প্রেম প্রেমপত্র এবং ইতিবানুর ইতিকথা

ড. মোহাম্মদ আমীন
সুপ্রিয় আদর,
পত্রের প্রথমে আমার আদর এবং সালাম-এর সালাম নিও । তোমার মা বলে, আমি তোমাকে ভালোবাসি, তুমি কি আমাকে ভালোবাস? বাসি খানা খেয়ে তোমার মা সোনা ভানকে ভালো কীভাবে বাসি বলো তো সোনা? বলে, শাবান মাসে সাবান কেনা নিষেধ। জান, তুমি জান বারবার করে বারো বার বলার পর শুক্কুরবার শুক্কুর এসেছে হাসি, খুশি আর আনন্দকে নিয়ে।সংসার তাদের হাসি-খুশি আর আনন্দে ভরপুর।
নানা চাল দিয়ে তোমার নানা, তোমার মতো চালচুলোহীনকে বর আখ্যায়িত করে আমার বর করেছিলেন। নইলে আমার মা রাজি বেগম, কখনো এ বিয়েতে রাজি হতেন না। সেদিন খানায় বাসে খানা খেয়ে নানা কথা বলার পর তোমার নানা, পান মুখে পান করে পাকে পাক হয়ে দরজাটা ফাঁক করে পাক ঘরে ঢুকে পাক দেখে বললেন, খানা খাব, খানা কই? তখন তার পুতি ( পৌত্রী) লাল খাতু লাল জামা পরে পুতি (দুর্গন্ধযুক্ত) বারান্দায় বসে পুঁতি (ছিদ্রযুক্ত কাচের টুকরো) দিয়ে পুথি (পুস্তক) পড়ছিল।
ভাড়াবাড়ির অবস্থা বাড়াবাড়ির পর্যায়ে চলে গেছে। চাচা সারা দিন চা চা করে চিল্লায়। পাগলা মামা শুধু মা মা করে। ফুটো চাল ভিজিয়ে দিয়েছে চাল। ডাল পড়ে ডাল ভিজে খাল। খানাখানা শূন্য, তিন দিন যাবাৎ খানা বন্ধ। তোমার বন্ধু সুখ চোখে পড়লে শুধু চোখ মারে। বলে, সে আমার সুখ। তার সুখ হবো কেন? আমার কি সুখ নেই?
কেউ চায় না বলে তুমি চায়না চলে গিয়েছিলে। কাল, কাল হয়ে তোমার দুবাই দুভাই থেকে দেশে ফিরল। তারা নাকি তাড়া খেয়ে ফিরেছে। ঘড়ি এনেছে একটা। এটি এত বাজে যে, বাজে না। ঘোড়ার মতো শুধু ঘুরে। আশার আসার আশা করো না। তোমার বাবা তাল করে সব তাল থালায় ভরে গুদামখানায় তালা দিয়ে রেখেছে। কিছু পাব না বলে আমি পাবনা চলে এসেছি। চালনা গিয়ে চাল নিলাম।
সালামকে নিয়ে আমি চললাম। প্রিয় জামাই তুমি তোমার বোন জামাই এবং তাদের কন্যা আশাকে নিয়ে থাকো। আমার আশায় থেক না। আশা রইল, আর একটা বিবাহ করে সুখী হও।
ইতি
তোমার স্ত্রী ইতি বানু

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!