প্রসঙ্গ স্যমন্তক, মুশাররফ হোসেন

মুশাররফ হোসেন

প্রসঙ্গ স্যমন্তক, মুশাররফ হোসেন

প্রসঙ্গ স্যমন্তক, লিখেছেন মুশাররফ হোসেন: স্যমন্তক উপন্যাসের মাধ্যাকর্ষণ প্রফেসর রচনা, যিনি লেখকের অনুপম ভালবাসার শ্যামল ছায়ায় আর সুনিপুণ নির্মাণ শৈলীর পুর কৌশলে এক দুর্বহ মানবেতর দারিদ্রের জীবন থেকে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির বর্ণাঢ্য পাদপ্রদীপের নীচে পৌঁছে যাওয়ার এক অসাধারন অকল্পনীয় দুরূহ পর্যটন সম্পন্ন করেছেন। লেখক তাঁর

স্যমন্তক, পুথিনিলয়।

অপরূপ সৃষ্টি শৈলীর নিবেদনে তিলে তিলে নির্মাণ করেছেন একজন রচনাকে যিনি তুখোড় মেধাবী, দুর্বিনীত বাগ্মী, সর্বাঙ্গে চৌকস, তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তার প্রতিভূ, বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিদ্যাপীঠের সফল বিদ্যাদাত্রী। সেই মেয়েই কিনা কখনো আবার একেবারে জল-কাদার মত নরোম, ভালবাসার অভাবী চাতক পাখী, শিশুর মত ছিঁচ-কাঁদুনে ক্রাই-বেবী! আবার কখনো বা তাঁর শ্রষ্টার শুভ্র চরণে ব্যাকুল শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদনের মুগ্ধ পূজারী।

স্যমন্তক উপন্যাসের পরতে পরতে সাজানো মনি মুক্তো হীরা পান্নার অফুরান সঞ্চয়। সেখান থেকে অবলীলায় সংগ্রহের ঝাঁপি পূর্ণ করে ঘরে ফিরুন। স্যমন্তকের পাতায় পাতায় জীবনের কতনা নিগূঢ় সত্যের অনুপম সম্ভার। স্যমন্তক পাঠ শেষে বোধন ও অভিজ্ঞানে সমৃদ্ধ হয়ে অনুরণনে শিহরিত হতে হতে মনে হবে বুঝি অনেক কাল পর এক দুর্লভ পঠন-পর্যটনের পরিপূর্ণ প্রাপ্তি ঝুলিতে ভরে ঘরে ফিরছেন।

স্যমন্তক পড়তে পড়তে মনে হয়েছে তাঁর শৈশব, কৈশোর ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের কিছু খণ্ডচিত্র ছাড়া প্রফেসর রচনাকে বুঝি তেমন পাওয়াই হলোনা। স্যমন্তক পাঠকরা প্রফেসর রচনাকে আরও বর্ধিত কলেবরে, আরও বিচিত্র পরিসরে পাওয়ার দাবীদার একটু হতেই পারেন। স্যমন্তকের একটা সিকুয়েলের দাবী তাই তারা করতেই পারেন।

স্যমন্তক রচিয়তার পরিবেশিত প্রতিবেশ এবং কথোপকথন থেকে ধারনা পাই, যাপিত জীবনের যাবতীয় অনুসঙ্গ ও কাল যাপনের প্রেক্ষিতকে তিনি দেখেন নানা দৃষ্টিকোন, নানা ভাবনা, নানা আলো, নানা ছন্দের অণুবীক্ষণের নীচে।তার ভাবনায় নিখাদ সত্য কিংবা নির্জলা মিথ্যা – এমন ধ্রুব কিছু নেই। এটা শুধু দেখার কিংবা অনুভবের ভিন্নতার ব্যাপার মাত্র। যে কোন অভিদর্শন,

স্যমন্তক, পুথিনিলয়।

বক্তব্য, মন্তব্যকে তিনি অবলীলায় ভিন্ন দৃষ্টিকোন ভিন্ন দিগন্ত ভিন্ন আঙ্গিক ভিন্ন রংয়ে ঢংয়ে সুদৃঢ় সোপানে প্রতিষ্ঠিত করেন।তিনি আপাতঃ দৃশ্যমান সত্যকে চতুর মিথ্যের মোড়কে পেশ করার, আর মিথ্যের গায়ে সত্যের চাদর মুড়ে দেওয়ার ভেল্কী জানেন। মিথ্যাকে তিনি জানেন অল্টারনেটিভ ট্রুথ , আর সত্যকে মিথ্যার ক্যামোফ্লাজ।পরিবেশনার এই চতুর চমৎকারিত্বে মুগ্ধতায় ভরে যাওয়া ছাড়া আর কোন পথ থাকেনা।ভেবে পাইনা কোন কামরূপ কামাখ্যা থেকে তিনি শিখে এসেছেন এই সম্মোহনী যাদুবিদ্যা!

স্যমন্তক কি সত্যের নিরেট পরিসংখ্যান পরিবেশন, নাকি সত্যের উপর ভাব ভাবনা ছন্দ রং তুলির কারুকাজ, লেখককে এই প্রশ্ন করার ঔদ্ধত্য আমার নেই। এখানে এসে আমি শুধু বাল্মীকির আশ্রয় নিতে পারি। বাল্মীকি বলেন, “নারদ কহিলা হাসি , সেই সত্য যা রচিবে তুমি ,ঘটে যা তা সব সত্য নহে । কবি , তব মনোভূমি রামের জন্মস্থান, অযোধ্যার চেয়ে সত্য জেনো”।

স্যমন্তকের স্রষ্টা কথকতার নিপুন মাকড়সা। শব্দ ছন্দ ভাব ভাবনার হাটে তিনি ধনী মহাজন।সুনিবিড় নৈপুন্যে তিনি গড়েছেন স্যমন্তক হেন আঁঠালো ওয়েব, একবার পা দিয়েছেন তো গেলেন আটকে। অতঃপর এক নিঃশ্বাসে প্রথম থেকে শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত বিরামহীন পর্যটন হবে আপনার অমোঘ নিয়তি। স্যমন্তক প্রথম পাঠ আমার টেষ্ট রান। স্যমন্তক আমাকে লোভী করে তুলেছে। স্যমন্তক থেকে আরও মনি মুক্তা আহরন চাই আমার। স্যমন্তকের অতলান্তিক গভীরে ডুব দিতে হবে আমাকে আরও একবার। জয়তু স্যমন্তক! 

উৎস:  স্যমন্তক প্রসঙ্গ, মুশাররফ হোসেন, শুদ্ধ বানান চর্চা (শুবাচ)।

স্যমন্তক পড়ে আমার প্রফেসর দীপক কুমার নাগের অভিমত ও প্রতিক্রিয়া .……যা অল্প হলেও আপনার মনুষ্যত্বকে মানবের কল্যাণে উৎসর্গ করতে সহায়তা করবে বলে মনে করি ………মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য- এ দার্শনিক

স্যমন্তক, পুথিনিলয়।

কথাটির সত্যতা কি আপনি খুঁজতে চান? এজন্য আপনাকে হিমালয় অথবা কোনো পর্বতমালার পাদদেশে যেতে হবে না। আপনি এক কপি স্যমন্তক সংগ্রহ করে নিন। প্রথমত মনে হতে পারে, এ বুঝি লেখক তাঁর কল্পনার ফানুসে মনের আবেগ ও মাধুরী মিশ্রিত করে পাঠকদের জন্য একখানা গল্প বানিয়েছেন। যে কাজটি কবি-সাহিত্যিকগণ সাধারণত করে থাকেন। না, তা নয়। স্যমন্তক বাস্তব ঘটনার তিল তিল মাধুরী দিয়ে সৃষ্ট একটি উপন্যাস- যার লাইনে লাইনে রয়েছে জীবনাভিজ্ঞতার উন্মেষে লালিত মানবতাবোধের নিটোল শিহরন।

স্যমন্তকের নায়িকা চরিত্রে যিনি রয়েছেন (জানি না সে কে?)। নায়ক (যিনি লেখক) আমার দৃষ্টিতে একজন মানুষ। দেবত বলব না, কারণ দেবতাদের মাঝেও যে স্বার্থপরতা রয়েছে! কেননা, দেবতাও তার ঘরে আশ্রয় নেয়, যে ঘরে ফুলচন্দন বেশি পড়ে। এদিক থেকে স্যমন্তকের নায়ক (লেখক) একজন মানুষের দর্শন নিয়ে যে কাজটি জীবনে করেছেন- সেই একটি কাজের জন্যই আমি তার জীবনকে নিঃসংশয়ে ধন্য হয়ে গিয়েছে বলতে পারি। তার আর কোনো কাজ না-করলেও চলবে। স্যমন্তকের প্রেরণ প্রেরিত হোক জনে জনে। স্যমন্তক ধন্য করুক মানুষের মনুষ্যত্ব, জয় হোক মানবতার! প্রফেসর দীপক কুমার নাগ। স্যমন্তক প্রফেসর দীপক কুমার নাগের অভিমত ও প্রতিক্রিয়া


 

All Links/1

দেখুন আপনার পোস্ট/যযাতি কেন অনুমোদন হয় না।

স্যমন্তক বাংলা সাহিত্যের একটি অনবদ্য উপন্যাস

বইয়ের নাম স্যমন্তক , রিপন কুমার চৌধুরী

প্রসঙ্গ স্যমন্তক, মুশাররফ হোসেন

error: Content is protected !!