বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন : চুম চুমা চুমু এবং চুমো

চুম চুমা চুমু এবং চুমো
সংস্কৃত ‘চুম্ব’ থেকে উদ্ভূত ‘চুম’ শব্দের অর্থ ওষ্ঠাধর দিয়ে স্পর্শন, চুমু। একইভাবে সংস্কৃত ‘চুম্ব’ থেকে সৃষ্ট ‘চুমা’ শব্দের অর্থ চুমু। ‘চুমো’— শব্দের অর্থ চুমু এবং চুম্ব শব্দের অর্থও চুমো। ‘চুমো’ মূলত চলিত ভাষায় ব্যবহৃত, ‘চুমা’ সাধু ভাষা আর পদ্যে ব্যবহৃত হয়। পদ্যে ব্যবহৃত হলেও ‘চুমা’ শব্দের শেষ বর্ণের টান চুমোর মতো স্বল্প পরিসরের ফাঁকে মধুরভাবে বেশিক্ষণ ধরে রাখা যায় না, আদর্শ চুমোয় ঠোঁটের যে ফাঁক রাখতে হয় তার  চেয়ে ফাঁকটা বেশি হয়ে যায়, তাই তাড়াতাড়ি ছেড়ে দিতে হয়। সেজন্য সাধু জনের ‘চুমা’য় ‘চুমো’র মতো নিবিড় মজা পাওয়া যায় না। সাধুরা হুট করে যেখানে সেখানে কাজটি সেরে নিতে পারে। সাধারণ মানুষের কাজটি করতে নিবিড় মমতার মতো নিবিড় জায়গাও লাগে। ‘চুমু’ হলো কথ্যভঙ্গির শব্দ। কেবল চলিত ভাষাতেই শব্দটির ব্যবহার দেখা যায়, তবে তেমন বহুল নয়। চুম, চুমু, চুমা এবং চুমো শব্দের মধ্যে ‘চুমো’ শব্দটি উত্তম। উচ্চারণে ঠোঁট ‍দুটো একদম চুমোর মতো মতো স্বল্প পরিসরের ফাঁক হয়ে জড়িয়ে রাখে নিবিড় মমতায়।

 লিঙ্গ(জেন্ডার) বনাম পদবি
পদবি বা পদমর্যাদা বোঝানোর জন্য স্ত্রীবাচক শব্দ ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। একসময় সংস্কৃতের অনুসরণে এটির বহুল ব্যবহার দেখা যেত। মনে রাখা প্রয়োজন— পদবির বসতি চেয়ারে, তাই চেয়ারের মতো পদবিও সর্বদা লিঙ্গবিহীন রাখা সমীচীন। পদবি একটি ধারণা মাত্র, কোনো জীব নয়। ধারণার লিঙ্গ রাখা উচিত নয়। তাই বাংলায় পদের নাম প্রকাশে লিঙ্গজ্ঞাপক শব্দ বা লিঙ্গজ্ঞাপক-প্রত্যয় ব্যবহার বিধেয় নয়। উদাহরণ : শিক্ষিকা নয় শিক্ষক; অধ্যাপিকা নয় অধ্যাপক; রাষ্ট্রপত্নী নয়, রাষ্ট্রপতি; রাষ্ট্রনায়িকা নয়, রাষ্ট্রনায়ক। পদবিধারী ব্যক্তি পুরুষ কিংবা মহিলা যেই হোক না কেন কেবল মূল পদ-নামটিই লেখায় যথেষ্ট। যেমন: ম্যাজিস্ট্রেট, ব্যারিস্টার, ইঞ্জিনিয়ার, অধ্যক্ষ, সচিব, সুপার, পাইলট, প্রধানমন্ত্রী, ডাক্তার, অফিসার, ব্যবসায়ী ইত্যাদি। তবে, মহিলা চিত্রশিল্পীকে চিত্রনায়িকা না-বলে চিত্রনায়ক বললে কেমন কেমন জানি লাগে।


বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন এবং কেন লিখবেন

বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন 

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র

কীভাবে হলো দেশের নাম

 

 

error: Content is protected !!