পিঠুয়া জোংরা জুঁইর জুঁই জুমোর জংগইর জোংড়া ঝাঁপি বর্ষাতিটোকা টোকা পেকে পেকো পেখে পেখা পাখিয়া সার্সি

ড. মোহাম্মদ আমীন
পিঠুয়া জোংরা জুঁইর জুঁই জুমোর জংগইর জোংড়া ঝাঁপি বর্ষাতিটোকা টোকা পেকে পেকো পেখে পেখা পাখিয়া সার্সি
এর প্রমিত নাম পিঠ ও জোংরা।
পিঠ থেকে পিঠুয়া। এটি খাঁটি বাংলা শব্দ। সংস্কৃত পৃষ্ঠ থেকে উদ্ভূত পিঠ অর্থ কাঁধ থেকে কোমর পর্যন্ত জীবদেহের পশ্চাদ্‌ভাগ, পৃষ্ঠ। পিঠুয়া অর্থ পৃষ্ঠদেশ ঢাকার আবরণবিশেষ, বৃষ্টি রোদ প্রভৃতি হতে শরীরকে রক্ষার জন্য মাথা হয়ে কাঁধ থেকে কোমর পর্যন্ত জীবদেহের পশ্চাদ্‌ভাগ ঢেকে রাখার আবরণকে বলা হয় পিঠুয়া।  তালপাতা, হোগলা প্রভৃতি দিয়ে এবং পলিথিন প্রচলিত হওয়ার পর পলিথিন  দিয়ে এটি এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে দুই হাত মুক্ত রেখে ব্যবহার করা যায়। ফলে কৃষকগণ  এটি মাথায় দিয়ে দুই হাতে অন্য কাজ করতে পারত।
নোয়াখালী অঞ্চলে এটি জোংরা নামে পরিচিত। বাংলা একাডেমি বিবর্তনমূলক অভিধানে শব্দটি রয়েছে। ওখান বলা হয়েছে  জোংরা অর্থ বি. বাঁশের চাটাই দিয়ে তৈরি এক ধরনের ছাতা। ‘জোংরাটা মাথায় দিয়ে বেরিয়ে পড়ল নবিতুন।’ (শহীদুল্লা কায়সার) ১৯৬২। বাংলা একাডেমি বিবর্তনমূলক অভিধান – বাংলা ভাষার বিবর্তনমূলক অভিধান কর্মসূচি ২০১০- ডিসে ২০১৩। সম্পাদনা – গোলাম মুরশিদ ও স্বরোচিষ সরকার। [পৃষ্ঠা – ১০৯৫]
অঞ্চলভেদে এর  বিভিন্ন নাম রয়েছে। এমনকি একই অঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামভেদেও নামের পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। এর কয়েকটি আঞ্চলিক নামে নিচে দেওয়া হলো:
 
উরি, জঁইর, জুঁই,   জুঁইর, জোঁংরা, জোঁ-ঈ-র, জংগইর, জাংগোইর, জুঙ্গুর,  জুঙ্গইর, জুমোর, জোঅর, জোওর,  জোংঘর, জোঙ্গইর, জোংরা,  জোংড়া, জোমরা,   জৈঙ্গর (চাকমা),  ছাত্তা , ঝাপড়ি, ঝোঙরা’, ঝোইর, ঝামি, ঝাঁপি, ঝোঁর, ঝাপি,  ঝুই, বর্ষাতি,   টুকা, টোকা, টোকো, টোঙ্গইর,   টুপা,  টোঙ্গর,  ডোঙা,  ডোংঙ্গা,  তালাসিং, পেকো, পেখে, পেখা, পেখো, পাখিয়া, প্যাখিয়া, পেখিয়া, পকি , ফাতলা, যুুঁঅঁর, যোমরা,  সাত্তা,  সার্সি ইত্যাদি। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় এর নাম ঘঙ্  য্যুঁই, টোকা, টোকা, পেকে, পেকো,  পেখে, পেখা, পাখিয়া, সার্সি, প্যেকে, পেকে ইত্যাদি।
জসীম উদ্‌দীন লিখেছেন
ক্ষণ পরে মোরে ডাকিয়া কহিল, ‘আমার কবর গায়,
স্বামীর মাথার ‘মাথাল’ খানিরে ঝুলাইয়া দিও বায়।’
সেই সে মাথাল পচিয়া গলিয়া মিশেছে মাটির সনে,
পরানের ব্যথা মরে না কো সে যে কেঁদে ওঠে ক্ষণে ক্ষণে।
এই মথালা পিঠুয়া বা জোংরা নয়। মাথাল হচ্ছে গোলাকার অনেকটা হ্যাটের মতো। মাথায় টুপির মতো ওপরে খাড়া সেটাকে আমাদের অঞ্চলে মাথাল বলে
 
error: Content is protected !!