বাংলাদেশের সকল জাতীয় দিবস/২

ড. মোহাম্মদ আমীন

বাংলাদেশের সকল জাতীয় দিবস/২

কম্পিউটারে বাংলা প্রচলন দিবস : ২৫ ষে জানুয়ারি

১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ শে জানুয়ারি প্রবাসী প্রকৌশলী সাইফুদ্দাহার শহীদ অ্যাপলের ম্যাকিন্টোশ কম্পিউটারে লন্ডনে মায়ের উদ্দেশে কম্পিউটারে বাংলায় টাইপ করা একটি চিঠি লিখেন। তিনি কম্পিউটারের এই বাংলা প্রোগ্রামের নাম দিয়েছিলেন শহীদলিপি। বর্তমানে শহীদলিপির ব্যবহার না থাকলেও শহীদলিপি দিয়ে বাংলা লেখার দিন অর্থাৎ ২৫ জানুয়ারিকে ‘কম্পিউটারে বাংলা ভাষার প্রচলন দিবস’ হিসেবে উদ্্যাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রসঙ্গত, বিজয় বাংলা সফটওয়্যারের শুরু হয় ১৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ই মে এবং কিবোর্ড আবিষ্কৃত হয় ১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ই ডিসেম্বর আনন্দ কম্পিউটার্সের মাধ্যমে। আনন্দ কম্পিউটার্সের প্রতিষ্ঠাতা এবং স্বত্বাধিকারী মোস্তফা জব্বার। কম্পিউটারে বাংলা লেখার ক্ষেত্রে আরেকটি বাংলা সফটওয়্যার হচ্ছে অভ্র। ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৬শে মার্চ এটির উন্নয়ন করা হয়। এটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওমিক্রনল্যাব। এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী ছিলেন মেহেদী হাসান খান।

সলঙ্গা দিবস: ২৭ শে জানুয়ারি

১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের ২৭ শে জানুয়ারি  তরুণ নেতা মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশের নেতৃত্বে তৎকালীন পাবনা জেলার সিরাজগঞ্জ মহকুমার সলঙ্গা হাটে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে। ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে ২৭ শে জানুয়ারি শুক্রবার ছিল বড়ো হাট। মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশের নেতৃত্বে অসহযোগ ও খেলাফত আন্দোলনের কর্মীরা বিলেতি পণ্য ক্রয় বিক্রয় বন্ধ করার জন্য হাটে নামে। আন্দোলনকারীদের দমনের জন্য ছুটে আসেন পাবনার জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আর. এন. দাস, জেলা পুলিশ সুপার ও সিরাজগঞ্জ মহকুমা প্রসাশক এসকে সিংহ-সহ ৪০ জন সশস্ত্র  পুলিশের একটি দল। তারা কংগ্রেস অফিস ঘেরাও দিয়ে মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশকে গ্রেফতার করে। সঙ্গে সঙ্গে জনতা  মিছিল বের করে। ম্যাজিষ্ট্রেট, জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার জন্য পুলিশকে গুলি চালানোর নির্দেশ দেয়। সেদিন ৪০টি রাইফেলের মধ্যে মাত্র একটি রাইফেল থেকে কোনো গুলি বের হয়নি। ওই রাইফেলটি ছিল একজন বাঙালী পুলিশের। ওই দিন প্রায় ১২০০ প্রতিবাদী মানুষ ব্রিটিশ পুলিশ বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারায়।  এই পৈশাচিক হত্যাকান্ডে হতাহতের সরকারি সংখ্যা ৪৫০০ দেখানো হলেও বেসরকারি মতে ১০০০০-এর অধিক বলে জানা যায়। প্রতিবছর ২৭ শে জানুয়ারি সেসব শহীদদের স্মরণ করে “সলংগা দিবস” পালিত হয়।

গ্রন্থাগার দিবস : ৫ই ফেব্রুয়ারি

প্রতি বছর ৫ই ফেব্রুয়ারি গ্রন্থাগার দিবস পালিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ শে অক্টোবর এই দিনটিকে ‘গ্রন্থাগার দিবস’ অনুমোদন করা হয়, অবশ্য প্রস্তাব ছিল ২২ শে মার্চ।। ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ৫ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় গ্রন্থাগারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। এ কারণে ৫ই ফেব্রুয়ারিকে জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। তৎসঙ্গে একুশে ফেব্রুয়ারির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দিবস পালনের জন্য ফেব্রুয়ারি মাস নির্ধারণ করা হয়।

সুন্দরবন দিবস: ১৪ই ফেব্রুয়ারি

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কার্যকর প্রচার ও জন সচেতনতা সৃষ্টি দিবসটি পালনের উদ্দেশ্য। ২০০১ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ই ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের আওতায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রূপান্তর ও পরশের উদ্যোগে এবং দেশের আরও ৭০টি পরিবেশবাদী সংগঠনের অংশগ্রহণে প্রথম জাতীয় সুন্দরবন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেই সম্মেলনে ১৪ই ফেব্রুয়ারিকে ‘সুন্দরবন দিবস’ ঘোষণা করা হয়। ২০০১ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের আওতায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়সহ ৭০টি পরিবেশবাদী সংগঠনের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় সুন্দরবন সম্মেলনে দিবসটিকে সুন্দরবন দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

বাংলাদেশের সকল জাতীয় দিবস/১

স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ সমগ্র : লিংক

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র

স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ : মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ও সেক্টর কমান্ডার

বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন এবং কেন লিখবেন

শুবাচ

শুদ্ধ বানান চর্চা/২

শুদ্ধ বানান চর্চা/৪

error: Content is protected !!