পিঁড়া ধারি দাওয়া দহলিজ রোয়াক রক এবং চিলমচি

ড. মোহাম্মদ আমীন

পিঁড়া ধারি দাওয়া দহলিজ রোয়াক রক

সংযোগ: https://draminbd.com/পিঁড়া-ধারি-দাওয়া-দহলিজ-রো/

 
ঘর/বাড়ি সংলগ্ন চারপাশে বর্ধিত উঁচু জায়গাটাকে শুদ্ধ বাংলায় কি বলা হয়?
এটি বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন নামে পরিচিত। কয়েকটি আঞ্চলিক নাম—

ওডা, কাঁধ, ছেইচ, ডয়ালা, ডিয়ালা, ডুয়া, ডেইলা, ডেঁইলে, ডেয়ালা, ডেলা, ডোআ-লা, ডোয়া, ঢেঁইলা, ঢেলা, দহলিজ, দাওয়া, দাইর, দেওয়ার, ধাইড়, ধাইর, ধাঁইর, ধারি, পইডা, পইডে, পিঁড়া, পিঁড়ে, পিডা, পিড়া, পিড়ালি, পিড়েলি, পিরা, পৈঠা, পৈডে, পোতা, ফিড়া, বারান্দা, ভিটি, ভিত, ভিত্তি, সিঁধ, হিড়া- – – ইত্যাদি।

বাংলা একাডেমী বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান [অখণ্ড] [প্রথম প্রকাশ ১৯৬৫, তৃতীয় পুনর্মুদ্রণ ২০০৯] গ্রন্থে স্থানটির নয়টি আঞ্চলিক নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে। যথা —

ওডা, ডোআ, ডোয়া, পিরা, পিড়ানি, পিড়ালি, পিড়ে, পৈটা ও পৈঠা।

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান [প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২০১৬; পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত সংস্করণ: এপ্রিল ২০১৮] গ্রন্থে যেসব নাম প্রমিত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে সেগুলো হলো—

ধারি, পিঁড়ি, দাওয়া, দহলিজ, রোয়াক ও বারান্দা।

  • ধারি: মাটির ঘরের চারদিকে নির্মিত বারান্দাকে ধারি বলা হয়। এটি বাংলা শব্দ। অর্থাৎ ধারি কেবল মাটির ঘরের চারদিকে নির্মিত বারান্দা। মাটির ঘরের পিঁড়াকেও ধারি বলে।
“তোমার বাড়ির দখিন ধারির কাঁঠাল গাছের তলে
সন্ধ্যাবেলা আইস চলে জলকে যাবার ছলে।”
  • পিঁড়া: সংস্কৃত পিণ্ড থেকে উদ্ভূত খাঁটি বাংলা পিঁড়া অর্থ— (বিশেষ্যে) ঘরের দাওয়া। পিঁড়া, পাকা বা কাঁচা উভয় প্রকার হতে পারে।
“পিঁড়ার ওপর বসে জামাই পিঁড়েখানি পেতে
পাকের ঘরে চলছে শলা কী কী দেবে খেতে। ”
  • দাওয়া: দাওয়া দেশি শব্দ। অর্থ— (বিশেষ্যে) বারান্দা, রোয়াক। এটি ধারি ও পিঁড়া শব্দের সমার্থক হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
“দাওয়ায় বসে ভাজে দাদি, বিন্নি ধানের খই
আয়রে তোরা আয় ছুটে আয় কই গেলি গো সই?”
  • দহলিজ: দহলিজ ফারসি উৎসের শব্দ। ফারসি দহলিজ অর্থ— (বিশেষ্যে) বৈঠকখানা; ঘরের দাওয়া; চণ্ডীমণ্ডপ।
  • রোয়াক: রোয়াক আরবি উৎসের শব্দ। রোয়াক শব্দের মুখ্য অর্থ— (বিশেষ্যে) গৃহসংলগ্ন পাকা বাঁধানো স্থান, দাওয়া। রোয়াক শব্দের কথ্য রূপ হলো রক। রোয়াক হতে হলে তা পাকা হতে হবে।
  • বারান্দা: বারান্দা ফারসি উৎসের শব্দ। অর্থ হলো (বিশেষ্যে)— ঘরসংলগ্ন ছাদযুক্ত বা ছাদহীন চত্বর, অলিন্দ, দাওয়া। অলিন্দ তৎসম শব্দ। এটি পাকা বা কাঁচা এবং ছাদহীন বা ছাদযুক্ত হতে পারে।
চিলমচি
চিলমচি তুর্কি উৎসের শব্দ। বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত চিলমচি অর্থ— আহারের পূর্বে বা পরে (সচরাচর অতিথির) হাতমুখ ধোয়ানোর জন্য ব্যবহৃত ধাতব পাত্রবিশেষ; খাওয়ার আগে বা পরে হাত-মুখ ধোয়ার জন্য ব্যবহৃত ধাতব পাত্রবিশেষ।
চিলমচির মুখ গোলাকারভাবে প্রসারিত। যাতে হাতমুখ ধোয়ানোর বা ধোয়ার সময় জল ছিটকে না পড়ে যায়।
চিলমচি তুর্কিদের সঙ্গে ভারতবর্ষে আগমন করে। সাধারণত এটি মেহমানদের হাতমুখ ধোয়ানোর জন্য ব্যবহার করা হয়। অধুনা এর ব্যবহার অনেক কমে গেছে। শহরাঞ্চলে দেখা যায় না। তবে গ্রামাঞ্চলে এখনো দেখা যায়।

প্রয়োজনীয় সংযোগ

শুবাচ গ্রুপের সংযোগ: www.draminbd.com
শুবাচ যযাতি/পোস্ট সংযোগ: http://subachbd.com/
আমি শুবাচ থেকে বলছি
error: Content is protected !!