বাংলা একাডেমির গ্যাঁড়াকলে প্রমিত বাংলা বানান (পর্ব ১ ২ ৬ ৯ ১০ ১১)

বাংলা একাডেমির গ্যাঁড়াকলে প্রমিত বাংলা বানান (পর্ব ১ ২ ৬ ৯ ১০ ১১)

বাংলা একাডেমির গ্যাঁড়াকলে প্রমিত বাংলা বানান/

বাংলা একাডেমির প্রতারণা

‘বাংলা একাডেমি বাংলা বানান অভিধান’ বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত একটি বই। বইটির কভার পেজে লেখা : “বাংলা একাডেমি বাংলা বানান অভিধান”, কিন্তু টাইটেল পেজ ও প্রিন্টার্স লাইনে লেখা : “বাংলা একাডেমী বাংলা বানান অভিধান।” ভূমিকা ও প্রসঙ্গ কথায় কেউ লিখেছেন একাডেমি আবার কেউ লিখেছেন একাডেমী। আমজনতা কী লিখবে? প্রসঙ্গত, এই বইটার সম্পাদক জামিল চৌধুরী, যিনি “বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অবিধান”-এর সম্পাদক। তাঁরা যদি এত ভুল করতে পারেন আমি একটা ভুল করতে পারব না কেন। তাই করলাম। অভিধান- এর মতো গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ রচনায় ‘বাংলা একাডেমি’র মতো একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠানের এমন দায়সারা কাজ আমাদের সামগ্রিক চরিত্রের প্রতিফলন বললে কি অত্যুক্তি হবে?

 বাংলা একাডেমির গ্যাঁড়াকলে প্রমিত বাংলা বানান/২

নিচ নীচ বনাম নিচ নিচে

‘নীচ’ আর ‘নিচ’ শব্দকে অনেকে অভিন্নার্থক মনে করেন। প্রকৃতপক্ষে শব্দ-দুটো ভিন্নার্থক। ‘নিচ’ শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ (under)। স্থান-জ্ঞাপক এই (নিচ) শব্দটি ‘উর্ধ্ব/ ঊর্ধ্ব’ শব্দের বিপরীত তথা ‘নিম্ন’ অর্থ প্রকাশে ব্যবহৃত হয়। যেমন— (১) ভবনের নিচে লাশের স্তূপ। (২) জাফর সাহেব আমাদের নিচ তলায় থাকেন।(৩) নিচু ক্লাশের শিক্ষার্থীরা দুষ্টোমিতে ওস্তাদ। (৪) পাহাড়ের নিচে শীতল জল, আনতে হবে নিচে চল। অন্যদিকে ‘নীচ’ শব্দটি হীন, ইতর, নিকৃষ্ট, অবহেলা, অবজ্ঞা ইত্যাদি অর্থ প্রকাশে ব্যবহৃত হয়। যেমন— (১) সন্তান হয়ে মায়ের গায়ে হাত তুললে, তুমি এত নীচ! (৩) নীচু জাত বলতে কিছু নেই, নীচ কর্মই মানুষকে উঁচু-নীচু করে।(৩) নিচ তলায় থাকা মানে নীচ তলায় থাকা নয়। সবচেয়ে ভয়ানক কথা হচ্ছে, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানে ‘নিচ’ শব্দটি রাখা হয়নি। অথচ এটি একটি বহুল প্রচলিত বাংলা শব্দ।বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানে ‘নিচ’ বলে কোনো শব্দ নেই— তাই বলে আমরা কি কেউ ‘নিচে’ লিখতে পারব না। আমাদের কি কেবল ‘নিম্নে’ লিখতে হবে?

বাংলা একাডেমির গ্যাঁড়াকলে প্রমিত বাংলা বানান/৬

বিমা না কি বীমা

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানের (পরিবর্ধিত পরিমার্জিত সংস্করণের চতুর্থ পুনর্মুদ্রণ: ডিসেম্বর ২০১৮৯৮২ পৃষ্ঠায় ‘বিমা’ ভুক্তিতে লেখা হয়েছে, বিমা ফারসি উৎসের শব্দ। বিদেশি উৎসের শব্দের বানানে সাধারণত দীর্ঘ ঈ-কার হয় না। তাই বিমা বানান লেখা হয়েছে হ্রস্ব ই-কার দিয়ে বিমা। ভালো কথা, কিন্তু একই অভিধানের ৫০৫-৫০৬ পৃষ্ঠায় জরিপ ভুক্তিতে একই অর্থোৎসের বিমা বানান লেখা হয়েছে ঈ-কার দিয়ে বীমা। কিছুদিন আগে এই একাডেমির মহাপরিচালক শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন অসংগত শব্দ দিয়ে। এরূপ আরও অনেক শব্দ আছে, যা একই অভিধানের ভিন্নস্থানে ভিন্ন বানানে লেখা হয়েছে। শুধু তাই নয়, একই শব্দের বানান ভিন্ন অভিধানে ভিন্ন বানানে রেখে দেওয়া হয়েছে। প্রমিত বাংলা বানানের নামে বাংলা একাডেমি নামের প্রতিষ্ঠানটির এমন অসংগত কার্যক্রম ও অজ্ঞতা রীতিমতো ভাষা ও ভাষাভাষীর প্রতি যথেচ্ছাচার । এসব কারণে প্রতিষ্ঠানটির গ্রহণযোগ্যতা শূন্যের নিচে নেমে গেছে। উদ্দেশ্যের সঙ্গে কর্মসংগতি বিবেচনায় এমন অকার্যকর প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে আর নেই।

বাংলা একাডেমির গ্যাঁড়াকলে প্রমিত বাংলা বানান/৯

বালবাচ্চা বাল আসলে কোন বাল?

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান মতে, হিন্দি উৎসের বাল এবং ফারসি উৎসের বাচ্চা নিয়ে গঠিত বালবাচ্চা(বাল+বাচ্চাশব্দের অর্থ (বিশেষ্যে) ছোটো ছেলেমেয়ে। বিদেশি উৎসের শব্দের মিলনে জন্ম নেওয়ায় বালবাচ্চা (উচ্চারণ: বাল্‌বাচ্‌চা) অতৎসম শব্দ। বালবাচ্চা শব্দের গঠনে বিদ্যমান বাল শব্দটিকে হিন্দি উল্লেখ করা হলেও বর্ণিত অভিধানে শিশু-কিশোর কিংবা অন্য কোনো অর্থে বাল বানানের কোনো হিন্দি শব্দ নেই। আছে একটি তৎসম বা সংস্কৃত বাল। ওই অভিধান মতে, তৎসম/সংস্কৃত বাল(বল্‌+অর্থ (বিশেষ্যে) বালক, শিশুকিশোর। প্রসঙ্গত, বালবাচ্চার বাল শব্দের সঙ্গে তৎসম বাল শব্দের অর্থ অভিন্ন।

সংস্কৃত বাল শব্দের সঙ্গে সংস্কৃত কাণ্ড কৃষ্ণ ক্রীড়া গর্ভিণী গোপাল চর্যা চাপল্য বিধবা বৈধব্য ভোগ ভোগ্য রোগ শশী সুলভ সূর্য প্রভৃতি যুক্ত হয়ে গঠন করেছে যথাক্রমে বালকাণ্ড বালকৃষ্ণ বালক্রীড়া বালগর্ভিণী বালগোপাল বালচর্যা বালচাপল্য বালবিধবা বালবৈধব্য বালভোগ বালভোগ্য বালরোগ বালশশী বালসুলভ বালসূর্য প্রভৃতি তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ। এতগুলো শব্দের সঙ্গে সংস্কৃত বাল যুক্ত করা হলেও বালবাচ্চা শব্দে কেন হিন্দি বাল দেখানো হলো তা বোধগম্য নয়। অভিধানে তো হিন্দি বালের কোনো অস্তিত্ব দেখলাম না! এ অবস্থায়, বালাবাচ্চা শব্দের বানানে হুট করে হিন্দি বাল কোত্থেকে চলে এলো? সংস্কৃতে কি বালের অভাব? বালবাচ্চা বানানের বাল শব্দকে অভিধানে হিন্দি বলা হয়েছে কেন? এটা কি মুদ্রণপ্রমাদ? যদি মুদ্রণপ্রমাদ হয়ে থাকে তাহলে পাঁচ বছরেও ঠিক করা হয়নি কেন? নাকি ফারসি ‘বাচ্চা’র সঙ্গে মিলিত হয়েছে বলে অলৌকিক মহিমায় অভিধানের বাইর হতে হিন্দি বাল নিয়ে আসা হয়েছে? হিন্দিতেবালশব্দের অর্থ: চুল। সেক্ষেত্রেবালবাচ্চাশব্দের অর্থ হয়ে যায়: বাচ্চার চুল। কী জবাব দেবেন বাংলা একাডেমি?

যুক্ত: হিন্দিতে বাল শব্দের দুটি অর্থ। একটি অর্থ চুল এবং আরেকটি অর্থ শিশু। সম্ভবত হিন্দি শিশু অর্থদ্যোতক বাল শব্দটি ফারসি বাচ্চা শব্দের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। কারণ কথিত উঁচু শ্রেণির সংস্কৃত বাল অতৎসম (ফারসি) বাচ্চার সঙ্গে যুক্ত করলে চলে যাবে না! কত সস্তা সংস্কৃতের জাত।

বাংলা একাডেমির গ্যাঁড়াকলে প্রমিত বাংলা বানান/১০

বাংলা একাডেমি, বাংলা একাডেমির বই ও বাংলা বানান

কয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া বাংলা একাডেমি প্রকাশিত সব বই নিম্নমানের— ভুলে ভরা এবং সাংঘর্ষিক। বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান পূর্ণাঙ্গ অভিধান প্রকাশ করেনি। তাই পাঠক একাডেমি প্রকাশিত অভিধান কিনতে বাধ্য হয়। নইলে তাও কিনত না। অধুনা অনেক শব্দের বানান পরিবর্তন হয়েছে। তবু পুরানো বানানের অভিধানগুলো বাজার থেকে সরিয়ে ফেলা হয়নি। বরং ছাপিয়ে যাচ্ছে। পুরানো কভার সরিয়ে প্রচ্ছদ-টাইমলাইনে নতুন তারিখ লাগিয়ে আগে ছাপানো অভিধানকে নতুন বলে বাজারে ছাড়া হচ্ছে। একাডেমির এমন অবিবেচনাপ্রসূত আচরণ বানান জটিলতার প্রধান কারণ। একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠানের এত অজ্ঞতা মেনে নেওয়া যায় না। বাংলা একাডেমি এখন প্রমিত বানান প্রতিষ্ঠার নামে বাংলা বানানে জটিলতা সৃষ্টির কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির আমূল সংস্কার প্রয়োজন। মাসে মাসে বেতনভাতাদি উত্তোলন, কিছু অযোগ্যকে যোগ্য করার হীন উদ্দেশ্যে পুরস্কার নামক কলঙ্ক লেপন, নিম্নমানের বই-প্রকাশ ও বিক্রি এবং প্রকাশকদের সাহায্যে বছরে একটি বইমেলা করা ছাড়া আর কোনো কাজ তারা করে না। তো এই কাজের জন্য এত বিশাল আয়তনের এলাকা এবং এতগুলো ভবন কী প্রয়োজন? নয়শ উননব্বই বর্গফুটের একটি কামরাই তো যথেষ্ট।

বাংলা একাডেমির গ্যাঁড়াকলে প্রমিত বাংলা বানান/১১

বাংলা একাডেমি, বাংলা একাডেমির বই বাংলা বানান

কয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া বাংলা একাডেমি প্রকাশিত সব বই নিম্নমানের— ভুলে ভরা এবং সাংঘর্ষিক। বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান পূর্ণাঙ্গ অভিধান প্রকাশ করেনি। তাই পাঠক একাডেমি প্রকাশিত অভিধান কিনতে বাধ্য হয়। নইলে তাও কিনত না। অধুনা অনেক শব্দের বানান পরিবর্তন হয়েছে। তবু পুরানো বানানের অভিধানগুলো বাজার থেকে সরিয়ে ফেলা হয়নি। বরং ছাপিয়ে যাচ্ছে। পুরানো কভার সরিয়ে প্রচ্ছদ-টাইমলাইনে নতুন তারিখ লাগিয়ে আগে ছাপানো অভিধানকে নতুন বলে বাজারে ছাড়া হচ্ছে। একাডেমির এমন অবিবেচনাপ্রসূত আচরণ বানান জটিলতার প্রধান কারণ। একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠানের এত অজ্ঞতা মেনে নেওয়া যায় না। বাংলা একাডেমি এখন প্রমিত বানান প্রতিষ্ঠার নামে বাংলা বানানে জটিলতা সৃষ্টির কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির আমূল সংস্কার প্রয়োজন। মাসে মাসে বেতনভাতাদি উত্তোলন, কিছু অযোগ্যকে যোগ্য করার হীন উদ্দেশ্যে পুরস্কার নামক কলঙ্ক লেপন, নিম্নমানের বই-প্রকাশ ও বিক্রি এবং প্রকাশকদের সাহায্যে বছরে একটি বইমেলা করা ছাড়া আর কোনো কাজ তারা করে না। তো এই কাজের জন্য এত বিশাল আয়তনের এলাকা এবং এতগুলো ভবন কী প্রয়োজন? নয়শ উননব্বই বর্গফুটের একটি কামরাই তো যথেষ্ট।

বাংলা একাডেমির গ্যাঁড়াকলে প্রমিত বাংলা বানান/৩

বাংলা একাডেমির গ্যাঁড়াকলে প্রমিত বাংলা বানান/৭

#গ্যাঁড়াকলে_প্রমিত_বাংলা_বানান
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভুলে ভুলে সয়লাব: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ও রেজিস্ট্রারের বাংলা বানান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভুল আর ভুল

You cannot copy content of this page

poodleköpek ilanlarıankara gülüş tasarımıantika alanlarPlak alanlarantika eşya alanlarAntika mobilya alanlarAntika alan yerler
Casibomataşehir escortjojobetbetturkey