প্রবাচন অভিধান: প্রবাচন= প্রবাদ ও প্রবচন

ড. মোহাম্মদ আমীন

প্রবাচন অভিধান: প্রবাচন= প্রবাদ ও প্রবচন

এই পোস্টের সংযোগ: https://draminbd.com/প্রবাচন-অভিধান-প্রবাচন-প/

অনুলিখন: রাশিদা আকতার মিশু 

 প্রবাচন= প্রবাদ+প্রবচন= প্রবাচন। এটি একটি জোড়কলম শব্দ। ড. মোহাম্মদ আমীনের বই প্রবাচন অভিধান হতে গৃহীত। বইটিতে প্রবাদপ্রবচন দুটোই সংযোজিত। তিনি প্রবাদ ও প্রবচন এই দুটি বিষয়কে একসঙ্গে প্রবাচন উল্লেখ করেছেন।

অনটনের তিন গুণ ব্যয়।

ড. মোহাম্মদ আমীন

আলংকারিক অর্থ ও ব্যাখ্যা:   এমন কিছু পণ্যসামগ্রী রয়েছে যা একসঙ্গে  ক্রয় করা গেলে  কম দামে এবং সহজে পাওয়া যায়। ভেঙে ভেঙে কিনতে হলে বেশি দাম পড়ে, সহজে পাওয়া যায় না। তবু, যারা আর্থিকভাবে দুর্বল তাদের পক্ষে টাকার অভাবে সংশ্লিষ্ট পণ্যসামগ্রী একসঙ্গে ক্রয় করা সম্ভব হয় না। ভেঙে ভেঙে ক্রয় করতে হয়। তাই তা ক্রয়ে তাদের অধিক খরচ হয় । সংগ্রহ করার জন্যও তুলনামূলকভাবে বেশি কষ্ট পেতে হয়।  

 
ঘন দুধের ফোঁটা, বড়ো মাছের কাঁটা।
 
আলংকারিক অর্থ ও ব্যাখ্যা:  উৎকৃষ্ট বস্তু সামান্য হলেও উত্তম। উৎকৃষ্ট বস্তু সর্বত্র এবং সর্বদা ও সর্বাংশে উৎকৃষ্ট। এর সমার্থক একটি প্রবাদ হলো: ‘কণিকামাত্র প্রসাদ’
 
অকেজো বউ লাউ কুটতে দড়।
আলংকারিক অর্থ ও ব্যাখ্যা: জটিল বা শ্রমসাধ্য কিংবা অধিক সূক্ষ্ম ও  সৃজনশীল বা বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ সবাই পারে না। তাই সাধারণভাবে এসব কাজ এড়িয়ে সহজসাধ্য এবং অতি সাধারণ কাজে ব্যস্ত থাকার প্রবণতাকে বলা হয় “ অকেজো বউ লাউ কুটতে দড়”। অনেকে জটিল কাজ করতে চায় না কিংবা পারে না, অথচ তা স্বীকার করে না। বরং নিজেদের দুর্বলতা ঢাকার জন্য  সহজ কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
 
অনেক কালের ছিল পাপ, বড় ছেলে সতীনের বাপ।
আলংকারিক অর্থ ও ব্যাখ্যা: : পাপ ছাড়ে না বাপকেও। পাপের ফল কোনো না কোনো সময় পেতে হয়। একবার অন্যায় করলে তার প্রতিফল ভোগ করতে হয়।
 
অদৃষ্টে করলা  দিল  ভাতে, বিচি কচকচ করে তাতে, পড়ল বীচি বুড়োর পাতে।
আলংকারিক অর্থ ও ব্যাখ্যা:  যার ভাগ্য প্রসন্ন নয়, তার কপালে সুখ জুটে না। সুখের জায়গাতেও দুঃখ চলে আসে।
 
 
অজ্ঞানে বাপান্ত করে, জ্ঞানবানে তাই কি ধরে?
 
আলংকারিক অর্থ ও ব্যাখ্যা: : অজ্ঞ ব্যক্তি বা অবুঝ লোক যদি কোন অপকর্ম করে জ্ঞানী লোক তাতে অপরাধ ধরে না। অনুরূপ আরেকটি প্রবাদ: নীচ যদি উচ্চ ভাষে, সুবুদ্ধি উড়ায় হেসে।
 
জেলের আগে গেলেও দোষ, জেলের পাছে গেলেও দোষ।
আলংকারিক অর্থ ও ব্যাখ্যা: যা করা হোক না, সবাই কেবল খারাপটাই দেখে। কারও প্রশংসা করলে বলা হয় দালাল আবার প্রতিবাদ করলে বলা হয় বেয়াদব। জেলের আগে আগে গেলে ভাবে দালাল এবং পেছনে গেলে ভাবে মাছের বেপারি।  মানুষ শুধু অন্যের আচরণের নেতিবাচক দিকটাই বড়ো করে দেখে। তাতে যে ভালোও থাকতে পারে তা বিবেচনা করা হয় কম।
 
অঘটির ঘাট হলো, জল খেতে খেতে প্রাণ গেল।
আলংকারিক অর্থ ও ব্যাখ্যা: যে কখনো যে বিষয়ে উপভোগ করা সুযোগ পায় নাই, সে সুযোগ পেলে সে বিষয়ে অত্যধিক ব্যবহার করে। ফলে হিতে বিপরীত হয়ে যায়।
 
 
অকালের তাল বড় মিষ্ট।
আলংকারিক অর্থ ও ব্যাখ্যা: : যে জিনিস যে সময়ে পাবার কোন আশা নেই, সে জিনিস সে সময়ে পেলে বড়ই আনন্দ হয়।
 
কথায় কথা বাড়ে, ক্রোধে হয় ঝড়, কথা না বাড়িয়ে সখি যাও তবে ঘর।
অর্থ: অহেতুক তর্ক না করা কিংবা  কোনোভাবে তর্ক এসে গেলে তার এড়িয়ে চলা সমীচীন। এ অর্থের আরেকটি প্রবাদ: কথার অপর নাম লতা।
 
 
ভাইয়ের শত্রু ভাই, মাছের শত্রু ছাই।
আলংকারিক অর্থ ও ব্যাখ্যা: আপন ভাইয়ের দ্বারা কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে এই প্রবাদ বলা হয়। অনুরূপ  আরেকটি প্রবাদ: আপন ভাই মহাশয়, এই জ্বালা কী প্রাণে সয়? আপন জনই আপন জনের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করার জন্য সচেষ্ট থাকে। এটার তুল্যার্থ প্রবাদ—  ঘরের শত্রু বিভীষণ।
 
চল্লে চল্লিশ বুদ্ধি, না চললে হতবুদ্ধি।
আলংকারিক অর্থ ও ব্যাখ্যা: প্রথম কঠিন এবং অসাধ্য মনে হলেও  শুরু করে দিলে সম্পাদনের সুযোগ, উপকরণ এবং বুদ্ধি এসে যায়। তবে অসম্ভব ভেবে শুরু না করে ফেলে রাখলে ওই কাজ কখনো করা যায় না। বরং  অসাধ্য হয়ে যায়। নিজের মধ্যে চলে আসে হতাশা। 
 
খেতে ভালো ভাজা-চাল, দেখতে ভালো মুড়ি।
রসে ভালো এক ছেলের মা, দেখতে ভালো ছুঁড়ি।
 
ভাজা-চাল দেখতে সুন্দর নয়,  তবে খেতে ভালো। আবার মুড়ি দেখতে ভালো কিন্তু খেতে মুড়ির মতো ভালো নয়। অনুরূপ এক সন্তানের মা রসিকতায় ভালো, কিন্তু দেখতে অল্প বয়স্কা নারীই ভালো। অনুরূপ প্রবাদ: দেখতে ভালো ছুঁড়ি করতে ভালো বুড়ি।
 
ওলো রঙ্গী তোর ঘর পড়েছে।
‘পুড়ুক গিয়ে ঘর।
আমার ত রঙ পুড়বে না কো কিবা তা’তে ডর!’
আলংকারিক অর্থ ও ব্যাখ্যা: : রূপসী নারীর রূপের গর্ব বেশি। অনুরূপ আরেকটি প্রবাদ প্রচলিত: বিয়া কর কালো তাই গৃহস্থের ভালো। ব্যাখ্যা: গৃহস্থকে কাল মেয়ে বিয়ে করার পরামর্শ।  জাতের মেয়ে কালোও ভালো, নদীর জল ঘোলাও ভালো।
 
 
অন্য লোকে ভুরা দেয় ভাগ্যে আমি চিনি।
আলংকারিক অর্থ ও ব্যাখ্যা: : মুদী চিনির পরিবর্তে “ভুরা” (গুড়ের নিকৃষ্ট অংশ) দিয়ে ক্রেতাকে ঠকায়, কিন্তু আমি সেয়ানা বলে আমাকে ঠকাতে পারে না।
 
 
অন্ন দেখে দেবে ঘি, পাত্র দেখে দেবে ঝি।
আলংকারিক অর্থ ও ব্যাখ্যা: : ভাল চালের ভাতে ঘি দিলে তা খেতে ভাল হয়। ভাল পাত্রে কন্যা দান করলে সে সুখে থাকে।
 
 
যার গোলায় ধান, তার কথায় টান।
ধনীদের অহংকার বেশি। ধন অহংকারের উৎস। সাধারণত দরিদ্রের প্রতি ধনীরা কথা কয় কর্কশ অথবা তাদের কথার প্রতি দরিদ্ররা আকষ্ট হতে বাধ্য হয়।
 
 
অতীত শুধরানো যায় না। 
একবার কোনো একটি কাজ করা হয়ে গেলে তা করা হয়নি  এমন করা যায় না। অতীতকে শোধরানো যায় না। অতীত শোধরানোর সামর্থ্য কারো থাকে না। ইংরেজিতে বলা হয়:  What is done, cannot be undone. সংস্কৃতে বলা হয়: গতস্য শোচনা নাস্তি।  অতীত নিয়ে অনুশোচনা ছাড়া আর বেশি কিছু করা সম্ভব নয়। তাই বুদ্ধিমানগণ অতীতকে এড়িয়ে যান। Let by gone, be by gone.
 
 
আড়াই কড়ার কাসুন্দি. হাজার কাকের গোল।
 যোগানের তুলনায়, দাবীদারের সংখ্যা বেশী।
 
আপন হাত জগন্নাথ, পরের হাত এটো পাত।
ব্যাখ্যাঃ  নিজের জিনিসকে ভালো এবং অন্যের জিনিসকে হেয়, তুচ্ছ এবং নিকৃষ্ট মনে করা। নিজের সব কিছু ভালো এবং অন্যের একই বিষয় ঘৃণার। নিজের মলে গন্ধ নেই, অন্যের মল দুঃসহ।   
 
 
 
অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ, শেয়াল মামার মোরগ ভক্ষণ
 
মাত্রাতিরিক্ত ভক্তি ভালো মানুষের লক্ষণ নয়। এর মধ্যে ভণ্ডামি নিহিত থাকে। ইংরেজিতে Too much courtesy, too much craft.
 
 
 অগভীর জলে সফরি ফরফরায়তে।
 
ইংরেজিতে প্রবাদটির অর্থ  An empty vessel sounds much.  অল্প পানির পুঁটিমাছ ফরফর করে। যার ওজন কম সে বেশি নড়ে। খালি কলসি নড়ে বেশি। যার জ্ঞান যত কম তাকে দেখা যায় বেশি জ্ঞান ফলাতে।
 
জনম গ্যাল কচু খেতে, গাও চুলকায় আউশের ভাতে।
আলংকারিক অর্থ ও ব্যাখ্যা: নিজেকে অতিরিক্ত জাহির করা। যা নয় তা বলে প্রচার করা। ভণ্ডামি।

 

 
দাতার নারিকেল বখিলের বাঁশ, কমে না বাড়ে বার মাস।
আলংকারিক অর্থ ও ব্যাখ্যা:  ডাব কাটলে বেশি ধরে, বাঁশ কম কাটলে বেশি নতুন বাঁশ হয়।
 
 
নয়ার নয়গুণ, পুরানোর আঠারগুণ।
আলংকারিক অর্থ ও ব্যাখ্যা: অভিজ্ঞতা মূল্য সর্বাধিক। নতুন সুন্দর হতে পারে কিন্তু  অভিজ্ঞদের মতো গুণান্বিত নয়। অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হলে সময়, শ্রম আর নিষ্ঠা প্রয়োজন। এটি অর্জন করতে হলে সময় লাগে।  বস্তুত নবীন বা অভিজ্ঞতাহীন  এবং প্রবীন বা অভিজ্ঞদের আবশ্যকতা নির্দেশ।
 
একে নিদ্রা, দুইয়ে পাঠ, তিনে গল্প, চারে হাট।
আলংকারিক অর্থ ও ব্যাখ্যা: একাকী অধ্যয়ন বা কিছু  শিখতে গেলে সহজেই ঘুম চলে আসে, অবসন্ন হয়ে পড়ে মন। দুজন একসঙ্গে একই কাজ করতে গেলে উভয়ে মধ্যে প্রতিযোগিতার মনোভাব সৃষ্টি হয়। কে কার চেয়ে শ্রেষ্ঠ হতে পারবে সে চিন্তা নিজেকে উজ্জীবিত করে রাখে। দুয়ের অধিক একত্রে বসলে গল্প চলে, চারজন হলে অবস্থা হয় হাটের মতো। এর বিপরীত প্রবাদ: একে নিদ্রা, দুইয়ে পাঠ, তিনে  যুদ্ধ, চারে নিপাট। মানে লোক সংখ্যা যত বাড়ে লক্ষ্যস্থলে পৌঁছা তত কঠিন হয়ে যায়। ফলে নিষ্ঠা ও অধ্যবসায়ও তত বাড়ে।

নয় গাঁ মাগলে যা, সাত গাঁ মাগলেও তা।
আলংকারিক অর্থ ও ব্যাখ্যা: নিন্দনীয় কাজ অল্প করলে যে বদনাম, বেশি করলেও সেই একই বদনাম।

ধেয়ে এসে খেয়ে যায়, এঁটো পাতাটাও নিয়ে যায়।

আলংকারিক অর্থ ও ব্যাখ্যা: শুধু খাওয়ার জন্য যে ব্যক্তি আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে আসে সে ব্যক্তির উদ্দেশ্য থাকে কেবল খাওয়া। খাওয়ার কাজটি শেষ হলে সে চলে যায়। উদ্দেশ্যবাজদের কাজ কেবল উদ্দেশ্য হাসিল করা। তাদের কারও প্রতি আর কোনো দায় বা ভালোবাসা থাকে না।
 
 
ধীরে যায় থামে না, তার নাগাল কেউ পায় না।
আলংকারিক অর্থ ও ব্যাখ্যা: যে ধীর মন্থর গতিতে অবিরাম চলে সে তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে সক্ষম হয়।
 
 
ধনী চাল ভাজা খায় শখে, গরিব খায় পেটের ভুকে।
আলংকারিক অর্থ ও ব্যাখ্যা: একই কাজে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে উদ্দেশ্যের তারতম্য থাকে।
 
 
 
দিন যায় কথা থাকে, সময় যায় ফাঁকে ফাঁকে।
আলংকারিক অর্থ ও ব্যাখ্যা: দুঃখের সময়ও কেটে যায়, কিন্তু মানুষের দুর্ব্যবহারের দাগ সহজে মোছে না।
 
দেড় বুড়ির মানুষ নয়, তিন বুড়ির কথা।
আলংকারিক অর্থ ও ব্যাখ্যা: যোগ্যতাহীন মানুষের কথার বাগাড়ম্বর ও চালচলনের অতি-আধিক্য দেখা দিলে এ কথা বলা হয়
 
 
 
দৌড়ে কি পথ ছাড়ায়, যতক্ষণ যায়, ততক্ষণ জিরায়।
আলংকারিক অর্থ ও ব্যাখ্যা: কেউ কোন কাজে তাড়াহুড়া করলে তাকে সতর্ক করতে এ কথা বলা হয়। তাড়াহুড়ায় কাজে ভুল-ভ্রান্তি বেশি হয়।
 
দুর্জনকে পরিহার, দূর থেকে নমস্কার।
আলংকারিক অর্থ ও ব্যাখ্যা: খারাপ লোক দূরে দেখামাত্র সাবধান হওয়া উচিত। সাবধান না হলে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এ কথা বোঝাতে বলা হয়।
 
 
দুঃখী যায় লঙ্কার পার, তবুও না ঘুচে কাঁধের ভার।
আলংকারিক অর্থ ও ব্যাখ্যা: অদৃষ্টে দুর্ভোগ থাকলে তা রত্নের দেশে গেলেও ঘোচে না।
 
থাকলে তালুইর বাপের শ্রাদ্ধও হয়, না থাকলে নিজের বাপের শ্রাদ্ধও নয়।
 অর্থ সম্পদ থাকলে দূর আত্মীয়ের শ্রাদ্ধেও ব্যয় করা যায়, অর্থাভাবে নিজ পিতার শ্রাদ্ধও করা যায় না।
 
কথায় কথা বাড়ে, কাজে কমে কাজ
আলংকারিক অর্থ ও ব্যাখ্যা: যত বেশি কথা বলা হয় তা তত বেশি বাড়ে। কাজ বেশি করলে ওই কাজ শেষ হয়ে সাফল্য ও পরিণতির দিকে এগিয়ে যায়। এজন্য বলা হয় কথা কম কাজ বেশি, জীবন যৌবন ভালোবাসি।
 
টকের ভয়ে পালিয়ে এসে, তেঁতুল তলায় বাসা।
আলংকারিক অর্থ ও ব্যাখ্যা: ছোটো বিপদ হতে বাঁচার চেষ্টা করে বড়ো বিপদে পতিত হলে এ কথা বলা হয়।
 
ছোট কাঁটাটি ফোটে পায়, তুলে ফেল, নইলে দায়।
আলংকারিক অর্থ ও ব্যাখ্যা: কোনো শত্রুকে ছোট বলে তুচ্ছ জ্ঞান করা উচিত নয়।
 
ছল কইরা কল ঘুরায়, এমন মানুষ কেউ না চায়।
আলংকারিক অর্থ ও ব্যাখ্যা: কথায় ও কাজে প্রতারণা করে এমন লোককে কেউ পছন্দ করে না।
 
ছুঁচোয় যদি আতর মাখে, তবু কি তার গন্ধ ঢাকে?
অর্থ: ছুঁচোর দুর্গন্ধ আতর মাখলেও যেমন দূর হয় না তেমনি মানুষের মন্দ স্বভাবও সহজে দূর হয় না এ কথা বোঝাতে বলা হয়।
 
চেয়ে চেয়ে চোখ ক্ষয়, পর ভরসা কিছুই নয়।
আলংকারিক অর্থ ও ব্যাখ্যা: অপরের ওপর নির্ভরশীল হওয়া নিরর্থক।
 
চিনলে জহুরি, না চিনলে খড়ি।
আলংকারিক অর্থ ও ব্যাখ্যা: ভেষজবিদ্যায় অভিজ্ঞ ব্যক্তির কাছে গাছ গাছড়ার সমাদর, অন্যের কাছে জ্বালানি কাঠমাত্র। গুণী ব্যক্তির আদর-অনাদর বোঝাতে এ কথা বলা হয়।
 
ঘি দিয়া ভাজা নিমের পাতা, তবু না যায় জাতের তিতা।
আলংকারিক অর্থ ও ব্যাখ্যা: মন্দলোকের স্বভাবের পরিবর্তন হয় না।
 
ঘরের কাঠ উইয়ে খায়, কাঠ কুড়াতে বনে যায়।
আলংকারিক অর্থ ও ব্যাখ্যা: কোনো ব্যক্তি সহজ পথ ছেড়ে কঠিন পথ ধরতে গেলে এ কথা বলা হয়।
 
ঘর সর্বস্ব তোমার, চাবিকাঠিটি আমার।
আলংকারিক অর্থ ও ব্যাখ্যা: স্বার্থপর ও ভণ্ডরা মুখে সর্বস্ব দিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত কলে, কিন্তু  দেওয়ার বেলা কিছুই করে না। এ কথা বোঝাতে বলা হয়।
 
গোলাম যদি বাদশাহ হয়, রাইত অইলেও ছাতি লয়।
আলংকারিক অর্থ ও ব্যাখ্যা: হঠাৎ করে ধনসম্পদের অধিকারী হয়ে ঠাট-বাট দেখালে এ কথা বলা হয়।
 
গেল যে গঙ্গার হাটি, রেখে গেছে সোনা কাঠি
আলংকারিক অর্থ ও ব্যাখ্যা: যা হারিয়ে যায় তার গুণের শেষ নেই, আর যা আছে তার দোষ খোঁজাই অনেকের স্বভাব।
 
 
গাছের শত্রু লতা, মানুষের শত্রু কথা।
আলংকারিক অর্থ ও ব্যাখ্যা: আগাছা যেমন গাছের জন্য ক্ষতিকর। তেমনি, অপ্রয়োজনীয় কথা মানুষের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে।
 
 
গুরু মিলে লাখ লাখ, শিষ্য নাহি মিলে অ্যাক
আলংকারিক অর্থ ও ব্যাখ্যা: উপদেশদাতার অভাব নেই। অনেক পাওয়া যায়। কিন্তু  একনিষ্ঠভাবে উপদেশ পালনকারী পাওয়া যায় না একজনও
 
খেতে বসলে কিসের দায়, পাকনা ধান কি জলে খায়।
আলংকারিক অর্থ ও ব্যাখ্যা: সমস্ত দায়দায়িত্ব ভুলে গিয়ে নিশ্চিত মনে আহার করা উচিত এ অর্থে বলা হয়।
 
খেতে গেলে হাঁস হাঁস, দিতে গেলে সর্বনাশ।
আলংকারিক অর্থ ও ব্যাখ্যা: কৃপণের স্বভাব এরূপ যে তারা শুধু পরেরটা নিতেই আনন্দ পায়, দিতে নয়।
 
 
 
খায় দায় পাখিটি,বনের দিকে আঁখিটি।
আলংকারিক অর্থ ও ব্যাখ্যা: বন্য পশু পাখি সহজে পোষ মানে না।
 
খল পরশী নাদান ভাই, তার সঙ্গে বসত নাই।
অর্থ: খারাপ প্রতিবেশীর ও বোকা ভাইয়ের সঙ্গে বাস করতে নেই এ কথা বোঝাতে বলা হয়।
 
খুতির জোরও চাই, থুতির জোরও চাই।
অর্থ: সংসার সংগ্রামে জয়ী হতে হলে অর্থবল ও বাক্যবল উভয়ই প্রয়োজন এ কথা বোঝাতে বলা হয়।
 
খুচরা কাজের মুহরা নাই, পান্তা ভাতের নাম নাই। 
অর্থ: পরের ছোটখাটো কাজ করলে যেমন মূল্য পাওয়া যায় না, তেমনি কাউকে পান্তাভাত খাওয়ালেও নাম হয় না। দশ বারে একশ টাকা না দিয়ে একসঙ্গে পঞ্চাশ টাকা দাও। অনেক নাম হবে।
 
কিল আর তেল পড়লেই গেল।
 তেল মাটিতে পড়লে যেমন পুনরায় তোলা যায় না, তেমনি কাউকে আঘাত কলে তা পুনরায় ফিরিয়ে আনা যায় না।
 
 
হাতের ঢেলা  মুখের কথা, ছুড়লে আর ফিরে না
অর্থ: কথার বিশেষ মূল্য আছে বলে কথা বলার পূর্বেই ভেবে-চিন্তে নেওয়া উচিত। একবার কোন কটু কথা কাউকে বলে ফেললে তা আর ফিরিয়ে নেয়া যায় না। ব্যক্তির মনে তা গাথা থেকে যায়।
 
হাতে কড়ি, পায়ে বল, তবেই যাই নীলাচল।
অর্থ: শারীরিক ও আর্থিক সামর্থ্য থাকলে তবেই ভ্রমণে বের হওয়া উচিৎ।
 
 
error: Content is protected !!