পাণ্ডব: পাণ্ডববর্জিত স্থান কী: যুধিষ্ঠির ভীম অর্জুণ নকুল সহদেব

অভিধানমতে, পাণ্ডব অর্থ (বিশেষ্যে)—  মহাভারতে বর্ণিত পাণ্ডুরাজার পুত্র যুধিষ্ঠির ভীম অর্জুণ নকুল ও সহদেব। পাণ্ডুরাজার এই পাঁচ পুত্রকে  পাণ্ডব বলা হয়।  রাজার পুত্র হিসেবে এরা অভিজাত হিসেবেও পরিচিত। পাণ্ডববর্জিত শব্দ মিলে পাণ্ডববর্জিত। সুতরাং, পাণ্ডববর্জিত কথার শাব্দিক অর্থ— পাণ্ডবদ্বারা পরিত্যক্ত। কিন্তু,  আভিধানিকভাবে পাণ্ডববর্জিত স্থান বলতে দূরবর্তী অজপাড়া গাঁ, অতি দুর্গম স্থান, অনভিজাতদের অঞ্চল,  সভ্য বা আধুনিক মানুষের বাস  বা যাতায়াত নেই এমন কিছু। এখন প্রশ্ন হলো, পাণ্ডুরাজার পুত্র যুধিষ্ঠির ভীম অর্জুণ নকুল ও সহদেব তথা পাণ্ডব দ্বারা পরিত্যক্ত বা বর্জিত কথাটি কেন অতি দুর্গম বা অগম্য বা অনভিজাতদের স্থান বোঝাতে প্রয়োগ করা হয়?   
মহাভারতে দেখা যায় প্রায় সমগ্র ভারতবর্ষ জুড়ে পাণ্ডবরা পরিভ্রমণ করেছিলেন কিংবা পরিভ্রমণ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। দুবার অজ্ঞাতবাস, বারো বছরের বনবাস,  অর্জুনের একক অজ্ঞাতবাস— প্রভৃতি কারণে পাণ্ডবদের ভারতবর্ষের নানান প্রত্যন্ত জায়গায় যেতে হয়েছিল। ফলে তৎকালীন সাধারণ প্রজাদের মনে ধারণা হয়েছিল যে, ভারতবর্ষে এমন কোনো গম্য মানববসতি নেই  যেখানে অভিজাত পাণ্ডবরা যাননি।
ভারতীয় পুরাণমতে, পাণ্ডবরা দুই মহাযজ্ঞ-রাজসূয় এবং অশ্বমেধ যজ্ঞের আয়োজন করেছিলেন। রাজসূয় যজ্ঞের জন্য অর্থ সংগ্রহ এবং অশ্বমেধ যজ্ঞে নির্বাচিত অশ্বকে  অনুসরণ করার বাধ্যবাধকতার কারণেও অশ্বের পেছনে পেছনে তাদের অনেক জনপদে গমন করতে হয়েছে। তারপরও সেসময় এমন  কিছু অগম্য বা অতি দুর্গম জায়গা ছিল যেখানে পাণ্ডবরা যাননি বা যেতে হয়নি কিংবা ইচ্ছা করে সেসব জনপদ বর্জন করেছিলেন। এরূপ জনপদকে বলা হয় পাণ্ডববর্জিত জনপদ। 
মহাভারতে পাণ্ডবভ্রমণের সূত্রে কোনও দুর্গম অঞ্চল কিংবা এমন কোনো জনপদ বা গণ্ডগ্রাম যেখানে অভিজাত, শিক্ষিত ও   শহুরে মানুষের যাতায়াত বা বাস নেই অর্থে  পাণ্ডববর্জিত কথাটি ব্যবহৃত হয়। আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, পাণ্ডববর্জিত অর্থ (বিশেষণে)— পাণ্ডবদ্বারা পরিত্যক্ত, পাণ্ডবদ্বারা বর্জিত; আলংকারিক অর্থ: অনুন্নত ও জনমানবশূন্য।
——————————————————————–
শুবাচ গ্রুপের সংযোগ: www.draminbd.com
শুবাচ যযাতি/পোস্ট সংযোগ: http://subachbd.com/
আমি শুবাচ থেকে বলছি
error: Content is protected !!