বাংলা ভাষা,  বাংলা সাহিত্যের  প্রথম ও প্রধান, বাংলা সাহিত্যের কথা, একনজরে বাংলা সাহিত্য, বিসিএস বাংলা  সাহিত্য, সাধারণ জ্ঞান

ত্রয়োদশ অধ্যায়
সংবাদপত্র

বাংলা সাময়িক পত্রিকার যুগ
বাংলা সাময়িক পত্রিকার ইতিহাসকে পাঁচটি যুগে ভাগ করা হয়েছে। যথাঃ- (১) ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দে ‘দিগদর্শন’ পত্রিকা প্রকাশিত হবার পর হতে ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে ‘বঙ্গদূত’ পত্রিকা প্রকাশিত হওয়া পর্যন্ত সময়কে সাময়িক পত্রিকার ‘বঙ্গদূত যুগ’ বা ‘প্রাথমিক যুগ’ বলা হয়। (২) ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে ‘সংবাদ প্রভাকর’ পত্রিকা প্রকাশ হওয়ার সময় হতে ১৮৪৩ খ্রিস্টাব্দে ‘তত্ত্ববোধিনী’ পত্রিকা প্রকাশ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত দ্বিতীয় যুগ বিস্তৃৃত। (৩) ‘তত্ত্ববোধিনী’’ পত্রিকা প্রকাশের পর হতে ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকা প্রকাশের পূর্ব পর্যন্ত ‘তৃতীয় যুগ’ প্রসারিত। (৪) ‘বঙ্গদর্শন’ হতে ১৮৭৭ খ্রিস্টাব্দে ‘ভারতী’ পত্রিকা প্রকাশের পূর্ব পর্যন্ত বাংলা পত্রিকার ‘চতুর্থ যুগ’ এবং (৫) ‘ভারতী’ হতে ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত ‘সবুজপত্র’ প্রকাশ পর্যন্ত ‘পঞ্চম যুগ’ হিসেবে চিহ্নিত।
উপমহাদেশের প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্র
জেমস আগাস্টস হিকি স¤পাদিত ‘বেঙ্গল গেজেট’(ইবহমধষ এধুবঃঃব ড়ৎ ঈধষপঁঃঃধ এবহবৎধষ অফাবৎঃরংবৎ) নামক ইংরেজি সাময়িক পত্রিকাটি বাংলাদেশ তথা ভারতের ইতিহাসে প্রথম মুদ্রিত সংবাদ পত্র, ১৭৮১ খ্রিস্টাব্দের ২৯ জানুয়ারি পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়। এটি সমগ্র ব্রিটিশ ভারতের প্রথম মুদ্রিত সংবাদ পত্র হিসেবেও খ্যাত।
সংবাদপত্র স্বাধীনতা সংকোচন আইন
১৭৯৯ খ্রিস্টাব্দে লর্ড ওয়েলেসলি সংবাদপত্র স্বাধীনতা সংকোচন আইন প্রণয়ন করে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার উপর কঠোর সেন্সর ব্যবস্থা প্রবর্তণ করেন। এ ব্যবস্থা প্রবর্তিত হবার পর সকল সংবাদ সেক্রেটারি দ্বারা পরীক্ষিত হয়ে প্রকাশ করার অনুমতি প্রদান করা হত। নিয়ম লংঘনকারীকে ইউরোপে নির্বাসন দেয়া হত। ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে গভর্ণর জেনারেল লর্ড হেস্টিংস এ ব্যবস্থা রহিত করেন।
একই সাথে বাংলা ও ইরেজি ভাষায় প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র
শ্রীরামপুরের ব্যাপটিস্ট খ্রিস্টান মিশনারিদের উদ্যোগে ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল মাসে প্রকাশিত ও জোশুয়া মার্শম্যানের পুত্র জন ক্লার্ক মার্শম্যান (১৭৯৪-১৮৮৭) স¤পাদিত মাসিক ‘দিগদর্শন’ পত্রিকাটি বাংলা পত্রিকার ইতিহাসে একই সাথে বাংলা ও ইরেজি ভাষায় মুদ্রিত প্রথম সংবাদপত্র। এটি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে প্রথম বাংলা সাময়িক পত্রিকা হিসেবেও খ্যাত। ১৮৪১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত পত্রিকাটি চালু ছিল। এতে ভূগোল, ইতিহাস, দেশবিদেশের বিভিন্ন তথ্য, কৌতুককর কিংবা আশ্চর্যজনক কাহিনী সহজবোধ্য ভাষায় পরিবেশিত হত।
বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র
শ্রীরামপুর মিশনের উদ্যোগে জন ক্লার্ক মার্শম্যানের স¤পাদনায় ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দের ২৩ মে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ‘সমাচার দর্পণ’ প্রথম বাংলা অর্ধ-সাপ্তাহিক সংবাদপত্র। পত্রিকাটি সপ্তাহে দুবার প্রকাশিত হত। জয় গোপাল তর্কালঙ্কার পত্রিকাটির বাংলা সংবাদ রচনা ও সংকলনে স¤পাদকের দায়িত্ব পালন করতেন। ‘সমাচার দর্পণ’ ছিল বিদেশিদের স¤পাদনায় বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম বাংলা সংবাদপত্র। ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দের ১২ এপ্রিল পত্রিকাটির প্রকাশ বন্ধ হয়ে যায়।
বাঙালি স¤পাদিত বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম সাপ্তাহিক
গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য স¤পাদিত ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দের ১৫ মে প্রকাশিত ‘বাঙ্গাল গেজেটি’ বাঙালি স¤পাদিত বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা। গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য এবং হরচন্দ্র রায় যৌথভাবে এ সাপ্তাহিক পত্রিকাটি প্রকাশ করেছিলেন।
বাংলা ভাষার প্রথম দৈনিক পত্রিকা
বাংলা সাহিত্যের প্রথম দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’। পত্রিকাটি ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে সাপ্তাহিক হিসেবে যাত্রা শুরু করে। এর আট বছর পর ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের স¤পাদনায় সাপ্তাহিক ‘সংবাদ প্রভাকর’ প্রথম দৈনিকে রূপান্তরিত করা হয়। অতএব ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত দৈনিক সংবাদ প্রভাকর বাংলা পত্রিকার ইতিহাসে বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম দৈনিক পত্রিকা।
বাংলাদেশের প্রথম সংবাদপত্র
১৮৪৭ খ্রিস্টাব্দে আগস্ট মাসে রংপুর জেলার কুণ্ডি পরগণার জমিদার কালীচন্দ্র রায় চৌধুরীর অর্থানুকূল্যে গুরুচরণ রায়ের পরিচালনা ও স¤পাদনায় প্রকাশিত ‘রঙ্গপুর বার্তাবহ’ বাংলাদেশের প্রথম সংবাদপত্র। এটি বাংলাদেশের প্রথম মফস্বল সংবাদপত্র হিসেবেও খ্যাত। গুরুচরণ রায়কে বর্তমান বাংলাদেশের প্রথম স¤পাদক এবং বাংলাদেশের মফস্বল পত্রিকা ও সাংবাদিকতার জনক বলা হয়। এটি বাংলা ভাষায় প্রকাশিত বাংলাদেশের প্রথম সংবাদপত্র হিসেবেও খ্যাত।
বাংলা ভাষায় প্রকাশিত বাংলাদেশের দ্বিতীয় সংবাদপত্র
মধুসূদন ভট্টাচার্যের স¤পাদনায় রংপুরের কাকিনীয়ার ভূগোলক বাড়ির জমিদার শম্ভুচন্দ্র রায় চৌধুরীর অর্থানুকূল্যে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল মাসে রংপুর হতে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ‘রঙ্গপুর দিকপ্রকাশ’ বাংলা ভাষায় প্রকাশিত বাংলাদেশের দ্বিতীয় সংবাদপত্র।
বাংলাদেশের দ্বিতীয় সংবাদপত্র
১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দের ১৮ এপ্রিল ঢাকা হতে ইংরেজি ভাষায় সাপ্তাহিক হিসেবে প্রকাশিত ‘ঢাকা নিউজ’ বাংলাদেশের দ্বিতীয় এবং ঢাকা হতে প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র।
ঢাকার প্রথম বাংলা সংবাদপত্র ও সাময়িক পত্রিকা
১৮৬১ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা হতে কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের স¤পাদনায় প্রতি বৃহ¯পতিবার বাংলা ভাষায় প্রকাশিত সংবাদপত্র ‘ঢাকাপ্রকাশ’ ঢাকার প্রথম বাংলা সংবাদপত্র। এটি প্রথম ব্রাহ্মসমাজের মুখপত্র হিসেবে প্রকাশিত হলেও মালিকানা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে দৃষ্টিভঙ্গীও বদলে গিয়েছিল। পত্রিকাটি ১০০ বছর টিকেছিল।
ঢাকা হতে প্রকাশিত প্রথম সাময়িক পত্রিকা
১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে কৃষ্ণচন্দ্র ও হরিশ্চন্দ্রের যৌথ স¤পাদনায় ঢাকা হতে প্রকাশিত ‘কবিতাকুসুমাবলী’ সাময়িক পত্রিকাটি বাংলা পত্রিকার ইতিহাসে ঢাকা হতে প্রকাশিত প্রথম সাময়িক পত্রিকা।
প্রথম শিশুতোষ পত্রিকা
শ্রীরামপুরের খ্রিস্টান মিশনারিদের উদ্যোগে ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল মাসে প্রকাশিত ও জন ক্লার্ক মার্শম্যান (১৭৯৪-১৮৮৭ খ্রিস্টাব্দ) স¤পাদিত মাসিক ‘দিগদর্শন’ পত্রিকাটি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের প্রথম ‘শিশুতোষ’ পত্রিকা। পত্রিকাটি ষোড়শ সংখ্যা অবধি তিনটি সংস্করণে- বাংলা, ইংরেজি ও ইংরেজি-বাংলায় এবং এরপর দশটি সংখ্যা কেবল বাংলায় প্রকাশিত হয়।
দ্বিতীয় শিশুতোষ পত্রিকা/প্রথম বিজ্ঞানপত্রিকা
বাংলা সাহিত্যের পত্রিকার ইতিহাসের ২য় শিশুতোষ পত্রিকা ‘পশ্বাবলী’। পত্রিকাটি ১৮২২ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা স্কুল বুুক সোসাইটির পরিচালনায় প্রকাশিত হয়। এটি বাংলা পত্রিকার ইতিহাসে প্রথম ‘বিজ্ঞানপত্রিকা’ হিসেবেও খ্যাত। ১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দ হতে রামচন্দ্র মিত্র ‘পশ্বাবলী’ পত্রিকার স¤পাদক নিয়োজিত হন। তিনি ছিলেন বাংলা শিশু পত্রিকার প্রথম বাঙালি স¤পাদক।
বাংলা ভাষায় প্রথম দেশীয়জন প্রকাশিত শিশুতোষ পত্রিকা
রামচন্দ্র মিত্রের স¤পাদনায় ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বর হতে প্রকাশিত ‘জ্ঞানোদয়’ পত্রিকাটি বাংলা ভাষায় প্রকাশিত ও প্রথম দেশীয়জন সম্পাদিত প্রথম শিশুতোষ পত্রিকা।
পনের বছর বয়সী কিশোর-প্রকাশিত শিশুতোষ পত্রিকা
পনের বছর বয়স্ক কিশোর প্রিয়ামাধব বসু ও যোগেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দের ২৬ এপ্রিল প্রকাশিত ‘বিদ্যাদর্পণ’ পত্রিকাটি পনের বছর বয়স্ক কিশোর প্রকাশিত ‘শিশুতোষ’ পত্রিকা। এটি বাংলা পত্রিকার ইতিহাসের প্রথম দীর্ঘায়ু শিশুতোষ পত্রিকা। পত্রিকাটি প্রায় পাঁচ বছর টিকে ছিল। ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত মাসিক ‘তোষিণী’ বৃটিশ আমলে বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘায়ু ‘শিশুতোষ’ পত্রিকা। এটি ‘শিশুতোষ’ পত্রিকার ইতিহাসের নবম এবং ঢাকার চতুথ শিশুতোষ পত্রিকা।
বাংলাদেশের প্রথম শিশুতোষ পত্রিকা
১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা হতে প্রকাশিত ‘বালিকা’ পত্রিকাটি বাংলাদেশ হতে প্রকাশিত প্রথম ‘শিশুতোষ’ পত্রিকা।
বাংলাদেশের দ্বিতীয় কিন্তু মফস্বল হতে প্রকাশিত প্রথম শিশুতোষ পত্রিকা
১৮৮৮ খ্রিস্টাব্দের জুলাই-আগস্ট মাসে সারদা প্রসাদ বসুর স¤পাদনায় যশোর হতে প্রকাশিত মাসিক ‘সুখীপাখী’ বাংলাদেশের দ্বিতীয় এবং মফস্বল হতে প্রকাশিত প্রথম ‘শিশুতোষ’ পত্রিকা।
চট্টগ্রাম হতে প্রকাশিত প্রথম শিশুতোষ পত্রিকা
১৮৯৮ খ্র্রিস্টাব্দে এপ্রিল মাসে রাজ্যেশ্বর গুপ্তের স¤পাদনায় প্রকাশিত শিশু পত্রিকা ‘অঞ্জলি’ চট্টগ্রাম হতে প্রকাশিত প্রথম ‘শিশুতোষ’ পত্রিকা।
শিশুতোষ পত্রিকার প্রথম রাজনীতি বিষয়ক লেখা/প্রথম ধারাবাহিক উপন্যাস
১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দে ‘শিশুতোষ’ পত্রিকা ‘সখা’য় প্রকাশিত বিপিনচন্দ্র পাল রচিত ‘সুরেন্দ্রনাথ বন্দোপাধ্যায়’ (১৮৪৮–১৯২৫) এর কারাবাস নিয়ে প্রকাশিত প্রবন্ধটি বাংলা শিশু পত্রিকায় প্রকাশিত প্রথম রাজনীতি বিষয়ক রচনা। ১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দে বালক ও স্ত্রীলোকদের জন্য কলকাতা ট্রাক সোসাইটি পরিচালিত প্রত্রিকা ‘জ্যোতিরিঙ্গণ’ এ প্রথম ধারাবাহিক উপন্যাস প্রকাশ করা হয়।
প্রথম আদর্শ শিশুতোষ পত্রিকা
কেশবচন্দ্র সেনের (১৮৩৮-১৮৮৪ খ্রিস্টাব্দ) স¤পাদনায় প্রকাশিত শিশুতোষ পত্রিকা ‘বালকবন্ধু’ বাংলা শিশু পত্রিকার ইতিহাসের প্রথম আদর্শ ‘শিশুতোষ’ পত্রিকা।
প্রথম ‘ব্যঙ্গাত্বক’ পত্রিকা
১৯২৪ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত ‘শনিবারের চিঠি’ বাংলা পত্রিকার ইতিহাসে প্রথম ‘ব্যঙ্গাত্বক’ পত্রিকা। এটি সাপ্তাহিক হিসেবে প্রতি সপ্তাহে একবার প্রকাশিত হত। এ পত্রিকাটিকে ঘিরে একদল ব্যঙ্গাত্মক লেখকের উদ্ভব ঘটেছিল।
বাংলা সাংবাদিকতার প্রতিষ্ঠা
সমাচার দর্পণ পত্রিকার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে সাংবাদিকতার প্রতিষ্ঠা ঘটে। তাই সমাচার দর্পণকে বাংলা সাংবাদিকতার সূচনা কিংবা প্রাণ বলা হয়। দিগদর্শন পত্রিকা প্রকাশের অল্প কিছুদিন পর ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দের মে মাসে জে সি মার্শম্যানের স¤পাদনায় শ্রীরামপুরের ব্যাপটিস্ট মিশন হতে ‘সমাচার দর্পণ’ পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়। ১৮৪১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত পত্রিকাটি চালু ছিল।
বাংলা সাহিত্যের দিকনির্দেশক ও নীতি-নির্ধারক পত্রিকা
সংবাদ প্রভাকর’ পত্রিকাকে বাংলা সাহিত্যের দিক নির্দেশক ও নীতি নির্ধারক পত্রিকা বলা হত। এ পত্রিকাটির অন্যতম আরেকটি কীর্তি হল নতুন লেখক সৃষ্টি। ‘সংবাদ প্রভাকর’ ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে সাপ্তাহিক হিসেবে প্রথম প্রকাশিত হয় এবং ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দের ২৮ জানুয়ারি হতে বাংলা ভাষার প্রথম দৈনিক হিসেবে প্রকাশিত হতে শুরু করে। তদকালে এ পত্রিকাটির মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যের দিক নির্দেশনা ও ভাষার গতি প্রকৃতির নীতি নির্ধারণ করা হত। তাই পত্রিকাটিকে বাংলা সাহিত্যের দিক নির্দেশক ও নীতিনির্ধারক পত্রিকা বলা হয়।
সাহিত্য সমালোচনাকারী প্রথম পত্রিকা
১৮৫১ খ্রিস্টাব্দে রাজেন্দ্রলাল মিত্রের স¤পাদনায় প্রকাশিত ‘বিবিধার্থ সংগ্রহ’ মাসিক পত্রিকাটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সাহিত্য সমালোচনার সূত্রপাত ঘটায়। তবে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যথার্থ সাহিত্য সমালোচনার সূচনা ঘটিয়েছিলেন।
তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা
১৮৪৩ খ্রিস্টাব্দে তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠাতা এবং অক্ষয়কুমার দত্ত স¤পাদক ছিলেন। বাংলা গদ্যের ইতিহাসে পত্রিকাটিকে নবযুগের সূচনাকারী বলা হয়ে থাকে।
বাংলা ভাষার প্রথম পাক্ষিক পত্রিকা
বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম পাক্ষিক পত্রিকা ‘বালকবন্ধু’, ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়।
বাংলা ভাষায় শিশুদের জন্য প্রকাশিত প্রথম শিশুপত্রিকা
১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে প্রমাদচরণ সেনের স¤পাদনায় প্রকাশিত মাসিক ‘সখা’ পত্রিকাটি বাংলা ভাষায় শিশুদের জন্য প্রকাশিত প্রথম পত্রিকা।
বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম কিশোর পত্রিকা
১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে শিশু সাহিত্যিক খগেন্দ্রনাথ মিত্রের স¤পাদনায় প্রকাশিত ‘কিশোর’ পত্রিকাটি বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম কিশোর পত্রিকা।
প্রথম সচিত্র মাসিক
১৮৫১ খ্রিস্টাব্দে রাজেন্দ্রলাল মিত্রের স¤পাদনায় প্রকাশিত মাসিক ‘বিবিধার্থ সংগ্রহ’ পত্রিকাটি বাংলা পত্রিকার ইতিহাসে প্রথম সচিত্র মাসিক পত্রিকা। বঙ্গভাষানুবাদক সমাজের আনুকূল্যে প্রকাশিত পত্রিকাটি সেকালের বাঙালি সমাজের জ্ঞানবৃদ্ধি ও মনোরঞ্জনের বিশেষ সহায়ক ভূমিকা রেখেছিল।
বঙ্গদর্শন : বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে সমৃদ্ধ পত্রিকা
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের স¤পাদনায় ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত মাসিক ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকাটি তৎকালে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে সবচেয়ে সমৃদ্ধ সাহিত্য পত্রিকা হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছিল। বঙ্কিম চন্দ্রের পর যথাক্রমে তাঁর অগ্রজ সঞ্জীবচন্দ্র, শ্রীশচন্দ্র মজুমদার, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং সর্বশেষ মোহিতলাল মজুমদার পত্রিকাটি স¤পাদনা করেন। এ পত্রিকার মাধ্যমে পত্রিকায় উপন্যাস, প্রবন্ধ, ভাষাতত্ত্ব ও সাহিত্য সমালোচনা প্রকাশের ধারা প্রবর্তিত হয়। সংগত কারণে ‘বঙ্গদর্শন’কে উনিশ শতকের শ্রেষ্ঠ পত্রিকা বলা হয়।
রবীন্দ্রনাথের পত্রিকা
১৮৭৭ খ্রিস্টাব্দে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত ও তাঁর স¤পাদনায় প্রকাশিত সাময়িক পত্রিকা ‘ভারতী’ রবীন্দ্রনাথের পত্রিকা বলে অভহিত। পত্রিকাটিকে ঘিরে সাহিত্যিকচক্র নামে খ্যাত বিখ্যাত ‘ভারতী গোষ্ঠী’ গড়ে উঠে। ১৮৯১ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত মাসিক ‘সাধনা’ পত্রিকা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার চার বছর পর রবীন্দ্রনাথ পত্রিকাটির স¤পাদনার দায়িত্বভারও গ্রহণ করেছিলেন। এজন্য ভারতী ও সাধনা পত্রিকাদ্বয়কে রবীন্দ্রনাথের পত্রিকা বলা হয়।
সাধনা ও সবুজপত্র
১৮৯১ খ্রিস্টাব্দে রবীন্দ্রনাথের ভ্রাতু®পুত্র সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স¤পাদনায় সাধনা প্রকাশিত হয়। চতুর্থ বছর হতে রবীন্দ্রনাথ নিজে ‘সাধনা’র স¤পাদনার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দে প্রমথ চৌধুরীর স¤পাদনায় বিখ্যাত ‘সবুজপ্রত্র’ প্রকাশিত হয়।
বাঙালি মুসলমান স¤পাদিত প্রথম পত্রিকা
বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে প্রথম পত্রিকা প্রকাশের গৌরবের অধিকারী মৌলভী শেখ আলিমুল্লা। ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে কলিকাতার কলিঙ্গা মহল্লা হতে মৌলভী শেখ আলিমুল্লার স¤পাদনায় প্রকাশিত দ্বি-সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘সমাচার সভারাজেন্দ্র’ বাঙালি মুসলমান স¤পাদিত বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম পত্রিকা।
মুসলমান স¤পাদিত দ্বিতীয় সাময়িক পত্রিকা
১৮৪৬ খ্রিস্টাব্দে মৌলভী রজব আলীর স¤পাদনায় কলিকাতা হতে প্রকাশিত ‘জগদুদ্দীপক ভাস্কর’ মুসলমান স¤পাদিত দ্বিতীয় সাময়িক পত্রিকা। পত্রিকাটি একই সাথে ইংরেজি, বাংলা, উর্দু, ফারসি ও হিন্দি ভাষায় প্রকাশ করা হত। ভাষার ভারে পত্রিকাটি মাত্র ২ মাস চলতে পেরেছিল।
মুসলিম স¤পাদিত প্রথম কবিতা পত্রিকা
১৯০০ খ্রিস্টাব্দে কবি মোজাম্মেল হক স¤পাদিত ও কলকাতা হতে প্রকাশিত ‘লহরী’ মুসলমান স¤পাদিত প্রথম কবিতা পত্রিকা। মুসলমান পত্রিকা হলেও পত্রিকাটিতে হিন্দুদের কবিতাও ছাপা হত।
সুধাকর, ইসলাম প্রচারক ও মিহির
শেখ আবদুর রহিমের স¤পাদনায় কলকাতা হতে ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত ‘সুধাকর’ পত্রিকার মাধ্যমে সুধাকর দল নামক একটি মুসলিম সাহিত্যিক গোষ্ঠী গড়ে উঠেছিল। ১৮৯১ খ্রিস্টাব্দে মোহাম্মদ রেয়াজ উদ্দিন আহমদের স¤পাদনায় সাহিত্য মাসিক ‘ইসলাম প্রচারক’ প্রকাশিত হয়। ১৮৯২ খ্রিস্টাব্দে শেখ আবদুর রহিমের স¤পাদনায় প্রকাশিত মাসিক পত্রিকা ‘মিহির’ বাংলা সাহিত্যের প্রচার ও বিকাশে মুসলিম স¤পাদিত একটি উল্লেখযোগ্য পত্রিকা হিসেবে পরিচিত ছিল। ঊনবিংশ শতকের নবম দশকে ‘সুধাকর দল’ বাংলা সাহিত্যে ইসলামি ধারার সূত্রপাত করেন।
সওগাত এবং মোসলেম ভারত
‘সওগাত’ মুসলমানদের একটি বিখ্যাত পত্রিকা। ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে কলিকাতা হতে মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের স¤পাদনায় পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়। পরবর্তীকালে পত্রিকাটি ঢাকা হতে প্রকাশ করা হয়। ‘মোসলেম ভারত’ ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে মোজাম্মেল হকের স¤পাদনায় কলিকাতা হতে প্রকাশিত আর একটি বিখ্যাত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা। ‘সওগাত’ এবং ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকার মাধ্যমে সাহিত্য জগতে কাজী নজরুল ইসলামের আবির্ভাব ঘটে।
ধুমকেতু পত্রিকা
‘ধুমকেতু’ পত্রিকাটি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের স¤পাদনায় ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে কলিকাতা হতে অর্ধ-সাপ্তাহিক পত্রিকা হিসেবে প্রথম প্রকাশিত হয়। এ পত্রিকাটির জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এবং বারীণ ঘোষ প্রমূখ আশীর্বাণী প্রেরণ করেছিলেন। পত্রিকাটিতে রাজদ্রোহমূলক কবিতা প্রচার করায় নজরুল ইসলামকে এক বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছিল।
ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজের প্রথম মুখপত্র
১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা হতে প্রকাশিত আবুল হোসেন স¤পাদিত বার্ষিক পত্রিকা ‘শিখা’ মুসলিম সাহিত্য সমাজের মুখপত্র হিসেবে প্রকাশিত প্রথম পত্রিকা হিসেবে খ্যাত। ঢাকার সাহিত্যিক গোষ্ঠী মুসলিম সাহিত্য সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পত্রিকাটি দ্বারা ‘বুদ্ধির মুক্তিআন্দোলন’ এর সূচনা ঘটান।
মুসলমান প্রকাশিত সবচেয়ে উন্নত পত্রিকা
১৯০৩ খ্রিস্টাব্দে সৈয়দ এমদাদ আলী স¤পাদিত মাসিক ‘নবনুর’ মুসলমান প্রকাশিত পত্রিকাসমূহের মধ্যে সবচেয়ে উন্নত পত্রিকা হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছিল। মুসলমান স¤পাদিত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য পত্রিকার মধ্যে মোজাম্মেল হক কর্তৃক ১৯০০ খ্রিস্টাব্দে কলিকাতা হতে প্রকাশিত ‘লহরী’, ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে মধু মিয়া কর্তৃক কলকাতা হতে স¤পাদিত সাময়িক পত্রিকা ‘প্রচারক’, ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে রংপুরের কাকিনা হতে শেখ ফজলর করিম স¤পাদিত মাসিক ‘বাসনা’ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
চট্টগ্রামের প্রথম পত্রিকা
১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে মতান্তরে ১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দে নর্মাল স্কুলের দ্বিতীয় পণ্ডিত কাশীচন্দ্র গুপ্তের স¤পাদনায় প্রকাশিত ‘সংশোধনী’ নামক পত্রিকাটি চট্টগ্রাম হতে প্রকাশিত প্রথম পত্রিকা।
নীলকর বিরোধী পত্রিকা
১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দের ৬ জানুয়ারি হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের স¤পাদনায় ‘হিন্দু পেট্রিটয়’ নামক একটি পত্রিকার প্রকাশনা শুরু হয়। পত্রিকাটিতে কৃষকদের উপর নীলকরদের অত্যাচারের খবরাখবর ছাপানোকে সমধিক গরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হত। এজন্য পত্রিকাটি বাংলাদেশের পত্রিকা জগতের ইতিহাসে নীলকর বিরোধী পত্রিকা হিসেবে খ্যাতি পায়।

অবিভক্ত বাংলার মুসলিম সম্পাদিত প্রথম দৈনিক
অবিভক্ত বাংলার মুসলিম সম্পাদিত প্রথম দৈনিক পত্রিকা ‘ আজাদ’। ‘নবযুগ’ পত্রিকা প্রকাশের পূর্বে পর্যন্দ ‘আজাদ’ পত্রিকাই ছিল অবিভক্ত বাংলা ও আসামের মুসলমানদের একমাত্র দৈনিক পত্রিকা।
মফস্বল তথা তৃণমূল সাংবাদিকতার উন্মেষ
‘সমাচার দর্পণ’ পত্রিকা তৃণমূল পর্যায় হতে সংবাদ সংগ্রহের রীতি চালু করে মফস্বল সাংবাদিকতার উন্মেষ ঘটিয়েছিল। ১৮২৭ খ্রিস্টাব্দে বিভিন্ন জেলাসহ প্রায় ষাটটি কেন্দ্র হতে ‘সমাচার দর্পণ’ সংবাদ সংগ্রহ করে পত্রিকায় প্রকাশ করা হত।
মফস্বলের প্রথম সংবাদপত্র
মফঃস্বল থেকে প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্রের নাম ‘মুর্শিদাবাদ নিউজ’। পত্রিকাটি ১৮৩৮ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে মুর্শিদাবাদ জেলার কাশিমবাজার হতে উইলিয়াম স্টিফেন ল্যাম্ব্রিক নামক জনৈক ইংরেজের স¤পাদনায় ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত হয়েছিল।
মফস্বলের প্রথম বাংলা সংবাদপত্র
গুরুদয়াল চৌধুরীর স¤পাদনায় ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দের ১০ মে মুর্শিদাবাদ হতে প্রকাশিত ‘মুর্শিদাবাদ সম্বাদপত্রী’ প্রথম মফস্বল বাংলা সংবাদপত্র। সে হিসেবে গুরুদয়াল চৌধুরীকে মফস্বল বাংলা পত্রিকার জনক বলা হয়।
তৃণমূল সাংবাদিকতার উন্মেষ
কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদারের (১৮৩৩-১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দ) স¤পাদনায় কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী থেকে প্রকাশিত এবং কলকাতার গিরিশচন্দ্র বিদ্যারত্নের ‘বিদ্যারত্ন’ যন্ত্রে মুদ্রিত ‘গ্রামবার্তাপ্রকাশিকা’র মাধ্যমে তৃণমূল সাংবাদিকতার উন্মেষ ঘটে। পরে কাঙ্গাল হরিনাথ নিজে কুমারখালীতে ‘মথুরানাথ’ যন্ত্র স্থাপন করে সেখান হতে পত্রিকাটি প্রকাশ ও ছাপার ব্যবস্থা করেন। এ পত্রিকাটি ছিল নগরকেন্দ্রিক সাময়িক পত্রের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিবাদী পত্রিকা। এটি বাংলাদেশের প্রথম গ্রামীণ-পত্রিকা, যাতে গ্রাম বাংলার অবহেলিত গ্রামবাসীর দৈনন্দিন সংবাদ পরিবেশন করা হত। কাঙ্গাল হরিণাথ মজুমদারের হাতে তৃণমূল সাংবাদিকতার উন্মেষ ঘটে। তাই তাঁকে বাংলাদেশের তৃণমূল সাংবাদিকতার জনক বলা হয়।
পেশাদারি সাংবাদিকতার জনক
বাংলা সংবাদপত্রের ইতিহাসে ভবানীচরণ বন্দোপাধ্যায়কে (১৭৮৭-১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দ) পেশাদারি সাংবাদিকতার জনক বলা হয়।
বাংলা ভাষার প্রথম শ্রেণি সচেতন পত্রিকা
বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের পরিচালনায় ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দের ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত সাপ্তাহিক ‘লাঙল’ পত্রিকাটি বাংলা ভাষার ইতিহাসে প্রথম শ্রেণি সচেতন পত্রিকা হিসেবে খ্যাত। শ্রেণি সচেতনতা সৃষ্টিতে সেকালে লাঙল পত্রিকার ভূমিকা ছিল অপরিসীম।
বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম বামপন্থী সাপ্তাহিক
১৯২৭ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট হতে প্রকাশিত ‘গণবাণী’ও ‘লাঙল’ পত্রিকাকে একত্রিত করে প্রকাশিত ‘গণবাণী’ নামক পত্রিকাটি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের প্রথম ‘বামপন্থী’ পত্রিকা। এ পত্রিকাটির জন্য কাজী নজরুল ইসলাম ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে কমিউনিস্ট ইন্টারন্যাশনাল, রেড ফ্লাগ ও শেলির ভাব-অবলম্বনে যথাক্রমে ‘জাগো অনশন বন্দী, রক্তপতাকার গান এবং জাগর তূর্য প্রভৃতি উদ্দীপনমূলক গান রচনা করেছিলেন।
মহিলাদের শিক্ষার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত প্রথম পত্রিকা।
রাধানাথ শিকদারের সহযোগিতায় প্যারীচাঁদ মিত্রের স¤পাদনায় প্রকাশিত ‘মাসিক পত্রিকা’ নামের পত্রিকাটি মহিলাদের শিক্ষার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত প্রথম পত্রিকা।

error: Content is protected !!