বাংলা ব্যাকরণ অভিধান: ব্যাকরণ অভিধান: একমলাটে ব্যাকরণ অভিধান

ট১ : বাংলা ব্যঞ্জনবর্ণ ও ট্-ধ্বনির প্রতীক। ট-বর্গের প্রথম বর্ণ। ট্-ধ্বনি মূর্ধন্য, স্পর্শ, অঘোষ ও অল্পপ্রাণ। [দেখুন- ব্যঞ্জনধ্বনি]।
ট২ : বাংলা শব্দপ্রত্যয়। যেমন- দাপ + ট = দাপট; ঝাপ + ট = ঝাপট; ভরা + ট = ভরাট; জমা + ট = জমাট।
ট৩ (অ) : সংস্কৃত কৃৎপ্রত্যয়। ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হলে ‘ট্’ বাদ যায়, ‘অ’ অবশিষ্ট থাকে। দিবা প্রভৃতি শব্দের পর কৃ ধাতুতে এ প্রত্যয় প্রযুক্ত হয়। যেমন- দিবা- ্রকৃ + অ (ট) = দিবাকর; ভাস্- ্রকৃ + অ (ট) = ভাস্কর; চিত্র- ্রকৃ + অ (ট) = চিত্রকর; শ্রেয়ঃ (শ্রেয়স্)- ্রকৃ + অ (ট) = শ্রেয়স্কর। পুরঃ, অগ্র প্রভৃতি শব্দের পরে সৃ ধাতুতে এই প্রত্যয় হয়। যেমন- পুরঃ- ্রসৃ + অ (ট) = পুরঃসর; অগ্র- ্রসৃ + অ (ট) = অগ্রসর। অধিকরণবাচক পদের পরে র্চ ধাতুর সঙ্গেও এ প্রত্যয় যুক্ত হয়। যেমন- জল- ্রর্চ + অ (ট) = জলচর; স্থল- ্রর্চ + অ (ট) = স্থলচর; খ (খে)- ্রর্চ + অ (ট) = খেচর; নিশা- ্রর্চ + অ (ট) = নিশাচর। কর্মবাচক পদের পরে হন্ ধাতু থাকলে ও কাজটার কর্তা যদি মানুষ না হয়, তাহলে ট-প্রত্যয় হয়। যেমন- পাপ- ্রহন্ + অ (ট) = পাপঘ্ন; তমঃ- ্রহন্ + অ (ট) = তমোঘ্ন।
টক্ (অ) : সংস্কৃত কৃৎপ্রত্যয়। ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হলে ‘ট্’, ‘ক্’ বাদ যায়, ‘অ’ থাকে। কর্মবাচক পদ আগে থাকলে কোনো কোনো ধাতুর সঙ্গে এ প্রত্যয় হয়। যেমন- গো- ্রহন্ + অ (টক্) = গোঘ্ন; মধু- ্রপা + অ (টক্) = মধুপ; ছন্দম্- ্রগৈ + অ (টক্) = ছন্দোগ।
টচ্ (অ) : সংস্কৃত তদ্ধিতপ্রত্যয়। শব্দে যুক্ত হলে ‘ট্’, ‘চ্’ বাদ যায়, ‘অ’ থাকে। খুব কম শব্দের সঙ্গে এ প্রত্যয় হয়। যেমন- রাজন্ + অ (টচ্) = রাজ; সখা + অ (টচ্) = শখ। এ প্রত্যয়ান্ত শব্দের আলাদা ব্যবহার বাংলায় নেই, তবে সমাসবদ্ধ শব্দে পাওয়া যায়। যেমন- রাজশক্তি, মহারাজ, ধর্মরাজ, বিবিধশখ।
ট-বর্গ : বাংলা বর্ণমালার প্রথম পঁচিশটি বর্ণকে পাঁচটি বর্গে ভাগ করা হয়েছে। বর্ণগুলো যে ধ্বনির প্রতীক, তাদের উচ্চারণ স্থান অনুযায়ী এ বিভাজন করা হয়েছে। ট, ঠ, ড, ঢ ণ বর্ণগুলো ট-বর্গের অন্তর্ভুক্ত। এরা মূর্ধন্যব্যঞ্জন নামে পরিচিত। এদের মধ্যে ‘ণ’ নাসিক্যব্যঞ্জন।
টা১ : বাংলা পদাশ্রিত নির্দেশক ‘টা’ নির্দিষ্ট কোনো কিছুকে বোঝানোর জন্য বিশেষ্য ও পরিমাণবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত হয়। যেমন- লোকটা, বাঘটা, গাছটা, এতটা, যতটা, ততটা, এইটা, দশটা, একশোটা। বিশেষণের সঙ্গে টা যুক্ত হলে, তাকে বিশেষ্যের মতো ব্যবহার করা চলে। যেমন- ভালোটা, মন্দটা, ঠান্ডাটা বেশ পড়েছে। ক্রিয়াপদের সঙ্গেও টা-এর ব্যবহার আছে। যেমন- তাতে হয়েছেটা কী? করেছটা কী? [দেখুন- নির্দেশক তদ্ধিতপ্রত্যয়]।
টা২ : বাংলা ধাতুপ্রত্যয়। ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে এ প্রত্যয় ধাতুর অর্থ ‘ঈষৎ পরিবর্তিত বা সংকুচিত’ করে। যেমন- ্রকষ্ + টা = কষটা; ্রঘষ্ + টা = ঘষটা (এর থেকে বিশেষ্য ঘষটানো; ক্রিয়ারূপ ঘষটাচ্ছে, ঘষটেছে); ্রচিপ্ + টা = চিপটা (চিপটানো; চিপটাবে; চিপটাচ্ছে)।
টা৩ : বাংলা শব্দপ্রত্যয়। যেমন- স্নেহ ® নেহ + টা = নেহটা ® নেওটা; চাপ ® চিপ + টা = চিপটা ® চ্যাপটা।
টাপ্ (আ) : সংস্কৃত স্ত্রী-প্রত্যয়। প্রত্যয়টি থেকে স্ত্রীলিঙ্গ শব্দশেষে ‘আ’ হয়। যেমন- রূপ + আ (টাপ্) = রূপা; অচল +আ (টাপ্) = অচলা; বটক + আ (টাপ্) = বটিকা।
টি১ : পদাশ্রিত নির্দেশক। কোনো কিছুকে নির্দিষ্ট করে বোঝানোর জন্য এ নির্দেশক ব্যবহৃত হয়। যেমন- একটি, কয়েকটি, মানুষটি, মেয়েটি। বিশেষণের সঙ্গে ‘টি’ যুক্ত হলে শব্দটিকে বিশেষ্যের মতো আচরণ করে। যেমন- গরমটি বেশ পড়েছে। ছোটোটি কোথায়? দুষ্টটা নেই?
টি২ : বাংলা শব্দপ্রত্যয়। যেমন- শুখা + টি = শুকটি ® শুঁটকি; ছিপ + টি = ছিপটি।
টিঠন্ (ইক) : সংস্কৃত তদ্ধিতপ্রত্যয়। এ প্রত্যয় থেকে শব্দে ‘ইক’ যুক্ত হয়। যেমন- অর্ধ + ইক (টিঠন্) = অর্ধিক।
টিয়া, টে : বাংলা শব্দপ্রত্যয়। যেমন- ধোঁয়া + টিয়া = ধোঁয়াটিয়া। চলিত ভাষায় ‘টিয়া’ প্রত্যয় ‘টে’ হয়। ধোঁয়াটিয়া ® ধোঁয়াটে; যেমন- ঘোলা + টিয়া = ঘোলাটিয়া ® ঘোলাটে; রোগা + টিয়া = রোগাটিয়া ® রোগাটে; ঝগড়া + টিয়া = ঝগড়াটিয়া ® ঝগড়াটে ® ঝগড়ুটে; তামা + টিয়া = তামাটিয়া ® তামাটে।
টিষচ্ (ঈষ) : সংস্কৃত কৃৎপ্রত্যয়। ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হলে ‘ট্’, ‘চ্’ বাদ যায়, ‘ইষ’ থাকে। যেমন- ্রকিল্ + ইষ (টিষচ্) = কিল্বিষ; ্রঅম্ + ইষ (টিষচ্) = আমিষ।
টী : পদাশ্রিত নির্দেশক টি [দেখুন]-এর স্থানে আগে টী ব্যবহার করা হতো। প্রমিত বাংলায় এটির প্রচলন নেই।
টু : পদাশ্রিত নির্দেশক ‘টু’ কেবল ‘এক’ শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কোনো কিছুর বিষয়ে যে পরিমাণে কম তা নির্দেশ করে। যেমন- একটু বাতাস নেই। একটু বিশ্রাম করে নেও। একটু বসুন।
টুকু : পদাশ্রিত নির্দেশক ‘টুকু’ কম ও নির্দিষ্ট পরিমাণের দ্যোতক। যেমন- দুধটুকু খেয়ে নাও। এতটুকু ছিলি, কত বড়ো হলি। “দরজা দুটো একটুকু ফাঁক করে” রবীন্দ্র। “কেন রে এই দুয়ারটুকু পার হতে সংশয়?” রবীন্দ্র ।
টুকুন : পদাশ্রিত নির্দেশক ‘টুকুন’ ও ‘টুকুনি’ কম ও নির্দিষ্ট পরিমাণ নির্দেশ করে। যেমন- দুধটুকুনি খেয়ে নাও। এতটুকুন ছেলে কতটুকুন কথা, ছি!
টুকুনি : দেখুন- টুকুন।
টে১ : বাংলা নির্দেশক প্রত্যয়। দেখুন নির্দেশক শব্দপ্রত্যয়।
টে২ : বাংলা শব্দপ্রত্যয় ‘টিয়া’-র চলিত রূপ। দেখুন- টিয়া।
টো : বাংলা পদাশ্রিত নির্দেশক ‘টো’ কেবল চলিত বাংলায় ‘দুই’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়। যেমন দুটো কলা দাও। দুটো লোক। দুটো টাকা। [লক্ষণীয়, দুটি লোক, দুটি টাকা এরকম হয়। কিন্তু ‘পাঁচটো’, ‘তিনটো’ হয় না]। [দেখুন- নির্দেশক শব্দপ্রত্যয়]।
ট্যু (তন) : সংস্কৃত তদ্ধিতপ্রত্যয়। এ প্রত্যয়ান্ত শব্দের শেষে ‘তন’ হয়। প্রত্যয়টি কালবোধক। যেমন- পুরা + তন (ট্যু) = পুরাতন; সনা + তন (ট্যু) = সনাতন; অধুনা + তন (ট্যু) = অধুনাতন।
ট্যুল্ : দেখুন- তুট্।

error: Content is protected !!