পরিবর্তন বনাম বিবর্তন: সব্যসাচী

ড. মোহাম্মদ আমীন
সংযোগ: https://draminbd.com/পরিবর্তন-বনাম-বিবর্তন-সব/
বিবর্তন:তৎসম বিবর্তন (বি+ √বৃৎ+অন) শব্দের মুখ্য ও বহুল প্রচলিত অর্থ (বিশেষ্যে)— ধারাবাহিক পরিবর্তন, ক্রমবিকাশ, রূপান্তর। ঘূর্ণন অর্থেও শব্দটির প্রয়োগ রয়েছে। যেমন: বিবর্তিত।   বিবর্তন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ  evolution। বিবর্তন প্রাকৃতিক বিষয়। এটি ধীরে ধীরে হয়। 
বিবর্তন শব্দটি  ভ্রমণ প্রত্যাবর্তন প্রভৃতি অর্থও প্রকাশ করে। তবে এসব অর্থে শব্দটির ব্যবহার বিরল। এসব অর্থ এই প্রবন্ধের আলোচনার বাইরে থাকবে। কারণ, এই অর্থগুলো পরিবর্তন শব্দের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়।
পরিবর্তন:সংস্কৃত পরিবর্তন (পরি+√বৃত্+অন) অর্থ (বিশেষ্যে)— বদল; বিনিময়; রূপান্তর; সংস্কার প্রভৃতি।  এটি প্রাকৃতিকভাবেও হতে পারে আবার ইচ্ছাকৃতও হতে পারে। যেমন: প্লাস্টিক সার্জারির মাধ্যমে চেহারার পরিবর্তন আর  দুর্ঘটনার কারণে চেহারার পরিবর্তন।  পরিবর্তন, বিবর্তনের তুলনায় অনেক দ্রুত  এবং ক্ষেত্রবিশেষে আকস্মিক বিষয়। যেমন: আকস্মিক ভূমিকম্পে শহরের পুরো চেহারা পাল্টে যাওয়া হলো পরিবর্তন। শিম্পাজি থেকে আধুনিক মানুষের দেহাবয়ব হচ্ছে বিবর্তন। ক্রম ও দীর্ঘ পরিবর্তন হচ্ছে বিবর্তন।

নিবিড় সবুজঘেরা  জনশূন্য একটি  অরণ্য।  গাছপালা আর পশুপাখি ছাড়া কোনো  প্রাণী নেই। মাঝখানে  স্বচ্ছ জল নিয়ে বয়ে চলেছে  নদী, খাল। মাঝে মাঝে  হ্রদ আর নানা আকারের জলাশয়ের জলে তৃপ্ত হচ্ছে প্রাণ। মানুষের  কোনো বসতি  নেই। একদিন এক দম্পতি  এসে এই অরণ্যের একটি কোণে লতাপাতা দিয়ে

ড. মোহাম্মদ আমীন

একটি ছোটো কুুঁড়ে বানিয়ে বসবাস করতে শুরু করল।  এই পরিবারের দেখাদেখি আর একটি পরিবার এলো।  তার দেখাদেখি আরও কয়েকটি পরিবার। ইতোমধ্যে প্রথম দম্পত্তির পরিবরের সদস্য সংখ্যা দুই থেকে সাতে উন্নীত হলো। এভাবে ধীরে ধীরে বাসগৃহ পরিবার এবং পরিবারের জনসংখ্যা বাড়তে থাকল। কমতে থাকল গাছপালা আর সবুজের নিবিড়তা। দূষিত হতে থাকল জলাশয়ের জল। মানুষের মলে আকাশবাতাস ভারী হয়ে উঠতে থাকে। পশুপাখি বিলুপ্ত হতে শুরু করল। কিছু কিছু পশুপাখি মানুষের উদরে চলে গেল। কিছু পশুপাখি বাসস্থানের অভাবে অন্যকোথাও চলে গেল। কিছু পশুপাখি মানুষের অত্যাচার আর খ্যাদাভাবে লুপ্তহয়ে গেল। এগুলো হচ্ছে পরিবর্তন। মানুষ, মানুষের প্রয়োজন বসতি এবং প্রয়োজনীয় স্থাপনা বাড়তে থাকল। জলাশয়ে ভরাট করে বানানো হলে বসতবাটি অন্যদিকে গাছপালা, সবুজ আর পশুপাখির সংখ্যা কমতে থাকল। এভাবে  এককালের জনশূন্য ও সবুজ বৃক্ষাচ্ছাদিত অরণ্যটি ঘন জনবসতিপূর্ণ নগরে পরিণত হলো। প্রয়োজনের কারণে অপথ হয়ে গেল পথ। প্রতিষ্ঠা পেল  আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা। তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিষ্ঠা পেতে থাকল শিল্পকারখানা।  পুরানো ঘরবাড়ির স্থানে উঠতে থাকল দালানকোঠা- অফিস আদালত সিনেমা হল হাসপাতাল আর বিমানবন্দর। পঞ্চাশ বছরের পরিবর্তনের ফলে এককালের নিবিড় সবুজঘেরা অরণ্যটির পুরো চেহারা বদলে গেল।  খাল   নেই, নদী নেই;  নেই বিশুদ্ধ বাতাস; পাখির কাকলির বদলে এখন চারদিকে যন্ত্রের গর্জন।  বাতাসে  বিষাক্ত গ্যাসের তাণ্ডব। কারণ  এখন এটি একটি নগর। দীর্ঘ যে পরিবর্তনসমূহের মাধ্যমে অরণ্যটি শহরে রূপান্তরিত হয়ে  এমন রূপ ধারণ করল তার সামগ্রিক ফলই হচ্ছে বিবর্তন।

সব্যসাচী: সংস্কৃত সব্যসাচী (সব্য+√সচ্+ইন্) অর্থ (বিশেষ্যে) অর্জুন; (বিশেষণে) দুহাতে সমান পারদর্শী; উভয় হস্তে শর চালনায় দক্ষ; [বাংলায় (আলংকারিক) ও প্রায়োগিক অর্থ] একসঙ্গে একাধিক কাজ করতে সক্ষম। শব্দটির এখন পৌরাণিক বা উৎস অর্থের ব্যবহার বিরল। এটি এখন একাধিক বিষয়ে সমান দক্ষ এমন অর্থ প্রকাশে ব্যবহৃত হয় মহাভারতে বর্ণিত পঞ্চপাণ্ডবের তৃতীয় পাণ্ডব অর্থাৎ অর্জুনের একটি নাম সব্যসাচী।তিনি শুধু ভালো তীরন্দাজ ছিলেন না তাই না, একই সঙ্গে দুই হাতে সমান দক্ষতায় শর ছুড়তে পারতেন। রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল ছিলেন সব্যসাচী লেখক। নিকোলা তেসলা ছিলেন সব্যসাচী বিজ্ঞানী।
জানা অজানা অনেক মজার বিষয়: https://draminbd.com/?s=অজানা+অনেক+মজার+বিষয়
শুবাচ গ্রুপের সংযোগ: www.draminbd.com
শুবাচ যযাতি/পোস্ট সংযোগ: http://subachbd.com/
error: Content is protected !!