পোলান্ড (Poland) : ইতিহাস ও নামকরণ

কীভাবে হলো দেশের নাম (ইউরোপ)

ড. মোহাম্মদ আমীন

পোলান্ড (Poland)

পোল্যান্ড, সরকারিভাবে পোল্যান্ড প্রজাতন্ত্র ইউরোপ মহাদেশের মধ্যস্থানে অবস্থিত। এর পশ্চিমে জার্মানি, দক্ষিণে চেক প্রজাতন্ত্র ও স্লোভাকিয়া, পূর্বে ইউক্রেন ও বেলারুস এবং উত্তরে বাল্টিক সাগর, লিথুয়ানিয়া, ও রাশিয়া অবস্থিত। বাল্টিক সাগরে পোল্যান্ডের সঙ্গে ডেনমার্কের জলসীমান্ত রয়েছে।  পোল্যান্ড ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দে  ১ মে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হয়। পোলান্ডের ম্যাপের আকৃতি অনেকটা ব্যাবুনের মতো।

পোলান্ড শব্দের অর্থ পোলান-ভূমি বা পোলনদের ভূমি (Land of Polans)। পোলানস বা পোলাইনি(Polaine) নামের নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর একদল লোকে এখানে প্রথম বসতি গড়ে তুলেছিল। দশম শতকে পোলানসরা (Polans) যখন সংযুক্ত পোলান্ড গঠন করে, তখন থেকে পুরো পোলিশ রাজ্য বুঝাতে পোলান্ড নামটি ব্যবহার করা শরু হয়। কথিত হয়,  পোলিশ ভাষার শব্দ পোল (pole) হতে পোলান্ড শব্দের উৎপত্তি।  পোল অর্থ ফিল্ড বা মাঠ বা ওপেন ফিল্ড বা খোলা মাঠ। জমি, দেশ বা স্থান নির্দেশেও শব্দটি ব্যবহৃত হয়। হাঙ্গেরিয়ান ভাষায় শব্দটির মূল অর্থ মানুষ অহল্যা জমি জমি চাষ করছে (man ploughing virgin soil)। এখানে প্রচুর জমি ছিল। তাই কোনো জমিতে দুইবার চাষ করার প্রয়োজন হতো না। যেখানে যেত সেখানে নতুন জমিতে চাষ করত। অন্য একটি ব্যাখ্যামতে, পোলান্ড শব্দের অর্থ ‘যেখানে লোকজান খোলা মাঠে বাস করছে’।

পোল্যান্ডের মোট আয়তন ৩,১২,৬৭৯ বর্গকিলোমিটার বা ১,২০,৬৯৬.৪১ বর্গমাইল। তন্মধ্যে জলীয় ভাগের পরিমাণ ৩.০৭%। ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দের হিসাবমতে, পোল্যান্ডের মোট জনসংখ্যা ৩,৮৪,৮৩,৯৫৭ এবং প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব ১২৩। আয়তন বিবেচনায় পোল্যান্ড পৃথিবীর ৭১-তম বৃহত্তম দেশ কিন্তু জনসংখ্যা বিবেচনায় ৩৪-তম। আবার জনসংখ্যার ঘনত্ব বিবেচনায় এটি পৃথিবীর ৮৩-তম জনবহুল দেশ।  পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশো। সরকারি ভাষা পোলিশ এবং আঞ্চলিক ভাষা কসোবিয়ান। পোল্যান্ডের অধিবীস সরকারিভাবে পোলিশ  ও পোল নামে পরিচিত।

২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের হিসাবমতে, পোল্যান্ডের জিডিপি (পিপিপি) ১.০০৪ ট্রিলিয়ন ইউএস ডলার এবং সে হিসাবে মাথাপিছু আয় ২৬,৪০২ ইউএস ডলার। অন্যদিকে, জিডিপি (নমিনাল) ৪৮১.২৩৫ বিলিয়ন ইউএস ডলার এবং মাথাপিছু আয় ১২,৬৬২ ইউএস ডলার। মুদ্রর নাম জ্লটি (Zloty)।

প্রায় ১,০০০ বছর আগে পিয়াস্ট রাজবংশের অধীন রাজ্য হিসাবে পোল্যান্ড প্রথম সংগঠিত হয়। ১৭৯১ সালে পোল্যান্ড-লিথুয়ানিয়া কমনওয়েলথের সংসদ, যা সেইম নামে পরিচিত, ইউরোপ মহাদেশের প্রথম রাষ্ট্র হিসাবে মার্কিন সংবিধানের আদলে একটি সংবিধান

প্রকাশক: পুথিনিলয়।

প্রবর্তন করে। কিন্তু এর অল্প কিছুকাল পরে পোল্যান্ডের প্রতিবেশী রাষ্ট্র রাশিয়া, অস্ট্রিয়া ও প্রুশিয়া পোল্যান্ডকে দখল করে নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেয়। ১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দে  প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সমাপ্তির পর  পোল্যান্ড আবার স্বাধীন দেশ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পোল্যান্ড তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের অধীন কমিউনিস্ট রীতির গণপ্রজাতন্ত্র পোল্যান্ড এ পরিণত হয়। ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দের আংশিক অবাধ নির্বাচনের ফলে কমিউনিস্ট শাসনের পতন ঘটে, যাতে সলিডারিটি (Solidarnosc) দল ও লেস ওয়ালেসা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বর্তমানে পোল্যান্ড একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দে  নতুন সংবিধান প্রনয়ন করা হয়। ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে  পোল্যান্ড ন্যাটো জোটে যোগ দেয়। ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দের ৯ আগস্ট পোলান্ডের পতাকা প্রথম গৃহীত হয়। ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে  এটা কিছুটা পরিবর্তিত করে পুনরায় গৃহীত হয়।

পোল্যান্ডের মোট আয়তনের এক তৃতীয়াংশ বন। ৫০% জমি কৃষিকাজে ব্যবহারযোগ্য। এখানে মোট ৯,৩০০ হ্রদ এবং ২৩টি ন্যাশনাল পার্ক এবং একটি মরুভূমি রয়েছে। পোল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী ও বসবাসকারী জার্মান জ্যোতির্বিদ নিকোলাস কপারনিকাস

প্রকাশক: পুথিনিলয়।

প্রথম ঘোষণা করেন যে, পৃথিবী প্রকৃতপক্ষে সৌরজগতের কেন্দ্রে নয়। ধর্মীয়ভাবে অধিকাংশ পোলিশ রোমান ক্যাথলিক। এখানে রোমান ক্যাথলিক ধর্ম এত প্রিয় যে, একটি টিভি সেন্টার পোপের প্রতি উৎসর্গীত।  পোলিশ জ্যোতির্বিদ জ্যান হিউলিয়াস (Jan Heweliusz) প্রথম চাঁদের প্রকৃত মানচিত্র অঙ্কন করেন। ৩৫% পোলিশ বিদেশ থাকেন। ১৬০০-১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মোট ৪৩ বার পোল্যান্ডকে স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করতে হয়। পোলিশ সংবিধান ইউরোপের প্রথম এবং বিশ্বের দ্বিতীয় সংবিধান।

 পোল্যান্ডে প্রথম তলাকে লিফ্টে শূন্য তলা হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। তাই কেউ যদি দোতালায় যেতে চায় তাহলে তাকে লিফটের বোতাম ১ টিপতে হবে। পোল্যান্ড বিশ্বের বৃহত্তম অ্যাম্বার (amber) বা তৃণমণি রপ্তানিকারক দেশ। পৃথিবীর শক্তিশালী মানুষের পদবি প্রাপ্তিতে বিশ্বে পোল্যান্ড প্রথম। পৃথিবীর কয়েকটি দেশের মধ্যে পোল্যান্ড একটি, যেখানে এখনও ভদ্রতা হিসাবে হস্তচুম্বন প্রথা প্রচলিত। সামরিক বাহিনীর লোকের একে অন্যকে দুই আঙ্গুলে স্যালুট করে।

কিছু কিছু পোলিশ বিয়ারে ১০% অ্যালকোহল থাকে। পোল্যান্ড ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ১৭টি নোবেল পুরস্কার লাভ করে। বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী মেরি কুরির জন্মস্থান পোল্যান্ডে। যদিও তিনি ফ্রান্সে বসবাস করতেন। গ্রীষ্মে যে সকল পরিযায়ী পাখি ইউরোপে গমন করে, তন্মধ্যে এক চতুর্থাংশের জন্ম পোল্যান্ডে। যা পোলান্ডকে পরিযায়ী পাখির গুরুত্বপূর্ণ জন্মস্থানে পরিণত করেছে। পোল্যান্ড ইউরোপের ৯ম বৃহত্তম দেশ। পোল্যান্ডের লোকেরা আগা থেকে কলা ছুলে না, গোড়া থেকে ছুলে। পোলিশরা জন্মদিনের পরিবর্তে নাম-রাখার দিনই উৎসব করে।


মাল্টা (Malta) : ইতিহাস ও নামকরণ

মোনাকো (Monaco) : ইতিহাস ও নামকরণ

মন্টিনেগ্রো (Montenegro) : ইতিহাস ও নামকরণ

নেদারল্যান্ডস (Netherlands) : ইতিহাস ও নামকরণ

নরওয়ে (Norway) : ইতিহাস ও নামকরণ

সূত্র:  কীভাবে হলো দেশের নাম, ড. মোহাম্মদ আমীন, পুথিনিলয়, বাংলাবাজার, ঢাকা।

All Link

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র

Knowledge Link

বাংলাদেশ ও বাংলাদেশবিষয়ক সকল গুরুত্বপূর্ণ সাধারণজ্ঞান লিংক

 

error: Content is protected !!