বাংলার নাসিক্য ধ্বনি ঙ ঞ ণ ন ম ং ঁ স্বরূপ বৈশিষ্ট উচ্চারণ

ড. মোহাম্মদ আমীন
 
 
বাম থেকে হায়াৎ মামুদ, ড. মোহাম্মদ আমীন ও অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।
 
 
নাসিক্য ধ্বনি ং অনুস্বার (ওনুশ্‌শার্)
  • চিহ্নটির নাম অনুস্বার উচ্চারণ ওনুশ্শার। এটি অনুস্বর নামেও পরিচিত।
  • অনুস্বার ং  অযোগবাহ বর্ণ।
  • অযোগবাহ বর্ণ হচ্ছে সেই বর্ণ যার সঙ্গে অন্যকোনো স্বর বা ব্যঞ্জনের যোগ কল্পিত হয়নি।
  • সংস্কৃত নিয়মে ম্-এর স্থলে অনুস্বার লেখা বিধেয়। যেমন: সম্‌+গীত= সমগীত; বিকল্পে সংগীত; অহম্‌+কার; বিকল্পে অহংকার।
  • স্বরান্ত না হলে ব্যঞ্জনের অন্তে  (অনুস্বার) উচ্চারণ করা যায় না। যেমন: রং, সং।
  • বর্ণের সঙ্গে স্বর যুক্ত না হলে ‘ঙ’ এবং ‘-ং’ (অনুস্বার/অনুস্বর)-এর ধ্বনি অভিন্ন। যেমন: রং= রঙ, ঢং= ঢঙ, সং=সঙ।
 ঃ বিসর্গ (বিশরগো)
  • /ঃ/ চিহ্নটির নাম বিসর্গ। উচ্চারণ: বিশর্‌গো।
  •  বিসর্গ (ঃ)   অযোগবাহ বর্ণ। 
  • অযোগবাহ বর্ণ হচ্ছে সেই বর্ণ যার সঙ্গে অন্যকোনো স্বর বা ব্যঞ্জনের যোগ কল্পিত হয়নি।
  • বিসর্গের (ঃ) নিজস্ব ধ্বনি বা উচ্চারণ স্থান নেই।
  •   (বিসর্গ) উচ্চারণে হ-এর অঘোষ ধ্বনির রূপ লাভ করে। তাই বিসর্গ অঘোষ বর্ণের অন্তর্ভুক্ত।
  • আবেগসূচক পদে ঃ (বিসর্গ) বর্ণের মতো উচ্চারিত হয়। যেমন: বাঃ বাহ্; উঃ উহ্‌; আঃ আহ্‌।
  • শব্দমধ্যস্থ ঃ (বিসর্গ) পরবর্তী ব্যঞ্জন উচ্চারণে দ্বিত্ব হয়। যেমন: দুঃসহ (দুস্‌সহো), অধঃপাত (অধোপ্‌পাত্‌)।
  • বিসর্গ র এবং স>শ ধ্বনিতে পরিবর্তিত হতে পারে বা সম্পূর্ণ অনুচ্চারিতও থাকতে পারে। যেমন: প্রাতঃআশ> প্রাতরাশ, মনঃচুক্ষু> মনশচক্ষু।
  • বিসর্গের নিজস্ব ধ্বনি বা উচ্চারণ স্থান নেই বলে যে  ধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয় তার উচ্চারণ স্থান গ্রহণ করে। 
 চন্দ্রবিন্দু উচ্চারণ: চন্‌দ্রোবিন্‌দু
  •  /ঁ/ চিহ্নটির নাম চন্দ্রবিন্দু। চন্দ্রের ওপর বিন্দু প্রতীকের ন্যায়। তাই তার এমন নাম।
  • ন্দ্রবিন্দু অনুনাসিক ধ্বনির প্রতীক।
  • এটি কেবল স্বরবর্ণ বা স্বরের সঙ্গে যুক্ত হয়। যেমন: চন্দ্র থেকে চাঁদ, অংশ থেকে আঁশ, বন্ধন থেকে বাঁধন।
  • চন্দ্রবিন্দু কখনো কখনো ‘ম্’‌‌-এর রূপও ধারণ করে। যমন: ওঁ> ওম।
  • সাধারণত নাসিক্য বর্ণের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত স্বরের ওপর চন্দ্রবিন্দু বসে।
  • তৎসম শব্দ নাসিক্য বর্ণ ছেড়ে অতৎসম হয়ে চন্দ্রবিন্দু নিয়ে বাংলায় আসে।
 

নাসিক্য ধ্বনি ঙ (উঁঅ)
 
  • বর্ণটির নাম ‘উঁঅ’।
  • বাংলা বর্ণমালার পঞ্চম  ব্যঞ্জনবর্ণ
  • ক-বর্গের নাসিক্য ধ্বনির দ্যোতক। ক-বর্গ: ক খ গ ঘ ঙ।
  • সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাকরণিকবিধি লঙ্ঘিত না হলে -এর স্থলে লেখা যায়।
  • বর্ণের সঙ্গে স্বর যুক্ত না হলে ‘ঙ’ এবং ‘-ং’ (অনুস্বার/অনুস্বর)-এর ধ্বনি অভিন্ন। অর্থাৎ উঁয়ো= অনুস্বার।
  • সন্ধিতে ম্‌-এর স্থানে – এর পরিবর্তে লেখা বিধেয়।
  • বাংলায় শব্দের প্রথমে -এর প্রয়োগ নেই।
নাপ্পি একটি বার্মিজ (মায়ানমার/মিয়ানমার) উৎসের শব্দ। শব্দটির বানান আগে লেখা হতো ঙাপ্পি। এখন লেখা হয় নাপ্পি। সুকুমার রায় লিখেছেন তাঁর বিখ্যাত ‘খাই খাই’ ছড়া কবিতায়—
 
“ব্যাঙ খায় ফরাসিরা (খেতে নয় মন্দ),
বার্মার ‘ঙাপ্পিতে’ বাপ্‌রে কি গন্ধ!”
 
 
 
 নাসিক্য ধ্বনি ঞ (ইঁঅ)
 
  • চিহ্নটির নাম ইঁঅ।
  • বাংলা বর্ণমালার দশম ব্যঞ্জনবর্ণ।
  • বর্ণটি চ-বর্গের নাসিক্য ধ্বনির দ্যোতক। চ-বর্গ: চ ছ জ ঝ ঞ।
  • স্বতন্ত্র বর্ণরূপে বর্ণের ধ্বনি অঁ-এর ধ্বনির মতো। যেমন: মিঞ (মিঅঁ), মিঞা (মিআঁ)।
  • বর্ণের সঙ্গে চ ছ জ অথবা যুক্ত হলে বর্ণের ধ্বনি দন্ত্য-ন বর্ণের ধ্বনির মতো হয়। যেমন: অঞ্চল (অন্‌চল); বাঞ্ছা (বান্‌ছা), অঞ্জন (অন্‌জন্), ঝঞ্ঝা (ঝন্‌ঝা)। 
  •  বর্ণের পরে যুক্ত হলেও বর্ণের ধ্বনি দন্ত্য-ন  বর্ণের ধ্বনির মতো হয়। যেমন: যাচ্ঞ (জাচ্না)।
  • বর্ণের পর যুক্ত হলে যুক্তবর্ণটির ধ্বনি শব্দের মধ্যে অবস্থানভেদে গঁ বা গ্‌গঁ/গ্যঁ চিহ্নের ধ্বনির মতো হয়। যেমন: জ্ঞান (গ্যাঁন), বিজ্ঞান (বিগ্‌গ্যান), দুর্জ্ঞেয় (দুর্‌গেঁয়ো) প্রভৃতি।

 

নাসিক্য ধ্বনি ণ (মুর্‌ধোন্‌নো ন)

  • চিহ্নটির নাম মূর্ধন্য-ণ বা মূর্ধন্য-ন। উচ্চারণ: মুর্‌ধোন্‌নো ন
  • বাংলা বর্ণমালার পঞ্চদশ ব্যঞ্জনবর্ণ।
  • বর্ণটি ট-বর্গের নাসিক্য ধ্বনির দ্যোতক। ট-বর্গ: ট ঠ ড ঢ ণ।
  • বাংলায় বর্ণের ‍উচ্চারণ দন্ত্য-ন বর্ণের উচ্চারণের মতো। উচ্চারণের ক্ষেত্রে ণ= ন।
  • বাংলায় সাধারণত তৎসম শব্দে ব্যবহৃত হয়।
  • ব্যতিক্রান্ত ক্ষেত্র ছাড়া অতৎসম শব্দে সাধারণত ণ-এর প্রয়োগ নেই।
  • তৎসম শব্দের বানানে কোথায় কখন ণ হবে তা ণত্ববিধি বা ণত্ববিধান দ্বারা নির্ধারিত।
  • অতৎসম শব্দে ণ-এর ব্যবহার ব্যতিক্রম বলে বিবেচিত হয়। 
  • বর্ণটি সাধারণত ট-বর্গের বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কণ্ঠ, গণ্ড প্রভৃতি।
  • ণত্ববিধান, ণত্ববিধি, ণিচ (সংস্কৃত প্রত্যয়বিশেষ), ণিজন্ত (ণিচ্‌ প্রত্যয়যুক্ত) প্রভৃতি ছাড়া বাংলায় শব্দের প্রথমে ণ-এর প্রয়োগ নেই। 
নাসিক্য ধ্বনি ন (দোন্‌তো ন)
 
  • চিহ্নটির নাম দন্ত্য-ন। উচ্চারণ— দোন্‌তো ন।
  • (দন্ত্য-ন) বাংলা বর্ণমালার বিংশ ব্যঞ্জনবর্ণ।
  • এটি দন্ত্যমূল থেকে উচ্চারিত ত-বর্গের নাসিক্য ধ্বনির দ্যোতক। ত-বর্গ:  ত থ দ ধ ন।
  • বাংলা বর্ণমালার সাতটি নাসিক্য ধ্বনির মধ্যে দন্ত্য-ন বহুল ব্যবহৃত। কারণ, এটি নেতিবাচক অর্থের অন্যতম বার্ণিক দ্যোতক।
  • ণত্ববিধি  এবং কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া বাংলার অধিকাংশ শব্দের বানানে ণ-এর স্থলে দন্ত্য-ন ব্যবহৃত হয়।
  • ত থ দ ধ বর্ণের সঙ্গে সাধারণত দন্ত্য-ন যুক্ত হয়। যেমন: দন্ত, পন্থা, নিন্দা, অন্ধকার প্রভৃতি।
  • বাংলায় -য়ে আ-কার  না বহুল ব্যবহৃত একক যুক্তব্যঞ্জন।

নাসিক্য ধ্বনি ম

  • বাংলা বর্ণমালার পঞ্চবিংশতি বর্ণ।
  • এটি প-বর্গের পঞ্চম বর্ণ। প-বর্গ: প ফ ব ভ ম।
  • এটি ঠোঁট ও নাকের সাহায্যে উচ্চার্য ঘোষ ও অল্পপ্রাণ  স্পৃষ্টধ্বনির দ্যোতক।
  • ম একটি বহুল প্রয়োগিত নাসিক্য ধ্বনি।
  • শব্দের বানানে ম-এর ব্যবহার নিয়ে সাধারণত কোনো ভুল হয় না। কারণ  ম-ধ্বনির অনুরূপ কোনো ধ্বনিচিহ্ন বাংলায় নেই।
  • ম-য়ে আক-কার মা বাংলায় বহুল ব্যবহৃত একটি একক যুক্তব্যঞ্জন।
শুবাচ গ্রুপের সংযোগ: www.draminbd.com
শুবাচ যযাতি/পোস্ট সংযোগ: http://subachbd.com/

আমি শুবাচ থেকে বলছি

— — — — — — — — — — — — — — — — —

প্রতিদিন খসড়া

আমাদের টেপাভুল: অনবধানতায়

— — — — — — — — — — — — — — — — —
Spelling and Pronunciation

HTTPS://DRAMINBD.COM/ENGLISH-PRONUNCIATION-AND-SPELLING-RULES-ইংরেজি-উচ্চারণ-ও-বান/

 

error: Content is protected !!