বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান: কষ্টিপাথরে যাচাই: বাংলা একাডেমির অভিধান: গ্রহণযোগ্যতা, ভুল মুদ্রণপ্রমাদ সাংঘর্ষিকতা

 
খুরশেদ আহমেদ
 
 
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান_১
 
১.১। বাংলা শব্দের প্রমিত বানানের প্রশ্নে—এবং, সাধারণভাবে, শৈলীগত শৃঙ্খলাপরায়ণতা ও তথ্যগত সঠিকতার প্রশ্নে—বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান কতটুকু নির্ভুল, নির্ভরযোগ্য ও আদর্শস্থানীয়?
১.২। বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সকল শব্দের প্রমিত বানানের জন্য বাংলাদেশে এখনও আকর রেফারেন্স বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম [পরিমার্জিত সংস্করণ ২০১২]।
১.৩। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান [প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২০১৬; পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত সংস্করণ: এপ্রিল ২০১৬] তার মুখবন্ধে আমাদেরকে আশান্বিত করে বলেছে, “এই অভিধানে ২০১২ সালে প্রকাশিত ‘বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম’ অনুসরণ করা হয়েছে।”
১.৪। এ-পোস্টে এবং পরবর্তী পোস্টগুলোতে আমরা ক্রমান্বয়ে দেখব অভিধানটি সে-নিয়ম আসলেই কতটুকু অনুসরণ করেছে।
১.৫। বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়মের সঙ্গে বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানে অন্তর্ভুক্ত শব্দের বানানের যখন সাযুজ্য থাকে, তখন সংশ্লিষ্ট বানানের বৈধতা, শুদ্ধতা ও প্রমিত রূপ সম্পর্কে আমরা সবাই নিশ্চিত ও নিশ্চিন্ত হই; কিন্ত যখন সেখানে বৈপরীত্য বা বিচ্যুতি দেখা যায়, তখন অভিধানে-উপস্থাপিত বানানরূপের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, আমরা হতাশ ও ক্ষুব্ধ হই।
১.৬। বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম ২০১২ কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিকল্পহীন বানান রেখেছে, আবার অন্য কোনো কোনো ক্ষেত্রে বানানের বিকল্প রূপেরও সুযোগ রেখেছে;
যেমন:
নিয়ম ১.৫-এ “… ঈ-কারের ব্যবহারও চলতে পারে”,
নিয়ম ২.৩-এ “… ও-কার দিয়েও লেখা যেতে পারে”,
নিয়ম ২.৬-এ “… বিকল্পে ‘য’ লেখা যেতে পারে”,
ইত্যাদি পরামর্শ ও দুটি বিকল্প প্রমিত রূপ থেকে যে-কোনোটি বাছাই করার ও ব্যবহার করার নিয়মসিদ্ধ কিছু ঐচ্ছিক সুযোগ।
১.৭। বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম যেখানে বিকল্প বানানের সুযোগ রেখেছে, সেখানে দুটি বিকল্পই বৈধ ও প্রমিত; একজন ভাষাব্যবহারকারী তাঁর পছন্দমতো রূপটি বেছে নেবেন কোনো বৈষম্যের শিকার না-হয়ে, বা বৈষম্যের ভয় না-করে, সে-সুযোগ ও সে-অধিকার তাঁর আছে।
১.৮। এ-অবস্থায়, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানান-এর নিয়ম-সমর্থিত দুটি বিকল্প বানান রূপ থেকে একটি রূপকে অভিধানে অন্তর্ভুক্ত করা এবং অন্য রূপকে অন্তর্ভুক্ত না-করা প্রকৃতপক্ষে প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম-এর অনুসরণ ও প্রতিপালন নয়, বরং নিয়মের সামগ্রিক ব্যাপ্তিকে অননুমোদিতভাবে ক্ষুদ্রতর গণ্ডিতে সীমিতকরণ, যা একদেশদর্শী ও পক্ষপাতদুষ্ট, সুতরাং অনুচিত ও অগ্রহণযোগ্য।
১.৯। আসুন, দেখি বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম-সমর্থিত ‘মন্ত্রিপরিষদ’ ও ‘মন্ত্রীপরিষদ’ এবং ‘মন্ত্রিসভা’ ও ‘মন্ত্রীসভা’ বানানরূপগুলোকে বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান কীভাবে গ্রহণ বা বর্জন করেছে।
ক) বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম ১.৫ বলেছে:
“সংস্কৃত ইন্-প্রত্যয়ান্ত শব্দের দীর্ঘ ঈ-কারান্ত রূপ সমাসবদ্ধ হলে সংস্কৃত ব্যাকরণের নিয়ম-অনুযায়ী সেগুলিতে হ্রস্ব ই-কার হয়। যেমন :
গুণী→ গুণিজন, প্রাণী→ প্রাণিবিদ্যা, মন্ত্রী→ মন্ত্রিপরিষদ ।
তবে এগুলির সমাসবদ্ধ রূপে ঈ-কারের ব্যবহারও চলতে পারে । যেমন :
গুণী→ গুণীজন, প্রাণী→ প্রাণীবিদ্যা, মন্ত্রী→ মন্ত্রীপরিষদ ।“
খ) বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান যদিও বলেছে অভিধানটি ‘বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম’ অনুসরণ করেছে, এবং, যদিও প্রমিত নিয়মে ‘মন্ত্রিপরিষদ’ ও ‘মন্ত্রীপরিষদ’ দুটো রূপই অনুমোদিত, তা সত্ত্বেও অভিধানটি কেবল হ্রস্ব ই-কারযুক্ত ‘মন্ত্রিপরিষদ’ রূপটিই অভিধানে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
একই পক্ষপাতিত্বে, অভিধানটি ভুক্তি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে কেবল হ্রস্ব ই-কারযুক্ত ‘মন্ত্রিসভা’, অন্তর্ভুক্ত করেনি দীর্ঘ ঈ-কারযুক্ত ‘মন্ত্রীসভা’।
পরিহাসজনক যে, অভিধানটি ‘মন্ত্রিসভা’-র সমার্থক ‘মন্ত্রিপরিষদ’ ভুক্তিতে ‘দ্র.’ সংকেতযোগে আমাদেরকে দেখতে বলেছে ‘মন্ত্রীসভা’, যদিও, প্রকৃতপক্ষে, ভুক্তি হিসেবে ‘মন্ত্রীসভা’-র অস্তিত্বই নেই অভিধানটিতে।
সেসঙ্গে, এটাও কৌতূহলজনক, অভিধানটি দেখিয়েছে ‘মন্ত্রিত্ব’-র ব্যুৎপত্তিতে আছে সংস্কৃত ‘মন্ত্রিন্‌’, কিন্তু ‘মন্ত্রিসভা’ ও ‘মন্ত্রিপরিষদ’-এর ব্যুৎপত্তিতে সংস্কৃত ‘মন্ত্রি’।
সংস্কৃতে ‘মন্ত্রি’ রূপটি যদি থেকেই থাকে, তাহলে আমরা বাংলায় কেন লিখছি ‘মন্ত্রী’, এবং কেন লিখছি না ‘মন্ত্রি’?
বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম ১.২ নিশ্চয়ই বলেছে:
“যেসব তৎসম শব্দে ই ঈ বা উ ঊ উভয় শুদ্ধ কেবল সেসব শব্দে ই বা উ এবং তার কারচিহ্ন ি ু হবে।”
‘মন্ত্রি’ কি সত্যিই সংস্কৃতে বৈধ বানান-রূপ?
১.১০। প্রমিত বানানের ব্যাপারে বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানের এ-ধরনের প্রমাদ বা মুদ্রণপ্রমাদ এবং অঘোষিত-কিন্তু-স্পষ্ট পক্ষপাতিত্ব আমাদের জন্য হতাশাব্যঞ্জক।
১.১১। বাংলা একাডেমি আমাদের পর্যবেক্ষণ আমলে নেবে কি? এবং আমাদের পর্যবেক্ষণ সঠিক হলে অভিধানে তা সংশোধনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে কি?
১.১২। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানের পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত সংস্করণ এর মধ্যে বের হয়েছে; কিন্তু সে-সংস্করণে প্রমাদ বা মুদ্রণপ্রমাদের কোনো সংশোধন আমি দেখছি না।
১.১৩। এ-সিরিজে আমরা একইভাবে দেখব, অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে, ভাষাব্যবহারকারী আমরা যখন একটি শব্দের বানানের প্রমিত রূপ বা অন্যথায় ‘শুদ্ধতা’ নিয়ে বিতর্ক করি, তখন বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান সে-বিতর্কের নিরসনে আমাদের কতটুকু সাহায্য করতে পারে, অথবা—উলটো—আমাদের জন্য একটা বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
১.১৪। আবার কথা হবে আগামী পোস্টে, আশা করি অদূরভবিষ্যতে।
আপনাদের মনোযোগের জন্য ধন্যবাদ, প্রিয় শুবাচি ও প্রিয় বাংলা একাডেমি!
 
 
 
শুবাচিদের কষ্টিপাথরে যাচাই—বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান_২
 
২.১। কোনটি প্রমিত—‘মালি’, না কি ‘মালী’? অথবা দুটোই?
২.২। ২৫ মার্চ ২০২০ Md. Shahin Hossain শুবাচে তাঁর পোস্টে জানিয়েছেন, “বাংলা একাডেমির অভিধানে মালি এবং মালী দুটি বানানই আছে।”
২.৩। পোস্টের মন্তব্য-জানালায় কথোপকথনের মাধ্যমে আমরা জানলাম, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান [প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২০১৬; পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত সংস্করণ: এপ্রিল ২০১৬] অন্তর্ভুক্ত করেছে কেবল ‘মালী’ এবং তা সংস্কৃত শব্দ রূপে, যথা: “[স. মালা+ইন্‌]”; অন্তর্ভুক্ত করেনি ‘মালি’, যা অতৎসম শব্দ, ওই শ্রেণির অন্যতম উদাহরণ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে যেভাবে দেখিয়েছে বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম [পরিমার্জিত সংস্করণ ২০১২], যা অভিধানটি তারই ‘পরিশিষ্ট ক’ হিসেবে অভিধানটিতে সংযুক্ত করে রেখেছে।
২.৪। অথচ বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান তার মুখবন্ধে বলেছে:
“এই অভিধানে ২০১২ সালে প্রকাশিত ‘বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম’ অনুসরণ করা হয়েছে।”
২.৫।বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানের এটা কি বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম ২০১২-র অনুসরণ অথবা ওই নিয়ম থেকে থেকে এটা তাদের বিচ্যুতি?
২.৬। লক্ষ করুন:
ক) ২০০৮ সংস্করণের বাংলা একাডেমি বাংলা বানান-অভিধান [পরিমার্জিত ও পরিবর্ধিত তৃতীয় সংস্করণ ফেব্রুয়ারি ২০০৮] ‘মালি’ ও ‘মালী’ দুটি রূপ আলাদা ভুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করে লিখেছে:
“মালি … (উদ্যানপালক); দ্র. মালী।”
“মালী … -লিন্ (যে মালা গাঁথে); দ্র. মালি।”
এবং
খ) হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বঙ্গীয় শব্দকোষ [দ্বিতীয় খণ্ড ।। প-হ; প্রথম প্রকাশ ১৩৪০-৫৩; কলিকাতা: সাহিত্য অকাদেমী] জানাচ্ছে:
“[হি মালী] (বাঙ্লায়) যাহারা ফুলফলের বাগান করে;”
অর্থাৎ, বাগানের কাজে নিয়োজিত ‘মালী’ এসেছে হিন্দি থেকে, সুতরাং, ‘মালী’ অতৎসম, সুতরাং, শব্দটি এখন লেখা হবে ‘মালি’, হ্রস্ব ই-কার দিয়ে, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম ২.১ যেভাবে বলেছে, যথা:
“সকল অতৎসম অর্থাৎ তদ্ভব, দেশি, বিদেশি, মিশ্র শব্দে কেবল ই এবং উ এবং এদের কারচিহ্ন ি ু ব্যবহৃত হবে।
যেমন :
…, মালি, …।”
২.৭। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অবশ্য বলতেই পারে—‘মালি’ আর ‘মালী’ দুটি ভিন্ন শব্দ: ‘মালি’ [Mali] পশ্চিম আফ্রিকার একটি রাষ্ট্র; আর ‘মালী’ সংস্কৃত শব্দ যার অর্থ, অভিধানটির ভাষায়, “১ যে মালা গাঁথে, মালাকার। ২ উদ্যান রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি, উদ্যানপালক। ৩ জাতিবিশেষ। বিণ. মাল্যধারী।”
২.৮। প্রশ্ন থেকে যায়, হিন্দি-থেকে-আসা সুতরাং অতৎসম ‘মালি’—‘যাহারা ফুলফলের বাগান করে’—সে-উদ্যানপালক বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানে কেন ‘মালি’ রূপে থাকবে না?
২.৯। কৌতূহলজনক যে, ‘মালি’ ও ‘মালী’ আলাদা ভুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত-করা বাংলা একাডেমি বাংলা বানান-অভিধান ও কেবল ‘মালী’ অন্তর্ভুক্ত-করা বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান—এ-দুটি অভিধানই সংকলন এবং/অথবা সম্পাদনা করেছেন বাংলা ভাষার একই অভিভাবক জনাব জামিল চৌধুরী।
২.১০।বাংলা ভাষার একই অভিভাবকের সম্পাদনায় এবং বাংলা একাডেমির নামাঙ্কিত দুটি অভিধানে আট বছরের ব্যবধানে ২০০৮-এর ‘মালি’ ও ‘মালী’ যখন ২০১৬-য় এসে কেবল ‘মালী’ হয়ে যায়, তখন প্রকারান্তরে এটাই কি বোঝানোর চেষ্টা করা হয় না যে ‘মালি’ এখন অপ্রমিত?
২.১১।বাংলা একাডেমি কি আমাদের পর্যবেক্ষণ ও অস্বস্তি আমলে নেবে এবং বাংলাদেশিদের প্রতি—এবং, সাধারণভাবে, বিশ্বের সকল বাংলাভাষীর প্রতি—নৈতিকভাবে দায়বদ্ধ ও সংবেদনশীল একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে এ-প্রসঙ্গে তার অবস্থান দ্রুত স্পষ্ট করবে? এ-জন্য অভিধানটির পরবর্তী সংস্করণ পর্যন্ত বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখার নিশ্চয়ই কোনো দরকার নেই—বাংলা একাডেমির ওয়েবসাইটে এ-বিষয়ে এক অনুচ্ছেদের একটি ব্যাখ্যাই আমাদের জন্য যথেষ্ট হবে। ওই একটি অনুচ্ছেদ লিখতে বাংলা একাডেমির কত দিন লাগবে?
২.১২। আপনাদের মনোযোগের জন্য ধন্যবাদ, প্রিয় শুবাচি ও প্রিয় বাংলা একাডেমি!
 
শুবাচিদের কষ্টিপাথরে যাচাই—বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান_৩
 
৩.১। ভাষাবিশেষ-অর্থে নিচে-লেখা ক-খ-গ-ঘ ভাষানামের জোড়গুলোতে প্রমিত বানান কোনটি:
ক) গুজরাটি, না কি গুজরাতি?
খ) জার্মান, না কি জর্মন?
গ) পাঞ্জাবি, না কি পঞ্জাবি?
ঘ) পর্তুগিজ, না কি পোর্তুগিজ?
৩.২।বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানেএ-ভাষানামগুলোর দুটো রূপইআপনি পাবেন: প্রথম রূপটি অভিধা-অংশের ভুক্তিতে, দ্বিতীয়টি অভিধানের সংকেতসূচিতে।
৩.৩। প্রমিত বানান হিসেবে আপনি কোনটি অনুসরণ করবেন? এ-ভাষানামগুলোর প্রমিত বানান কি দুটি করে?
৩.৪। একটি ভাষার নামের দুটি বানান কি শিক্ষার্থী-বান্ধব? এবং তা কি বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম পরিমার্জিত সংস্করণের মুখবন্ধে-বলা ‘বানানের প্রমিতকরণ ও সমতাবিধানের’ কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ?
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান (২০১৬) তো তার মুখবন্ধে বলেছে:
“এই অভিধানে ২০১২ সালে প্রকাশিত ‘বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম’ অনুসরণ করা হয়েছে।”
৩.৫। এ-অবস্থায়, প্রমিত বানানের জন্য বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান কি নির্বিচারে নির্ভরযোগ্য ও অনুসরণযোগ্য?
৩.৬। আপনাদের মনোযোগের জন্য ধন্যবাদ, প্রিয় শুবাচি ও প্রিয় বাংলা একাডেমি!
 
 
 
শুবাচিদের কষ্টিপাথরে যাচাই—বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান_৪

‘লসাগু’, ‘গসাগু’, ‘গুণিতক’, ‘গুণনীয়ক’ মানে কী?
৪.১। লসাগু, গসাগু, গুণিতক, গুণনীয়ক—গণিতের এ-পরিভাষাগুলোর সঙ্গে আমাদের প্রথম পরিচয় বাল্যকালে, প্রাইমারি স্কুলে।
আমার মনে হয় এমন কোনো নবীন বা প্রবীণ শুবাচি নেই যিনি তাঁর শিক্ষাজীবনে লসাগু-গসাগু-র অঙ্ক কখনো করেননি বা এখন করছেন না।
৪.২।আসুন দেখি বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান (২০১৬) ও অন্যান্য রেফারেন্স এ-পরিভাষাগুলো কীভাবে ব্যাখ্যা করেছে।
৪.২.১। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান বলেছে:
ক) “ল.সা.গু. … কোনো সংখ্যাকে দুই বা তার চেয়ে উচ্চতর যে সর্বনিম্ন সংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে অবশিষ্ট থাকে না, ‘লঘিষ্ঠ সাধারণ গুণনীয়ক’-এর সংক্ষিপ্ত রূপ, LCM।”
[—আমাদের বক্তব্য:
ক১। লসাগু-র অভিধার্থ বা সংজ্ঞার্থ হিসেবে এটা—“কোনো সংখ্যাকে দুই বা তার চেয়ে উচ্চতর যে সর্বনিম্ন সংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে অবশিষ্ট থাকে না”—একটা তালগোল-পাকানো প্রকাশ যা আসলে অর্থহীন। যেমন, ১০-কে ২ বা ৫ দিয়ে ভাগ করলে কোনো অবশিষ্ট থাকে থাকে না। কিন্তু তাতে লসাগু-র পরিচয় কতটুকু বিবৃত হল?
ক২। লসাগু-র পূর্ণ রূপ ‘লঘিষ্ঠ সাধারণ গুণনীয়ক’ নয়; বরং, ‘লঘিষ্ঠ সাধারণ গুণিতক’।]
খ) “গ.সা.গু. … কোনো সংখ্যাকে দুই বা ততোধিক যে সর্বোচ্চ সংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে অবশিষ্ট থাকে না, গণিতের প্রণালিবিশেষ, ‘গরিষ্ঠ সাধারণ গুণনীয়ক’-এর সংক্ষিপ্ত রূপ, HCF।”
[—আমাদের বক্তব্য:
খ১। গসাগু-র অভিধার্থ বা সংজ্ঞার্থ হিসেবে এটা—“কোনো সংখ্যাকে দুই বা ততোধিক যে সর্বোচ্চ সংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে অবশিষ্ট থাকে না”—একটা তালগোল-পাকানো প্রকাশ যা আসলে অর্থহীন। যেমন, ১০-কে ২ বা ৫ দিয়ে ভাগ করলে কোনো অবশিষ্ট থাকে থাকে না। কিন্তু তাতে গসাগু-র পরিচয় কতটুকু পাওয়া গেল?
খ২। আমরা একমত ওতে যে, “গ.সা.গু. … ‘গরিষ্ঠ সাধারণ গুণনীয়ক’-এর সংক্ষিপ্ত রূপ, HCF।”
খ৩। শিক্ষার্থীদের জন্য এটা বিভ্রান্তিকর যে বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান ‘ল.সা.গু.’ ও ‘গ.সা.গু.’ উভয়েরই পূর্ণরূপ লিখতে অংশত ব্যবহার করেছে অভিন্ন ‘গুণনীয়ক’।]
গ) “গুণিতক … কোনো রাশিকে অন্য যে সংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে ভাগশেষ থাকে না, multiple।”
[—আমাদের বক্তব্য:
গ১। গুণিতক-এর অভিধার্থ বা সংজ্ঞার্থ হিসেবে এটা—“কোনো রাশিকে অন্য যে সংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে ভাগশেষ থাকে না”—একটা তালগোল-পাকানো প্রকাশ যা আসলে অর্থহীন। যেমন, ১০-কে ২ দিয়ে ভাগ করলে কোনো অবশিষ্ট থাকে থাকে না। কিন্তু তাতে গুণিতক-এর পরিচয় কতটুকু বিবৃত হল? কোনটি গুণিতক? কার গুণিতক? কে কার গুণিতক, সে-কথা বলতে হবে না?
গ২। আমরা একমত যে, ‘গুণিতক’-এর ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘multiple’।]
ঘ) “গুণনীয়ক … কোনো রাশিকে অন্য যে রাশি দিয়ে ভাগ করলে অবশিষ্ট থাকে না , factor।”
[—আমাদের বক্তব্য:
ঘ১। গুণনীয়ক-এর অভিধার্থ বা সংজ্ঞার্থ হিসেবে এটা—“কোনো রাশিকে অন্য যে রাশি দিয়ে ভাগ করলে অবশিষ্ট থাকে না”—একটা তালগোল-পাকানো প্রকাশ যা আসলে অর্থহীন। যেমন, ১০-কে ২ দিয়ে ভাগ করলে কোনো অবশিষ্ট থাকে না। কিন্তু তাতে গুণনীয়ক-এর পরিচয় কতটুকু বিবৃত হল? কোনটি গুণনীয়ক? কার গুণনীয়ক? কে কার গুণনীয়ক?
ঘ২। আমরা একমত যে, ‘গুণনীয়ক’-এর ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘factor’।
ঘ৩। আমরা একমত নই যে উদ্ধৃতি ঘ)-এ ‘… অবশিষ্ট থাকে না’-র পর যতিচিহ্ন কমাটি স্পেস দিয়ে দূরে সরিয়ে বসাতে হবে।]
ঙ) “উৎপাদক২ … গুণনীয়ক, factor।”
[আমরা একমত যে ‘উৎপাদক’, ‘গুণনীয়ক’ ও ‘factor’ পরস্পরের প্রতিশব্দ।]
৪.২.২। বাংলা একাডেমী ব্যবহারিক বাংলা অভিধান [পরিমার্জিত সংস্করণ ডিসেম্বর ২০০০-এর চতুর্দশ পুনর্মুদ্রণ: আষাঢ় ১৪১৮/জুন ২০১১] বলেছে:
ক) “~ [লঘিষ্ঠ] সাধারণ গুণনীয়ক বা গুণিতক (সংক্ষেপে ল.সা.গু.) … (গণিত.) দুই বা ততোধিক রাশি দ্বারা যে সর্বনিম্ন রাশি নিঃশেষে বিভাজ্য; L.C.M.।”
[আমাদের প্রশ্ন: লসাগু-র পূর্ণরূপে কীভাবে সম্ভব ‘গুণনীয়ক বা গুণিতক’? এবং কেন নয় কেবল ‘গুণিতক’?]
খ) “ ~ [গরিষ্ঠ] সাধারণ গুণনীয়ক, গ.সা.গু. (গণিত.) যে গরিষ্ঠ সংখ্যা দ্বারা কয়েকটি রাশিকে ভাগ করলে মিলে যায় তা; উক্ত রাশিগুলির গ.সা.গু.।”
[এ-উদ্ধৃতির মধ্যে সেমিকোলন কেন?]
গ) “গুণিতক … যে রাশিকে অন্য নির্দিষ্ট রাশি দ্বারা ভাগ করলে অবশিষ্ট থাকে না; multiple।”
[কার গুণিতক? কে কার গুণিতক, সে-কথা বলতে হবে না?]
ঘ) “গুণনীয়ক … যে রাশি দ্বারা বিশেষ কোনো রাশিকে ভাগ করলে অবশিষ্ট থাকে না, factor।”
[কার গুণনীয়ক? কে কার গুণনীয়ক, সে-কথা বলতে হবে না?]
৪.২.৩। বাংলা একাডেমী সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান [পরিমার্জিত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ, ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬, পঞ্চম পুনর্মুদ্রণ জুন ২০০৮] ১৯৯৬ সালে যা বলেছে, ২০০০ সালে বাংলা একাডেমী ব্যবহারিক বাংলা অভিধান প্রায় হুবহু তারই পুনরাবৃত্তি করেছে।
[সংযুক্ত সংশ্লিষ্ট ছবি দুটোর পাঠ মিলিয়ে দেখুন!]
৪.২.৪। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক ২০১৩ শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকরূপে নির্ধারিত প্রাথমিক গণিত বলেছে, অন্যান্য উদাহরণ ও ব্যাখ্যার মধ্যে:
ক) “৩ কে কোনো সংখ্যা দ্বারা গুণ করার মাধ্যমে ৩, ৬, ৯ ও ১২ সংখ্যাগুলো গঠিত হয়েছে। গঠিত সংখ্যাগুলোকে ৩ এর গুণিতক বলে। ৩ এর গুণিতক ৩ দ্বারা নিঃশেষে বিভাজ্য।” [পৃ৭৩]
খ) “যে সংখ্যাগুলো ৩ ও ৪ উভয়েরই গুণিতক, সে সংখ্যাগুলোকে ৩ ও ৪ এর সাধারণ গুণিতক বলে। ৩ ও ৪ এর সাধারণ গুণিতকগুলি হচ্ছে ১২, ২৪, ৩৬ এবং আরও অনেক সংখ্যা।” [পৃ৭৫]
গ) “সবচেয়ে ছোট সাধারণ গুণিতকটিকে বলা হয় লঘিষ্ঠ সাধারণ গুণিতক (লসাগু)। ৬ ও ৮ এর লঘিষ্ঠ সাধারণ গুণিতক হচ্ছে ২৪।” [পৃ৭৫]
ঘ) “যে সংখ্যাগুলো ১২ কে নিঃশেষে ভাগ করতে পারে সেগুলোকে বলা হয় ১২ এর গুণনীয়ক।
“১২ এর ৬টি গুণনীয়ক রয়েছে: ১, ২, ৩, ৪, ৬, ও ১২।
“১ এবং সংখ্যাটি নিজেই গুণনীয়কগুলোর অন্তর্ভুক্ত।”
 [পৃ৭৭]
ঙ) “যে সংখ্যাগুলো ১২ ও ১৮ উভয়েরই গুণনীয়ক, তাদের ১২ ও ১৮ এর সাধারণ গুণনীয়ক বলে।
“১২ ও ১৮ এর সাধারণ গুণনীয়কগুলো হচ্ছে : ১, ২, ৩, ও ৬।” 
[পৃ৭৯]
চ) “দুইটি সংখ্যার সবচেয়ে বড় সাধারণ গুণনীয়কটিকে বলা হয় গরিষ্ঠ সাধারণ গুণনীয়ক (গসাগু)।
“২৪ ও ৩৬ এর গরিষ্ঠ সাধারণ গুণনীয়কটি হচ্ছে ১২।” 
[পৃ৮০]
৪.২.৫। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক ২০১৩ শিক্ষাবর্ষ থেকে পঞ্চম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকরূপে নির্ধারিত প্রাথমিক গণিত বলেছে, অন্যান্য উদাহরণ ও ব্যাখ্যার মধ্যে:
ক) “ক এর গুণিতক = ক এর সাথে যেকোনো পূর্ণ সংখ্যার গুণফল”। [পৃ২৬]
খ) “ক এর গুণনীয়ক হলো, যে সংখ্যা দ্বারা ক কে ভাগ করলে কোনো ভাগশেষ থাকে না”। [পৃ৩০]
৪.২.৬। উইকিপিডিয়া বলেছে:
ক) “দুই বা ততোধিক পূর্ণসংখ্যার লঘিষ্ঠ সাধারণ গুণিতক বা ল.সা.গু বলতে বুঝায় সেই ক্ষুদ্রতর সংখ্যা যা ওই সংখ্যাগুলোর প্রত্যেকটি দ্বারা নিঃশেষে বিভাজ্য।”
[আমরা বলব:
দুই বা ততোধিক পূর্ণসংখ্যার লঘিষ্ঠ সাধারণ গুণিতক বা লসাগু বলতে বোঝায় সেই ক্ষুদ্রতম সংখ্যা যা ওই সংখ্যাগুলোর প্রত্যেকটি দ্বারা নিঃশেষে বিভাজ্য।]
খ) “ইংরেজি ভাষায় ল.সা.গু কে least common multiple, lowest common multiple অথবা সংক্ষেপে LCM বলা হয়।”
[আমরা বলব:
ইংরেজিতে লসাগু-কে least common multiple, lowest common multiple বা সংক্ষেপে LCM বলা হয়।]
৪.২.৬.১। লসাগু বোঝার জন্য প্রথমে ‘গুণিতক’ বোঝা দরকার, তারপর দরকার ‘সাধারণ গুণিতক’ বোঝা, তারপর ‘লঘিষ্ঠ’ মানে ‘সবচেয়ে ছোটো’ বোঝা, এবং সবশেষে ‘লঘিষ্ঠ সাধারণ গুণিতক’ বোঝা, যা একটি উদাহরণ দিয়ে—৪ ও ৬-এর লসাগু বের করার মাধ্যমে—উইকিপিডিয়া চমৎকারভাবে বুঝিয়েছে।
৪.৩। আমার মনে হয়েছে বাংলা একাডেমির বাংলা-বাংলা অভিধানগুলোতে যাঁরা গণিতের পরিভাষার—সুনির্দিষ্টভাবে, ‘লসাগু’, ‘গসাগু’, ‘গুণিতক’ ও ‘গুণনীয়ক’-এর —অভিধার্থ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, তাঁরা গণিত জানেন না এবং গণিতের ভাষা জানেন না, যার ফল হয়েছে গণিতের পরিভাষার দ্ব্যর্থতামুক্ত নিটোল ব্যাখ্যা বা সংজ্ঞার্থের জায়গায় অভিধানগুলোতে ঠাঁই পেয়েছে কোথাও অসম্পূর্ণ কোথাও দ্ব্যর্থতাপূর্ণ কোথাও-বা অর্থহীন কথার সমাবেশ মাত্র।
৪.৪। বাংলাদেশে চতুর্থ বা পঞ্চম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী যদি তার ২০১৩ সালের পাঠ্য বই থেকে ‘লসাগু’, ‘গসাগু’, ‘গুণিতক’ ও ‘গুণনীয়ক’ বলতে কী বোঝায় তা অভ্রান্তভাবে জানতে পারে, তাহলে ২০১৬ সালেও কেন অভিধান-প্রণেতাগণ এই পরিভাষাগুলোর প্রাঞ্জল অভিধার্থ দিতে ব্যর্থ হয়েছেন তা খুঁটিয়ে দেখা এবং প্রমাদগুলোর প্রতিকার ও সংশোধন করা বাংলা একাডেমির আশু দায়িত্ব মনে করি।
৪.৫। আপনাদের মনোযোগের জন্য এবং গণিতের প্রতি ও ভাষার প্রতি ভালোবাসার জন্য আপনাদেরকে ধন্যবাদ, প্রিয় শুবাচি ও প্রিয় বাংলা একাডেমি!
 
 
শুবাচিদের কষ্টিপাথরে যাচাই—বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান_৫

ইংরেজি Keyboard শব্দটি বাংলায় ‘কী-বোর্ড’? না কি ‘কিবোর্ড’?
১। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান [প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২০১৬; পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত সংস্করণ: এপ্রিল ২০১৬]
এবং
বাংলা একাডেমি বাংলা বানান-অভিধান [পরিমার্জিত ও পরিবর্ধিত তৃতীয় সংস্করণ ফেব্রুয়ারি ২০০৮]
—উভয় অভিধানই—
অন্তর্ভুক্ত করেছে কেবল ‘কী-বোর্ড’।
২। এটা আশ্চর্যজনক, আধুনিক বাংলা অভিধান তার ‘কী-বোর্ড’ ভুক্তিতে শব্দটির ব্যুৎপত্তি নির্দেশ করে বলেছে, শব্দটি ‘[ই.]’ অর্থাৎ ইংরেজি, [সুতরাং, বিদেশি তথা অতৎসম শব্দ,] এবং, অভিধানটি তার মুখবন্ধে দাবি করেছে, “এই অভিধানে ২০১২ সালে প্রকাশিত ‘বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম’ অনুসরণ করা হয়েছে।”অথচ, ওই একই অভিধানের ‘পরিশিষ্ট ক’ হিসেবে সংযুক্ত বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম [পরিমার্জিত সংস্করণ ২০১২] ১.২ বলেছে: “সকল অতৎসম অর্থাৎ তদ্ভব, দেশি, বিদেশি, মিশ্র শব্দে কেবল ই এবং উ এবং এদের কারচিহ্ন ি ু ব্যবহৃত হবে।”
৩। ‘কী-বোর্ড’ কি তৎসম শব্দ যে ওতে দীর্ঘ ঈ-কার থাকবে? এবং ওটা কি অতৎসম শব্দ নয় যে ওটা ‘কিবোর্ড’ হবে না?
৪। আমার বোধে, ২০০৮-এর বাংলা একাডেমি বাংলা বানান-অভিধান থেকে ২০১৬-র বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানে অন্ধ কপি-পেস্টের প্যাথেটিক পরিণতি ‘কী-বোর্ড’, যে-কারণে ওই বানানরূপের গায়ে ২০১২-র বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম-অনুসারী পরিবর্তনের হাওয়া লাগেনি।
৫। ২০১৪-র বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যবহারিক ব্যাকরণ [প্রথম প্রকাশ: মাঘ ১৪২০/জানুয়ারি ২০১৪] বইটি তার ১৩৩ পৃষ্ঠায় শব্দটি লিখতে বানানরূপ ব্যবহার করেছে ‘কিবোর্ড’:
“সম্প্রতি অনচ্ছ যুক্ত ব্যঞ্জনগুলিকে যথাসম্ভব স্বচ্ছ করার চেষ্টা হয়েছে। দ্র. পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি গৃহীত বাংলা বানানবিধি, পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি, ২০০৪। কম্পিউটারের ব্যবহারের জন্য বর্তমানে যুক্তব্যঞ্জনের স্বচ্ছরূপসহ একটি ইউনিকোড মানসম্মত বাংলা ফন্ট ‘বাংলা আকাদেমি’ নামে তৈরি করা হয়েছে। ইউনিকোড মানসম্মত হওয়ার কারণে এই ফন্ট কম্পিউটারের যে-কোনো অপারেটিং সিস্টেম বা প্রোগ্রামে সমানভাবে ব্যবহার করা যায়। ইউনিকোড মানসম্মত বাংলা ফন্টকে ব্যবহার করার জন্য কয়েকটি প্রয়োজনীয় সফ্‌টওয়্যার তৈরি করা হয়েছে─বৈশাখী (www.nltr.org) এবং অভ্র (www.omicron.org) এদের মধ্যে সবচেয়ে সফলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ব্যবহারকারীর প্রয়োজন ও স্বাচ্ছন্দ্যর কথা মনে রেখে বিভিন্ন কিবোর্ড নকশা (layout) তৈরি করা হয়েছে দুটি সফ্‌টওয়্যারেই।”
৬।আপনি কি মনে করেন এবং মানেন যে প্রমিত বানান ‘কী-বোর্ড’, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান (২০১৬) যেভাবে লিখেছে, যেখানে বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম সুস্পষ্টভাবে নির্দেশ করেছে, বিদেশি শব্দ-সহ “সকল অতৎসম শব্দে কেবল ই এবং উ এবং এদের কারচিহ্ন ি ু ব্যবহৃত হবে।”?
৭। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানে ‘কী-বোর্ড’ শব্দের বানানে প্রমিত বাংলা বানানের নিয়মের এ-ধরনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন আমার কাছে গ্রহণযোগ্য নয় ও অনুসরণীয় নয়।
৮। আমি লিখি ‘কিবোর্ড’, যখন আমাকে শব্দটি লিখতে হয়।
৯। ‘বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান’ আমার কাছে ‘বাইবেল’ নয়; বরং, পরবর্তী সংস্করণ বের না-হওয়া পর্যন্ত বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম (২০১২)-ই আমার এখনকার ‘বাইবেল’।
১০। আপনাদের মনোযোগের জন্য ধন্যবাদ, প্রিয় শুবাচি ও প্রিয় বাংলা একাডেমি!
 
 
শুবাচিদের কষ্টিপাথরে যাচাই—বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান_৬
“আদ্যা … [স. আদ্য+আ (টাপ্)]” যদি শুদ্ধ হয়,
যা নিশ্চয়ই শুদ্ধ,
তাহলে কীভাবে শুদ্ধ হয় “আদ্যাশক্তি … [স. আদ্য+√শক্+তি]”?
আদ্যাশক্তি-র ব্যুৎপত্তিতে কোথায় গেল আ (টাপ্), যা সংস্কৃত স্ত্রী-প্রত্যয়?
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান তার প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২০১৬ সংস্করণে যেভাবে দেখিয়েছে আদ্যাশক্তি-র ব্যুৎপত্তি, ঠিক তারই পরিমার্জনহীন পুনরাবৃত্তি করেছে তার এপ্রিল ২০১৬ পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত সংস্করণে।
এটা কি বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানের চলমান মুদ্রণপ্রমাদ? না কি আদি প্রমাদ?
প্রিয় শুবাচি ও প্রিয় বাংলা একাডেমি!
 
 
শুবাচিদের কষ্টিপাথরে যাচাই—বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান_৭
 
অবাচী উষা? না কি অবাচীউষা?
উদীচী উষা? না কি উদীচীউষা?
৭.১। অসংলগ্নভাবে-লেখা ‘অবাচী উষা’ যদি প্রমিত রূপ হয়, তাহলে কেন নিরেটভাবে লিখব ‘উদীচীউষা’?
এবং কেন লিখব না ‘উদীচী উষা’, অসংলগ্নভাবে?
বিপরীতক্রমে, নিরেটভাবে-লেখা ‘উদীচীউষা’ যদি প্রমিত রূপ হয়, তাহলে কেন অসংলগ্নভাবে লিখব ‘অবাচী উষা’?
এবং কেন লিখব না ‘অবাচীউষা’, নিরেটভাবে?
৭.২। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান তার দুটো সংস্করণেই লিখেছে একদিকে ‘অবাচী উষা’, আলাদা করে; আবার, অন্যদিকে, ‘উদীচীউষা’, একসঙ্গে।
৭.৩। এটা কৌতূহলজনক যে, ‘অবাচী উষা’ ও ‘উদীচীউষা’ উভয় সমাসবদ্ধপদেই, অভিন্নভাবে, পূর্বপদের শেষে –চী এবং পরপদের শুরুতে উ-;
কিন্তু, তা সত্ত্বেও,
অভিধানটি একটি প্রকাশ লিখেছে ফাঁক রেখে, যথা: ‘অবাচী উষা’;
এবং অন্যটি নিরেটভাবে, যথা: ‘উদীচীউষা’।
এ-দ্বৈতনীতির কোনো ব্যাখ্যা আছে কি?
৭.৪। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান তার প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২০১৬ সংস্করণে লিখেছে:
“উদীচীউষা … উত্তর আকাশে দৃষ্ট আলোর ছটা, মেরুপ্রভা, aurora।”
এবং
এপ্রিল ২০১৬ পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত সংস্করণে লিখেছে:
“উদীচীউষা … উত্তর মেরু অঞ্চলের আকাশে দৃষ্ট আলোর ছটা, মেরুপ্রভা, northern lights, aurora।”
এ-পরিমার্জনকে স্বাগত জানাই।
তবে, কথা হল, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান এ-পরিমার্জনের পরও কথা বলার সুযোগ রেখে দিয়েছে।
৭.৫। ‘northern lights’ নিশ্চয়ই ‘aurora’; তবে তার অনন্য নাম ‘aurora borealis’।
‘উদীচীউষা’-কে সুনির্দিষ্টভাবে ‘aurora borealis’ বলা প্রয়োজন বিশেষত এজন্যে যে একই অভিধান ‘অবাচী উষা’-কে অনির্দিষ্টভাবে বলেনি অন্য আরেকটি ‘aurora’; বরং, বলেছে, সুনির্দিষ্টভাবে—এবং সঠিকভাবে—‘aurora australis’।
৭.৬। উত্তর মেরুপ্রভাকে ‘aurora’ বলব, আর দক্ষিণ মেরুপ্রভাকে ‘aurora australis’ বলব—আমার বোধে এটাও দ্বিচারিতা।
৭.৭। উভয় মেরুপ্রভাকে আমি লিখতে চাই হাইফেন-যোগে, যথা: ‘অবাচী-উষা’ ও ‘উদীচী-উষা’, কিংবা ফাঁক-রেখে, যথা: ‘অবাচী উষা’ ও ‘উদীচী উষা’; এবং,
তুলনামূলক পক্ষপাতিত্বে, আধুনিক প্রবণতাকে স্বাগত জানিয়ে, কেবল অসংলগ্ন ‘অবাচী উষা’ ও ‘উদীচী উষা’।
৭.৮। নতুনতর সংস্করণ প্রকাশের আগে বাংলা একাডেমি আমাদের চোখে ধরা-পড়া ও শুবাচে উপস্থাপিত বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানের প্রমাদ বা মুদ্রণপ্রমাদ বা বিচ্যুতিগুলোর অন্তর্বর্তীকালীন সংশোধনী তার ওয়েব সাইটে প্রকাশ করতে পারে কি?
অথবা, এ-রকম আশা করাটা খুব বেশি হয়ে যায়?
৭.৯। আপনাদের মনোযোগের জন্য ধন্যবাদ, প্রিয় শুবাচি ও প্রিয় বাংলা একাডেমি!
 
 
শুবাচিদের কষ্টিপাথরে যাচাই—বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান_৮
‘অনুপম’ তৎসম শব্দ। কিন্তু ‘অনুপাম’-ও কি তৎসম?
‘অনুপম’-এর ব্যুৎপত্তি ‘[স. ন+উপমা]’। কিন্তু ‘অনুপাম’-এরও ব্যুৎপত্তি কি সেই একই ‘[স. ন+উপমা]’?
৮.১। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান তার দুটো সংস্করণেই অভিন্নভাবে লিখেছে:
“অনুপম /অনুপম্‌/ [স. ন+উপমা] বিণ. উপমাহীন, নিরুপম, অতুলনীয়। স্ত্রী. অনুপমা /অনুপমা/।”
এবং
“অনুপাম /ওনু্পাম্‌/ [স. ন+উপমা] বিণ. উপমাহীন, নিরুপম, অতুলনীয়।”
এই অভিধান বলেছে, ‘অনুপম’ উচ্চারণে আদ্যস্বর ‘অ’, কিন্তু ‘অনুপাম’ উচ্চারণে আদ্যস্বর ‘ও’; ‘অনুপম’-এর স্ত্রীলিঙ্গ ‘অনুপমা’, কিন্তু কিছুই বলেনি ‘অনুপাম’-এর স্ত্রীলিঙ্গ রূপ কী বা আদৌ তা আছে কি না।
৮.২। বাংলা একাডেমী ব্যবহারিক বাংলা অভিধান [পরিমার্জিত সংস্করণ ডিসেম্বর ২০০০-এর চতুর্দশ পুনর্মুদ্রণ: আষাঢ় ১৪১৮/জুন ২০১১] বলেছে, “অনুপাম (পদ্য., মবা.)”, অর্থাৎ,অভিধানে ব্যবহৃত সংকেত ও শব্দসংক্ষেপ তালিকায়-দেওয়া ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অনুপাম ‘পদ্যে ব্যবহৃত’ ‘মধ্যযুগীয় বাংলা’।
৮.৩। হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বঙ্গীয় শব্দকোষে [প্রথম খণ্ড, অ-ন, প্রথম প্রকাশ ১৩৪০-৫৩, ১৯৪৬] লিখেছেন, “অনুপাম বিং”, অর্থাৎ, ‘বিশেষণ। বাঙ্লা শব্দ’।
৮.৪। শ্রীজ্ঞানেন্দ্রমোহন দাস তাঁর বাঙ্গালা ভাষার অভিধানে [৩১ চৈত্র ১৩২৩] লিখেছেন, “অনুপাম [অনুপম স্থলে প্রা◦ বাং পদ্যে]”, অর্থাৎ, অনুপাম অনুপম স্থলে ‘প্রাচীন’ ‘বাঙ্গালা’।
৮.৫। স্পষ্টতই ‘অনুপাম’ সংস্কৃত শব্দ নয়।
৮.৬। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান কোত্থেকে পেল ‘অনুপাম’ সংস্কৃত শব্দ?
৮.৭। উত্তরোত্তর মনে হচ্ছে, শব্দের বানান, ব্যুৎপত্তি, অভিধার্থ ইত্যাদি প্রশ্নে বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান শতকরা শতভাগ শুদ্ধ ও প্রমিত নয়!
৮.৯। আপনাদের মনোযোগের জন্য ধন্যবাদ, প্রিয় শুবাচি ও প্রিয় বাংলা একাডেমি!
 
 
শুবাচিদের কষ্টিপাথরে যাচাই—বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান_৯
‘ভূতুড়ে’ শব্দটির প্রমিত বানান কি ভ-য়ে দীর্ঘ ঊ-কার দিয়ে ‘ভূতুড়ে’? না কি ভ-য়ে হ্রস্ব উ-কার দিয়ে ‘ভুতুড়ে’?
‘ভূতুড়ে’ কি ‘ভূত’ শব্দটির মতো সংস্কৃত বা তৎসম যে ‘ভূতুড়ে’ লিখতে ভ-য়ে দীর্ঘ ঊ-কার দিয়ে লিখতে হবে?
অথবা, প্রকৃতপক্ষে, সংস্কৃত ‘ভূত’ ও বাংলা ‘উড়ে’ মিলে সৃষ্টি করেছে ‘ভূতুড়ে’, যা একটি অতৎসম তথা মিশ্র শব্দ, এবং যে-কারণে প্রমিত বানান হবে ‘ভুতুড়ে’, এবং যেখানে প্রমিত নিয়মে ঠাঁই পাবে না দীর্ঘ ঊ-কার?
৯.১। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান [প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২০১৬; পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত সংস্করণ: এপ্রিল ২০১৬] অন্তর্ভুক্ত করেছে ‘ভূত’ ও ‘ভূতুড়ে’ এবং এদের ব্যুৎপত্তি দেখিয়েছে এভাবে:
“ভূত … [স. √ভূ+ত]”;
এবং
“ভূতুড়ে … [বা.]”।
৯.২। আধুনিক বাংলা অভিধান জানাচ্ছে: ‘ভূতুড়ে’ ‘[বা.]’, যার মানে—অভিধানটির সংকেতসূচি অনুযায়ী—‘বাংলা’ শব্দ।
আমাদের জন্য দুঃখজনক, সেই ‘বাংলা’ শব্দের কোনো অভিধার্থ বা ব্যাকরণিক সংজ্ঞার্থ পরিবেশন করেনি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯.৩। বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত শব্দের উৎসগত শ্রেণিবিভাগে প্রথাগত বাংলা ব্যাকরণে শব্দের শ্রেণি হিসেবে আমরা পাই তৎসম, অর্ধতৎসম, তদ্ভব, দেশি, বিদেশি ও মিশ্র শব্দ।
আধুনিক বাংলা অভিধানের কথিত ‘বাংলা’ শব্দ এ-শ্রেণিগুলোর মধ্যে কোন শব্দশ্রেণিভুক্ত?
৯.৪। বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত ‘ভূতুড়ে’ শব্দটির ব্যুৎপত্তি হিসেবে কেবল ‘[বা.]’ অর্থাৎ ‘বাংলা’ নির্দেশ করে এবং সেই ‘বাংলা’-র সংজ্ঞার্থ না-দিয়ে আধুনিক বাংলা অভিধান আমাদেরকে অন্ধকারেই রেখে দিল।
আধুনিক বাংলা অভিধান-নির্দেশিত ওই ব্যুৎপত্তি ‘[বা.]’ থেকে আমরা কেবল এটুকুই ধারণা করতে পারি যে, ‘ভূতুড়ে’ সংস্কৃত বা তৎসম নয়, ‘ভূতুড়ে’ বিদেশি শব্দ নয়, ‘ভূতুড়ে’ একান্তই বাংলা শব্দ—বাংলা ভাষায় এর নির্মাণ, অন্য কোথাও নয়।
৯.৫। ‘ভূতুড়ে’ শব্দটির ব্যুৎপত্তি জানা দরকার বিশেষ করে এজন্য যে সে-ব্যুৎপত্তিই নির্ধারণ করবে শব্দটির উৎসগত শব্দশ্রেণি কী হবে, যা আবার তখন নির্ধারণ করবে শব্দটির প্রমিত বানান কী হবে।
৯.৬। বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম [পরিমার্জিত সংস্করণ ২০১২] ২.১ বলেছে:
“সকল অতৎসম অর্থাৎ তদ্ভব, দেশি, বিদেশি, মিশ্র শব্দে কেবল ই এবং উ এবং এদের কারচিহ্ন ি ু ব্যবহৃত হবে।”
৯.৭। বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক বাংলা অভিধান [পরিমার্জিত সংস্করণ ডিসেম্বর ২০০০] ‘ভূতুড়ে’-র ব্যুৎপত্তি দেখিয়েছে এভাবে:
“ভুতুড়ে, ভূতুড়ে … {স. ভূত+উড়িয়া>উড়ে}”।
৯.৮। বাংলা একাডেমী সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান [পরিমার্জিত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ, ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬] ‘ভূতুড়ে’-র ব্যুৎপত্তি দেখিয়েছে আরও সুনির্দিষ্টভাবে:
“ভুতুড়ে, ভূতুড়ে … [স. ভূত>+বা. উড়ে]”।
৯.৯। অশোক মুখোপাধ্যায়ের সংসদ ব্যাকরণ অভিধান [পরিবর্ধিত তৃতীয় সংস্করণ, ২০০৫] বলেছে:
ক) “উড়িয়া, উড়ে : বাংলা শব্দপ্রত্যয়। … ভূত + উড়িয়া = ভূতুড়িয়া → ভূতুড়ে।”
খ) “মিশ্র শব্দ : একাধিক ভাষার শব্দ সমাসবদ্ধ হয়ে কিংবা এক ভাষার শব্দের সঙ্গে অন্য ভাষার প্রত্যয় কিংবা উপসর্গ যোগ হয়ে যে-শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে মিশ্র শব্দ বা সংকর শব্দ।”
গ) “উৎসগত শ্রেণিবিভাগ (শব্দের) : … মিশ্রশব্দ … : ▷ …, ভূতুড়ে।”
৯.১০। উপস্থাপিত রেফারেন্সের ভিত্তিতে আমার কোনো সন্দেহ নেই ‘ভূতুড়ে’ একটি মিশ্র শব্দ; সুতরাং, শব্দটি অতৎসম; এবং, সুতরাং, প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম [পরিমার্জিত সংস্করণ ২০১২] ২.১ অনুযায়ী শব্দটির প্রমিত বানান হবে কেবল হ্রস্ব উ-কার দিয়ে ‘ভুতুড়ে’, এবং অন্য কোনো বানানরূপে নয়।
৯.১১। এটা রহস্যজনক যে আধুনিক বাংলা অভিধান অন্তর্ভুক্ত করেছে কেবল ‘ভূতুড়ে’; এবং, এ-শব্দটির মতো এমন একটি মিশ্র শব্দে দীর্ঘ ঊ-কার রেখে দিয়ে প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম ২.১ দৃশ্যত লঙ্ঘন করেও সে তার মুখবন্ধে দাবি করেছে, “এই অভিধানে ২০১২ সালে প্রকাশিত ‘বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম’ অনুসরণ করা হয়েছে।”
৯.১২। আপনি কি মনে করেন আধুনিক বাংলা অভিধান দীর্ঘ ঊ-কার দিয়ে ‘ভূতুড়ে’ বানান লিখে প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম সত্যিই অনুসরণ করেছে?
৯.১৩। আপনাদের মনোযোগের জন্য ধন্যবাদ, প্রিয় শুবাচি ও প্রিয় বাংলা একাডেমি!
 
 
শুবাচিদের কষ্টিপাথরে যাচাই—বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান_১০


ইদ মোবারক, প্রিয় শুবাচি ও প্রিয় বাংলা একাডেমি!

আমাদের আজকের বিবেচ্য বিষয়:
বাংলা একাডেমি নির্দেশিত প্রমিত বানানরূপ কোনটি?
ক) ‘ইদুল ফিতর’? না কি ‘ইদুলফিতর’?
খ) ‘ইদুল আজহা’? না কি ‘ইদুল-আজহা’?
গ) ‘ইদ মোবারক’? না কি ‘ইদ মুবারক’?

১০.১।বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত সংস্করণ (২০১৬) তার ‘ইদ’ ভুক্তিতে লিখেছে ‘ইদুল ফিতর’ ও ‘ইদুল আজহা’, অসংলগ্ন রূপে;
আবার, ‘ইদুলফিতর’ ও ‘ইদুল-আজহা’ ভুক্তিতে ওই একই প্রকাশ দুটি লিখেছে ভিন্ন রূপে, যথা, ‘ইদুলফিতর’ ও ‘ইদুল-আজহা’, যথাক্রমে, নিরেটভাবে ও হাইফেনযোগে।

সংগতভাবেই প্রশ্ন ওঠে:
ক) বাংলা একাডেমি নির্দেশিত প্রমিত বানান কোনটি:
‘ইদুলফিতর’? না কি ‘ইদুল ফিতর’?
‘ইদুল-আজহা’? না কি ‘ইদুল আজহা’?

এবং
খ) নিরেট ‘ইদুলফিতর’ হতে পারলে, নিরেট ‘ইদুলআজহা’ হতে পারবে না কেন?

১০.২। ওই একই বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান স্বাধীন ভুক্তিরূপে অন্তর্ভুক্ত করেছে ‘মুবারক’ ও ‘ইদ মোবারক’।

কৌতূহলজনক, ওই অভিধান
ক) স্বাধীন ভুক্তিরূপে অন্তর্ভুক্ত করেনি ‘মোবারক’;
এবং
খ) ‘ইদ মোবারক’ ভুক্তিতে বলেনি ‘ইদ মোবারক’-এর ব্যুৎপত্তি কী।


১০.৩। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান তার ‘মুবারক’ ভুক্তিতে শব্দটির প্রয়োগ দেখিয়েছে: ‘ইদ মুবারক’।

১০.৪। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান এক ভুক্তিতে লিখবে ‘ইদ মোবারক’, আবার অন্য ভুক্তিতে ‘ইদ মুবারক’, এ-দোলাচল কেন?
সুতরাং, সংগতভাবেই প্রশ্ন ওঠে:
বাংলা একাডেমি নির্দেশিত প্রমিত বানান কোনটি:
‘ইদ মোবারক’? না কি, ‘ইদ মুবারক’?


১০.৫। একজন বাংলা শিক্ষার্থীকে বিভ্রান্ত করার আর কত রকম উপায় থাকতে পারে?

প্রিয় শুবাচি ও প্রিয় বাংলা একাডেমি!
 
 
 
 
শুবাচিদের কষ্টিপাথরে যাচাই_১১

১১.১। ১৪ জুলাই ২০২০ সর্বশেষ-হালনাগাদ-করা তার ওয়েবসাইটে [https://bit.ly/3a1CHzG] বাংলা একাডেমি লিখেছে:
“নোটিশ
“বানান-বিষয়ক চলমান বিতর্ক নিরসনে বাংলা একাডেমির ভাষ্য ‘বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান’ প্রথম প্রকাশিত হয় ১লা ফেব্রুয়ারি ২০১৬ সালে। প্রকাশের পর থেকেই একটি অভিধান পুরোনো হয়ে যায় এবং তখন থেকেই শুরু হয় এর পরিবর্ধন ও পরিমার্জনের কাজ। এরই ধারাবাহিকতায় অভিধানটির প্রথম পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত সংস্করণ প্রকাশিত হয় এপ্রিল ২০১৬ সালে। বর্তমানেও এ অভিধানটির সংস্করণের কাজ চলমান আছে। এ কাজ করতে গিয়ে বেশকিছু ভুলত্রুটি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যমে চলমান বানান বিতর্কে যে বিকল্প বানানের কথা বলা হচ্ছে তা ইতোমধ্যে ‘আধুনিক বাংলা অভিধান’-এর পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত সংস্করণে সংযোজিত হয়েছে। এ ছাড়াও বহুল ব্যবহৃত শব্দের বিকল্প বানানও এ সংস্করণে যোগ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে দৈনন্দিন ব্যবহারে থাকলেও এখন পর্যন্ত অভিধানে স্থান পায়নি এমন কিছু নতুন শব্দও সংযোজিত হয়েছে। ‘আধুনিক বাংলা অভিধান’-এর এ সংস্করণটি অচিরেই বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত হবে এবং চলমান বানান-বিতর্কের অবসান ঘটবে- এমনটাই প্রত্যাশা।”
১১.২। বাংলা একাডেমি কি এ-নোটিশটি এডিট করার দরকার মনে করে না?
১১.৩। নোটিশটির প্রথম বাক্য:
“বানান-বিষয়ক চলমান বিতর্ক নিরসনে বাংলা একাডেমির ভাষ্য ‘বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান’ প্রথম প্রকাশিত হয় ১লা ফেব্রুয়ারি ২০১৬ সালে।”
ক) নোটিশের বিষয়ের সঙ্গে নোটিশের উদ্দিষ্ট প্রথম বাক্যের এমন মিশ্রণ আর কোথাও পেয়েছেন কি?
খ) “ ‘বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান’ প্রথম প্রকাশিত হয় ১লা ফেব্রুয়ারি ২০১৬ সালে।”
অভিধানটি “প্রথম প্রকাশিত হয় ১লা ফেব্রুয়ারি ২০১৬ সালে”?
অথবা, অভিধানটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১লা ফেব্রুয়ারি ২০১৬?
কিংবা, অভিধানটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০১৬ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি?
১১.৪। “…অভিধানটির প্রথম পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত সংস্করণ প্রকাশিত হয় এপ্রিল ২০১৬ সালে।”
ক) “… এপ্রিল ২০১৬ সালে”?
অথবা, … এপ্রিল ২০১৬?
কিংবা, ২০১৬-র এপ্রিলে?
খ) “প্রথম পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত সংস্করণ”?
তার মানে কি আগামী সংস্করণটি হবে দ্বিতীয় পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত সংস্করণ?
গ) বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানের ‘পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত সংস্করণের নিবেদন’-এ অভিধানটির সম্পাদক জামিল চৌধুরী এপ্রিল ২০১৬ সংস্করণের কাজকে ‘দ্বিতীয় সংস্করণের কাজ’ বলে দু-দুবার উল্লেখ করেছেন।
ঘ) সংস্করণের নামকরণে অরাজকতা চলছে এবং চলবে?
১১.৫। “সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যমে চলমান বানান বিতর্কে যে বিকল্প বানানের কথা বলা হচ্ছে তা ইতোমধ্যে ‘আধুনিক বাংলা অভিধান’-এর পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত সংস্করণে সংযোজিত হয়েছে।”
তা-ই কি?
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানের পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত সংস্করণে বিরাজমান প্রমাদ ও মুদ্রণপ্রমাদগুলো নিয়ে শুবাচে প্রকাশিত পোস্টগুলো বাংলা একাডেমির এ-দাবির পক্ষে সাক্ষ্য দেয় না।
১১.৬। “বর্তমানেও এ অভিধানটির সংস্করণের কাজ চলমান আছে।”
— এটা একটা সুখবর, যে-জন্য বাংলা একাডেমিকে আমরা ধন্যবাদ জানাই!
১১.৭। “সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যমে চলমান বানান বিতর্কে যে বিকল্প বানানের কথা বলা হচ্ছে তা ইতোমধ্যে ‘আধুনিক বাংলা অভিধান’-এর পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত সংস্করণে সংযোজিত হয়েছে। এ ছাড়াও বহুল ব্যবহৃত শব্দের বিকল্প বানানও এ সংস্করণে যোগ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে দৈনন্দিন ব্যবহারে থাকলেও এখন পর্যন্ত অভিধানে স্থান পায়নি এমন কিছু নতুন শব্দও সংযোজিত হয়েছে।”
—কোন সংস্করণের কথা বলছেন? এপ্রিল ২০১৬-র সংস্করণ? ওটাই তো বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানের পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত একমাত্র সংস্করণ।
দুঃখিত, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানের পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত সংস্করণ নোটিশে উল্লেখ-করা দাবির পক্ষে সাক্ষ্য দেয় না।
১১.৮। “ ‘আধুনিক বাংলা অভিধান’-এর এ সংস্করণটি অচিরেই বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত হবে এবং চলমান বানান-বিতর্কের অবসান ঘটবে- এমনটাই প্রত্যাশা।”
– ও, তা-ই! ওই সংস্করণটি অচিরেই বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত হবে এবং চলমান বানান-বিতর্কের অবসান ঘটাবে। ধন্যবাদ, বাংলা একাডেমি!
ওটা তাহলে বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানের পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত সংস্করণ নয়, ওটা হবে অন্য কোনো সংস্করণ!
দুটো সংস্করণকে একই নামে অভিহিত করা হলে বিভ্রান্তি তো হবেই!
১১.৯। বাংলা একাডেমির ওয়েবসাইট থেকে কপি-পেস্ট-করে নির্মিত সংযুক্ত ছবিতে শ্যেনদৃষ্টি শুবাচি লক্ষ করে থাকবেন নোটিশটির ঠিক মাথার ওপরে লেখা আছে, “সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১৪ জুলাই ২০২০”।
স্বাভাবিক শুবাচি কৌতূহল: প্রমিত বানান ‘সর্ব-শেষ’? এবং ‘হাল-নাগাদ’?

আপনার মনোযোগের জন্য ধন্যবাদ, প্রিয় শুবাচি!
 
 
 
শুবাচিদের কষ্টিপাথরে যাচাই_১২


১২.১। ‘সর্বজনীন’  ‘সার্বজনীন’ ধাঁধায় বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান আরও রহস্য সংযোজন করে বলেছে:
“সর্বজনীন … বি. ১ সর্বসাধারণের জন্য অনুষ্ঠিত, বারোয়ারি। ২ সকলের জন্য মঙ্গলকর বা কল্যাণকর। বি. সর্বজনীনতা …। তুল. সার্বজনীন …।“
এবং
“সার্বজনীন … বিণ. সকলের মধ্যে প্রবীণ বা জ্যেষ্ঠ। তুল. সর্বজনীন …।“

১২.২। ‘সর্বজনীন’ বিশেষ্য? এবং তা থেকে এবং তার সঙ্গে ‘-তা’ যুক্ত করে ‘সর্বজনীনতা’ আরেকটি বিশেষ্য? এবং এ-উভয় বিশেষ্যের (?) সঙ্গে তুলনা করতে হবে ‘সার্বজনীন’ যাকে বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানই বলছে ‘বিশেষণ’?

১২.৩। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান এই একই ব্যাকরণিক ‘তথ্য’ পরিবেশন করেছে তার প্রথম প্রকাশ ফেব্রুয়ারি ২০১৬-তে যেমন, ঠিক তেমনই তার পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত সংস্করণ এপ্রিল ২০১৬-তেও।

১২.৪। আমি যেভাবে বুঝি:
ক) ‘সর্বজনীন’ বিশেষ্য নয়, বরং বিশেষণ; এবং তা থেকে ‘সর্বজনীনতা’ বিশেষ্য;
এবং

খ) ‘সর্বজনীন’ ও ‘সার্বজনীন’ উভয়ই বিশেষণ বলে তাদের একটিকে অন্যটির সঙ্গে নিশ্চয়ই তুলনা করে দেখা যেতে পারে;
কিন্তু,
গ) অভিধানেই কথিত একটি ‘বিশেষ্য’ কীভাবে একটি ‘বিশেষণ’-এর সঙ্গে তুলনীয় হতে পারে তা আমার বোধের বাইরে।

১২.৫। 
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানের প্রত্যাশিত আগামী সংস্করণেও কি বিশেষ্য-বিশেষণের এ-রহস্য বাংলা শিক্ষার্থীদের সামনে অভিধানটির চলমান ধাঁধার অংশ হিসেবে বিরাজ করবে?


১২.৬। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান কবে হবে শিক্ষার্থী-বান্ধব?

আপনাদের মনোযোগের জন্য ধন্যবাদ, প্রিয় শুবাচি!
 
 
খুরশেদ আহমেদের লেখা
 
 
কিছু প্রয়োজনীয় সংযোগ
শুবাচ গ্রুপের সংযোগ: www.draminbd.com
শুবাচ যযাতি/পোস্ট সংযোগ: http://subachbd.com/
আমি শুবাচ থেকে বলছি
 
— — — — — — — — — — — — — — — — —
প্রতিদিন খসড়া
আমাদের টেপাভুল: অনবধানতায়
— — — — — — — — — — — — — — — — —
Spelling and Pronunciation
 
error: Content is protected !!