বইয়ের নাম স্যমন্তক

রিপন কুমার চৌধুরী

বইয়ের নাম : স্যমন্তক। লেখকের নাম : ড. মোহাম্মদ আমীন ( Mohammed Amin) স্যমন্তক শব্দের অর্থ পুরাণোক্ত শ্রীকৃষ্ণের মণিবিশেষ। এই উপন্যাসের কয়েকপৃষ্ঠা পড়ার পরই দেখা পাবেন এই স্যমন্তকের। দেখা হবে এক নিয়োগ পরীক্ষায়। যে কিনা জামাল নজরুল ইসলাম স্যারের করা প্রশ্নে ১০০ তে ৯৮ পেয়েছে। মেয়েটির নাম রাকখসনা।ভুল করে রাসনা থেকে হয়ে গেছে রাকখসানা, পরবর্তীতে পুনরায় সংশোধিত হয়ে রচনা হয়ে সমগ্র উপন্যাস কাঁপিয়ে তুলবে।

মেয়েটির ভাইবা নিয়ে খান স্যার বলেছিলেন, ‘ওহ মাই গড, তার পুরো শরীরটা যেন মাথা। ‘
এই মেয়েটাকেই একবার প্রশ্ন করা হয়েছিলো, তুমি কি জানো, তুমি কত মেধাবী?
মেয়েটি উত্তর দিয়েছিলো, আমার মেধা দিয়ে কিছু হবে না, স্যার।পরিচর্যা না-পেলে মূল্যবান ধাতুও মূল্যহীন থেকে যায়। পাথরের উপর পড়লে অনেক ভালো বীজও নষ্ট হয়ে যায়।মেধাবী হলেও আমি বস্তির মেয়ে, বস্তি অক্সফোর্ড নয়।

আপনারা যদি উপন্যাসটি পড়তে পড়তে শেষ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেন– তাহলে দেখতে পাবেন ঘটনা বাঁক নিতে নিতে বস্তি অক্সফোর্ড হোক কিংবা না হোক বস্তির মেয়ে অক্সফোর্ডে ঠিকই পৌঁছাবে। আর এর প্রত্যেকটি ঘটনাই লোমহর্ষক। লোমহর্ষক শব্দটি দেখে আবার ভেবে বসবেন না উপন্যাসটি ভয়ের। আপনার লোম খাড়া হবে ভয়ে নয়, বরং আনন্দ উত্তেজনায়। সাথে ঝরাবে চোখের জল। এই বইয়ের প্রায় প্রত্যেকটা লাইনই এত ভালো ও মনোমুগ্ধকর যে তা থেকে কয়েকটা বাছাই করা কষ্টের। তারপরও আমার ভালোলাগা কয়েকটা লাইন তুলে ধরছি–
১। : যুদ্ধ আর শান্তির মধ্যে তফাত কী?
: যুদ্ধের সময় পিতাকে সন্তানের লাশ বহন করতে হয়,শান্তির সময় সন্তানই পিতার লাশ বহন করে।

২। প্রতিষ্ঠা করতে না-পারলে প্রতিবাদ করা অর্থহীন।

৩। আগামীকাল কাউকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য বর্তমানের কাউকে মেরে ফেলা পাগলামি, অপরাধ তো বটেই।

৪। মৃতের দেহাবশেষ থেকে বেরিয়ে আসে নতুন জীবন।পুরাতন লাশের উপর গড়ে উঠে নতুন সভ্যতা।

৫। আগে মানুষ তিলকে তাল বানাত, এখন বানায় ফুটবল।

৬। ক্ষুধার্ত পেট খাদ্য চায়, ফুল তার কাছে উপহাস।

৭। হাতই সৃষ্টি, হাতই নাশ, হাতই সুন্দর, হাতই অভিলাষ।

স্যমন্তকের নায়িকা

৮। মৃত্যু আর জীবনের মধ্যে একদিন আলাপ হচ্ছিল। জীবন মৃত্যুকে বলল, “লোকে আমাকে ভালোবাসে কিন্তু তোমাকে এত ঘৃণা করে কেন?” জবাবে মৃত্যু বলল, “কারণ তুমি আকর্ষণীয় মিথ্যুক, কিন্তু আমি নিষ্ঠুর সত্য। “

৯। I’m gonna live till I die.

১০। অতীতের শংকায় সামনের পথ কন্টকিত কর না। লাফ দাও, গর্ত? কোনো বাধা নয়, লাফ যদি দীর্ঘ হয়।

১১। ভাগ্যবানের বোঝা, ভগবান বয় সোজা।

১২। ধার্মিকেরা মনে করে, অন্য ধর্মকে ঘৃণা করাই বড় পূণ্য।এজন্য ধর্ম নিয়ে এত হানাহানি। ধার্মিকেরাই ধার্মিকের শত্রু।

১৩। পেনসিলের আগে যদি ইরেজার শেষ হয়ে যায় তাহলে বুঝতে হবে, তোমার চলার পথে ভুলের পরিমাণ শুদ্ধের চেয়ে বেশি ছিল।
১৪। নগদ যা পাও হাত পেতে নাও
বাকির খাতা শূন্য থাক।
দূরের বাদ্য লাভ কি শুনে
মাঝখানে যে বেজায় ফাঁক।
১৫। বাতাস, আকাশ আর মাটির অবিচ্ছেদ্য মিলন সূত্র।

১৬। Love isn’t something you find. Love is something that finds you.

১৭। বেশি কাছে নিয়ে গেলে শুধু অনুভব করা যায়, দেখা যায় না।

১৮। যুদ্ধ ও প্রেম কোনো পরিকল্পনা মেনে চলে না।

স্যমন্তকের লেখক।

১৯। রাগ যার উপর ভর করে তার সবকিছু রাগের অধিকারেই চলে যায়। এ অবস্থায় মানুষ মাছের মতো নিজের সন্তানকেও খেয়ে ফেলতে দ্বিধা করে না।

২০। নিয়ন্ত্রণহীন জিহ্বা পাগলের হাতে তুলে দেওয়া ধারালো তরবারির চেয়েও ভয়ংকর।

২১। কর্তব্য যেখানে প্রবল, ভালোবাসা সেখানে রাঁধুনির বঁটির তলায় ধড়ফড় করা পুঁটি মাছের মতো অসহায়।

২২। আনন্দকে ভাগ করলে দুটো জিনিস পাওয়া যায়– একটি জ্ঞান আর একটি প্রেম । জ্ঞানকে ভাগ করলে তিনটি জিনিস পাওয়া যায় : প্রথমত জানা, দ্বিতীয়ত: জানার বাইরের কোনাে জিনিস জানার আগ্রহ এবং তৃতীয়ত এই দুটোর পরিপ্রেক্ষিতে অবাস্তব কোনাে বিষয় বিশ্বাস করার আগে ভালােভাবে পূর্বাপর আনুপূর্বিক বিচার-বিশ্লেষণ।

২. স্যমন্তক ও প্রফেসর দীপক কুমার নাগ

স্যমন্তক পড়ে আমার অভিমত ও প্রতিক্রিয়া …….যা অল্প হলেও আপনার মনুষ্যত্বকে মানবের কল্যাণে উৎসর্গ করতে সহায়তা করবে বলে মনে করি।মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য- এ দার্শনিক কথাটির সত্যতা কি আপনি খুঁজতে চান? এজন্য আপনাকে হিমালয় অথবা কোনো পর্বতমালার পাদদেশে যেতে হবে না। আপনি এক কপি স্যমন্তক সংগ্রহ করে নিন।
প্রথমত মনে হতে পারে, এ বুঝি লেখক তাঁর কল্পনার ফানুসে মনের আবেগ ও মাধুরী মিশ্রিত করে পাঠকদের জন্য একখানা গল্প বানিয়েছেন। যে কাজটি কবি-সাহিত্যিকগণ সাধারণত করে থাকেন। না, তা নয়। স্যমন্তক বাস্তব ঘটনার তিল তিল মাধুরী দিয়ে সৃষ্ট একটি উপন্যাস- যার লাইনে লাইনে রয়েছে জীবনাভিজ্ঞতার উন্মেষে লালিত মানবতাবোধের নিটোল শিহরণ।
স্যমন্তকের নায়িকা চরিত্রে যিনি রয়েছেন (জানি না সে কে?)। নায়ক (যিনি লেখক) আমার দৃষ্টিতে একজন মানুষ। দেবত বলব না, কারণ দেবতাদের মাঝেও যে স্বার্থপরতা রয়েছে! কেননা, দেবতাও তার ঘরে আশ্রয় নেয়, যে ঘরে ফুলচন্দন বেশি পড়ে। এদিক থেকে স্যমন্তকের নায়ক (লেখক) একজন মানুষের দর্শন নিয়ে যে কাজটি জীবনে করেছেন- সেই একটি কাজের জন্যই আমি তার জীবনকে নিঃসংশয়ে ধন্য হয়ে গিয়েছে বলতে পারি। তার আর কোনো কাজ না-করলেও চলবে। স্যমন্তকের প্রেরণ প্রেরিত হোক জনে জনে। স্যমন্তক ধন্য করুক মানুষের মনুষ্যত্ব, জয় হোক মানবতার!

——————————————————————————————————————————————

অনুসজ্জায়: রাশিদা আকতার মিশু।

সূত্র: বইয়ের নাম : স্যমন্তক, রিপন কুমার চৌধুরী,  শুদ্ধ বানান চর্চা (শুবাচ)


All Link

বিসিএস প্রিলি থেকে ভাইভা কৃতকার্য কৌশল

ড. মোহাম্মদ আমীনের লেখা বইয়ের তালিকা

বাংলা সাহিত্যবিষয়ক লিংক

বাংলাদেশ ও বাংলাদেশবিষয়ক সকল গুরুত্বপূর্ণ সাধারণজ্ঞান লিংক

বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন এবং কেন লিখবেন/১

error: Content is protected !!