বাংলা উর্দু ও হিন্দি ভাষার জন্মকথা

আমি ‘ভাষার বংশ’ শীর্ষক লেখায় দেখিয়েছিলাম বাংলাসহ উপমহাদেশীয় বিভিন্ন ভাষা নব্য ভারতীয় আর্য ভাষার অন্তর্ভুক্ত। এর পরিপ্রেক্ষিতে কিছু প্রশ্নে উদ্ভব হয়েছে। সে কারণে আমার মনে হলো বিষয়টি নিয়ে একটু বিস্তারিত আলোচনা করা প্রয়োজন, তাই এই লেখা। এর মাধ্যমে বাংলাসহ হিন্দি ও উর্দু ভাষার উদ্ভব সম্পর্কে জানা যাবে, উপমহাদেশের অন্যান্য ভাষা সম্পর্কেও কিছুটা ধারণা পাওয়া যাবে এবং বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কেও জানা যাবে। এ লেখাটা পড়ার সময় ‘ভাষার বংশ’ শীর্ষক আমার যে লেখাটা গত ৩রা নভেম্বরে এখানে পোস্ট করা হয়েছে তা আর একবার দেখে নিলে বুঝতে সুবিধা হবে।
 
বস্তুত বাংলা, হিন্দি, উর্দু, গুজরাটি, উড়িয়া, অসমিয়া, রাজস্থানী ইত্যাদি সহ উপমহাদেশের প্রধানতম সব ভাষাই ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা থেকে উদ্ভূত ইন্দো-ইরানীয় শাখার উপশাখা ভারতীয় আর্য ভাষার সঙ্গে সম্পর্কিত। উপমহাদেশের সবকয়টি ভাষার উদ্ভবের ইতিহাস ও প্রক্রিয়া প্রায় একইরকমের। সবগুলো ভাষাতেই তৎসম, অর্ধ-তৎসম, তদ্ভব, দেশি, বিদেশি শব্দ রয়েছে।
 
ভাষার বংশ সম্পর্কে আলোচনার বলেছি, পৃথিবীর ভাষাসমূহ ইন্দো-ইউরোপীয়সহ ১২টি প্রাচীনতম আদি ভাষাবংশ থেকে জন্মলাভ করেছে। পরবর্তীকালে ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা থেকে ইন্দো-ইরানীয়সহ ১০টি প্রাচীন ভাষার উদ্ভব হয়। তৎপর ইন্দো-ইরানীয় শাখা দুটি উপশাখায় বিভক্ত হয়ে একটি যায় ইরানে, অন্যটি প্রায় সাড়ে তিন হাজার বছর আগে আসে উপমহাদেশে। এটাই ভারতীয় আর্য ভাষা। আর্য ভাষার সাড়ে তিন হাজার বছরের ইতিহাসকে তিনটি স্তর বা যুগে ভাগ করা হয়েছে। ১) প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষা ( খ্রিষ্টপূর্ব ১৫০০ হতে খ্রিষ্টপূর্ব ৬০০), এর পরবর্তী একটি রূপ হচ্ছে সংস্কৃত। ২) মধ্য ভারতীয় আর্য ভাষা ( খ্রিষ্টপূর্ব ৬০০ হতে খ্রিষ্টীয় ৮০০), এই কালের ভাষা হচ্ছে : পালি, প্রাকৃত, অপভ্রংশ। ৩) নব্য ভারতীয় আর্য ভাষা ( খ্রিষ্টীয় ৮০০ হতে আধুনিক কাল পর্যন্ত ), এই কালের ভাষা হচ্ছে : বাংলা, হিন্দি, উর্দু, অসমিয়া, উড়িয়া, গুজরাটি, রাজস্থানি ইত্যাদি।
 
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষার দুটি সাহিত্যিক রূপ ছিল। একটি প্রাচীনতর, যেটাতে খ্রিষ্টপূর্ব এগারো কি দশ শতকে ধর্মসাহিত্য ঋগ্বেদ রচিত হয়েছিল।প্রত্নতত্ত্ববিদদের লিখিত প্রবন্ধ সংকলনের বিশ্লেষণে জানা যায়, ঋগ্বেদের নানা সূক্ত একদা রচিত হয়েছিল একালের উত্তর-পূর্ব পাঞ্জাবে। কিছু-কিছু পণ্ডিত আরও সুনির্দিষ্ট করে পাঞ্জাবের আম্বালা জেলাকে নির্দেশ করেছেন।
 
প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষার অপেক্ষাকৃত নবীনতর রূপটি হচ্ছে, পাণিনি অনুশাসিত সংস্কৃত ভাষা। দীর্ঘকাল অতিবাহিত হওয়ায় আর্যভাষা নানাভাবে বিকৃত হচ্ছিলো। খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম বা চতুর্থ শতাব্দীতে পাণিনি আটটি অধ্যায়ে বিভক্ত ‘অষ্টাধ্যায়ী’ নামে ব্যাকরণ রচনা করে ভাষার সংস্কার করেন। সংস্কারের মাধ্যমে সৃষ্ট বলেই একে সংস্কৃত বলা হয়েছে। অষ্টাধ্যায়ী ব্যাকরণে চার হাজার সূত্র রয়েছে, যার মধ্যে পাণিনি আড়াই হাজার সূত্রের রচয়িতা। পরবর্তীকালে কাত্যায়ন আরও দেড় হাজার সূত্র যুক্ত করেন। এরপর নতুনভাবে প্রয়োজন দেখা দেওয়ায় খ্রিষ্টপূর্ব দ্বিতীয় শতকে পতঞ্জলি রচনা করেন নতুন আর একটি সংস্কৃত ব্যাকরণ।
 
সংস্কৃত ভাষা ব্যাকরণের অতিরিক্ত বিধি-বিধানে এভাবে বাঁধা পড়ায় এর বিবর্তন বন্ধ হয়ে যায়, ভাষাটি কৃত্রিম হয়ে যায় এবং লোকমুখে এর সেভাবে চর্চা হয় নি। আর্য বা সংস্কৃত ভাষার যে সাধারণরূপ মৌখিক কথাবার্তায় ব্যবহৃত হচ্ছিলো তা বিভিন্ন অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষার সঙ্গে মিশ্রিত হয়ে একসময় শিথিল ও সরল হয়ে বিভিন্ন আঞ্চলিক রূপ ধারণ করে। এ প্রসঙ্গে ড. নিহার রঞ্জন রায় বলেছেন, ‘অস্ট্রিক, দ্রাবিড় ও বেদ-বহির্ভূত আর্য ভাষা-প্রবাহের উপর তরঙ্গের পর তরঙ্গ আসিয়া ভাঙ্গিয়া পড়িল বৈদিক আর্য ভাষার প্রবাহের প্রবল স্রোত। একদিনে নয়, দু’ দশ বৎসরে নয়, শত শত বৎসর ধরিয়া এবং কালে কালে ক্রমে ক্রমে এই ভাষা সমস্ত পূর্বতন ভাষা-প্রবাহকে আত্মসাৎ করিয়া তাহাদের সংস্কৃতিকরণ সাধন করিয়া নিজের এক স্বতন্ত্র রূপ গড়িয়া তুলিল।’ এভাবে মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন অঞ্চলে যে বিভিন্ন ধরনের ভাষার উদ্ভব হয় তাকে বলা হয়েছে, প্রাকৃত ভাষা। এগুলোর প্রকৃতি বা মূল সংস্কৃত তাই এদেরকে প্রাকৃত ভাষা বলা হয়; অথবা প্রকৃতি অর্থ সাধারণ জনগণ, অর্থাৎ প্রাকৃত অর্থ প্রাকৃতজনের ভাষা। অবশ্য এই প্রাকৃত ভাষার প্রথম স্তরে মধ্য বিহারের মগধ অঞ্চলের মানুষের মুখের ভাষা থেকে উদ্ভূত পালি ভাষা অনেকটা সর্ব ভারতীয় রূপ নিয়েছিল। পালি একটা সাহিত্যিক ভাষা ছিল। গৌতম বুদ্ধ তাঁর জ্ঞানের আলো ধনী-নির্ধন সকল শ্রেণির মাঝে পালি ভাষায় বিতরণ করতেন। প্রাচীন বৌদ্ধ শাস্ত্রগুলো পালি ভাষায় রচিত হয়। পালি হচ্ছে, মধ্য ভারতীয় আর্য ভাষার প্রথম রূপ। অবশ্য অনেক সাহিত্য কর্ম থাকা সত্ত্বেও পরবর্তীকালে পালি মৃত ভাষায় পরিণত হয়।
 
আসলে সময়ের সাথে-সাথে আর্যরা অনেক বেশি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ায় অনেক বেশি হারে ভিন্ন-ভিন্ন স্থানীয় ভাষার সংস্পর্শে আসায় ভিন্ন-ভিন্ন আঞ্চলিক প্রাকৃত ভাষার উদ্ভব হয়। যেমন : শৌরসেনী, মহারাষ্ট্রী, পৈশাচী, মাগধী, অর্ধ-মাগধী, গৌড়ীয় ইত্যাদি। পরবর্তিতে স্থানীয় বাসিন্দা ও আর্যদের ধর্মীয় বিশ্বাস সমন্বিত হওয়াসহ বিভিন্ন কারণে এবং স্বাভাবিক বিবর্তনের ফলে সাধারণের কথ্য প্রাকৃত ভাষা পরিবর্তিত হয়ে অপভ্রংশের জন্ম হতে থাকে। অপভ্রংশ কথাটি পতঞ্জলি প্রথম ব্যবহার করেন। পতঞ্জলির মতে সংস্কৃত হচ্ছে শাস্ত্রবানদের ভাষা, আর অপভ্রংশ হচ্ছে শাস্ত্রহীনদের অসুদ্ধ ভাষা। অপভ্রংশ হচ্ছে মধ্য ভারতীয় আর্যভাষার শেষ স্তর। আমাদের এঅঞ্চলে চতুর্থ-পঞ্চম শতকে গুপ্তবংশের শাসন, পৌরাণিক ব্রাহ্মণ্য ধর্মের অভ্যুত্থান ও প্রসার তথা আধুনিক হিন্দু ধর্মের উদ্ভব, ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে সংস্কৃতির প্রভাব, স্বাভাবিক বিবর্তন ইত্যাদি বহুবিধ কারণ রয়েছে অপভ্রংশের উদ্ভবের । পরে একসময় এসব বিষয় বিস্তারিত আলোচনা করা যাবে। উদ্ভব হওয়ার পর মোটামুটি অষ্টম হতে বার শতাব্দী হচ্ছে অপভ্রংশের স্থিতিকাল।
 
সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় গবেষণা করে দেখিয়েছেন মধ্য ভারতীয় আর্যভাষার একটি রূপ মাগধী প্রাকৃত হতে জন্ম নেয় মাগধী অপভ্রংশ–অবহটঠ, আর মাগধী অপভ্রংশ হতে সৃষ্টি হয়েছে প্রাচীন বাংলা ভাষা। অন্যদিকে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর গবেষণায় দেখা যায়, মাগধী প্রাকৃতের সমসাময়িককালে গৌড়ীয় প্রাকৃত নামে আর একটি প্রাকৃত ভাষার উদ্ভব হয়েছিল। গৌড়ীয় প্রাকৃতের পরবর্তী স্তর গৌড়ীয় অপভ্রংশ, আর তার থেকে প্রাচীন বাংলা ভাষার উৎপত্তি। এই দুই বিজ্ঞজনের উভয়েরই বক্তব্যে যথেষ্ট যুক্তি রয়েছে। পরে একসময় তা নিয়ে আলোচনা করা যাবে।
অষ্টম শতকের মাঝামাঝি পালবংশের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়। তারা ছিলেন বৌদ্ধ এবং তাদের শাসন প্রায় চার শ’ বছর অব্যাহত ছিল। তাদের শাসনামলে সংস্কৃতির চাপ কমে যায় এবং অপভ্রংশ নিজ গতিতে চলতে গিয়ে পরিবর্তিত হতে-হতে প্রাচীন বাংলা ভাষার জন্ম দিতে থাকে। যা হচ্ছে নব্য ভারতীয় আর্য ভাষার প্রথম পর্যায়।
 
যাহোক বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশের কালের সরলাকৃত হিসাব হচ্ছে : খ্রিষ্টীয় চতুর্থ-পঞ্চম শতকে গুপ্ত সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠার পূর্ব পর্যন্ত প্রাকৃতের সৃষ্টি, গুপ্তযুগে প্রাকৃত হতে অপভ্রংশের সৃষ্টি এবং পালযুগে অপভ্রংশ হতে প্রাচীন বাংলা ভাষার সৃষ্টি।
 
সিদ্ধাচার্যগণ প্রাচীন বাংলা ভাষায় চর্যাপদ রচনা করেন। চর্যাপদ হচ্ছে, বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন বা আদি উৎস। বাংলা ভাষা সৃষ্টিতে বিভিন্ন রাজক্ষমতা, ধর্ম ইত্যাদির ভূমিকার যে ইতিহাস রয়েছে সে সম্পর্কে পরে একসময়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যাবে। মনে রাখতে হয়ে, ভাষা ও সংস্কৃতি গঠনে ও পরিবর্তনে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর এক বিশাল ভৃমিকা থাকে। যেমন একই রাষ্ট্র কাঠামোর অধীনে থাকলে অসমিয়া, উড়িয়া ও বাংলা ভাষা পৃথক হতো না, কারণ একই উৎস থেকে এ ভাষাগুলোর উৎপত্তি। তারা সবাই চর্যাপদকে নিজেদের আদি ভাষা বলে দাবি করে।
কালগত দিক দিয়ে বাংলা ভাষার তিনটি স্তর দেখতে পাওয়া যায়। ক) আদি যুগের বাংলা ভাষা– যেটা চর্যাপদের যুগ হতে শুরু হয়। খ) মধ্যযুগীয় বাংলা ভাষা– যার কাল ছিল পঞ্চদশ হতে অষ্টাদশ শতাব্দী পর্যন্ত বাংলার স্বাধীন সুলতানদের আমলে। গ) আধুনিক যুগের বাংলা ভাষা– যা পর্তুগিজ-ইংরেজ আমলে শুরু হয়। মাঝখানে বেশ কিছু অন্ধকার যুগ রয়েছে। এসব বিভিন্ন স্তরে ও যুগে বাংলা ভাষা কীভাবে বিবর্তিত হয়ে আজকের স্তরে পৌঁছেছে সে সম্পর্কে পরে বিস্তারিত আলোচনা করার আশা রাখি।
 
এখন আমরা হিন্দি ও উর্দু ভাষার দিকে দৃষ্টি দিব। বাংলা যেমন মাগধী বা গৌড়ীয় প্রাকৃতের অপভ্রংশ থেকে জন্মলাভ করেছে, হিন্দি এবং উর্দুও তেমনি শৌরসেনী প্রাকৃতের অপভ্রংশের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে ইতিহাসটা একটু অন্যরকম। শৌরসেনী অপভ্রংশ থেকে যেভাষা জন্ম নেয় এবং যা দিল্লী ও তার আশেপাশে প্রচলিত ছিল তার নাম খাড়িবুলি ভাষা। অন্যকথায় শৌরসেনী অপভ্রংশের স্থানীয় রূপ ছিল খাড়িবুলি। ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের কারণে আসা-যাওয়া থাকায় এবং পরে রাষ্ট্র ক্ষমতায় বার শতক থেকে প্রথমে তুর্কিভাষীরা পরে ফারসিভাষীরা আসার ফলে এবং স্থানীয় খাড়িবুলি ভাষাকে তারা স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করার ফলে খাড়িবুলি ভাষার সঙ্গে তুর্কি, আরবি, ফারসি শব্দের ব্যাপক মিশ্রণ ঘটতে থাকে। এর মাধ্যমে খাড়িবুলি ভাষা অনেকটা পরিবর্তিত হয়ে যায়। এটাকে হিন্দুস্তানি ভাষা বলা হতো। বিভিন্ন অঞ্চলের সৈন্যরা খাড়িবুলি বা হিন্দুস্তনি ভাষায় কথা বলত। এতে এভাষার অনেক বেশি বিস্তৃতি ঘটে। বিস্তারিত আলোচনা এখানে সম্ভব নয়। উর্দু শব্দটি তুর্কি ওর্দু শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ শিবির বা ক্যাম্প। সম্রাট শাহজাহানের সেনানিবাসের নাম ছিল, উর্দু-এ-মুআল্লা। তিনি সৈন্যদের ব্যবহৃত এভাষার নাম করেন উর্দু। বাস্তবে এটা খাড়িবুলি ভাষারই একটা মার্জিত রূপ।
 
আক্ষরিক অর্থে উর্দু ও হিন্দি দুটিই সংস্কৃতির অপভ্রংশ খাড়িবুলি ভাষার দুইটি রূপ। ফারসি-আরবি প্রভাবিত রূপটি হচ্ছে উর্দু। যা লিখতে আরবি হরফ গ্রহণ করা হয়। আর সংস্কৃতবহুল দেবনাগরী লিপিতে লিখলে হয় হিন্দি। হিন্দি শব্দটি ফারসি ছেন্দু বা ছিন্দু থেকে উদ্ভূত হয়েছে।
প্রতীয়মান হয় যে, ফারসি প্রভাবিত আরবি হরফে লিখিত হিন্দুস্তানি ভাষা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে দেবনাগরী লিপিতে লিখিত হিন্দুস্তানি তথা হিন্দি ভাষা বেশি জনপ্রিয় ছিল। তবে ঠিক কবে থেকে দেবনাগরী লিপিতে লিখা শুরু হয় তা গবেষণার দাবি রাখে। সেসময় উর্দু ভাষাকে হিন্দি থেকে পৃথক ভাষা হিসেবে বিবেচনা করা হতো না। এক ভাষাই মনে করা হতো। ( এখনো আন্তর্জাতিকভাবে এক ভাষাই গণ্য করা হয় )। উভয় ভাষাতেই সাহিত্য কর্ম ছিল। তবে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা উর্দুর প্রতি বেশি থাকায় হিন্দি পৃথকভাবে খুব বেশি আগাতে পারেনি।
 
ইংরেজ আমলে ১৯শতকে হিন্দির খাড়িবুলির আঞ্চলিক রূপকে প্রমিত হিন্দি হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য হিন্দিভাষী বুদ্ধিজীবীরা প্রচারণা ও প্রচেষ্টা চালাতে থাকে। সে অনেক ইতিহাস। এরফলে ১৮৮১ সালে হিন্দি বিহার প্রদেশের সরকারি ভাষার মর্যাদা পায়। এভাবেই প্রমিত উর্দু থেকে প্রমিত হিন্দি পৃথক হয়ে দুটি পৃথক ভাষার স্বীকৃতি লাভ করে। এই সময় থেকেই হিন্দি কাব্য সঙ্গীত ইত্যাদিতে ক্রমাগত সমৃদ্ধ হয়ে উঠছে।
উপরোক্ত পর্যালোচনা থেকে এটা সুস্পষ্ট যে, উপমহাদেশের প্রচলিত সবগুলো ভাষার মধ্যে বাংলা হচ্ছে সবচেয়ে বেশি প্রাচীন, সবচেয়ে বেশি সমৃদ্ধ ও ঐতিহ্যমণ্ডিত, এবং সবচেয়ে বেশি সাহিত্যকর্মের ভাষা। তাছাড়া হিন্দির উপভাষাসমূহ এবং উর্দু বাদ দিলে বাংলা ভাষার লোকসংখ্যাও হিন্দির থেকে অনেক বেশি।
 
বি. দ্র. ভাষার উদ্ভব ও বিকাশ নিয়ে অনেক মতপার্থক্য রয়েছে। যতটা সম্ভব বিরোধ এড়াতে চেষ্টা করেছি। তথাপি কেউ-কেউ একমত নাও হতে পারেন।
 
https://draminbd.com/বাংলা-উর্দু-ও-হিন্দি-ভাষা/
 
 
error: Content is protected !!