বাংলা কি সিয়েরা লিওন-এর দ্বিতীয় রাষ্ট্র ভাষা?

ড. মোহাম্মদ আমীন

বাংলা কি সিয়েরা লিওন-এর দ্বিতীয় রাষ্ট্র ভাষা?

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ সিয়েরা লিওনের একমাত্র দাপ্তরিক বা রাষ্ট্রীয় ভাষা ইংরেজি ।”২০১৭ খ্রিষ্টাব্দের ২১শে ফেব্রুয়ারি ‘দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ এবং ২৩শে ফেব্রুয়ারি ‘বাংলা ট্রিবিউন’ সিয়েরা লিওনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ তেজান কাব্বাহ ২০০২ খ্রিষ্টাব্দে  বাংলাকে সিয়েরা লিওনের অফিসিয়াল ভাষা হিসেবে ঘোষণা করেন মর্মে সংবাদ প্রকাশ করেন।”সূত্র: dubawa.org অথচ এই সংবাদের কোনো ভিত্তি, সূত্র বা দলিল ছিল না।আমার জ্ঞানমতে, এমন কোনো তথ্য বাংলাদেশ সরকারের জানা নেই। অথচ, ১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর থেকে

বাম থেকে মোস্তফা ফারুক মোহাম্মদ, ড. মোহাম্মদ আমীন

আমি প্রশাসনে কাজ করে আসছি। এরূপ কোনো প্রস্তাব বাংলাদেশ সরকার কখনো সিয়েরা লিওন সরকারের কাছে পাঠায়নি। পাঠাবেনই বা কেন? এমন কোনো হেতুর তো উদ্ভব হয়নি। আর সিয়ের লিওন সরকারই বা বাংলাকে কেন রাষ্ট্রভাষা করতে যাবে? ওখানকার কেউ তো বাংলায় কথা বলে না। এত গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে বা সরকারিভাবে কখনও কিছু বলা হয়েছেএমন কিছু আমার জানা নেই।

.
জনাব Morshed Alam এর ‘বাংলা সিয়েরা লিওন-এর দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা নয়’ শিরোনামের যযাতির পরিপ্রেক্ষিতে শুবাচে বিষয়টি আলোচনায় আসে। আলোচনা এবং মন্তব্য-প্রতিমন্তব্যের এক পর্যায়ে বিভিন্ন উপায়ে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করি। আমার ঘনিষ্ঠ স্বজন এবং বিশ্বস্ত মাধ্যম ও সূত্রে সিয়েরা লিওনে খবর নিয়ে জানতে পারি— তাদের রাষ্ট্রভাষা দুটি। একটি ইংরেজি এবং অন্যটি ক্রিয়ো। তবে ইংরেজি ভাষাই বহুল প্রচলিত। বাংলা ওই দেশের রাষ্ট্রভাষা এটি ঠিক নয়। শুবাচের অন্যতম সঞ্চালক প্রমিতা তার গবেষণার অংশ হিসেবে সিয়েরা লিওনের ত্রাণমিশন বীক্ষণ করতে গিয়েছিল। তার অভিমত, “বাংলা সিয়েরা লিওনের রাষ্ট্রভাষা— এটি হাস্যকর। নিশ্চয় কেউ উপহাস করে বলেছে। বাংলা সিয়েরা লিওনের রাষ্ট্রভাষা নয়। সে নিশ্চিত করেছে, “এমন কোনো ঘোষণা সম্পর্কে সিয়েরা লিওনের কেউ অবহিত নন।” শুবাচের অন্যতম অ্যাডমিন মিশুর মন্তব্যও অনুরূপ।
.
এই প্রসঙ্গে, শুবাচের অন্যতম উপদেষ্টা জনাব খুরশেদ আহমদের মন্তব্য পরিষ্কার। শুবাচে তিনি মুরশেদ আলমের যযাতিতে মন্তব্য জানালায় লিখেছেন,
“২০১৫ সালে আমি সিয়েরা লিওনে বেড়াতে গেছি। আমার বউ তখন—ইবোলা মহামারির সময়— ইউএনউইমেন সিয়েরালিওনে কাজ করে। ওদেশে বাংলা ভাষার সরকারি মর্যাদা সম্পর্কে ওখানকার লোকজনদের জিজ্ঞেস করেছি। প্রশ্নটি শুনে ওরা আকাশ থেকে পড়েছে। এ-ব্যাপারে ওরা কিছুই জানে না। ওটা পাকিস্তানি এক ওয়েবসাইটের বানানো গুজব মাত্র, যা এখন পল্লবিত হয়ে উইকিপিডিয়া ও বাংলাদেশের পাঠ্য বইকেও সংক্রমিত করেছে।ভাইরাস সম্পর্কে সতর্ক থাকুন— সেটা ইবোলা হোক, করোনা হোক, কিংবা হোক পাকিস্তানি ভাইরাস!”
.
“বাংলা ভাষাকে সিয়েরা লিওনের দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতির দাবিটির সত্যতার খোঁজে ইন্টারন্যাশনাল ফ্যাক্টচেকিং নেটওয়ার্ক (আইএফসিএন)-স্বীকৃত পশ্চিম আফ্রিকাভিত্তিক ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠান দুবাওয়ার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। দুবাওয়া নাইজেরিয়া, ঘানা, সিয়েরা লিওন, লাইবেরিয়া ও গাম্বিয়ায় কার্যক্রম পরিচালনা করে। ‘সিয়েরা লিওন’-এর সরকারি ভাষার স্বীকৃতি নিয়ে ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দের মার্চে দুবাওয়া একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে স্বাধীন হওয়া দেশটির মানুষ ২০টিরও অধিক ভাষায় কথা বলে। তবে এর কোনোটিই দেশটির সরকারি/দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে ব্যবহার হয় না। দেশটির স্বীকৃত রাষ্ট্রীয় বা দাপ্তরিক ভাষা ইংরেজি। বাংলা ভাষার স্বীকৃতি নিয়ে দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট প্রয়াত আলহাজ্ব আহমেদ তেজান কাব্বাহর বক্তব্যের বিষয়ে কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায় না। তথ্যটির সত্যতা যাচাইয়ে দুবাওয়া সিয়েরা লিওনের রাজধানী কেন্দ্রিক ভাষা নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ‘দ্য ইনস্টিটিউট ফর সিয়েরা লিওনিয়ান ল্যাঙ্গুয়েজেস (টিআইএসএলএল)’-এর প্রোগ্রাম ডিরেক্টর লামিন এইচ কার্গবুয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তিনি বলেন, বাংলাকে কখনো সিয়েরা লিওনের সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।
.
‘সিয়ের লিওন’-এর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আলহাজ্ব আহমেদ তেজান কাব্বাহ কর্তৃক বাংলাকে সিয়েরা লিওনের সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে তাঁর অভিমত জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “বিষয়টি  আমি অবগত। প্রেসিডেন্ট কাব্বাহ বাংলাকে সিয়েরা লিওনের ভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার বা স্বীকৃতি দেওয়ার ব্যাপারে বলেছিলেন। কিন্তু সেটি সরকারি ভাষা হিসেবে নয়। আরও বিশের অধিক ব্যবহৃত ভাষার মতো। প্রসঙ্গত, তিনি আরও বলো, ‘‘দেশটির গৃহযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সরকারের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ  এমন মন্তব্য করেছিলেন। তবে কখনোও বাংলাকে সিয়েরা লিওনের সরকারি ভাষা হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়নি। প্রেসিডেন্ট কাব্বাহ এমন স্বীকৃতি দিয়েছেন ধরে নেওয়া হলেও, সিয়েরা লিওনে বাংলা স্বীকৃত ভাষা হিসেবে গৃহীত হয়নি এবং দেশটির কোথাও বাংলা ব্যবহৃত হয় না।” সূত্র: দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস।
.

“বাংলা সিয়েরা লিওন’-এর রাষ্ট্রীয় ভাষা” এটি একটি গুজব। গুজবে কান দিলেও কানে গুজব দিয়ে নিজের কান এবং অস্তিত্বকে গুজব বানিয়ে ফেলবেন না। বাংলা এমন একটি বিশ্ববিস্তৃত ও অপরিসীম সৃজনশীলতার অধিকারী ভাষা, যার মর্যাদা ‘সিয়েরা লিওন’-এর দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা হওয়া বা না হওয়ার ওপর নির্ভর করে না। বাংলা তার সৃষ্টিতে এতই সমুজ্জ্বল যে, যে-কোনো বিবেচনায় সে অতুলনীয়।

বাংলা আমার মাতৃভাষা,
এটাই আমার তৃপ্তি-গরব উল্লসিত ভালোবাসা।

Leave a Comment

You cannot copy content of this page

poodleköpek ilanlarıankara gülüş tasarımıantika alanlarPlak alanlarantika eşya alanlarAntika mobilya alanlarAntika alan yerlerpoodleköpek ilanlarıankara gülüş tasarımıantika alanlarPlak alanlarantika eşya alanlarAntika mobilya alanlarAntika alan yerler
Casibomataşehir escortjojobetbetturkeyCasibomataşehir escortjojobetbetturkey