পাঁচুড়িয়া দোষ প্রাগুক্ত প্যানচিট পেটার্থী, পোড়ের ভাত, পেছকাটানো জবাব

ড. মোহাম্মদ আমীন
ড. মোহাম্মদ আমীন মাঝখানে অটোগ্রাফ দিচ্ছেন।
পাঁচুড়িয়া দোষ: গোহত্যা, সুরাপান, ব্রহ্মহত্যা, স্ত্রীহত্যা ও গুর্বাঙ্গনাগমন— এই পাঁচ কাজকে এককথায় পাঁচুড়িয়া দোষ বলা হয়। গোহত্যা, সুরাপান, ব্রহ্মহত্যা, স্ত্রীহত্যা ও গুর্বাঙ্গনাগমন—  এই পঞ্চ পাপ কাজ করার জন্য সমকালীন দেশস্থ অধ্যাপক ও সামাজিক লোকেরা বিখ্যাত নৈয়ায়িক গদাধর শিরোমণির পূর্বপুরুষ জমিদার ডাকুইয়াকে শাস্তি প্রদান করেন। তাঁরা ডাকুইয়াকে, তার বংশধর এবং তাদের সঙ্গে যারা বৈবাহিক সম্বন্ধ স্থাপন করেছিলেন তাদের উপর্যুক্ত পাঁচ পাপ কাজের জন্য পাঁচুড়িয়া দোষগ্রস্থ বলে বিধান দেন।
 দেশস্থ অধ্যাপক ও সামাজিক লোকেরা একত্র হইয়া বিচার করিয়া ডাকুইয়াকে পাঁচুড়িয়া দোষে আস্তাড়ন করিলেন”, বঙ্গের জাতীয় ইতিহাস— বারন্দ্রে ব্রাহ্মণ বিবরণ, নগেন্দ্রনাথ বসু।
প্রাগুক্ত:  প্রাগুক্ত সংস্কৃত উৎসের শব্দ। এটি কোনো সংক্ষেপণ নয়, শব্দ। ব্যুৎপত্তি হলো: [সং. প্রাক্‌(<সং.প্র+অন্‌চ্‌+ক্বিপ্)+উক্ত( সং. √বচ্‌+ত]। অর্থ: উল্লিখিত, পূর্বোক্ত, পূর্বে কথিত, পূর্বে বর্ণিত, পূর্বে যা বলা হয়েছে বা লেখা হয়েছে তার অনুরূপ। বাংলা  একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান মতে, তৎসম প্রাগুক্ত (প্রাক্‌+উক্ত) অর্থ (বিশেষণে) পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে এমন।
 “. . . প্রাগুক্তপ্রকার  ধন সম্পত্তিতে তাহা প্রতিকার হওয়ার সম্ভাবনা নাই . .  .” কুলকন্যার কুলত্যাগ, সংবাদ পূর্ণচন্দ্রোদয়, তারিখ: ২০/০৮/১৮৫০ খ্রিষ্টাব্দ।
প্যানচিট: প্যানচিট হলো চুলে লাগানোর প্রসাধনবিশেষ। একসময় এটি বেশ জনপ্রিয় ছিল। অভিজাত ঘরের লোকেরা ব্যবহার করত। অনেকে ব্যবহার করত সদ্য গজানো টাক ঢাকার জন্য। প্যানচিট দিলে চুলকে ইচ্ছেমতো সাজানো যেত এবং তৈলাক্ত হওয়ার কারণে চকচক করত।
চুল করে প্যানচিট, হয় ফিট কত চিট্‌
মাঝে মাঝে চিট তার মাঝে” ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
পোড়ের ভাত:  পোড়া ও ভাত নিয়ে কথাটি গঠিত। পোড়ের ভাত হলো ঘুঁটে বা ওই জাতীয় বস্তুর অল্প আঁচে অনেকক্ষণ ধরে আস্তে আস্তে মাটির পাত্রে রান্না করা ভাতবিশেষ, যা এককালে রোগভোগ করে উঠলে খাওয়ানো হতো। কথাটি বাক্যে বিশেষ্য হিসেব ব্যবহৃত হয়।
টাইফয়েড থেকে বেঁচে উঠার পর রোজ বরাদ্দ হলো পোড়ের ভাত।
পেটার্থী: বাক্যে বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত পেটার্থী অর্থ: পেটুক, যে কেবল পেটের নিমিত্ত খাটে, পেটে ভাতে কাজ করে কোনো বেতন পায় না এমন। এটি হিন্দি উৎসের শব্দ। শব্দটির ব্যবহার এখন আর দেখা যায় না তেমন। এখন লজিং মাস্টার ছাড়া পেটার্থী আর দেখা যায় না।
“ প্রসন্ন দাঁড়াইয়া চীৎকার করিতেছে ‘নেশাখোর’ ‘বিটলে’ ‘পেটার্থী’ ইত্যাদি” বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
পেছকাটানো জবাব: কথাটির অর্থ যেমন তেমন একটা জবাব দিয়ে রেহাই পাওয়ার জন্য দেওয়া জবাব। সঠিক জবাব জানা নেই কিংবা দেওয়ার সামর্থ্য নেই, কিংবা কোনো যুক্তিও নেই; তবে মানসম্মান রাখার জন্য একটা জবাব দেওয়া প্রয়োজন এমন জবাবকে পেছকাটানো জবাব বলে।
না জানলে চুপ করে থাকো, পেছকাটানো জবাব দিয়ো না।

পরিবেত্তা ও পরিবেদন: “বড়ো ভাই অবিবাহিত থাকাকালীন ছোটো ভাইয়ের বিবাহ” কর্মটিকে এককথায় কী বলা যায়?

পরিবেদন বা পরিবেত্তা বলা যায়।

দুটোই তৎসম শব্দ এবং বাক্যে সাধারণত বিশেষ্য হিসেবে বব্যহৃত হয়।
জানা অজানা অনেক মজার বিষয়: https://draminbd.com/?s=অজানা+অনেক+মজার+বিষয়
শুবাচ গ্রুপের সংযোগ: www.draminbd.com
শুবাচ যযাতি/পোস্ট সংযোগ: http://subachbd.com/
আমি শুবাচ থেকে বলছি
— — — — — — — — √— — — — — — — — —
error: Content is protected !!