প্রখ্যাত ও বিখ্যাত 

প্রখ্যাত ও বিখ্যাত

ড. মোহাম্মদ আমীন

‘প্রখ্যাত’ শব্দের ব্যুৎপত্তি, প্র+√খ্যা+ত্‌। এটি বিশেষণ। যার অর্থ প্রসিদ্ধ, যশস্বী। এর স্ত্রীলিঙ্গ প্রখ্যাতা। বিখ্যাত শব্দের ব্যুৎপত্তি হচ্ছে, বি + √খ্যা+ত্‌। পদ হিসেবে এটিও বিশেষণ। যার অর্থ বিশেষ প্রসিদ্ধি বা খ্যাতিসম্পন্ন, প্রখ্যাত। অতএব প্রখ্যাত ও বিখ্যাত শব্দের অর্থগত কোনো পার্থক্য নেই। একটি আর একটি শব্দের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায়। তবে প্রায়োগিক ক্ষেত্রে কিছুটা পার্থক্য দেখা যায়।

সাধারণত ‘বিখ্যাত’ শব্দটি ব্যাপক অর্থে এবং ‘প্রখ্যাত’ শব্দটি অপেক্ষাকৃত সীমিত অর্থে ব্যবহার করা হয়। তবে এ বিষয়ে কোনো ব্যাকরণিক নির্দেশনা নেই। যেমন : প্রখ্যাত বিজ্ঞান এডিসন ও বিখ্যাত বিজ্ঞানী এডিসন– দুটোই লেখা যায়। তবে বিস্তৃত প্রসিদ্ধি প্রকাশে ‘প্রখ্যাত’ শব্দের চেয়ে ‘বিখ্যাত’ শব্দ ব্যবহার করা অধিক যৌক্তিক। এছাড়াও রয়েছে আরও কিছু প্রায়োগিক পার্থক্য।

‘বিখ্যাত’ শব্দটি মানুষ ছাড়াও অন্য কিছুতেও ব্যাপক হারে ব্যবহৃত হতে দেখা যায়। তবে ‘প্রখ্যাত’ শব্দটির ব্যবহার মানুষের ক্ষেত্রেই বেশি দেখা যায়। যেমন : বিখ্যাত পদ্মার বিখ্যাত ইলিশ নিয়ে প্রখ্যাত কবি রাণী তালুকদারের বিখ্যাত কবিতাটি আমি 

পড়েছি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের সেই বিখ্যাত ভাষণটিতে কেবল ২৭২টি শব্দ ছিল।

বিখ্যাত শব্দের আগে অন্য শব্দ বসিয়ে বাক্যকে যত নিবিড় এবং বিস্তৃত পরিসরে শ্রুতিমধুরতার সঙ্গে বিশেষায়িত করা যায়, ‘প্রখ্যাত’ শব্দটি দিয়ে তেমন করা যায় না। যেমন : ‘বিশ্ববিখ্যাত’ বলা যত শ্রুতিমধুর ‘বিশ্বপ্রখ্যাত’ বলা তত শ্রুতিমধুর মনে হয় না। যদিও উভয় শব্দের অর্থ অভিন্ন। এজন্য ‘বিখ্যাত’ শব্দের চেয়ে ‘প্রখ্যাত’ শব্দের ব্যবহার তুলনামূলকভাবে কম।

 ‘য’-ফলা উচ্চারণের নিয়ম: “আদ্য বর্ণে ‘য’-ফলা যুক্ত হলে বর্ণটির উচ্চারণে সামান্য শ্বাসাঘাত পড়ে এবং বর্ণটি ‘অ’-কারান্ত বা ‘আ’-কারান্ত হলে প্রায়শ তার উচ্চারণ ‘আ’-কারান্ত হয়ে থাকে।” তাই ‘ব্যাখ্যা’ শব্দের প্রথম অংশকে ‘ব্যা’ উচ্চারণ করা হয়। তদ্রুপ: ব্যাংক,ব্যক্তি,ব্যাকরণ,ব্যয়,ব্যবহার,ব্যবসায়ী ইত্যাদি।

পদের মধ্য বা শেষ বর্ণে ‘য’-ফলা যুক্ত হলে যে বর্ণের সাথে যুক্ত হয়, সে বর্ণটি দুবার উচ্চারিত হয়। তাই ‘ব্যাখ্যা’ শব্দটির দ্বিতীয় অংশ ‘খ্যা’ উচ্চারিত না হয়ে ‘কখা’ উচ্চারিত হয়।

একটি সংস্কৃত প্রবাদ
অগাধজলসঞ্চারী বিকারী ন চ রোহিতঃ । গণ্ডুষ জলমাত্রেণ শফরী ফরফরায়তে।।
(অর্থাৎ রুইমাছ অগাধ জলে বিহার করে, অথচ তাহার বিকার নাই। পুঁটি মাছ গণ্ডুষমাত্র জলে ফরফর করিয়া বেড়ায়।) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।

সূত্র :

১.  বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন , ড. মোহাম্মদ আমীন, পুথিনিলয়, বাংলাবাজার, ঢাকা।

২. বাংলা ব্যাকরণ অভিধান, ড. মোহাম্মদ আমীন, পুথিনিলয়, বাংলাবাজার, ঢাকা।

——————————————————————————————————————————————-

বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন এবং কেন লিখবেন

জল বনাম পানি

খাঁটি গোরুর দুধ শুদ্ধ না কি অশুদ্ধ

আশীর্বাদ দোয়া : আদব ও আদাব 

নিচ নীচ বনাম নিচে নিচু

আপদ্‌ বনাম বিপদ : বিপৎকাল না কি বিপদকাল

চোখ : কাব্যিক ভাবনা ব্যাকরণিক অভিধা

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র/২

বাংলা ভাষার মজা, ড. মোহাম্মদ আমীন, পাঞ্জেরী পাবিলিকেশন্স লি.।

error: Content is protected !!