ফুলোন্মাদ, মুদ্র ও মুদ্রাদোষ

ড. মোহাম্মদ আমীন

ইংরেজি অভিধানমতে, অ্যান্থোম্যানিয়া (Anthomania) অর্থ— (বিশেষ্যে) An extravagant passion/fondness for flowers. বাংলায় শব্দটির অর্থ ফুলের প্রতি— অত্যধিক, মাত্রাহীন, অসংযত, বিবেচনবোধহীন বা বেহিসেবি আসক্তি বা বাতিক। এককথায় যাকে বলা যায়: ফুলোন্মাদ, পুষ্পোন্মাদ বা পুষ্পবাতিক।
 
ফুলের প্রতি আকর্ষণ মনুষ্য চরিত্রের একটি নান্দনিক দিক। তবে অতিরিক্ত কোনো কিছু ভালো নয়। তাই ম্যানিয়ায় পরিণত ফুলের প্রতি অত্যধিক আকর্ষণও ভালো নয়। এমন ম্যানিয়া বা পাগলামি বা বাতিক ব্যক্তিজীবনকে ফুলমুখী এবং ব্যক্তিকে ফুলের মতো নরম করে দেয়। ফুলের প্রতি অত্যধিক আসক্তির কারণে পুষ্পবাতিক ব্যক্তি সামাজিক ও পারিবারিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন পয়ে পড়ে। প্রিয়জনগণ উপেক্ষিত হতে হতে এত দূরে সরে যায় যে, শেষপর্যন্ত ফুলোন্মাদ/ ফুলাসক্তরা স্বাভাবিক জীবনধারা থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ভ্রমরের মতো তাদের কোনো নির্দিষ্ট স্থান থাকে না। ফুলে ফুলে ঘুরতে ঘুরতে অচিরে ফুলের মতো ঝরে পড়ে।
 
চরিত্রগতভাবে এরা কোমল মনের হয়। ফুলের মতো অল্প আঘাতে মারাত্মক কষ্ট পায়।তারা যেমন ফুলকে অত্যধিক ভালোবাসে তেমনি তারাও প্রত্যেকের কাছ থেকে অনুরূপ প্রত্যাশা করে। কিন্তু তা না পেলে হতাশ হয়ে আরও ফুলময় হয়ে যায়। এরা ফুলের প্রতি এত আসক্ত থাকে যে, খাওয়া-দাওয়া পর্যন্ত ফুলনির্ভর হয়ে যায়।
 
পুষ্পোন্মাগণ সারা শরীর এবং বাড়িঘর ফুল দিয়ে ঢেকে রাখতে চায়। প্রতিদিন ফুল সংগ্রহ করতে গিয়ে আর্থিক ও মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। বাড়িঘর বাসি ফুলে ভরে যায়। অনেকে নিজেদের জামাকাপড় পর্যন্ত ফুলের পাপড়ি দিয়ে বানায়। অলংকার হিসেবে ফুল পছন্দ করে।

মুদ্রা ও মুদ্রাদোষ

মুদ্রা ও দোষ শব্দ নিয়ে মুদ্রাদোষ শব্দটির উদ্ভব। ‘মুদ্রা’ মানে টাকা পয়সা, অর্থ, সিলমোহর, ছাপ এবং হিন্দুদের দেবপূজাকালে বিভিন্ন ভঙ্গিতে করবিন্যাস, নাচের অঙ্গভঙ্গি, করতল বা পদতলের বিশেষ চিহ্ন প্রভৃতি। এখানে মুদ্রাদোষ শব্দে বর্ণিত মুদ্রা অর্থ— অঙ্গভঙ্গি, বাচনবিন্যাস, বিশেষ চিহ্ন প্রভৃতি।
 
ব্যক্তি বিশেষের নিজস্ব মুদ্রা, চিহ্ন বা অঙ্গিভঙ্গি থাকে। ব্যক্তির মতো এসব বিষয়ও অনেকটা অদ্বিতীয় বা আত্মগত। সবার কথা বা বাচনভঙ্গি এক নয়। প্রত্যেকে একটি নিজস্ব মুদ্রা বা আঙ্গিকে আচরণ করে। তা হাতের, মুখের, চোখের বা শরীরের কিংবা স্বরবিস্তার, অঙ্গপরিচালনা— অথবা অন্য কোনোভাবে হতে পারে। এ সব মুদ্রার অতি ব্যবহার কিংবা যে ব্যবহার অন্যের কাছে হাস্যকর বা দূষণীয় মনে হয় তাই মুদ্রাদোষ হিসেবে চিহ্নিত হয়।অর্থাৎ কোন ব্যক্তির কোনো এক বা একাধিক মুদ্রা অন্যের কাছে দূষনীয় বা দোষের মনে হলে তা মুদ্রাদোষ হয়ে যা।
 
অল্পকথায়, ব্যক্তিবিশেষের বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি, বাচনভঙ্গি, আচরণ, চালচলন কিংবা স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্যের দৃষ্টি বা শ্রুতিকটুকর পুনরাবৃ্ত্তি বা বহিঃপ্রকাশকে মুদ্রাদোষ বলা হয়।
 
লিংক: https://draminbd.com/ফুলোন্মাদ-মুদ্র-ও-মুদ্রা/

ড. মোহাম্মদ আমীনের পোস্ট: শুবাচ

শুবাচ গ্রুপের লিংক: www.draminbd.com

All Link : শুবাচে প্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ লেখা

All Link

All Links/1

All Links/2 শুবাচির প্রশ্ন থেকে উত্তর

All Links/3

তারিখে তারিখে ইতিহাস আগস্ট/১

তারিখে তারিখে ইতিহাস: আগস্ট/২

তারিখে তারিখে ইতিহাস: আগস্ট/৩

তারিখে তারিখে ইতিহাস: সেপ্টেম্বর/১

তিনে দুয়ে দশ (Tine Due Dash): ড. মোহাম্মদ আমীন

স্যমন্তক সমগ্র

 

 

error: Content is protected !!