পাণ্ডুলিপি পাণ্ডু কেন: পাণ্ডুলিপি প্রেসকপি

ইউসুফ খান
সংযোগ: https://draminbd.com/পাণ্ডুলিপি-পাণ্ডু-কেন-পা/
পাণ্ডুলিপি প্রেসকপি
আমাদের জেনারেশন পাণ্ডুলিপি মানে বুঝতো এক তাড়া কাগজ, যাতে হাতেকলমে কালি দিয়ে কিছু লেখা আছে, যা ছাপাখানায় পাঠানো হতো লেখাটাকে কম্পোজ় করে ছেপে বের করার জন্য। প্রেসে না গেলেও, আগেকার দিনে হাতে লেখা সাহিত্যের তাড়ি বা কাগজি পুঁথিকেও পাণ্ডুলিপি বলতো। এগুলো পাণ্ডুলিপির আক্ষরিক মানে নয়।
ইংরেজি ম্যানুস্ক্রিপ্ট কথাটাকে বাংলা ওড়িআ আর নেপালিতে করা হয়েছে পাণ্ডুলিপি। ম্যানুস মানে হাত আর স্ক্রিপ্ট মানে লেখা, হাতেলেখা। তাই এর হিন্দি করা হয়েছে হস্তলিপি, মারাঠি হস্তলিখিত, গুজরাটি হস্তপ্রত, কন্নড় হস্তপ্রতি। প্রতি মানে প্রতিলিপি কপি। হিন্দিতে পাণ্ডুলিপিও চলে। গত পাঁচ দশকে টাইপরাইটারে টাইপ করে বা প্রিন্টারে ছেপে প্রেসে পাঠানো কাগজের তাড়াকেও পাণ্ডুলিপি বলা হয়েছে। এখন পাণ্ডুলিপি তৈরি করতে কাগজ কলম কালি হাত কিছুই লাগেনা। লেখককে লিখতেও হয় না, কম্পজ়িটরকে কম্পোজ়ও করতে হয় না। মোবাইলে মুখ লাগিয়ে কথা বললেই হলো, লেখাকে লেখা কম্পোজ়কে কম্পোজ় দুটোই একটা জিনিস হয়ে একসঙ্গে হয়ে যাচ্ছে। এবার সেটাকে একটা কম্পু-ফাইল বানিয়ে প্রেসে পাঠিয়ে ছেপে নিলেই হলো। এই কম্পুকপিটাকেও আমরা ম্যানুস্ক্রিপ্ট বা প্রেসকপি বলি। মানে গুটেনবার্গের ছশো বছরে লেখা ছাপার আধার মিডিয়াম মেটেরিয়াল ম্যানুস মানুষ রিপ্লেস হয়ে গেলেও ম্যানুস্ক্রিপ্ট কথাটা রয়ে গেছে। ছশো বছর এগিয়ে এসে যদি এই হয় তাহলে ষোলোশো বছর পিছিয়ে গেলে কী ছিলো? মিডিয়াম মেটেরিয়াল মাধ্যম উপাদান উপকরণ?
লেখালিখি লেপালিপি
লিখ্‌ মানে গভীর করে দাগ টানা, এনগ্রেভিং। লিখ্‌ করে হয় লেখা। লেখা উৎকীর্ণ হয়, পাথরে গভীর করে এনগ্রেভ করা হয়। লিখ্ হচ্ছে ছেনি বাটালি দিয়ে পাথরে বা ছুরি নরুন তুরপুন দিয়ে কাঠে খুদাই মানে এনগ্রেভ করা। জেঠুদের আমলে ইসকুলের হাইবেঞ্চে ছুরি দিয়ে কাঠ খুঁদড়ে অবনী + মালতী টাইপের যে লেখা হতো সেটা লেখার ঠিক মানে। এখনও বাড়ির নাম লিখতে শ্বেতপাথর গ্রিনস্টোন ধাতুপাত ইত্যাদিতে এনগ্রেভিং করা হয়।
গোরুর গাড়ি চলার ফলে রাস্তায় গাড়ির চাকার যে গভীর দাগ পড়ে যায় সেই দাগকে বাংলায় বলে লিক বা নিক। ঘাসের মাঠে মানুষ হাঁটতে হাঁটতে হাঁটার পথে ঘাস দেবে গিয়ে মরে গিয়ে যে রাস্তা তৈরি হয় তাকেও বলে লিক। ‘এই মাঠের লিক ধরে ধরে হাঁটা দিন, সোজা মোড়লদের পুকুর পাড়ে গিয়ে পড়বেন।’ লিককে হিন্দি অসমীয়াতেও বলে লিক। কপালের ভাঁজের মাধ্যে গভীর দাগকেও বলে কপালের লিখন। হাতের গভীর দাগও আমাদের হাতের লেখা। এগুলোকে হিন্দিতে বলে লকীর আর সংস্কৃতে বলে রেখা। লিক লকীর লেখা রেখা একই ধাতুতে গড়া।
লিপ্‌ মানে লেপে দেয়া চেটকে দেয়া জেবড়ে দেয়া। লিপ্‌ করে হয় লিপি। এখনকার ইসকুলের হাইবেঞ্চে মার্কার দিয়ে এঁকে আরিয়ান + আরাত্রিকা টাইপের যে লেখা হয় সেটা লিপির ঠিক মানে। বাড়ি রং করতে প্রাইমার মারা, এককোট দুকোট পেইন্ট করা সবই লেপ্টে দেয়া লিপ্‌ করা। মেয়েরা লিপে লিপস্টিক লিপ্‌ করে। লিপ্‌ থেকে লিপ্ত লেপ্টা। মহিলাটা ড্রাইভারের সঙ্গে সম্পর্কে লিপ্ত, ছেলেটা ক্লাসে মেয়েটার গায়ে একদম লেপ্টে বসে থাকে, ভোলা মাস্টার সব দেখেও নির্লিপ্ত থাকেন। লিপ আছে আলিপনা আলপনাতেও, মানে মাটিতে আতপ আটার লেপ লেপা। ভোটের সময় পার্টির ছেলেরা কারও শখের বাড়ির সাদা দেয়ালে দু পোঁচ টেনে দিয়ে যায় – ভটাইদাকে ভটভটি চিহ্নে ভোট দিন। এটা হলো দেয়ালে কালি লেপা, দেয়াল-লিপি। আক্ষরিক মানেতে এটা দেয়াল-লিখন না।
লেখাতে পাথর মাটি কাঠ ধাতু কুরে খুঁদড়ে তার কুরো গুঁড়ো গুলো ফেলে দিতে হয়। লেপাতে লেপার জন্য লেপ লেই পেইন্ট রং লাগে। তাই শিলালেখ শিলালিপি আলাদা জিনিস।
শিলালেখ শিলালিপি
লিখ আর লিপ কথা দুটোকে এক করে ফেলা মানুষের পুরনো অভ্যেস। সেই কবে গোবর দিয়ে উঠোন লেপা কথাটা হয়ে গেছে গোবর দিয়ে উঠোন নিকোনো। মুখে মুখে অশোকের শিলালেখ হয়ে গেছে অশোকের শিলালিপি। ভালো বইয়ে অশোকের শিলালেখই লেখা আছে, শিলালিপি নেই। কিউনিফর্মের কীলক-আকার লেখা বা ব্রাহ্মী শিলালেখ সবই পাথর লিখ্‌ করে করা হতো।
শিলালিপি হয় গুহা গুম্ফার ভেতরে দেয়ালে রং লেপে পেইন্ট করে, যেখানে বৃষ্টির জলে ধুয়ে যাওয়া বা রোদে পুড়ে সাদা হয়ে যাওয়ার ভাবনা নেই। আদিম মানুষ নানা রকম ভেষজ রঙ দিয়ে গুহার পাথরে এঁকে লিখে রাখতো পরের জেনারেশনের স্কুলিং এর জন্য। অজন্তা থেকে আলতামিরা একই পরম্পরা। গুহার পাথরে পেইন্ট করে লেখাই হচ্ছে শিলালিপি। অশোক খোলা আকাশের নিচে পার্মানেন্ট পাবলিক নোটিস দিতে পাথরের পোস্টার দাঁড় করাতেন, তাই ওটাকে শিলালেখ করতেই হতো।
পণ্ড্‌ পাণ্ডু
মুণ্ডারী শব্দ পণ্ড্‌ পণ্ড্‌ড্‌ pandd মানে সাদা। দুধসাদা, সাদা চুলের মতো সাদা। বানানে ণ ড দুটো মুণ্ডারী স্ট্যাম্প, তবে দুএকটা সোর্সে ড এর ডাবলিং দেখে মনে হচ্ছে সেখানে দ্রাবিড় প্রভাব পড়েছে। বহু প্রাচীন মুণ্ডারী ধাতু পণ্ড্‌ নানা ফর্মে সারা উত্তর ভারতের সব ভাষায় আর নেপালিতে আছে। সাঁওতালি ভাষায় মাথার সাদা চুল হচ্ছে পাণ্ডু উপ্‌। সাদা চামড়ার মানুষ মানুষী হচ্ছে পাঁডরা পাঁডরী। সাদা মাটি দিয়ে দেয়াল নিকোনোকে বলে পাঁড়রাও। সাঁওতালিতে এখনও সাদা বোঝাতে বহু কথায় পাণ্ডু ব্যবহার হয়।
বাংলায় লেখা ডিকশনারিতে পণ্ড দিয়ে তৈরি প্রচুর শব্দ পাবেন। কয়েকটা নমুনা দিচ্ছি। পাণ্ডু মানে সাদা হাতি। পাণ্ডুশর্করা মানে চিনি। পাণ্ডুমৃৎ মানে খড়িমাটি। পাণ্ডুফল মানে ফুটী। পাণ্ডুকম্বল মানে সাদা কম্বল। পাণ্ড্‌ৱু মানে পশমের রঙহীন পোশাক। পাণ্ডর মানে কুন্দপুষ্প জুঁইফুল, পাণ্ডরম চামেলি ফুল। সব সাদা। পাণ্ডুর মানে ধবলকুষ্ঠ মানে শ্বেতী। পুণ্ডরীক মানে শ্বেতপদ্ম। পুণ্ডরীকাক্ষ মানে শ্বেতপদ্মের মতো চোখ যার, বিষ্ণু।
পাণ্ডুর পাণ্ডু
মূলে পাণ্ডু মানে দুধসাদাই ছিলো, কিন্তু অন্য শব্দের অভাবে তখন থেকেই সাদার কাছাকাছি ফ্যাকাশে রংগুলোকেও পাণ্ডু বলা হতো। ধূসর ছাইরঙা কিংবা হালকা-হলদেটে রংকেও পাণ্ডু বলা হতো। মোষ ধূসর রঙের হয় বলে সাঁওতালিতে ষাঁড়া মোষকে বলে পাণ্ডুয়া আর মেয়ে মোষকে বলে পাঁডরী। মহাভারতের পাণ্ডু আর গঙ্গারামের পাণ্ডুরোগ হচ্ছে ফ্যাকাশে হলদে পাণ্ডু।
বাংলায় ছিলো পাণ্ডু পাণ্ডুয়া। ১৭৪৩এ মানোএল লিখেছেন panddu পাণ্ডু মানে ঘুঘু। ঘুঘুর রঙ সাদাটে ধূসর। পাকা চালকুমড়োর গায়ে সাদা খড়ি ওঠে, তাই চালকুমড়োকে বলতো পাণ্ডুয়া কুমড়ো পাণ্ডুকুষ্মাণ্ড শ্বেতকুষ্মাণ্ড। সপ্তদশ শতাব্দীর শিবায়নে দক্ষের শাস্তি বর্ণনায় আছে –
কপাল চিবুক মুণ্ড হৈল তার গুড়া।
পড়িলেন দক্ষ যেন পাণ্ডুয়া কুমড়া॥
পাণ্ডা ও প্যাঁড়া
আমার তিনটে তত্ত্ব আছে।
এক. চীনে ভাষায় পাণ্ডাকে বলে ছ্যং-মাও ভালুক-বেড়াল। আজকাল চীন পাণ্ডার চাষ করে, কিন্তু পাণ্ডা আদতে নেপালের হিমালয়ের সন্তান। জন্তুটার নামের উৎস নেপালি ভাষা। নেপালিরাও এটাকে ভালুক টাইপেরই ভাবতো, কিন্তু এর শরীরের বেশির ভাগটাই সাদা বলে একে পণ্ডা বা পাণ্ডা বলতো।
দুই. যে পুরোহিত শ্বেত শুভ্র পণ্ড বস্ত্র পরে থাকতো সে পাণ্ডা। সে যুগে সাধারণজনের কাপড় ধূসর খাদযুক্ত খাদি ধোকড় হতো, তাকে ধোলাই দিয়ে ধৌত করে ধৌতি ধুতি বানাতে খরচা ছিলো। পুরোহিত পাণ্ডাদের মতো লোকেদের পক্ষেই এই দামী ডিজ়াইনার কাপড় পরার সুবিধা ভোগ করা সম্ভব ছিলো। পণ্ডিত পাণ্ডে পাঁড়ে এই উঁচু ডিগ্রিধারী লোকগুলোর এই নাম শুক্লবস্ত্রপরিধানা শুক্ল সর্ব্ববেশ এই কারণেই।
তিন. যে মিঠাইয়ের রং লাল লাল় লাঢ় তা লাড়ু লাড্ডু। আর যে মিঠাইয়ের রং সাদা পণ্ড্‌ড তা পণ্ড্‌ডা পঁড়্‌ড়া প্যাঁড়া পেড়া। মানে লাড্ডু আর প্যাঁড়া কথা দুটো আদিতে বর্ণবাদী বিশেষণ ছিলো, এখন বিশেষ্য হয়ে গেছে।
পাণ্ডুলেখ পাণ্ডুলিপি
পাথরের ট্যাবলেটে খুদাই করে লেখা হলো মানে সেটা ফাইনাল লেখা, সেটাকে আর চেঞ্জ করা যাবে না, রবার ঘষে তুলে ফেলা যাবে না, হোয়াইট্‌নার দিয়ে চাপা যাবে না। তাই শিলালেখতে কোনও কথা লেখার আগে গোবরলেপা মাটির মেঝেতে বা দেয়ালে সাদা খড়ি টেনে কথাটাকে এঁকে নেয়া হতো। এখানে লেখার ডিভাইস সাদা চকখড়িটাকে বলতো পাণ্ডুলেখ আর পাণ্ডুলেখ দিয়ে যে চক-সাদা খসড়াটা লেখা হলো তাকে বলতো পাণ্ডুলেখ্য। পরে পাণ্ডুলেখ্যর বদলে পাণ্ডুলিপি কথাটা চালু হয়। অর্থাৎ পাণ্ডুলিপির আক্ষরিক মানে সাদালিপি সাদালেখা। খসড়া পাণ্ডুলিপিতে কোনও এদিক ওদিক দেখলে তাকে মুছে পুঁচে ঠিক করে নিয়ে তারপর সেটা দেখে দেখে শিলাতে লেখা হতো। এভাবে হতো শিলালেখ।
আজও পাণ্ডু লেপা আলিপনা দেওয়া হয় মুণ্ডা সাঁওতাল বাড়ির দেয়ালে, আদি ব্রাত্য বাঙালি বাড়ির তুলসিতলায় আর দক্ষিণের দ্রাবিড় বাড়ির দরজায়। এরা এ জিনিস বেদের যুগের যজ্ঞবেদীর মণ্ডণের আগে থেকে করে আসছে। এই আলিপনা মণ্ডণঅ মণ্ডল়়অ আর্ট এখন শুধু ফুলপাতায় এসে দাঁড়িয়েছে কিন্তু পঞ্চাশ-একশো বছর আগেও কিছু মণ্ডণ বেঁচে ছিলো যেগুলোতে কিছু মিনিংফুল ছবি ছিলো যা তাদের চার হাজার বছর আগের ইতিহাসের স্মৃতিকে কানেক্ট করে। বিন্ধ্যের মালৱ এলাকার লোকের এটা করে খড়ির চেয়েও ফটফটে সাদা একটা লোকাল খনিজ মাটি দিয়ে যেটাকে ওরা বলে পাণ্ডু।
পত্থর সে পত্তর
লেখার আধার প্রথমে পাথর দিয়ে শুরু হয়ে একে একে এসেছে তাড়পত্র ভোজপত্র চর্মপত্র তাম্রপত্র সুবর্ণপত্র। তাড়পত্র হচ্ছে তালপাতার শিরা ফেলে দিয়ে তালপাতার সরু সরু ফালি, ভোজপত্র আসলে পাতা নয় ভূর্জ বার্চ গাছের ছাল বার্ক যা জ্যান্ত গাছের গা থেকে খুলে নিলেও আবার গজায়, চর্মপত্র হচ্ছে বাছুর ছাগল ভেড়া ইত্যাদির চামড়া দিয়ে তৈরি পার্চমেন্ট পেপার।
পাথর চলে গিয়ে যখন পাত পাতা গুলো চলে এলো তখনও পাকাপাকি কিছু লিখে ফেলার আগে খড়ি টানা হতো। ততদিনে খসড়া লেখার জন্য উঠোন বা দেয়ালের বদলে কাঠের পাটা বা স্লেটের ট্যাবলেট চলে এসেছে। পণ্ডিতরা পাটা টু পাতা প্র্যাকটিসে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন।
পুরনো দিনে অনেক পুঁথির নামের শেষে মীমাংসা বিচার বিধি বিনিশ্চয় সংহিতা এই ধরণের কথা থাকতো। কালেকশন অফ সেটল্‌ড স্টেটমেন্টস – এইরকম মানেতে।
যাজ্ঞবল্ক্য তাঁর আইনের বই সংহিতায় বলেছেন – বাদীপক্ষ নিজস্ব বয়ানে যা বলবে বিচারক পাণ্ডুলেখ মানে খড়ি দিয়ে ফলকে মানে পাটায় তা লেখাবেন, তারপর তা কারেকশন করে পাতায় লেখাবেন। –
পূৰ্ব্বপক্ষং স্বভাবোক্তং প্রাড্‌বিবাকোঽভিলেখয়েৎ
পাণ্ডুলেখেন ফলকে ততঃ পত্রে বিশোধিতম্॥
অত্রিসংহিতায় আছে – চক দিয়ে পাটায় বা মাটিতে প্রথমে লিখবে, কারেকশন করে কমিয়ে এনে পরে পাতায় এন্ট্রি করবে –
পাণ্ডুলেখেন ফলকে ভূমৌ বা প্রথমং লিখেৎ।
ন্যূনাধিকং তু সংশোধ্য পশ্চাৎ পত্রে নিবেশয়েৎ॥
চক দিয়ে পাটায় যেটা লেখা হতো সেই সাদা রঙের লেখাটাই পাণ্ডুলিপি। এই মানেতে সাবজেক্টটা পাণ্ডুলিপি, অবজেক্ট পাটাটা নয়। তাই পাণ্ডুলিপি কথাটার ভাবার্থ –
কোনও লেখ্য বিষয়ের স্থায়ীরূপ দেবার আগে তৈরি করা লেখাটার প্রাথমিক মুসাবিদা বা খসড়া, যা দরকার পড়লে কাটা-ছাঁটা বাড়ানো-চারানো অদল-বদল সংশোধন-সংযোজন করা যায়।
মানুষের হাতে পেপার কাগজ পৌঁছে গেলে পেপারে কোনও লেখার খসড়া লেখা হলে তখনও তাকে পাণ্ডুলিপি বলা হলো। এর মধ্যে দুটো ব্যাপার বদলে গেছে – লেখাটা আর সাদা নয় কালো কালি দিয়ে হয়েছে আর পাণ্ডুলিপি লেখাটার পরিচয় নয় কাগজের তাড়াটার নাম হয়ে গেছে। সাবজেক্ট ছেড়ে অবজেক্টটার নাম হয়ে গেছে পাণ্ডুলিপি।
এখন আমরা ল্যাপটপে মনের আনন্দে লিখছি কাটছি ছাঁটছি জুড়ছি। কিন্তু পাণ্ডুলিপির দিন যায়নি। যেমন আমার এই লেখাটাই একটা খসড়া পাণ্ডুলিপি, বিটা ভার্সন। ফেবুবন্ধুরা এর বিটা টেস্টার। আপনারা কমেন্ট কারেকশন ক্রিটিসাইজ় যা করবেন সেগুলো থেকে লেখায় অ্যাডিশন সাবট্র্যাকশন করে ফাইনাল লেখাটা পেপার এডিশন বইয়ে যাবে। আপনাদের মোবাইলের স্ক্রিনই ভার্চুয়াল পাটা, মোবাইলটাকে ডার্ক মোডে নিয়ে গেলে স্লেটকালো ব্যকগ্রাউণ্ডে আক্ষরিক অর্থেই সাদালিপি পাণ্ডুলিপি দেখা যাবে।
ইউসুফ খান, কলকাতা, ২০২১ আগস্ট ১৩
নিচের সংযোগে দেখুন ইউসুফ খানের পোস্টসমূহ একসঙ্গে:
error: Content is protected !!