বাংলা বানান: দেখুন কত ভুল: ভুল বানান

রাশিদা আকতার মিশু
নিচের লেখাটি শুদ্ধ বানান চর্চা (শুবাচ) গোষ্ঠীতে জনেক/জনৈক শুবাচি পাঠিয়েছেন। ভুল বা মুদ্রণপ্রমাদগুলো চিহ্নিত করা হলো।
একুশে ফেব্রুয়ারি আসলে> এলে আমরা ছেলেরা সাদা পাঞ্জাবি আর মেয়েরা লাল-সাদা শাড়ি পরে আর হাতে-মাথায়-কাঁধে-মগজে নানান রকম ফুল দিয়ে সাজি; অথচ, বাংলায় কথা বলতে লজ্জা লাগে। হ্যাঁ, ঠিক তাই; বাংলায় কথা বলতে আমাদের লজ্জা লাগে। আমাদের ভায়েরা> ভাইয়েরা একুশ ফেব্রুয়ারিতে রক্ত দিয়েছে ভাষার জন্য। এ কথা আমরা দেশে বিদেশে বলে বেড়াই, গর্ব করি, অহংকার করি। কিন্তু একুশে ফেব্রুয়ারি কে> ফেব্রুয়ারিকে  বলি 21st February, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে বলি IMLD; কেনো?> কেন?
একুশ ফেব্রুয়ারিতে> একুশে ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠান দেখছিলাম, উপস্থাপকের মুখে প্রতি ১০০ টি শব্দের ভেতর ৪৫ টি ইংরেজি, ১৫ টি ফারসি, ১০ টি উর্দু, ১০ টি আরবি, ১০ টি বাংলা, আর বাকি ১০ টি> ১০০টি শব্দের ভেতর ৪৫টি ইংরেজি, ১৫টি ফারসি, ১০টি উর্দু, ১০টি আরবি, ১০টি বাংলা, আর বাকি ১০টি অন্যান্য (বোঝানোর সার্থে বলছি)। পশ্চিমারা তাদের ভাষাকে আমাদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে, আর আমরাও তা সাদরে গ্রহণ করছি; কিন্তু কেনো?> কেন?
কারণ, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা> শিক্ষাব্যবস্থা আমাদের এটা বুঝিয়ে দিয়েছে যে বাংলা ছোটলোকদের ভাষা, ইংরেজি বড়োলোকদের ভাষা। বাস্তবে তাই তো দেখছি। যারাই উচ্চশিক্ষিত, যারাই একটুলেখাপড়া করেছে, সমাজের উচ্চস্তরের মানুষ তারাই ইংরেজির সম্মান বাড়ায়ে দিচ্ছে। ১০০ টি> ১০০টি শব্দ বললে তার বেতর> ভেতর ৬০ টি> ৬০টি ইংরেজি। এগুলোর পেছনে আছে ইংরেজরা। শুধু তাই না, বাঙালিদেরকে> বাঙালিদের তারা সবকিছু গিলতে বাধ্য করতে পারে। বাংলাদেশের> বাংলাদেশে এমন কোনো শিশু নাই> নেই যারা বারবি ডল না চিনে। কৌশলে এটা বোঝানো হচ্ছে যে ইংরেজরা তোমাদের চেয়ে সুন্দর। ল্যাংটা হও, তোমাদেরও সুন্দর লাগবে দেখতে। নীল চোখ সুন্দর লাগে সেটা শিখিয়েছে বারবি ডল। আমরা বোকার মতো চোখে নীল লেন্স লাগাই; ইংরেজদের রোজগার বাড়ে। কতো> কত কৌশল!
যাক, মূল কথায় আসি। আমাদের স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের দেখলে কিছুটা অনুমান করা যায় বাংলা ভাষার অবস্থা। বানান এ> বানানে ভুল তো করেই তারপর এমন উদ্ভট সব বানান লেখে যা কল্পনাতীত। বর্তমানে বাংলাভাষাভাষী> বাংলাভাষী টিভি চ্যানেলগুলো যেই পরিমান> পরিমাণ ইংরেজিতে আক্রান্ত, তাতে মনে হয় বাংলাকে তারা মুছে দিতে চায়। কারণ? বাংলা ছোটোলোকদের ভাষা?
বিজ্ঞান চলে না গ্রীক> গ্রিক আর লাতিন ভাষা ছাড়া। রোমান ভাষার জুড়ি মেলা ভার (যদিও রোমান ভাষা ও লাতিন ভাষা প্রায় সম্পর্কযুক্ত)৷ ইংরেজি ছাড়া বিশ্ব অচল। এরপর বর্তমানে লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কা যে মিশ্র ভাষা তৈরি করেছে সহজ যোগাযোগ রক্ষার জন্য। সব পশ্চিমাদের কুটনীতি। বাংলা ভাষার ৫০ টি> ৫০টি বর্ণ দিয়ে বানান করা যায় না পৃথিবীতে এমন কোনো শব্দ নেই। জানি না আর কোনো ভাষা এমন আছে কি না। থাকলে আমিও তাদের সাথে আছি। এই ভাষা রেখে আপনারা বানিয়েছেন লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কা!
বাংলা এমন একটা ভাষা, যেই ভাষার জন্য আমরা রক্ত দিয়েছি। পৃথিবীর সবচেয়ে শ্রুতিমধুর ভাষার নাম বাংলা। তারপরও বাংলার অবস্থান, এতক্ষণ আলোচনার পর আর বুঝিয়ে বলতে হবে না আশা করি।
পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে বাধ্যতামূলকভাবে ইংরেজি পড়ানো হচ্ছে ছাত্র ছাত্রীদের। দিনশেষে, ওই এক যোগাযোগ ছাড়া আর কোথাও এটি কাজে লাগে না।
ইংরেজি D বর্ণে কী হয়, ড না কি দ?
T তে কী হয়, ত না কি ট?
G তে কী হয়, গ না কি জ?
বংলায় এরকম কোনো সমস্যা আছে?
বাংলা বর্ণমালা দিয়ে বনান করা যায় না এমন কোনো শব্দ আমার মগজে নেই। তারপরও কেন বাংলাকে আমরা এতোটা> এতটা তুচ্ছ করছি?
আমরা অন্তত বাংলাভাষাভাষী> বাংলাভাষী যারা আছি, তারা নিজেদের থেকে> নিজেদের পরিবর্তনের চেষ্টা করি; চেষ্টা করতে অসুবিধে আছে? আসুন, বাংলাকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়ার চেষ্টা করি। আমাদের ভায়েদের>ভাইদের রক্তের মূল্য পরিশোধ করতে শিখি।’’
 আসলে> এলে
 ভায়েরা> ভাইয়েরা
একুশ ফেব্রুয়ারিতে> একুশে ফেব্রুয়ারি 
ফেব্রুয়ারি কে> ফেব্রুয়ারিকে 
কেনো?> কেন?
একুশ ফেব্রুয়ারিতে> একুশে ফেব্রুয়ারিতে
প্রতি ১০০ টি শব্দের ভেতর ৪৫ টি ইংরেজি, ১৫ টি ফারসি, ১০ টি উর্দু, ১০ টি আরবি, ১০ টি বাংলা, আর বাকি ১০ টি> প্রতি ১০০টি শব্দের ভেতর ৪৫টি ইংরেজি, ১৫টি ফারসি, ১০টি উর্দু, ১০টি আরবি, ১০টি বাংলা, আর বাকি ১০টি
 সার্থে> স্বার্থে
কেনো?> কেন?
 শিক্ষা ব্যবস্থা> শিক্ষাব্যবস্থা 
ছোটলোকদের> ছোটোলোকদের
 একটুলেখাপড়া> একটু লেখাপড়া
 বাড়ায়ে> বাড়িয়ে
১০০ টি> ১০০টি
 বেতর> ভেতর
৬০ টি> ৬০টি 
বাঙালিদেরকে> বাঙালিদের
 বাংলাদেশের> বাংলাদেশে
 নাই> নেই 
বারবি ডল> বারবিডল 
বারবি ডল> বারবিডল
কতো> কত 
বানান এ> বানানে
বাংলাভাষাভাষী> বাংলাভাষী
পরিমান> পরিমাণ 
 গ্রীক> গ্রিক
৫০ টি> ৫০টি
এতোটা> এতটা 
 বাংলাভাষাভাষী> বাংলাভাষী
নিজেদের থেকে> নিজেদের
ভায়েদের>ভাইদের 
* এক জায়গায় লেখা হয়েছে ‘ছোটলোকদের’ আরেক জায়গায় লেখা হয়েছে ‘ছোটোলোকদের’। একই রচনায় যে-কোনো একটি লেখা সমীচীন।
error: Content is protected !!