পেশাবখানা অর্থ সামনের দিকের ঝরনা

ড. মোহাম্মদ আমীন

পেশাবখানা অর্থ সামনের দিকের ঝরনা

পেশ আব নিয়ে পেশাব শব্দটি গঠিত। পেশ অর্থ সামনে এবং আব অর্থ জল, পানি, ঝরনা। সুতরাং, পেশাব অর্থ সামনের পানি বা সামনের ঝরনা। যার বাংলা প্রস্রাব, মূত্র এবং ইংরেজিতে urine। মূত্র মানুষ সামনের দিক দিয়ে জলাকারে নির্গত করে। তাই এর নাম পেশাব। অর্থাৎ, পেশাব শব্দের প্রায়োগিক অর্থ মূত্র। খানা অর্থ ঘর। সুতরাং, পেশাবখানা শব্দের অর্থ মূত্রঘর। যার প্রায়োগিক অর্থ মূত্র ত্যাগের ঘর, মূত্রখানা। পেশ+আব+খানা= পেশাবখান। যার আভিধানিকি অর্থ যে ঘরে মানুষ সামনের দিক দিয়ে জল নির্গত করে!

পায়খানা: পেছনের ঘর

“খোকা বিছানায় পায়খানা করে দিয়েছে।”

ওপরের বাক্যটিতে পায়খানাকে মল হিসেবে নির্দেশ করা হয়েছে। অধিকাংশ মানুষ মনে করেন পায়খানা অর্থ— মল, হাগু, পুরীষ, stool। আসলে তা ঠিক নয়। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুযায়ী, ফারসি পায়খানা অর্থ— (বিশেষ্যে) মলত্যাগের স্থান, মলত্যাগ। শব্দটির আদি অর্থ এমন ছিল না। এর সঙ্গে মলেরও কোনো সম্পর্ক ছিল না। পায়খানা শব্দ নিয়ে পায়খানা শব্দ গঠিত। পায় অর্থ— পেছনের বা পেছনের দিকের এবং খানা অর্খ— ঘর, ছোটো ঘর, একক ঘর। সুতরাং, পায়খানা শব্দের শাব্দিক অর্থ হয়— পেছনের দিকের ছোটো ঘর, পেছনের ছোটো ঘর। সাধারণত, বাড়ির পেছনেই মল ত্যাগের জন্য ছোটো খানা বা ছোটো ঘর তৈরি করা হতো। এখনকার মতো ঘরের ভেতর পায়খানা করা হতো না। তাই পেছনের ঘর হিসেবে পায়খানা মলত্যাগের স্থান বা মলত্যাগ কথার সমার্থক হয়ে যায়। এখন পায়খানা অর্থ— টয়লেট, শৌচাগার প্রভৃতি।

টাট্টি

“টাট্টি কোন অঞ্চ‌লের ভাষা? এর প্রমিত বাংলা কী?” বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত টাট্টি হিন্দি হতে আগত শব্দ। এর অর্থ পায়খানা, বাহ্যক্রিয়া। এটি প্রমিত শব্দ।

কদর্য= কু+অর্য= কুৎসিত স্বামী

কদর্য’ শব্দের আভিধানিক অর্থ: কুৎসিত, বিশ্রী, গর্হিত, অশালীন, পাপময় প্রভৃতি। বাংলা ভাষায কু বা খারাপ অর্থে বিশেষণরূপে কদর্য শব্দটির বহুল ব্যবহার লক্ষণীয়।‘কদর্য’ শব্দটি সংস্কৃত ভাষা থেকে সরাসির বাংলা ভাষায় প্রবেশ করলেও সে তার মূল সংস্কৃত অর্থ সঙ্গে করে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়নি। তবে যে অর্থ এনেছে বা পেয়েছে তা মূল অর্থের সঙ্গে সঙ্গতিহীন এমনটি বলা যাবে না।‘কু’ মানে কুৎসিত এবং ‘অর্য’ মনে স্বামী। সুতরাং, সংস্কৃতে কদর্য শব্দের অর্থ কুৎসিত স্বামী। তবে এ কুৎসিত কেবল শারীরিক নয়। যেসব স্বামী তার স্ত্রী-পুত্রকে নিপীড়ন করে ধনসঞ্চয় করত সংস্কৃতে তাদেরই কদর্য বলা হতো।তবে বাংলা ভাষায় ‘কদর্য’ বলতে এখন শুধু স্বামী বোঝায় না। স্বামী হোক বা পিতা হোক কিংবা ছেলে হোক বা শালা হোক যা কিছু কুৎসিত, বেমানান, অশালীন, বিরূপতার পরিচায়ক, ঘৃণ্যময় সবটাই কদর্য।

সূত্র: বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন: প্রয়োগ ও অপপ্রয়োগ, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.

ALL LINK : শুবাচে প্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ লেখা

ALL LINK

ALL LINKS/1

ALL LINKS/2 শুবাচির প্রশ্ন থেকে উত্তর

ALL LINKS/3

পেশাবখানা অর্থ সামনের দিকের ঝরনা

সিংহভাগ

error: Content is protected !!