পানামা (Panama) : ইতিহাস ও নামকরণ

কীভাবে হলো দেশের নাম ( উত্তর আমেরিকা)

ড. মোহাম্মদ আমীন

পানামা (Panama)

 পানামা নামের উৎপত্তি নিয়ে একাধিক কিংবদন্তি প্রচলিত আছে। অনেকে মনে করেন পানামা নামটি এ অঞ্চলে জনপ্রিয় ও সুলভ একটি উপকারী বৃক্ষের নাম হতে গৃহীত হয়েছে। বৃক্ষটির নাম ছিল পানামা (Panama)। মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা এবং ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে এ গাছটি বেশ দেখা যায়। আর

প্রকাশক: পুথিনিলয়। উত্তর আমেরিক।

একটি কিংবদন্তি প্রজাপতি কিংবদন্তি নামে পরিচিত। স্থানীয় ভাষায় পানাম শব্দের অর্থ অনেক প্রজাপতি। প্রথম ইউরোপীয়ান অভিবাসী  আগস্ট মাসে এখানে অবতরণ করেছিলেন। এ সময় এখানে প্রচুর এবং ঝাকেঝাকে প্রজাপতি থাকত। অভিবাসী প্রজাপতি দেখে এর নাম দিয়েছিল পানামা, মানে প্রজাপতি। এর অর্থ অনেক প্রজাপতি।

অনেকের মতে, পানামা শব্দের অর্থ মাছের প্রাচুর্য্য, বা মাছের প্রাচুর্যময় এলাকা। কুয়েভা (Cueva) ইন্ডিয়ান ভাষায় পানামা শব্দের অর্থ প্রচুর মাছ সমৃদ্ধ এলাকা বা বহু মাছের এলাকা বা মৎস্যের প্রাচুর্যময় এলাকা। ১৫১৫ খ্রিস্টাব্দেগ ক্যাপ্টেন অ্যান্টোনিও টেলে ডি গুজমেন যখন এ দ্বীপটি খুঁজে পান, তখন অবতরণ করে মাছের প্রাচুর্য দেশে হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি এমন একটি বাজারে ওঠেন যেখানে মাছ বিক্রি হচ্ছিল। কিংবদন্তি যাই হোক না কেন, অধিকাংশ ইতিহাসবেত্তা ও গবেষক মনে করেন,  ক্যারিবি শব্দের অর্থ  মাছ, বৃক্ষ ও প্রজাপতির প্রাচুর্য। সত্যি, এখানে তিনটারই প্রাচুর্য্য ছিল। তাই এর নাম হয় পানামা। পানামার শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনুমোদিত গ্রন্থে পানামা নামের উৎপত্তি সম্পর্কে এমনই লেখা আছে।

আবার অনেকে মনে করেন, কুনা ভাষার শব্দ বানাবা হতে পানামা নামের উদ্ভব। যার অর্থ দূরবর্তী (distant) বা বহু দূরে (far away)।  আধুনিক পানামা সিটি ছিল প্রাচীনকাল হতে একটি সমৃদ্ধ গ্রাম। এ গ্রামের নামানুসারে দেশটির নাম রাখা হয় পানামা। গ্রামটি ছিল প্রজাপতি, মৎস্য ও বৃক্ষের অফুরন্ত উৎস। মধ্য আমেরিকার সবচেয়ে জীববৈচিত্র্যময় দেশ পানামা। এখানে উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকাÑ উভয় মহাদেশের জীববৈচিত্র্যের দেখা মেলে। পানামায় ১০ হাজার প্রজাতির গাছপালা রয়েছে।

পানামার মোট আয়তন ৭৫,৫১৭ বর্গকিলোমিটার বা ২৯,১

প্রকাশক: পুথিনিলয়। ইউরোপ

৫৭ বর্গমাইল। তন্মধ্যে জলীয় ভাগের পরিমাণ ২.৯ ভাগ। ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দের  হিসাবমতে, জনসংখ্যা ৩৬,০৮,৪৩১ এবং প্রতি বর্গকিলোমিটার লোকসংখ্যা ৫৪.২। আয়তন বিবেচনায় পানামা পৃথিবীর ১১৮-তম বৃহত্তম দেশ কিন্তু জনসংখ্যার ঘনত্ব বিবেচনায় পৃথিবীর ১৫৬-তম জনবহুল দেশ।

২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের  হিসাবমতে, পানামার জিডিপি (পিপিপি) ৮৩.৪২১ বিলিয়ন ইউএস ডলার এবং মাথাপিছু আয় ২১,৬৩৪ ইউএস ডলার। অন্যদিকে, জিডিপি (নমিনাল) ৪৯.১৪২ বিলিয়ন ইউএস ডলার এবং মাথাপিছু আয়  ১২,৭৪৪ ইউএস ডলার। মুদ্রার নাম বলবোয়া। রাজধানী পানামা সিটি। পানামার নাগরিকগণ নিজেদের পানামানিয়ান পরিচয় দিয়ে থাকেন। ১৮২১ খ্রিষ্টাব্দের  ১৮ নভেম্বর পানামা স্পেন হতে এবং ১৯০৩ খ্রিষ্টাব্দের  ৩ নভেম্বর কলাম্বিয়া হতে স্বাধীনতা লাভ করে।

পানামা সিটি পৃথিবীর একমাত্র রাজধানী যার পুরোটাই রেনফরেস্টের অন্তর্ভুক্ত। হংকং এর পর পানামা পৃথিবীর সবচেয়ে ডিউটি ফ্রি জোন।  স্পেনিশ অভিযাত্রী পেড্রো অরিস ডিভিলা ১৫১৯ খ্রিষ্টাব্দের  ১৫ আগস্ট পানামা সিটিতে অবতরণ করেন।

পানামার জনগণের ৬৫% মেস্তিজো, ১২.৩% দেশীয় আমেরিকান, ৯.২% কৃষ্ণাঙ্গ এবং ৬.৭% শ্বেতাঙ্গ। জনসংখ্যার৭৫%- ৮৫% রোমান ক্যাথলিক,

প্রকাশক: পুথিনিলয়।

১৫%- ২৫% প্রোটেস্ট্যান্ট। তবে কিছু বাহাই বিশ্বাসী লোক আছে। পানামার নিজস্ব মুদ্রা থাকলেও মার্কিন ডলারও চালু রয়েছে। মার্কিন ডলার ও পানামার মুদ্র বলবোর সমান মান। পানামায় মার্কিন ডলার এমনভাবে জনপ্রিয়, যেন এটিই তাদের জাতীয় মুদ্র। পর্যটন পানামার দ্রুতবর্ধনশীল অর্থকর খাত। ২০১২ খ্রিস্টাব্দে ২২ লাখ পর্যটক পানামা ভ্রমণে গিয়েছিলেন। তবে বিখ্যাত পানামা হ্যাট যদি মনে করেন, পানামায় তৈরি হয়, তা ভুল। এটি তৈরি হয় ইকুয়েডরে। পানামায় কেবল প্যাকেট এবং জাহাজায়ন করা হয়। পানামা উত্তর আমেরিকা মহাদেশের দক্ষিণাংশের একটি রাষ্ট্র। উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার সংযোগস্থলে অবস্থিত এই দেশটি পূর্বে কলম্বিয়ার অধীন ছিল। পানামার রাজধানীর নাম পানামা সিটি। পানামাতে আটলান্টিক মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগর এর সংযোগকারী পানামা খাল অবস্থিত।

১৯০৪-১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ সময়ে মার্কিন সৈনিকদের নেতৃত্বে ৭৫,০০০ সৈনিক নিয়োজিত করে পানামা খাল খনন করা হয়। ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দের  পূর্বে পানামা খাল মার্কিন সৈনিকদের দখলে ছিল। পানামা খাল সবচেয়ে কম যে দূরত্বে প্রশান্ত মহাসাগরকে আটলান্টিক মহাসাগর থেকে পৃথক করেছে তার দূরত্ব ৮০ কিলোমিটার। কার্গো জাহাজ অ্যানকন ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দের  ১৫ আগস্ট প্রথম পানামা খাল অতিক্রম করে। পানামার এক তৃতীয়াংশ রাজস্ব আসে পানামা খাল থেকে। পানামা পৃথিবীর একমাত্র শহর যেখানে আপনি প্রশান্ত মহাসাগরে সূর্যোদয় এবং আটলান্টিক মহাসাগরে সূর্যাস্ত দেখতে পাবেন। এটাই একমাত্র দেশ যেখানে আপনি একইদিন আটলান্টিক মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরে সাতার কাটতে পারবেন।


হন্ডুরাস (Honduras) : ইতিহাস ও নামকরণ

জ্যামাইকা (Jamaica) : ইতিহাস ও নামকরণ

মেক্সিকো (Mexico) : ইতিহাস ও নামকরণ

নিকারাগুয়া (Nicaragua) : ইতিহাস ও নামকরণ

সূত্র:  কীভাবে হলো দেশের নাম, ড. মোহাম্মদ আমীন, পুথিনিলয়, বাংলাবাজার, ঢাকা।

All Link

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র

Knowledge Link

বাংলাদেশ ও বাংলাদেশবিষয়ক সকল গুরুত্বপূর্ণ সাধারণজ্ঞান লিংক

আফ্রিকা মহাদেশ : ইতিহাস ও নামকরণ লিংক

ইউরোপ মহাদেশ : ইতিহাস ও নামকরণ লিংক

এশিয়া মহাদেশ : ইতিহাস ও নামকরণ লিংক

error: Content is protected !!