বাংলা প্রচলিত বিদেশি শব্দের অভিধান: বিদেশি শব্দের অভিধান: প্রাদেশিক শব্দ; ইঙ্গ-ভারতীয় শব্দ

ড. মোহাম্মদ আমীন

 

বাংলায় প্রচলিত বিদেশি শব্দের অভিধান: বিদেশি শব্দ: প্রাদেশিক শব্দ: ইঙ্গ-ভারতীয় শব্দ

[খসড়া; সংশোধনের কাজ চলছে]

বাংলায় প্রচলিত বিদেশি শব্দের অভিধান
বাংলায় প্রচলিত বিদেশি শব্দের অভিধান  লিংক:

ভূমিকা

বাংলা ভাষায় মোট শব্দ-সংখ্যা প্রায় একলক্ষ পঁচিশ হাজার। তন্মধ্যে প্রায় পঞ্চান্ন হাজার তৎসম শব্দ, প্রায় আড়াই হাজার আরবি-ফারসি শব্দ, চারশ তুর্কি শব্দ, আটশো ইংরেজি শব্দ এবং প্রায় দেড়শো পর্তুগিজ ও ফরাসি শব্দ। তাছাড়া, কিছু অন্য বিদেশি শব্দ রয়েছে। বাকিগুলি তদ্ভব ও দেশী শব্দ।

বাণিজ্যিক, রাজনীতিক, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও রাষ্ট্রীয় যোগাযোগের কারণে কালের পরিক্রমায় বহু আরবি, ফারসি, ইংরেজি, ফরাস, পর্তুগিজ, ওলন্দাজ, তুকি, চিনা, জাপািন, বর্মি ও রুশ শব্দ বাংলা ভাষায় প্রবেশ করেছে। এগুলিকে বিদেশি শব্দ বলা হয়। অতীত কালের ঘটনাপ্রবাহের কারণে বহু আরবি ও ফারসি বাংলা ভাষার শব্দভাণ্ডারে যুক্ত হয়েছে। ১২০১ খ্রিষ্টাব্দে তুর্কী-বিজয় হতে বাংলায় ফারসি শব্দের প্রবেশ ঘটতে শুরু করে। নানা প্রকার আদান-প্রদান, ব্যবসায়-বাণিজ্য, রাষ্ট্রাচার, ধর্মপ্রচার, শিক্ষা, পরিচয় প্রভৃতির ফলে গ্রিক ও ল্যাটিন ভাষা হতেও কিছু শব্দ বাংলায় যুক্ত হয়েছে। ষোড়শ শতাকে বাংলাদেশে পর্তুগিজদের আগমন ঘটে। ফলে এসময় বহু পর্তুগিজ শব্দ বাংলার শব্দভাণ্ডারে যুক্ত হতে থাকে। অষ্টাদশ শতাব্দীতে ফরারি ও ওলন্দাজরা বাণিজ্য ও দেশ বিজয়ের জন্য এদেশে এখানে অনুপ্রবেশ করে। ফলে তাদেরও কিছু কিছু শব্দ বাংলা ভাষার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে মিশে যায়। ইংরেজ আগমনের ফলে বাংলা ভাষার শব্দভাণ্ডারে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। দুশত বৎসর ইংরেজ রাজত্বের ফলে প্রচুর ইংরেজি শব্দ নানাভাবে বাংলাভাষীর দৈনন্দিন জীবনের কথ্যভাষার সঙ্গে মিশ্রিত হয়ে যায়। এ গ্রন্থের প্রথম অধ্যায়ে বালায় ব্যবহৃত এরূপ বিদেশি শব্দের তালিকা সংযোজন করা হয়েছে।

বাংলায় মিশ্র শব্দ বলে একজাতীয় শব্দ আছে। তৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের মধ্যে যেকোনো এক শ্রেণির শব্দের সঙ্গে অপর শ্রেণির

ড. মোহাম্মদ আমীন

শব্দ বা প্রত্যয়াদির সংযোগে গঠিত শব্দকে মিশ্র শব্দ বা সংকর শব্দ বলা হয়। যেমন : দেশি + বিদেশি হাট-বাজার, কাজ-কারবার; বিদেশি + দেশি  মাস্টার-মশাই, ডাক্তারবাবু, আইনসঙ্গত, হেড-পণ্ডিত। বিদেশি + বিদেশি  কোর্ট-কাছারি, হেড-মৌলবি, মাস্টার-সাহেব। বিদেশি প্রত্যয়যুক্ত মিশ্র শব্দ পণ্ডিতগিরি, বাড়িওয়ালা, নস্যদান। বিদেশি উপসর্গযুক্ত মিশ্র শব্দ বে-ফাঁস, বে-হাত, গরমিল। পত্তনিদার [পত্তনি (দেশি শব্দ) + দার (ফরাসি তদ্ধিত প্রত্যয়], চশমা-অলকৃত [চশমা (ফারসি) + অলকৃত (তৎসম)] প্রভৃতি। অনেকে এগুলোকেও বিদেশি শব্দ হিসেবে গণ্য করে থাকেন।

বিদেশি শব্দের ন্যায় বাংলায় বহু ভারতবর্ষীয় প্রাদেশিক শব্দও যুক্ত হইয়াছে। এগুলোকে বাংলায় প্রচলিত বিভিন্ন প্রাদেশিক শব্দ বলা হয়। শব্দ গ্রহণের অবিরাম প্রক্রিয়ার কারণে হিন্দি, গুজরাটি, মারাঠি ইত্যাদি নানা প্রাদেশিক ভাষার অনেক শব্দ বাংলার সঙ্গে মিলিত হয়েছে। কিন্তু বাংলায় এদের সংখ্যা ও প্রভাব বিদেশ হতে আগত শব্দের চেয়ে অনেক কম। এই গ্রন্থের দ্বিতীয় ভাগে এরূপ প্রাদেশিক শব্দের একটি তালিকা যুক্ত করা হয়েছে।

১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ হতে শুরু করে বিংশ শতক পর্যন্ত নানা সময়ে যুদ্ধের বিভিন্ন ঘটনা পরম্পরায় বহু বাংলা শব্দের উদ্ভব ঘটেছে। শুধু তাই নয়, এখনো অনেকে নিত্যনতুন শব্দ করে বাক্যচয়ন করে চলেছে। যা বাংলার শব্দভাণ্ডারকে নানাভাবে সমৃদ্ধ করছে। এসব নূতন শব্দের কিছু ইংরেজি বা বিদেশি শব্দ হতে বাংলায় রূপান্তরিত হচ্ছে আবার কিছু শব্দ সম্পূর্ণভাবে নতুন বাংলা শব্দ হিসেবে উদ্ভব ঘটছে। মূলত যুদ্ধের ও যুদ্ধোত্তর কালে সৃষ্ট নূতন ভাব, নূতন বিষয় ও পরিস্থিতিতে প্রকাশ করার জন্য শব্দের উদ্ভব হয়েছে। যুদ্ধের পর বিভিন্ন প্রচার মাধ্যম ও আলাপচারিতার মাধ্যমে অসংখ্য নূতন শব্দ বাংলা ভাষার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। প্রয়োজনের তাড়নায় যেমন বহু নতুন জিনিস আবিষ্কৃত হয়,  তেমনি যুদ্ধকালীন এবং যুদ্ধোত্তরকালীন বহু প্রয়োজনে নতুন ভাব প্রকাশের জন্য বিভিন্ন নতুন কথার সৃষ্টি হয়েছে। যেসব জিনিস ও পরিস্থিতি প্রকাশের জন্য কোনো বাংলা প্রতিশব্দ ছিল না, সেসব জিনিস ও পরিস্থিত সুস্পষ্টভাবে প্রকাশের জন্য এসব নতুন শব্দের সৃষ্টি অত্যাবশ্যক হয়ে উঠেছিল। যার ফলে এমন যুদ্ধোত্তর নতুন বাংলা শব্দের উদ্ভব ঘটে। যা এখনও চলছে এবং অবিরাম চলবে। এই গ্রন্থের তৃতীয় ভাগে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ হতে শুরু করে পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধকালীন সৃষ্ট কিছু প্রচলিত শব্দের তালিকা দেওয়া হয়েছে।

আশা করি যারা বাংলায় ব্যবহৃত বিদেশি শব্দের তালিকা এক জায়গায় দেখতে চানা তাদের জন্য এটি একটি কার্যকর সংগ্রহ হিসেবে বিবেচতি হবে।

ড. মোহাম্মদ আমীন

১৩৮ নিউ সার্কুলার রোড, ঢাকা।

 

সূচিপত্র

প্রথম ভাগ

বাংলায় প্রচলিত বিদেশি শব্দ

আরবি

ফারসি

ইংরেজি

পর্তুগিজ

ফরাসি

ডাচ (ওলন্দাজ)

ল্যাটিন

হিব্রু

রুশীয়

জাপানি

চিনা

বর্মি

তিব্বতি

তুর্কি

গ্রিক

 

দ্বিতীয় ভাগ

বাংলায় প্রচলিত প্রাদেশিক শব্দ

হিন্দি

গুজরাটি

তামিল

মারাঠি

 তেলেগু

পসতু

 কোল

ওড়িয়া

মালয়ালম

আসামি

মুন্ডা

তৃতীয় ভাগ

ইঙ্গ-ভারতীয় শব্দ

চতুর্থ ভাগ

যুদ্ধোত্তর নূতন বাংলা কথা

ক্রমশ: পরের পৃষ্ঠা হতে মূল অভিধান শুরু পরবর্তী পৃষ্ঠার ওপর ক্লিক করুন

পরবর্তী পৃষ্ঠায়: বাংলায় ব্যবহৃত আরবি শব্দের তালিকা (অ-ন)

 

প্রথম ভাগ

আরবি: বাংলায় ব্যবহৃত আরবি শব্দের তালিকা

বাংলায় ব্যবহৃত আরবি শব্দের তালিকা (অ-ঔ)

অকু (ব্কু): ঘটনা (নিন্দা-অর্থে), ঘটনার স্থান।

অছি (বসী): অভিভাবক; সম্পত্তির পরিচালক।

অছিলা (বসীলা): ছুতা; জল।

অজু (বজু): মুসলমানদের নমাজ পড়িবার পূর্বে হাত-পা ধোওয়া।

আওরৎ (আওরৎ): স্ত্রী; নারী।

আকছার (অর্ক্স): প্রায়ই; যখন-তখন; হামেশা।

আক্কেল (আকল্): কাণ্ডজ্ঞান; বুদ্ধি।

আখ্বার (আখ্বার): খবরের কাগজ।

আখের (আখীর): পরিমাণ; শেষ-দশা।

আজব (অজব্): আশ্চর্য; অদ্ভুত।

আজান (আজান): নমাজের জন্য সকলকে আহ্বান।

আতর (ইর্ৎ): ফুলের নির্যাস।

আদল (আদৎ): অভ্যাস; আসল; খাঁটি।

আদব (আদব্): শিষ্টাচার; অভ্রতা।

আদম (অদম্): প্রথম সৃষ্ট মানুষ।

আদমসুমার (আ + ফা): লোকগণনা।

আদমী (আদম্): মানুষ।

আদাব (আদাব্): মুসলমানী নমস্কার; অভিবাদন।

আদায় (আদা): উসুল; সংগ্রহ।

আদালত (আদালত্): বিচারালয়।

আমলা (আমিল্): কেরানি।

আফিম (আফ্য়িুন): অহিফেন।

আবওয়াব (আবওয়াব): নির্ধারিত খাজনার অতিরিক্ত দেয় কর।

আম (আম্): সাধারণ; সর্বসাধারণের।

আমল (আমল্): রাজত্বকাল; বিশেষ এক যুগ।

আমলা (আমল্): নিন্মপদের কর্মচারী; কেরানি।

আমানত (আমানৎ): গচ্ছিত টাকা; জমা দেওয়া অর্থ।

আমিন (অমীন্): জমি জরিপকারী।

আমীর (আমীর)রশাসনকর্তা; ধনী মুসলমান।

আয়ে (আয়েস্)রনির্যাস; রস।

আরজ (আরফ্): আবেদন।

আরজি (অরজ্): দরখাস্ত; আবেদন।

আলখাল্লা (আল্খালিক্): লম্বা ঢিলা জামা।

আলতারাফ (আলতফ্): বাক্সের ডালায় লাগাইবার জন্য খিল বা আটাবিশেষ।

আলবৎ (আল্বত্তাহ্): ক্ষাস্তবিক; নিশ্চয়; অবশ্য।

আলম (ইলম্): বিদ্বান্ লোক।

আলাদা (আলাহিদা): ভিন্ন; পৃথক্।

আল্লা (আল্লাহ্): ঈশ্বর; খোদা।

আলিম (আলেম): বিদ্বান্ ।

আলেকুম (আলেকুম) নমস্কার।

আলোয়ান (আল্ওয়ান্): পশচী চাদর।

আসবাব (আসবাব্): গৃহসজ্জার জিনিসপত্র।

আসল (আস্ল্): খাঁটি; বিশুদ্ধ।

আসামী (আস্মা): অভিযুক্ত ব ্যক্তি।

আহাম্মক (আহ্মক্): বোকা; নির্বোধ।

আস্তাবল (ইস্ত্বল্) : অশ্বশালা।

ইজ্জত (ইজ্জত): মান; সম্ভ্রম।

ইজারা (ইজারা): নির্দিষ্ট খাজনায় জমির বন্দোবস্ত; ঠিক।

ইত্তিলা (ইৎ-ত্লা): খবর; সংবাদ।

ইনসাফ (ইন্সাফ্): সুবিচার।

ইনাম (ঈনাম্): পুরষ্কার।

ইন্তিজাম (ইন্তিযাম্): সুবন্দোবস্ত ব্যবস্থা।

ইন্তিজার (ইন্তির্জা): অপেক্ষা; প্রতীক্ষা।

ইমান (ঈমান): ধর্মবিশ্বাস; বিবেক।

ইমাম (ইমাম্): মুসলমান ধর্মগুরু; নেতা।

ইমারত (ইমারৎ): পাকাবাড়ি; দালান।

ইলাকা (ইলাকা): সীমাদ অধিকার।

ইলাহী (ইলাহি): উচ্চ; মহান্; বিরাট্।

ইল্লৎ (ইল্লৎ): নোংরামি।

ইশারা (ইশারাহ্): ইঙ্গিত; সঙ্কেত।

ইসলাম (ইস্লাম)মুসলমান ধর্ম।

ইস্তফা (ইসত্আফা)কাজ ছাড়িয়া দেওয়া; শেষ।

ইস্তাহার (ই্তির্হা): বিজ্ঞাপন; ঘোষণা পত্র।

 

ঈদ (ইদ): মুসলমানদের প্রধান পর্ব দিন।

ঈদগা (ঈদগাহ্): মুসলমানদের সাধারণ প্রার্থনাস্থান।

ইস্তমাল (ইস্তামাল্): অভ্যাস; অনুশীলন।

উকালতনামা (আ-বকালৎ + ফা-নামাহ্): উকিলের পক্ষাবলম্বন।

উকিল (ব্কিল): আইন-ব্যবসায়ী।

উজির (ব্‌জির) : মন্ত্রী; অমাতা।

উজু (ব্‌জু): মুসলমানদের শাস্ত্রীয় আচমন।

উমদা (উমদ্হ্): উত্তম; সুন্দর।

উমর (উম্র্): বয়স।

উসুল (বুসুল): আদায়; প্রাপ্তি।

একবার (ইকরার: স্বাীকার; কবুল।

এখতিয়ার (ইখ্তির্য়া):  ক্ষমতা; অধিকার।

এজমালি (ইজ্মালী): একাধিকগণের ভোগ্য।

এজলাস (ইজ্লাস্): বিচারালয়।

এজাহার (ইজার্হা): সাক্ষ্য।

এন্তাজারি, এন্তেজারি (ইর্ন্ত্জা): ভরসা; অধীনতা।

এতিমখানা (য়তীমখানা): অনাথ-আশ্রম।

এত্তেলা ইৎত্লা): সংবাদ; খবর।

এলেম (ইল্ম্): জ্ঞান; বিদ্যা।

এসরাজ (ইস্রাজ্): সেতার ও সারেঙ্গীর মিশ্রণে তারের যন্ত্র।

ওক্ত (বখ্ৎ): সময়।

ওকালতনামা (বকালৎনামহ্): উকিল নিয়োগের পত্র।

ওকালতি (ব্কালৎ) (আ + ফা):  উকিলের কাজ।

ওজন (বজন্): ভার; তৌল করা।

ওজর (উজর্‌): আপত্তি; ছল।

ওমরা (উম্‌রাহ): উচ্চপদস্থ ব্যক্তি।

ওয়াকিফহাল (বাকিফ + হাল): যে অবস্থা জ্ঞান আছে।

ওয়াজিব (বাজিব্): ন্যায্য; স্পষ্ট; ঠিক।

ওয়াদা (বাদাহ্): মেয়াদ, নির্দিষ্ট সময়।

ওয়ারিস (বারিস্): উত্তরাধিকারী।

পরবর্তী পৃষ্ঠা  বাংলায় ব্যবহৃত আরবি শব্দের তালিকা (ক-ন)

Language
error: Content is protected !!