পাশ নম্বর ৩৩ কেন? পরীক্ষার সর্বনিম্ন পাশ নম্বর, তৃতীয় বিভাগ ও ৩৩

ড. মোহাম্মদ আমীন পাশ

নম্বর ৩৩ কেন? পরীক্ষার সর্বনিম্ন পাশ নম্বর, তৃতীয় বিভাগ ও ৩৩ 

সর্বনিম্ন পাশ নম্বর ৩৩% কেন?

আমাদের দেশে বর্তমানে যে শিক্ষাপদ্ধতি প্রচলিত তা ব্রিটিশদের স্বার্থে ব্রিটিশ-প্রশাসন নির্ধারিত একটি উদ্ভট প্রতিবন্ধী শিক্ষাব্যবস্থা। যে ল্যাংড়া শিক্ষাব্যবস্থার ওপর আমার এখনও ভর করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। ল্যাংড়ার ওপর ভর করে কতদূর আর যাওয়া যাবে?
 
১৭৮১ খ্রিষ্টাব্দে ওয়ারেন হেস্টিংস কলকাতা মাদ্রাসা (অধুনা আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়), ১৭৯১ খ্রিষ্টাব্দে জোনাথান ডানকান বারাণসীতে সংস্কৃত কলেজ এবং ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে লর্ড ওয়েলেসলি ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মচারীদের দেশীয় ভাষা ও আদবকায়দা শেখানোর উদ্দেশ্য কলকাতায় চালু করেন ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ।১৮১৭ খ্রিষ্টাব্দে ডেভিড হিউম কলকাতা হিন্দু কলেজ (অধুনা প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) স্থাপন করেন। তবে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য কোনো আদর্শ বিধি ছিল না।
 
১৮৩৫ খ্রিষ্টাব্দে ইংরেজি ভাষাকে ভারতের উচ্চশিক্ষার একমাত্র মাধ্যম ঘোষণা করা হয়। ১৮৫৪ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ পাঠ্যক্রম অনুসারে জারিকৃত চার্লস উড-এর ‘উড’স ডেসপ্যাচ অন এডুকেশন’ নীতির আলোকে সর্বপ্রথম প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চস্তর পর্যন্ত শিক্ষার পাঠক্রম বিবরণ প্রকাশ করা হয়। বিবরণে চার্লস উড প্রাথমিক স্তর, মাধ্যমিক স্তর এবং উচ্চশিক্ষা স্তরে কীভাবে কী পড়ানো হবে তা নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেন। উচ্চশিক্ষার মাধ্যম হিসাবে ইংরেজি এবং প্রাথমিক শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে স্থানীয় ভাষাকে গ্রহণ করা হয়।
 
১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতা, বোম্বাই ও মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়। ১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দে উপমহাদেশে ব্রিটিশ পাঠ্যক্রম অনুসারে প্রথম ম্যাট্রিক পরীক্ষা অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ব্রিটিশ কারিকুলামে সর্বনিম্ন পাশ নম্বর ছিল ৬৫%। অর্থাৎ কোনো শিক্ষার্থী ১০০ নম্বরের পরীক্ষায় ৬৫ নম্বরের কম পেলে তাকে অনুত্তীর্ণ ঘোষণা করা হতো।
 
ইংরেজরা উপমহাদেশবাসীকে বিদ্যা-বুদ্ধি আর মেধা-প্রজ্ঞায় ব্রিটেনবাসীর অর্ধেক মনে করত। তাই শিক্ষার্থীদের সর্বনিম্ন পাশ-নম্বর কত হবে তা নির্ধারণের জন্য ব্রিটেনের শিক্ষাসচিবের কাছে পত্র লেখা হয়। ব্রিটেনের শিক্ষাসচিব এ বিষয়ে চার্লস উড-এর পরামর্শ চাইলে তিনি বলেন, “The people of Subcontinent are half as intellectual and efficient as compared to the British”।
 
এটি বিবেচনা করে ব্রিটিশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ভারতবর্ষের শিক্ষার্থীদের ম্যাট্রিক পরীক্ষা-সহ ব্রিটিশ পাঠ্যক্রম অনুসারে পরিচালিত সকল পরীক্ষার পাশের ন্যূনতম নম্বর ব্রিটেনের ন্যূনতম পাশ-নম্বর ৬৫- এর অর্ধেক ৩২.৫ নির্ধারণ করে দেয়। অএতব, নিম্নতম পাশনম্বর হয় ৩২.৫%।
১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দে হতে ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত পাশ নম্বর ছিল ৩২.৫%। গণনার সুবিধার্থে ১৮৬২ খ্রিষ্টাব্দে থেকে সর্বনিম্ন পাশের নম্বর ৩৩% করা হয়।
 
এই নিম্নতম পাশ নম্বর পুরো উপমহাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে বৈশ্বিক বিবেচনায় এখনো অর্ধেকে করে রেখেছে: জ্ঞান মেধা বিদ্যা বুদ্ধি ও প্রজ্ঞায়। ব্যতিক্রম তো আছে, তবে ব্যতিক্রম তো আর উদাহরণ হতে পারে না।
 
আবশ্যিকভাবে আপনার আগ্রহ সৃষ্টি করবে এমন কয়েকটি লিংক: প্রয়োজনীয় কিছু লিংক:
শুবাচ গ্রুপ এর লিংক: www.draminbd.com

শুদ্ধ বানান চর্চা (শুবাচ) প্রমিত বানানবিধি

শুবাচ আধুনিক প্রমিত বাংলা বানান অভিধান

এক মিনিট সময় দিন বানানগুলো শিখে নিন

 
 
 
 
 
 
 
 
error: Content is protected !!