়ায় যথেষ্ট মিল আছে। ‘অঞ্জলি’ অর্থ— যুক্তকর, করজোড়, আঁজল, করপুট, ভজনা, সেবা, যুক্তকরে প্রদত্ত নৈবেদ্য প্রভৃতি। বদ্ধ+ অঞ্জলি= বদ্ধাঞ্জলি; এর অর্থ— যুক্তকর, হাত জোড় করেছে এমন, জোড়হস্ত প্রভৃতি। তবে ‘শ্রদ্ধাঞ্জলি’ অর্থ শ্রদ্ধা নিবেদনের উদ্দেশ্যে নিবেদিত অর্ঘ্য, শ্রদ্ধা নিবেদন। প্রথম ও শেষেরটি বিশেষ্য, মধ্যেরটি বিশেষণ। তবে কেউ ইচ্ছা করলে ‘শ্রদ্ধাঞ্জলি’র পরিবর্তে ‘বদ্ধাঞ্জলি’ও দিতে পারেন।

taka

taka

taka

error: Content is protected !!