বাংলা একাডেমি জবাব চাই: বালবাচ্চা: বাল বাল, সব প্রমিত বানান শুদ্ধ নয়

 বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান মতে, হিন্দি উৎসের বাল এবং ফারসি উৎসের বাচ্চা নিয়ে গঠিত বালবাচ্চা(বাল+বাচ্চা) শব্দের অর্থ (বিশেষ্যে) ছোটো ছেলেমেয়ে। বিদেশি উৎসের শব্দের মিলনে জন্ম নেওয়ায় বালবাচ্চা (উচ্চারণ: বাল্‌বাচ্‌চা) অতৎসম শব্দ।
বালবাচ্চা শব্দের গঠনে বিদ্যমান বাল শব্দটিকে হিন্দি উল্লেখ করা হলেও বর্ণিত অভিধানে বাল বানানের কোনো হিন্দি শব্দ নেই। আছে একটি তৎসম বা সংস্কৃত বাল। ওই অভিধান মতে, তৎসম/সংস্কৃত বাল(বল্‌+অ) অর্থ (বিশেষ্যে) বালক, শিশুকিশোর। প্রসঙ্গত, বালবাচ্চার বাল শব্দের সঙ্গে তৎসম বাল শব্দের অর্থ অভিন্ন।
সংস্কৃত বাল শব্দের সঙ্গে সংস্কৃত কাণ্ড কৃষ্ণ ক্রীড়া গর্ভিণী গোপাল চর্যা চাপল্য বিধবা বৈধব্য ভোগ ভোগ্য রোগ শশী সুলভ সূর্য প্রভৃতি যুক্ত হয়ে গঠন করেছে যথাক্রমে বালকাণ্ড বালকৃষ্ণ বালক্রীড়া বালগর্ভিণী বালগোপাল বালচর্যা বালচাপল্য বালবিধবা বালবৈধব্য বালভোগ বালভোগ্য বালরোগ বালশশী বালসুলভ বালসূর্য প্রভৃতি তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ। এতগুলো শব্দের সঙ্গে সংস্কৃত বাল যুক্ত করা হলেও বালবাচ্চা শব্দে কেন হিন্দি বাল দেখানো হলো তা বোধগম্য নয়। অভিধানে তো হিন্দি বালের কোনো অস্তিত্ব দেখলাম না!
এ অবস্থায়, বালাবাচ্চা শব্দের বানানে হুট করে হিন্দি বাল কোত্থেকে চলে এলো? সংস্কৃতে কি বালের অভাব? বালবাচ্চা বানানের বাল শব্দকে অভিধানে হিন্দি বলা হয়েছে কেন? এটা কি মুদ্রণপ্রমাদ? যদি মুদ্রণপ্রমাদ হয়ে থাকে তাহলে পাঁচ বছরেও ঠিক করা হয়নি কেন? নাকি ফারসি ‘বাচ্চা’র সঙ্গে মিলিত হয়েছে বলে অলৌকিক মহিমায় অভিধানের বাইর হতে হিন্দি বাল নিয়ে আসা হয়েছে? কী জবাব দেবেন বাংলা একাডেমি?

বাংলা একাডেমি জানতে চাই, আক্কেল থাকে কোথায়?

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানের ১২৬ পৃষ্ঠায় আকল ভুক্তিতে বলা হয়েছে— বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত আকল আরবি শব্দ। অর্থ— বুদ্ধি, জ্ঞান। আকল হতে উদ্ভূত আকলমন্দি শব্দেও বুদ্ধিমত্তা অর্থে বলা হয়েছে আকল আরবি উৎসের শব্দ। ১২৮ পৃষ্ঠায় আক্কেল ভুক্তিতেও বলা হয়েছে আকল আরবি শব্দ। অন্যদিকে, একই অভিধানের ১২৬ পৃষ্ঠায় বিদ্যমান আকলমন্দ ভুক্তিতে বুদ্ধিমান অর্থে উল্লেখ করা হয়েছে — আকল সংস্কৃত শব্দ। অথচ, বর্ণিত অভিধানে জ্ঞান ও বুদ্ধি অর্থে আকল বানানের কোনো সংস্কৃত শব্দের অস্তিত্ব নেই।
বাংলা একাডেমি দয়া করে বলবেন কি আকল প্রকৃতপক্ষে কোন উৎসের শব্দ? এটি কি মুদ্রণপ্রমাদ? মুদ্রণপ্রমাদ হলে ঠিক করা হয়নি কেন? এর মধ্যে একাধিক সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। আমাদের এত বিভ্রাটে রাখার কারণ কী?

সব প্রমিত বানান শুদ্ধ নয়

কাণ্ডকারখানা ও গন্ডগোল অতৎসম। দুটোই মিশ্রশব্দ। কিন্তু একটিতে ণ আর আর একটিতে ন। কারণ কী ? ‘বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান’ মতে দুটোই প্রমিত, কিন্তু দুটোই কি শুদ্ধ? তাহলে একটিতে ন এবং আর একটিতে ণ কীভাবে?
প্রমিতের তালিকায় এমন অনেক শব্দ আছে যাতে ণ ষ ন-এর কোনো ব্যাকরণিক ব্যাখ্যা নেই। অথচ, শব্দগুলো প্রমিত। যেমন: কেষ্ট, খ্রিষ্টাব্দ, খ্রিষ্ট, বিষ্টু, মইষা, ষোলো, ষড়যন্ত্র, ষাট, ষাঁড়, ষণ্ডা সবগুলো অতৎসম কিন্তু ষ।
ষণ্ডা, ভণ্ডামি, বর্ণা, বর্ণালি, বর্ণিল, বর্ণানুক্রমে প্রভৃতি অতৎসম কিন্তু ণ। অথচ এক্ষুনি বানানে ন। এছাড়া এমন আরও অনেক শব্দ রয়েছে। ড. মোহাম্মদ আমীনের ভাষায় এগুলো হিজড়া শব্দ।

বাংলা একাডেমি জবাব চাই

গুণ্ডা না কি গুন্ডা?
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানের (পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত
সংস্করণের তৃতীয় পুনর্মুদ্রণ, এপ্রিল ২০১৮) ৪০৬ পৃষ্ঠায় গুন্ডা ভুক্তিতে বলা হয়েছে: দেশি `গুন্ডা’ অর্থ— (বিশেষ্যে) দুর্বৃত্ত, বদমাশ। দেশি হিসেবে গুন্ডা শব্দের বানান লেখা হয়েছে ন-য়ে ড (গু+ন্‌+ডা) যুক্ত করে । পরের ভুক্তি গুন্ডামি। এই বানানও লেখা হয়েছে যথারীতি ন-য়ে ড দিয়ে।
কিন্তু, একই গ্রন্থের ১২৬১ পৃষ্ঠায় ষণ্ডা ভুক্তিতে লেখা হয়েছে: বাক্যে বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত সংস্কৃত ষণ্ড থেকে উদ্ভূত ষণ্ডা শব্দের অর্থ— (১)বলবান,পালোয়ান,বলিষ্ঠ, (২) গোঁয়ার (৩) গুণ্ডা। এখানে গুণ্ডা (গু+ণ্+ডা) বানান লেখা ণ-য়ে ড দিয়ে। অন্যদিকে, ষণ্ডা, ষণ্ডামর্ক, ষণ্ঢ প্রভৃতি অতৎসম শব্দকে অতৎসম বলা হলেও বানান লেখা হয়েছে ণ বর্ণ দিয়ে।
কিন্তু কেন? কোনটি সঠিক? এটি কি মুদ্রণপ্রমাদ? আমরা কী বুঝব?
জানা অজানা অনেক মজার বিষয়: https://draminbd.com/?s=অজানা+অনেক+মজার+বিষয়
শুবাচ গ্রুপের সংযোগ: www.draminbd.com
শুবাচ যযাতি/পোস্ট সংযোগ: http://subachbd.com/
আমি শুবাচ থেকে বলছি
error: Content is protected !!