বরিশাল নামকরণ: বাকেরগঞ্জ, বানারীপাড়া উজিরপুর বাবুগঞ্জ মেহেন্দীগঞ্জ গৌরনদী আগৈলঝরা মুলাদী হিজলা

ড. মোহাম্মদ আমীন
সংযোগ:  https://draminbd.com/বরিশাল-নামকরণ-বাকেরগঞ্জ/
ড. মোহাম্মদ আমীন
বরিশাল ও বরিশাল জেলার নামকরণ
ড. মোহাম্মদ আমীন
মোঘল আমলের পূর্বে বাকলা নামকরণের পূর্বে এলাকার নাম ছিল ‘চন্দ্রদ্বীপ’। চন্দ্রদ্বীপ নামকরণ নিয়ে একাধিক প্রবাদ প্রচলিত রয়েছে। প্রাকৃতিক কারণে আলোচ্য এলাকার চন্দ্রকলার মতো হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটতো বলে এর নাম হয় চন্দ্রদ্বীপ। আবার অনেকে বলেন, জনপদটির আকৃতি চাঁদের ন্যায় ছিল বলে নাম চন্দ্রদ্বীপ। দনুজমর্দন দেব তার গুরু চন্দ্রশেখর চক্রবর্তীর কৃপায় রাজ্য লাভ করেন। তাই তিনি এর নাম রাখেন চন্দ্রদ্বীপ। আবার অনেকের মতে, রাজা চন্দ্রবর্মার নামানুসারে নামকরণ হয় চন্দ্রদ্বীপ। অনেকে ধারণা, মহাদেবের কপালে চন্দ্রের  কারণে নাম হয় চন্দ্রদ্বীপ। বিখ্যাত বৌদ্ধ পণ্ডিত চন্দ্রগোমিনের নাম থেকে এ জনপদের নাম চন্দ্রদ্বীপ হয়েছে বলেও অনেকের অভিমত। তবে ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত যে, চন্দ্রভন্ড্র নামক আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নামানুসারে এলাকাটির নাম হয় চন্দ্রদ্বীপ। মোঘল শাসনামলে আলোচ্য এলাকার নাম হয় ‘বাকলা’। আবুল ফজলের আইন-ই-আকবরী ও র‌্যালফ ফিচের বিবরণে বাকলা নামের উল্লেখ পাওয়া যায়। এবার বাকলা নামের উৎপত্তি বিশ্লেষণ করা যাক। বাকেরগঞ্জের প্রাচীন নাম বাকলা। বাঙ্গালার পরিবর্তিত রূপ বাকলা। প্রাগৈতিহাসিক আমলে বাকেরগঞ্জের উত্তরাংশে বাঙ জাতিগোষ্ঠীভূক্ত লোক বাস করতো। বাঙ শব্দ চিনা বা তিব্বতীয় গোষ্ঠী হতে আগত। প্রাচীনকালে বাকলা জলাভূমি ছিল। বাঙ জাতির লোকেরা তিন হাজার বছর পূর্বে জলাভূমি আবাদ করে বসতি স্থাপন করতো এবং বন্যা ও লোনা পানি হতে রক্ষার জন্য আইল বা আল দিতো। বাঙ জাতির নামের সাথে আল যুক্ত হয়ে হয় বাঙাল। বাঙাল জাতির আদি বাসস্থান বরিশাল। এদের একটা গোষ্ঠীকে চন্দ্রভণ্ড্র বলা হতো। চন্দ্রভণ্ড্র হতে বাকলার অপর নাম চন্দ্রদ্বীপ। বাকলা ছিল এর লোকায়ত নাম এবং চন্দ্রদ্বীপ ছিল রাজনীতিক নাম। ‘বাকলা’ আরবি শব্দ। এর অর্থ শস্য ব্যবসায়ী। আলোচ্য এলাকাটি ছিল ধনধান্য ও শস্যে ভরপুর । তাই এখানে প্রচুর বাকলা বা শস্য ব্যবসায়ীর আগমন ঘটত। তাই এলাকার নাম হয় বাকল। অনেকের মতে বাকাল এক প্রজাতির সাপ। এ বাকাল হতে বাকলা নামের উৎপত্তি। আবার কারও কারও মতে গাছের বাকল হতে বাকলা নামের উদ্ভব। আলোচ্য এলাকাটি ছিল আবার কারো মতে, বাকাল নামক এক ধরে নর সাপের নাম থেকে ‘বাকলা’ নামের উদ্ভব। মধ্যযুগের কবি বিজয় গুপ্তের পদ্মপূরাণ বা মনসামঙ্গল কাব্যগ্রন্থে বাকলা নামের উল্লেখ আছে। অবশ্য মোগল আমলে বাকলা ইসমাইলপুর নামেও অভিহিত হতো।

নবাব আলীবর্দি খার আমলে আগা বাকের খান বাকলা-চন্দ্রদ্বীপের বুজর্গ উমেদপুর পরগণার জমিদারি লাভ করে। আগা বাকের ১৭৪০ খ্রিস্টাব্দে সুগন্ধার শাখা নদী খয়রাবাদ নদীর তীরে নিজ নামে একটি গঞ্জ প্রতিষ্ঠা করেন নাম দেন বাকেরগঞ্জ। বাকেরগঞ্জ বন্দরের গুরুত্বের কারণে বাকলা তার পূর্ব গৌরব ও পরিচিতি হারিয়ে ফেলে এবং পুরো এলাকা বাকেরগঞ্জ নামে প্রসিদ্ধি লাভ করে।বরিশাল নামকরণ নিয়ে একাধিক প্রবাদ প্রচলিত আছে।বাকলা অঞ্চল লবণ উৎপাদন ও অন্যান্য দ্রব্যসামগ্রীর ব্যবসার জন্য প্রাচীনকাল হতে বিখ্যাত ছিল।শুল্ক আদায়ের প্রধান চৌকি ছিল গিরদে বন্দর। গিরদে অর্থ একটি নির্দিষ্ট এলাকা। গিরদে ছিল বরিশালের প্রাচীন একটি নাম। এখানে লবণের বড় বড় গোলা ছিল। গিরদে ছিল দক্ষিণ বাংলার লবণ শুল্ক আদায়ের প্রধান চৌকি। ইউরোপীয় বণিকগণ গিরদে বন্দরকে বড়িশল্ট বলতে। অনেকে মনে করেন, বড়িশল্ট পরিবর্তিত হয়ে বরিশাল নাম ধারণ করে। আবার অনেকের মতে, এখানকার লবণের দানাগুলো বড় ছিল। তাই ইংরেজগণ এখানকার লবণকে বড়িশল্ট বলতেন। যা হতে বরিশাল নামের উৎপত্তি। কেউ কেউ বলেন, প্রাচীনকালে বরিশালে বড় বড় শাল বৃক্ষ ছিল। তাদের মতে বড়শাল বৃক্ষ হতে এলাকার নাম হয় বরিশাল। বরিশাল নামের আর একট কিংবদন্তি বেরি নামের এক পর্তুগিজ যুবক ও শেলি নামের এক পর্তুগিজ কন্যার নামের সাথে সম্পৃক্ত। বেরী নামের এ যুবক শেলীর প্রেমে পড়েন। কিন্তু প্রেমে ব্যর্থ হয়ে বেরি আত্মহত্যা করেন। এ ঘটনায় ‘বেরিশেলী’ যুগল নাম তখন লোকের মুখে মুখে। ‘বেরীশেলী’ই পরিবর্তিত হয়ে বরিশাল হয়। কারো কারো মতে, শঅল অর্থ গৃহ, বরিশালে বড় বড় গৃহ নির্মিত হয় বলে এর নাম বড়শাল বা বরিশাল। আলোচ্য এলাকাটি একসময় ঘন জঙ্গলে আচ্ছন্ন ছিল। জঙ্গল পরিষ্কার করে এ জনপদের পত্তন হয়। জঙ্গলে প্রচুর বাঘ ছিল। স্থানীয় লোকজনের কাছে বাঘ বড় শিয়াল নামে পরিচিত ছিল এবং এর আঞ্চলিক উচ্চারণ ছিল বশিয়াল। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ আঞ্চলিক ভাষার অভিধানে ‘বশিয়াল’ অর্থ বাঘ নির্দেশ করেছেন। কথিত হয়, এ বশিয়াল বা বড় শিয়াল থেকে বরিশাল নামের উদ্ভব। আবার অনেকের ধারণা, বুকরি চাল নামক এক প্রকার মোট জাতের চাল হতে বরিশাল নামের উদ্ভ। এক সময় আলোচ্য এলাকায় প্রচুর বুকরি চাল উৎপন্ন হতো। কথিত হয়, এ বুকরি চাল হতে বরিশাল নামের উদ্ভব। অন্য একটি প্রবাদমতে, বরিষার কাল বা বর্ষাকাল হতে বরিশাল নামের উদ্ভব। ড. মোহাম্মদ আমীনের লেখা ‘বাংলাদেশের জেলা উপজেলা ও নদ নদীর নামকরণের ইতিহাস’ গ্রন্থে আরও বিস্তারিত আছে। 

বাকেরগঞ্জ: বাকেরগঞ্জ উপজেলার নামকরণ
ড. মোহাম্মদ আমীন
তেঁতুলিয়া, খারাবাদ, চরামুদ্দি, পাণ্ডব ও পাণ্ডো নদী বিধৌত বাকেরগঞ্জ উপজেলার আয়তন ৪১৭.২ বর্গ কিলোমিটার এবং লোকসংখ্যা ৩,৫৪ম২৬০। ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দের ২৭ আগষ্ট এখানে থানা সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়। নবাব আলীবর্দি খার আমলে আগা বাকের খান বাকলা-চন্দ্রদ্বীপের বুজর্গ উমেদপুর পরগণার জমিদারি লাভ করে। আগা বাকের ১৭৪০ খ্রিস্টাব্দে সুগন্ধার শাখা নদী খয়রাবাদ নদীর তীরে নিজ নামে একটি গঞ্জ প্রতিষ্ঠা করেন নাম দেন বাকেরগঞ্জ। বাকেরগঞ্জ বন্দরের গুরুত্বের কারণে বাকলা তার পূর্ব গৌরব ও পরিচিতি হারিয়ে ফেলে এবং পুরো এলাকা বাকেরগঞ্জ নামে প্রসিদ্ধি লাভ করে। 
বানারীপাড়া: বানারীপাড়া উপজেলার নামকরণ
ড. মোহাম্মদ আমীন
সন্ধ্যা, হারতা, নলশ্রী, জৈনকাঠি ও স্বরূপকাঠি নদী বিধৌত বানারীপাড়া উপজেলা আয়তন ১৩৪.৩২ বর্গ কিলোমটিার এবং লোকসংখ্যা ১,৫৩,১৬০। ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে এখানে থানা সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হয়। বানারীপাড়া নামকরণ নিয়ে একাধিক প্রবাদ প্রচলিত আছে। অনেকে মনে করেন এককালে এ অঞ্চলে প্রচুর বানর ছিল। তাই এলাকার নাম হয় বানরপাড়া। যার অপভ্রংশ বানারীপাড়া। অনেকে মনে করেন বানা ও আড়াআড়ি হতে বানারীপাড়া। বানা শব্দের অর্থ বাঁশের পাতলা সরু চটা দিয়ে প্রস্তুত মাছ আটকানোর বেড়া। এক সময় আলোচ্য এলাকায় মাছ আটকানোর জন্য খাল, নদী ও হাউড় কিংবা বিলে আড়াআড়িভাবে প্রচুর বানা বসানো হতো। বানা ও আড়াআড়ি শব্দদ্বয় যুক্ত হয়ে বানারী। যে পাড়া বা লোকালয়ে  এ বানা বেশি ছিল সেটি বানারীপাড়া নামে পরিচিতি পায়। আবার অনেকে মনে করেন বেনিয়া শব্দের তদস্থানের কথ্যরূপ বানারী। বেনিয়া অর্থ ব্যবসায়ী। এককালে আলোচ্য এলাকায় বহু বানারী ছিল। তাই পাড়াটির নাম হয় বানারীপাড়া।
উজিরপুর: উজিরপুর উপজেলার নামকরণ
ড. মোহাম্মদ আমীন
আমতলী, কালিজিরা, উজিরপুর, বিষারকান্দি, নান্দা ও হারতা নদী বিধৌত উজিরপুর জেলার আয়তন ২৪৮.৩৫ বর্গ কিলোমিটার এবং লোকসংখ্যা ২,৪২,৭২০। ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দের ৬ সেপ্টেম্বর এখানে থানা সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়। উজিরপুর নামকরণ নিয়ে একাধিক প্রবাদ প্রচলিত আছে। কেউ কেউ মনে করেন, উজির আল মামুন নামক এক জলদস্যু এখানে আস্তানা গেড়ে দস্যুতা করে বেড়াতো। তার নামানুসারে এলাকার নাম হয় উজিরপুর। আবার অনেকের মতে, ‘ফকির মোহাম্মদ’ নামক নবাবে মুর্শিদাবাদের এক উজির এ অঞ্চলে বসবাস করতেন। সে উজির হতে এলাকার নাম হয় উজিরপুর। উজিরপুর নামকরণের আরেকটি প্রবাদ  উজার বা উজোড় শব্দের সাথে সম্পৃক্ত। এর অর্থ জনশুণ্য স্থান বা বিরানভূমি। ষষ্ঠদশ শতকের এক ভয়ঙ্কর বন্যায় এলাকাটির জনমানুষ, ঘরবাড়ি, গাছপালা ইত্যাদি উজার হয়ে বিরানভূমিতে পরিণত হয়েছিল। তাই এলাকাটির নাম হয় উজারপুর। যার অপভ্রংশ উজিরপুর। 
বাবুগঞ্জ: বাবুগঞ্জ উপজেলার নামকরণ
ড. মোহাম্মদ আমীন
আমতলী, আড়িয়াল খাঁ, সুগন্ধা, সন্ধ্যা ও শিকারপুর নদী বিধৌত বাবুগঞ্জ উপজেলার আয়তন ১৬৪.৮৮ বর্গকিলোমিটার এবং জনসংখ্যা ১,৪৭,৪০০ জন। ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দের ১৯ ফেব্র“য়ারি এখানে থানা সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয় । বাবুদের গঞ্জ হতে বাবুগঞ্জ। এলাকার অভিজাত ও প্রভাবশালী হিন্দুদের বাবু বলা হতো। আড়িয়াল খা নদীর তীরে অনেক পূর্বে এলাকার অভিজাত ও প্রভাবশালী লোকজন এখানে একটি বাণিজ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। বাবুদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত এ বাজার বাবুগঞ্জ নামে পরিচিতি লাভ করে। আবার অনেকে মনে করেন, আলোচ্য এলাকাটি যশোর পরগনার জমিদার ‘বাবু বিরাজ রায় চৌধুরী’র জমিদারির অন্তর্ভূক্ত ছিল। প্রজাসাধারণের সুবিধার্থে তিনি আড়িয়াল খাঁ নদীর তীরে তার নামানুসারে বাবুগঞ্জ নামের একটি গঞ্জ প্রতিষ্ঠা করেন। ফলে এলাকাটির নাম হয় বাবুগঞ্জ। 
মেহেন্দীগঞ্জ : মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার নামকরণ
ড. মোহাম্মদ আমীন

আজিমপুর, আড়িয়াল খাঁ, চিলমারি, মাসকাটা, সুলতানা, খালিয়ার, গনেশপুরা, তেঁতুলিয়া, লোয়ারা মেঘনা ও ধর্মগঞ্জ নদী বিধৌত মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার আয়তন ৪৩৫.৮০ বর্গ কিলোমিটার এবং জনসংখ্যা ২,৯৬,৪৪০। ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে এখানে থানা সদর স্থাপিত হয়। আগা বাকেরের আমলে ‘মেহেন্দী খান’ নামক এক আমাত্য নদীর তীরে একটি বাণিজ্য কেন্দ্র গড়ে তুলেন। মেহেন্দি খানের নামানুসারে বাণিজ্য কেন্দ্রটির নাম হয় মেহেন্দিগঞ্জ। আবার অনেকে মনে করেন আগা বাকেরের পুত্র  মেহেদী খান এর নামানুসারে এলাকাটির নাম হয় মেহেন্দিগঞ্জ।

গৌরনদী: গৌরনদী উপজেলার নামকরণ 
ড. মোহাম্মদ আমীন
নুন্দা, আগরপুর ও তরকি নদী বিধৌত গৌরনদী উপজেলার আয়তন ১৪৪.১৮ বর্গ কিলোমিটার এবং লোকসংখ্যা ১,৭৯,২৬০। ১৮০৬ খ্রিস্টাব্দে এখানে থানা সদর প্রতিষ্ঠিত হয়। এক সময় এ এলাকাটির পাশ দিয়ে মেঘনা, আড়িয়াল খাঁ ও গড়াই নদীর মিলিত প্রবাহ হতে সৃষ্ট একটি ছোট নদী প্রবাহিত হতো। ঐ নদীটির পানি ছিল গৌরবর্ণের। তাই লোকে স্রোতস্বিনীটিকে গৌরনদী বলতো। নদীটি এখন বিলুপ্ত। গৌরবর্ণের জলবাহিত এ নদীর পানির স্রোতধারায় আলোচ্য এলাকার জনপদ বিধৌত হতো। তাই এলাকার নাম নদীর নামানুসারে হয় গৌরনদী। 
আগৈলঝরা: আগৈলঝরা উপজেলার নামকরণ 
ড. মোহাম্মদ আমীন
  বিষারকান্দি, পয়সা ও নান্দা নদী বিধৌত আগৈলঝারা উপজেলার আয়তন ১৬১.৮২ বর্গ কিলোমিটার এবং লোকসংখ্যা ১,৪৯,৬০০। ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দের  ১৬ জুন এখানে থানা সদর প্রতিষ্ঠিত হয়। আগৈল অর্থ মাটি কাটার ঝুড়ি এবং ঝারা অর্থ ঝেরে ফেলা বা কোন পরিষ্কার করা। সুতরাং আগৈলঝারা শব্দের অর্থ মাটি কাটার ঝুড়ি ঝারা। সপ্তদশ শতকে নবাব আলী খাঁর আমলে ছবি খাঁ নামক এক সুবাদার বর্তমান আগৈলঝারা, গৌরনদী, উজিরপুর ও কোটালিপাড়া নিয়ে গঠিত একটি পরগনার আঞ্চলিক শাসক ছিলেন। তদকালে বিশুদ্ধ পানীয় জলের সংকট নিরসণের জন্য দীঘির কোন বিকল্প ছিল না। ছবি খাঁ দীঘি খননের সময় অনেক শ্রমিক নিয়োগ করেন। শ্রমিকেরা কাজ শেষে একটি নিচু স্থানে আগৈল ঝাড়তেন। এভাবে আগৈল ঝাড়তে ঝাড়তে সেখানে একটি মাটির ঢিবি গড়ে উঠে। এ ঢিবির পাশে য়ে লোকালয় গড়ে উঠে তার নাম হয় আগৈলঝারা। শ্রমিকদেরকে যে স্থানে মজুরি প্রদান করা হতো তার নাম হয় পয়সারহাট।
মুলাদী: মুলাদী উপজেলার নামকরণ 
ড. মোহাম্মদ আমীন
জয়ন্তী, আড়িয়াল খাঁ, খালিয়ার নদী, নয়াভাঙ্গা ও পলারদি নদী বিধৌত মুলাদী উপজেলার আয়তন ২৬১.০২ বর্গ কিলোমিটার এবং লোকসংখ্যা ১,৭৮,৬২০। ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দের ১২ ডিসেম্বর এখানে থানা সদর প্রতিষ্ঠিত হয়। মুলাই খান নামক জনৈক দরবেশের নামানুসারে এলাকার নাম হয় মুলাদি। মুলাদি অর্থ মুলই খানের দ্বীপ। নদী বেষ্টিত ও দ্বীপসদৃশ এ ভূখণ্ডে মুলাখান আস্তান স্থাপন করলে দ্বীপটির নাম হয় মুলাইদি; যার অপভ্রংশ মুলাদি। আবার অনেকে মনে করেন, এ দ্বীপে এক সময় প্রচুর মুলা জন্মাতো। তাই এলাকার নাম হয় মুলারদী। যার অপভ্রংশ মুলাদী।
হিজলা: হিজলা উপজেলার নামকরণ
ড. মোহাম্মদ আমীন
জয়ন্তী, নয়াভাঙানি, মেঘনা, লোয়ার মেঘনা ও আজিমপুর নদী বিধৌত হিজলা উপজেলার আয়তন ৫১৫.৩৬ বর্গ কিলোমিটার এবং লোকসংখ্যা ১,৭৭,০২০। এটি জেলার বৃহত্তম উপজেলা। ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দের ৩১ ডিসেম্বর বদরটুনিতে প্রথম থানা সদর দপ্তর স্থাপিত হয়। কথিত হয়, হিজল গাছ হতে হিজলা। এক সময় এ এলাকায় প্রচুর হিজল গাছ ছিল। এ হিজল গাছ থেকে হিজলা নামের উদ্ভব। হিজলা শব্দের অর্থ হিজল গাছ সম্বলিত লোকালয়।
জানা অজানা অনেক মজার বিষয়: https://draminbd.com/?s=অজানা+অনেক+মজার+বিষয়
শুবাচ গ্রুপের সংযোগ: www.draminbd.com
শুবাচ যযাতি/পোস্ট সংযোগ: http://subachbd.com/
আমি শুবাচ থেকে বলছি
error: Content is protected !!