ফেসবুক: পোস্টের মন্তব্য, মন্তব্যজানালা বা কমেন্ট বক্সের মন্তব্য

ড. মোহাম্মদ আমীন
ড. মোহাম্মদ আমীন
সংযোগ: https://draminbd.com/ফেসবুক-পোস্টের-মন্তব্য-ম/
অনেকের প্রশ্ন, “মন্তব্যজানালায় পরিবেশিত মন্তব্যসমূহের পরিপ্রেক্ষিতে আপনি প্রতিমন্তব্য বা প্রত্যুত্তর দেন না কেন?” আমার একটা লেখায় যতগুলো মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য আসে তার উত্তর দিতে গেলে নতুন করে কিছু লেখা সম্ভব হবে না।  উত্তরে আসবে প্রত্যুত্তর, তারপর প্রতি-প্রত্যুত্তর তারপর প্রতি-প্রতি-প্রতিপ্রত্যুত্তর; এভাবে প্রতি প্রতি প্রতি. . . এবং প্রতির মধ্যে বাকি জীবন চলে যাবে।
তাহলে কি মন্তব্যসমূহ কখনও দেখেন না? দেখি। যদি কখনও কোনো নতুন লেখায় আগের লেখার প্রসঙ্গ কোনোভাবে চলে আসে। তখন ওই লেখার মন্তব্য দেখে বিচক্ষণ মন্তব্যসমূহ হতে কিছু রসদ সংগ্রহ করে নতুন লেখাকে সমৃদ্ধ করার প্রয়াস নিই। কোনো ভুল থাকলে তা শুধরে নিই। এরূপ মন্তব্যের সংখ্যা খুব বেশি হয় না। হওয়ার কথাও নয়। ভালো জিনিস কম হয়। এছাড়া বাক্য মন্তব্যসমূহ কী হতে পারে তা আমার অভিজ্ঞতায় জানা বিষয়। জানা বিষয় দেখে সময় নষ্ট করার নিরর্থক। তবে যেসব লেখা বৌদ্ধিক সেসব লেখায় মন্তব্য খুব কম আসে। লাইক পড়ে আরও কম। এসব লেখায় যারা মন্তব্য করেন তাঁদের সবাই বৌদ্ধিক মননশীলতার অধিকারী। এসব মন্তব্য আমি দেখি। বৌদ্ধিক লেখায় বেশি মন্তব্য আসে না। কারণ, সাধারণ বন্ধুরা তা অনুধাবন করতে পারেন না বলে  এড়িয়ে যান।
আমার জনপ্রিয় বা প্রতিথযশা (সেলিব্রেটি) বন্ধুরা আমার প্রশংসা করার জন্য মন্তব্য ঘরে আসেন না। সর্বোচ্চ লেখাটি একনজর দেখে মনে মনে বলতে পারেন, “ভালোই  লিখেছ”। কিন্তু ওই সব বন্ধু সুযোগ পেলে কিংবা তাঁর জানা বা বিশ্বাসের বাইরে কিছু বললে সমালোচনা, উপহাস আর নিন্দা করার জন্য কাফরি কাকের বাচ্চার মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে লম্বা ইতিহাস গাওয়া শুরু করেন। এই ইতিহাসে তাঁর মতবাদ প্রতিষ্ঠা করার একচোখা বর্ণনা থাকে, ইর্ষা থাকে, ঘৃণা থাকে, কিন্তু কোনো নিরপেক্ষ যুক্তি থাকে না।  মন্তব্যে তাঁরা মতবাদ-অন্ধদের ন্যায় প্রচলিত ধারণাকে সত্য ধরে নতুন ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করার চেষ্টা করে মাত্র।  আমার মতবাদের যৌক্তিকতার ধারেকাছেও যান না। তা যদি দেখি তো বন্ধুত্ব নষ্ট হওয়ার মনোভাব জাগতে পারে। তাই দেখি না। চলার পথে সব কথা শুনতে গেলে বাণীমন্দিরে পৌঁছা যাবে না। ওরা আমার শিক্ষক নন। প্রচলিত রীতি জানার জন্য এমন প্রতিথযশাদের কথা শোনা অনাবশ্যক। এরা সর্বদা প্রচলিত রীতিতে আবদ্ধ থেকে সাধারণের সমর্থন নিয়ে প্রথিতযশা থাকতে না। তাঁদের মন্তব্য আমি পড়ি না, সযত্নে এড়িয়ে চলি। এরা বিশ্বাসে কাতর, চিন্তায় বড়ো বেশি নিথর।
 
কিছু কিছু বন্ধু আমার কথাকে নতুন কিংবা প্রচলিত ধারার পরিবর্তন মনে করে গালাগালি করে। এরা নিজেদের শিক্ষিত মনে করেন, কিন্তু প্রবলভাবে একগ্রন্থমুখী। তাঁরা নিজের বিশ্বাসের বাইরে কোনো কিছু সহ্য করতে পারেন না।  আমার কোনো লেখা তাঁদের বিশ্বাসের সামান্য বাইরে গেলে অশোভন মন্তব্য, নাস্তিক এবং আরও নানা বিশেষণে বিশেষায়িত করেন।  তারা প্রতিটি বিষয়ে নিজের বিশ্বাস্য মতবাদ টেনে  এনে আমার লেখাকে ওভাবে বিশ্লেষণ করে একমুখী মন্তব্য করেন। আমার লেখার মধ্যেও যে গ্রহণযোগ্য কিছু থাকতে পারে তা কিছুতে মেনে নেন না।  তাঁদের মন্তব্যে গালাগালি, অশোভন কথা আর নিজের বিশ্বাস্য মতবাদের উচ্চকিত ঘোষণা ছাড়া নতুন কিছু থাকে না।  চলার পথে এত ঘেউ ঘেউ শুনতে বা থামাতে গেলে আমার এগিয়ে যাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে মাঝপথে। তাই এসব দেখি না। সযত্নে এড়িয়ে যাই।
 
কিছু বন্ধু আসে যাঁরা আমার অন্ধভক্ত। আমার লেখা যেমনই হোক তাঁদের ভালো লাগে, খুব ভালো লাগে— এমনকি ভুল হলেও। এটি হচ্ছে অন্ধপ্রেম, অন্ধভক্তি। অন্ধভক্তি ভালো না। তবু আমার ভালো লাগে। যদি বলি “ভালো লাগে না”— তো মিথ্যা বলা হবে। প্রশংসা কার না ভালো লাগে। পৃথিবীর সব ঐশীগ্রন্থের মূল আর প্রত্যেক ধর্মীয় প্রার্থনার একমাত্র বিষয় হচ্ছে প্রশংসা। তো আমি কোন ছার! তাঁদের মন্তব্য আমার হৃদয়ে থাকে। তাই মন্তব্যজানালায় গিয়ে দেখার প্রয়োজন পড়ে না। অন্ধভক্তি আমার মানুষিক দুর্বলতায় পড়ে অন্ধ ভালোবাসায় পরিণত হয়েছে।
এবার সাধারণ বন্ধুদের কথা বলি। সাধারণ বন্ধুদের সংখ্যা সবসময় বেশি থাকে। এরা সহজে মন্তব্য করেন না। এদের অনেকে ভীতু  এবং নিজেকে সর্বদা ঝামেলা থেকে দূরে রাখতে চান। কারও বিরূপতার সম্মুখীন হতে চান না।  সিংহভাগই অন্যদের মন্তব্য পড়ে চুপচাপ চলে যান। সমর্থন বা অসমর্থন ভেতরে রেখে দেন। সাধারণ বন্ধুদের মন্তব্য সর্বদা সাধারণ হয়। প্রয়োজন মনে করলে তাঁদের দু-একজন  দু-এক বাক্যে সাধারণ কিছু মন্তব্য করে যান। সবার সব মন্তব্য প্রায় অভিন্ন। নতুন কিছু থাকে না। লেখা নিয়ে কোনো আলোচনা বা সমালোচনা থাকে না। তাই তাঁদের মন্তব্য দেখার প্রয়োজন পড়ে না। সাধারণ বন্ধুদের মধ্যে কিছু কিছু বন্ধু খুব নিম্নরুচির হয়। এরা অশিক্ষিত বা অর্ধশিক্ষিত এবং  মতাবাদান্ধ। তাই অতি উগ্র এবং ইতর প্রকৃতির হয়। তাদের মন্তব্যে নিকৃষ্ট গালাগালি ছাড়া আর কিছু থাকে না। তাই তাদের মন্তব্য পড়াও নিরর্থক। রাস্তায় কেউ যদি মল ছুড়ে দেওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে থাকে তা হতে সযত্নে দূরে সরে থাকা উত্তম। একদিন এসব মলধারী নিজেদের মলের অসহ্য গন্ধে বিনাশ হয়ে যাবে।
 
কিছু কিছু মন্তব্যকারী যেমন বিচক্ষণ তেমনি অসাধারণ। তবে তাঁরা সংখ্যায় খুব কম। তাঁরা অতুলনীয় মেধার অধিকারী। তাঁরা প্রতিথযশা না হতে পারেন, কিন্তু চিন্তাচেতনায় পূর্ণ মননশীল  এবং অতি উন্নত প্রজ্ঞার অধিকারী। অনেকে এদের নাস্তিক বলেন।  তাঁরা প্রচলিত বা প্রতিষ্ঠিত মতবাদের চেয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক ধারণার সঙ্গে নিজের চিন্তাকে শালীন করে অনবদ্য যুক্তি দিয়ে উপস্থাপন করে থাকেন। তাঁর সাহসী। যৌক্তিক কথা বলতে কাউকে পরোয়া করেন না। এদের মন্তব্য আমাকে ঋদ্ধ করে। ভুল শুধরে দিয়ে শানিত করে। তাঁরা আমার শিক্ষক। শিক্ষকদের বেশি কাছাকাছি যেতে নেই।
ঋদ্ধ বাণী দূর হতে মুগ্ধ হয়ে শুনি,
ভালোবাসি  শ্রদ্ধাভরে হে মুগ্ধ গুণী।
——-
জানা অজানা অনেক মজার বিষয়: https://draminbd.com/?s=অজানা+অনেক+মজার+বিষয়
শুবাচ গ্রুপের সংযোগ: www.draminbd.com
শুবাচ যযাতি/পোস্ট সংযোগ: http://subachbd.com/
আমি শুবাচ থেকে বলছি
— — — — — — — — √— — — — — — — — —
প্রতিদিন খসড়া
আমাদের টেপাভুল: অনবধানতায়
error: Content is protected !!