প্রমিত বানান কী: কোথায় পাব: একটি শব্দের প্রমিত বানান একটি, না একাধিক

খুরশেদ আহমেদ
 

১। আমাদের জন্য প্রমিত বানানের
ক) আকর-রেফারেন্স: বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম[পরিমার্জিত সংস্করণ ২০১২] [যা এ-পোস্টের দ্বিতীয় রেফারেন্সের ‘পরিশিষ্ট ক’ হিসেবে সংযুক্ত];
খ) দ্বিতীয় রেফারেন্স: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান[প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২০১৬; পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত সংস্করণ: এপ্রিল ২০১৬] এবং
গ) তৃতীয় রেফারেন্স: বাংলা একাডেমি বাংলা বানানঅভিধান[পরিমার্জিত ও পরিবর্ধিত তৃতীয় সংস্করণ ফেব্রুয়ারি ২০০৮]

২। অনেক সময়—যেমন কী-বোর্ড/কিবোর্ড বা ভূতুড়ে/ভুতুড়ে বিতর্কে—এ-তিনটি রেফারেন্স অনুসরণ করেও বিতর্কের শেষ হয় না। অবশেষে, এ-রেফারেন্সগুলোর ভিত্তিতে, আমাদের ব্যক্তিগত বিচার-বিবেচনাই হয়ে ওঠে শেষ আশ্রয়।

৩। বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম কোনো কোনো শব্দের ক্ষেত্রে একাধিক প্রমিত বানান-রূপকে প্রশ্রয় দেয় বলে মনে হয়। যেমন:
ক) “.৫: সংস্কৃত ইন্‌-প্রত্যয়ান্ত শব্দের দীর্ঘ ঈ-কারান্ত রূপ সমাসবদ্ধ হলে সংস্কৃত ব্যাকরণের নিয়ম-অনুযায়ী সেগুলিতে হ্রস্ব ই-কার হয়। যেমন : গুণী→ গুণিজন, প্রাণী→ প্রাণিবিদ্যা, মন্ত্রী→ মন্ত্রিপরিষদ । তবে এগুলির সমাসবদ্ধ রূপে ঈ-কারের ব্যবহারও চলতে পারে । যেমন :গুণী→ গুণীজন, প্রাণী→ প্রাণীবিদ্যা, মন্ত্রী→ মন্ত্রীপরিষদ ।”

খ) “.

বাংলা অ-ধ্বনির উচ্চারণ বহু ক্ষেত্রে ও-র মতো হয়। শব্দশেষের এসব অ-ধ্বনি ও-কার দিয়ে লেখা যেতে পারে। যেমন : কালো, খাটো, ছোটো, ভালো;

এগারো, বারো, তেরো, পনেরো, ষোলো, সতেরো, আঠারো;

করানো, খাওয়ানো, চড়ানো, চরানো, চালানো, দেখানো,
নামানো, পাঠানো, বসানো, শেখানো, শোনানো, হাসানো;

কুড়ানো, নিকানো, বাঁকানো, বাঁধানো, ঘোরালো,
জোরালো, ধারালো, প্যাঁচানো;

করো, চড়ো, জেনো, ধরো, পড়ো, বলো, বসো, শেখো,
করাতো, কেনো, দেবো, হতো, হবো, হলো;

কোনো, মতো।

ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞায় শব্দের আদিতেও ও-কার লেখা যেতে পারে। যেমন :

কোরো, বোলো, বোসো।”

গ) “.
,

বাংলায় প্রচলিত বিদেশি শব্দ সাধারণভাবে বাংলা ভাষার ধ্বনিপদ্ধতি-অনুযায়ী লিখতে হবে । যেমন :
কাগজ, জাদু, জাহাজ, জুলুম, জেব্রা, বাজার, হাজার ।

ইসলাম ধর্ম-সংক্রান্ত কয়েকটি শব্দে বিকল্পে ‘য’ লেখা যেতে পারে । যেমন :
আযান, ওযু, কাযা, নামায, মুয়ায্‌যিন, যোহর, রমযান, হযরত ।”

৪। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান‘, সাধারণভাবে, একাধিক বানান-রূপকে গ্রহণ করেনি এবং অন্তর্ভুক্ত করেনি।
যেমন:
অভিধানটি অন্তর্ভুক্ত করেছে ‘প্রাণিবিদ্যা’, কিন্তু অন্তর্ভুক্ত করেনি ‘প্রাণীবিদ্যা’; অন্তর্ভুক্ত করেছে ‘এগারো’, কিন্তু অন্তর্ভুক্ত করেনি ‘এগার’; অন্তর্ভুক্ত করেছে ‘আজান’, কিন্তু অন্তর্ভুক্ত করেনি ‘আযান’; যদিও, মনে হয়, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম উভয় রূপই ‘চলতে পারে’ বা উভয় রূপেই ‘লেখা যেতে পারে’ বলে বলতে চেয়েছে।

৫। বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম তার পরবর্তী সংস্করণে বানানের বিকল্প না-রেখে সুনির্দিষ্ট একটি প্রমিত বানানের পক্ষে অবস্থান নেবে—সে-প্রত্যাশাই আমরা করব।
অর্থাৎ, একটি শব্দের প্রমিত বানান থাকবে একটিই; অন্য যে-কোনো বানান হবে অপ্রমিত ও বিকল্প বানান, যদি ওই শব্দের দ্বিতীয় ইত্যাদি গ্রহণযোগ্য বানান-রূপ থাকে। (১৯শে নভেম্বর, ২০১৯)

 প্রমিত বানান কোনটি—‘ভুতুড়ে‘, না কিভূতুড়ে‘?

১। ১৯৯৬ সংস্করণের বাংলা একাডেমী সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান [পরিমার্জিত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ, ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬, পঞ্চম পুনর্মুদ্রণ জুন ২০০৮] [https://bit.ly/2I1ytMC] লিখেছে ভুতুড়ে‘, ভ-য়ে হ্রস্ব উ-কার দিয়ে; এবং শব্দটির ব্যুৎপত্তি দেখিয়েছে: ‘[স. ভূত>+বা. উড়ে]’।

২। ২০০৮ সংস্করণের বাংলা একাডেমি বাংলা বানানঅভিধান [পরিমার্জিত ও পরিবর্ধিত তৃতীয় সংস্করণ ফেব্রুয়ারি ২০০৮] অন্তর্ভুক্ত করেছে দুটো রূপ—‘ভুতুড়ে  ‘ভূতুড়ে‘, একটি রূপ ভ-য়ে হ্রস্ব উ-কার দিয়ে, অন্যটি ভ-য়ে দীর্ঘ ঊ-কার দিয়ে।

৩। ২০১২ সালে বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম [পরিমার্জিত সংস্করণ ২০১২] [যা এখন বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান-এর পরিশিষ্ট ক হিসেবে সংযুক্ত]—সে-নিয়মের—২.১ ঘোষণা করল:

সকল অতৎসম অর্থাৎ তদ্ভব, দেশি, বিদেশি, মিশ্র শব্দে কেবল এবং এবং এদের কারচিহ্ন ি ব্যবহৃত হবে।

৪। ২০১৬ সালে বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান [প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২০১৬; পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত সংস্করণ: এপ্রিল ২০১৬] বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম . সত্ত্বেও, ‘ভুতুড়ে লিখল না, লিখল ভূতুড়ে—ভ-য়ে দীর্ঘ ঊ-কার দিয়ে—এবং শব্দটির ব্যুৎপত্তি দেখাল: ‘[বা.]’ অর্থাৎ বাংলা

৫। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান যেখানে নিজেই বলল ভূতুড়ে‘ ‘বাংলাশব্দ, এবং অভিধানটি যেখানে তার মুখবন্ধে দাবি করল: এই অভিধানে ২০১২ সালে প্রকাশিতবাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়মঅনুসরণ করা হয়েছে, সেখানে ভূতুড়ে বানান-রূপ ও বাংলাশব্দ হিসেবে তার পরিচয়— এ-দুটি ধারণা যে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, এবং, বরং, তা যে বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম .এর সঙ্গে সংঘাতপূর্ণ তা কী করে অভিধান-প্রণেতাদের ও বাংলা একাডেমির দৃষ্টি এড়িয়ে গেল, তা আমার বোধের বাইরে।

৬। আমার মনে হয়, ভূতুড়ে বানানটিতে ভূত চেপে বসে আছে। সে-ভূত ছাড়াবার ওঝা আমরা কোথায় পাব?

৭। অথবা আমিই ভূতগ্রস্ত; পুরো ব্যাপারটিই আমি ভুল বুঝছি? (১৮ই নভেম্বর, ২০১৯)

প্রমিত বানান কোনটি—‘কীবোর্ড’, না কিকিবোর্ড’?

১। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান [প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২০১৬; পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত সংস্করণ: এপ্রিল ২০১৬] Keyboard-অর্থে বাংলা শব্দটি লিখেছে কীবোর্ড: “কী-বোর্ড /কিːবোড়্‌ড্‌/ [ই.] বি. কম্পিউটার পিয়ানো প্রভৃতি চালনের বোতামশ্রেণি, Keyboard।”

২। ২০০৮ সংস্করণের বাংলা একাডেমি বাংলা বানানঅভিধান [পরিমার্জিত ও পরিবর্ধিত তৃতীয় সংস্করণ ফেব্রুয়ারি ২০০৮]  অন্তর্ভুক্ত করেছিল কীবোর্ড; এবং, মনে হয়, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান তা থেকে অন্ধভাবে অনুকরণ করেই লিখেছে কীবোর্ড

৩। অথচ, মাঝখানে, ২০১২ সালে, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম [পরিমার্জিত সংস্করণ ২০১২]

[যা এখন বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানএর পরিশিষ্ট  হিসেবে সংযুক্ত]
—সে-নিয়মের—
২.১ বলেছে: সকল অতৎসম অর্থাৎ তদ্ভব, দেশি, বিদেশি, মিশ্র শব্দে কেবল এবং এবং এদের কারচিহ্ন ি ব্যবহৃত হবে।

৪। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান নিজেই বলছে, ইংরেজি Keyboard থেকে এসেছে কীবোর্ড। সে অবস্থায় কীবোর্ড’ কি ‘বিদেশি শব্দ‘ নয়? এবং, সুতরাং, বাংলায় আত্তীকৃত সে-শব্দের বানান-রূপ কি কিবোর্ড’ হওয়ার কথা নয়?

৫। ২০১২ সালে বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম প্রকাশিত হওয়ার পর, সে-নিয়ম অনুসরণ করে, ২০১৪ সালের বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যবহারিক ব্যাকরণ [প্রথম প্রকাশ: মাঘ ১৪২০/জানুয়ারি ২০১৪] ১৩৩ পৃষ্ঠায় তো ঠিকই লিখেছে ‘কিবোর্ড নকশা (layout)’।

৬। ২০১৬ সালে বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান তার মুখবন্ধে দাবি করল: “এই অভিধানে ২০১২ সালে প্রকাশিত ‘বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম’ অনুসরণ করা হয়েছে।” তা সত্ত্বেও, অভিধানটি কেন Keyboard-এর বাংলা কিবোর্ড না-লিখে ফিরে গেল ২০০৮ সালের কীবোর্ড’ বানান-রূপে? আপনাদের কাছে কোনো ব্যাখ্যা আছে কি? শুবাচে প্রকাশ: ১৮ই নভেম্বর, ২০১৯

 প্রমিত বানান কোনটি—’ব্যাঙ‘, না কিব্যাং‘?

১। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান
[প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২০১৬; পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত সংস্করণ: এপ্রিল ২০১৬] -এর পরিশিষ্ট ক হিসেবে সংযুক্ত

বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম [পরিমার্জিত সংস্করণ ২০১২]
২.২
থেকে পাই:
প্রমিত বানান ‘ব্যাঙ’, যা একটি উদাহরণ হিসেবে ঠিক এ-বানানরূপেই লিখেছে বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম।

২। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অন্তর্ভুক্ত করেছে ‘ব্যাং’; এবং অন্তর্ভুক্ত করেনি ‘ব্যাঙ’, যে-রূপটি তারই পরিশিষ্ট ক-য়ে প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম ২.২-এ অন্তর্ভুক্ত দেখতে পাই।

৩। এ-বৈপরীত্য সত্ত্বেও বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান তার মুখবন্ধে দাবি করেছে, “এই অভিধানে ২০১২ সালে প্রকাশিত ‘বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম’ অনুসরণ করা হয়েছে।”

৪। বাংলা একাডেমি কি বৈপরীত্যটি আমলে নেবে এবং দ্রুতআগামী ২৪ ঘণ্টায় না হোক, ২০১৯ সালটি বিদায় নেবার আগে সংশোধনী প্রকাশ করবে? হার্ডকপি না হোক, তার ওয়েবসাইটে বা তার ওয়েবপেইজে অভিধানের সংশ্লিষ্ট ভুক্তির সংশোধিত রূপের সফটকপি প্রকাশ করবে?

আপনাদের মনোযোগের জন্য ধন্যবাদ, প্রিয় শুবাচি।  শুবাচে প্রকাশ:  ১৬ই নভেম্বর, ২০১৯

‘ফণিভূষণ … [স. ফণি+ভূষণ]’ বনাম ‘ফণীমনসা … [স. ফণী+মনসা]’

১। ‘ফণিভূষণ’-এ ি-কার, ‘ফণীমনসা’-য় ী-কার, বানান ও ব্যুৎপত্তি উভয় ক্ষেত্রে।

২। মূল শব্দটি যদি ‘ফণী… [স. ফণ+ইন্‌]’ হয়ে থাকে, তাহলে শব্দ দুটি কেন হল না ফণিভূষণ’ ও ‘ফণিমনসাঅথবা ফণীভূষণ’ ও ‘ফণীমনসা’?

৩। বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম [পরিমার্জিত সংস্করণ ২০১২] ১.৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মনে হয় ‘ফণিভূষণ’ ও ‘ফণিমনসা’ এবং ‘ফণীভূষণ’ ও ‘ফণীমনসা’ উভয় রূপই শুদ্ধ:
“১.৫

সংস্কৃত ইন্‌-প্রত্যয়ান্ত শব্দের দীর্ঘ ঈ-কারান্ত রূপ সমাসবদ্ধ হলে সংস্কৃত ব্যাকরণের নিয়ম-অনুযায়ী সেগুলিতে হ্রস্ব ই-কার হয়। যেমন :

গুণী→ গুণিজন, প্রাণী→ প্রাণিবিদ্যা, মন্ত্রী→ মন্ত্রিপরিষদ ।

তবে এগুলির সমাসবদ্ধ রূপে ঈ-কারের ব্যবহারও চলতে পারে । যেমন :

গুণী→ গুণীজন, প্রাণী→ প্রাণীবিদ্যা, মন্ত্রী→ মন্ত্রীপরিষদ ।”

৪। সে-অবস্থায় প্রশ্ন থেকে যায়, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান ‘ফণিভূষণ’ ও ‘ফণীমনসা’ অন্তর্ভুক্ত করল, কিন্তু ‘ফণীভূষণ’ ও ‘ফণিমনসা’ অন্তর্ভুক্ত করল না কেন?

৫। একটিতে ি-কার দেব, অন্যটিতে ী-কার—এমন দোলাচল ও শৃঙ্খলাহীনতা বানান নিয়ে শিক্ষার্থীদেরকে বিপদগ্রস্ত করে বইকি।

৬। একটি শব্দের নির্মাণে ি-কার ও ী-কার বিকল্প থাকলেও, ব্যবহারকারী কেন হয় ি-কার অথবা ী-কারে একনিষ্ঠ থাকবেন না? একই লেখকের একই লেখায় ি-কার অথবা ী-কারের দোলাচল এবং ি-কার অথবা ী-কারের মিশ্রণ কেন দূষণীয় হবে না?

৭। আপনাদের কাছে এই দোলাচলের সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা আছে কি?

‘ফণীমনসা … [স. ফণী+মনসা]’


১। ‘ফণিভূষণ’-এ ি-কার, ‘ফণীমনসা’-য় ী-কার, বানান ও ব্যুৎপত্তি উভয় ক্ষেত্রে।

২। মূল শব্দটি যদি ‘ফণী… [স. ফণ+ইন্‌]’ হয়ে থাকে, তাহলে শব্দ দুটি কেন হল না ফণিভূষণ’ ও ‘ফণিমনসাঅথবা ফণীভূষণ’ ও ‘ফণীমনসা’?

৩। বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম [পরিমার্জিত সংস্করণ ২০১২] ১.৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মনে হয় ‘ফণিভূষণ’ ও ‘ফণিমনসা’ এবং ‘ফণীভূষণ’ ও ‘ফণীমনসা’ উভয় রূপই শুদ্ধ:
“১.৫

সংস্কৃত ইন্‌-প্রত্যয়ান্ত শব্দের দীর্ঘ ঈ-কারান্ত রূপ সমাসবদ্ধ হলে সংস্কৃত ব্যাকরণের নিয়ম-অনুযায়ী সেগুলিতে হ্রস্ব ই-কার হয়। যেমন :

গুণী→ গুণিজন, প্রাণী→ প্রাণিবিদ্যা, মন্ত্রী→ মন্ত্রিপরিষদ ।

তবে এগুলির সমাসবদ্ধ রূপে ঈ-কারের ব্যবহারও চলতে পারে । যেমন :

গুণী→ গুণীজন, প্রাণী→ প্রাণীবিদ্যা, মন্ত্রী→ মন্ত্রীপরিষদ ।”

৪। সে-অবস্থায় প্রশ্ন থেকে যায়, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান ‘ফণিভূষণ’ ও ‘ফণীমনসা’ অন্তর্ভুক্ত করল, কিন্তু ‘ফণীভূষণ’ ও ‘ফণিমনসা’ অন্তর্ভুক্ত করল না কেন?

৫। একটিতে ি-কার দেব, অন্যটিতে ী-কার—এমন দোলাচল ও শৃঙ্খলাহীনতা বানান নিয়ে শিক্ষার্থীদেরকে বিপদগ্রস্ত করে বইকি।

৬। একটি শব্দের নির্মাণে ি-কার ও ী-কার বিকল্প থাকলেও, ব্যবহারকারী কেন হয় ি-কার অথবা ী-কারে একনিষ্ঠ থাকবেন না? একই লেখকের একই লেখায় ি-কার অথবা ী-কারের দোলাচল এবং ি-কার অথবা ী-কারের মিশ্রণ কেন দূষণীয় হবে না?

৭। আপনাদের কাছে এই দোলাচলের সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা আছে কি?

  শুবাচে প্রকাশ:  ১৫ই নভেম্বর, ২০১৯

 
 
কিছু প্রয়োজনীয় সংযোগ
শুবাচ গ্রুপের সংযোগ: www.draminbd.com
শুবাচ যযাতি/পোস্ট সংযোগ: http://subachbd.com/
আমি শুবাচ থেকে বলছি
 
— — — — — — — — — — — — — — — — —
প্রতিদিন খসড়া
আমাদের টেপাভুল: অনবধানতায়
— — — — — — — — — — — — — — — — —
Spelling and Pronunciation
error: Content is protected !!