ফিরোজা বেগম: নজরুলসংগীতের শিখা

ড. মোহাম্মদ আমীন

ফিরোজা বেগম: নজরুলসংগীতের শিখা

ফিরোজা বেগম ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দের ২৮শে জুলাই তৎকালীন ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার (বর্তমান জেলা) রাতইল ঘোনাপাড়া গ্রামের এক জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি  ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দের ৯ই সেপ্টেম্বর ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে মারা যান। 

 ফিরোজা বেগমের বাবার নাম খান বাহাদুর মোহাম্মদ ইসমাইল এবং মায়ের নাম বেগম কওকাবুন্নেসা। ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দ থেকে তিনি কলকাতায় বসবাস করতে শুরু করেন।তিনি ১৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দে সুরকার, গায়ক ও গীতিকার কমল দাশগুপ্তের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ঢাকায় ফিরে আসেন। কমল দাশগুপ্ত  ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দের ২০শে জুলাই মারা যান। এ দম্পতির তিন সন্তান: তাহসিন, হামিন ও শাফিন। হামিন ও শাফিন রকব্যান্ড দল মাইলসের সদস্য।

ফিরোজা বেগম ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে প্রথম অল ইন্ডিয়া রেডিওতে গানে কন্ঠ দেন। ১৯৪২ খ্রিষ্টাব্দে ১২ বছর বয়সে বিখ্যাত গ্রামোফোন কোম্পানি এইচএমভি থেকে ৭৮ আরপিএম ডিস্কে ইসলামি গান নিয়ে তাঁর প্রথম রেকর্ড

কমল দাশগুপ্ত ও ফিরোজা বেগম

বের হয়। এর কিছুদিন পর কমল দাশগুপ্তের তত্ত্বাবধানে উর্দু গানের রেকর্ড হয়। এ রেকর্ডের গান ছিল- ‘ম্যায় প্রেম ভরে, প্রীত ভরে শুনাউ’ আর ‘প্রীত শিখানে আয়া’। দশ বছর বয়সে ফিরোজা বেগম কাজী নজরুলের সান্নিধ্যে আসেন এবং তার কাছ থেকে তালিম গ্রহণ করেন। ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দে নজরুলের গান নিয়ে  তাঁর প্রথম রেকর্ড প্রকাশিত  হয় । নজরুল অসুস্থ হওয়ার পর ফিরোজা বেগম নজরুলসংগীতের শুদ্ধ স্বরলিপি ও সুর সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তিনি ৩৮০টির

ড. মোহাম্মদ আমীন

অধিক একক সংগীতানুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন। নজরুলসংগীত ছাড়াও তিনি আধুনিক গান, গজল, কাওয়ালি, ভজন, হামদ-নাত-সহ নানা ধরনের সংগীত করেছেন। জীবদ্দশায় তার ১২টি এলপি, ৪টি ইপি, ৬টি সিডি ও ২০টিরও বেশি অডিও ক্যাসেট প্রকাশিত হয়েছে।

শিল্পচর্চায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দে স্বাধীনতা পুরস্কার অর্জন করেন। অর্জিত অন্যান্য পুরস্কারসমূহের মধ্যে একুশে পদক,  নেতাজী সুভাষ চন্দ্র পুরস্কার, সত্যজিৎ রায় পুরস্কার, নাসিরউদ্দীন স্বর্ণপদক, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী স্বর্ণপদক, সেরা নজরুলসংগীত শিল্পী পুরস্কার (একাধিকবার), নজরুল আকাদেমি পদক, চুরুলিয়া স্বর্ণপদক, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ডিলিট, সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের ১২ই এপ্রিল তিনি পশ্চিমবঙ্গের বঙ্গ সম্মান পুরস্কার লাভ করেন। ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দর ২৮শে জুলাই  তাঁর ৮৮ তম জন্মদিনে গুগল ডুডল তৈরি করে সম্মননা প্রদান করে।

আমার যাবার সময় হলো দাও বিদায়

এই কী গো শেষ দান বিরহ দিয়ে গেলে

কতদিন দেখিনি তোমায় তবু মনে পড়ে তব মুখখানি

জানি জানি প্রিয় এ জীবনে মিটিবে না স্বাদ

তুমি কি এখন দেখিছ স্বপন

তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয়

তোমার আঁখির মতো আকাশের দুটি তারা

নয়ন ভরা জল গো তোমার আঁচল ভরা ফুল

ভীরু এ মনের কলি ফুটালে না কেন ফুটালে না

লাইলী তোমার এসেছি ফিরিয়া

শাওন রাতে যদি স্মরণে আসে মোরে

ফিরোজা বেগমের কণ্ঠে কয়েকটি জনপ্রিয় নজরুল সংগীত শুনতে চাইলে ক্লিক করুন: ফিরোজা বেগমের গলায় নজরুল সংগীত।


কিছু প্রয়োজনীয় পোস্ট

শুবাচ গ্রুপের লিংক: www.draminbd.com
তিনে দুয়ে দশ: শেষ পর্ব ও সমগ্র শুবাচ লিংক

 

error: Content is protected !!