বাংলা ভাষা,  বাংলা সাহিত্যের  প্রথম ও প্রধান, বাংলা সাহিত্যের কথা, একনজরে বাংলা সাহিত্য, বিসিএস বাংলা  সাহিত্য, সাধারণ জ্ঞান

পঞ্চদশ অধ্যায়
ছদ্মনাম ও উপাধি এবং জনপ্রিয় কলি

বাংলা সাহিত্যের অদ্ভুতাচার্য
সম্রাট আকবরের সমসাময়িক ষোড়শ শতকের কবি নিত্যানন্দ আচার্য অদ্ভুতাচার্য নামে পরিচিত। তিনি ‘অদ্ভুত আশ্চর্য রামায়ণ কথা’ নামক কাব্যগ্রন্থ রচনা করে ‘অদ্ভুতাচার্য’ নামে প্রসিদ্ধ হয়ে উঠেন।
জরাসন্ধ
জরাসন্ধ এর প্রকৃত নাম চারুচন্দ্র চক্রবর্তী।
বাংলা সাহিত্যের বনফুল
বনফুল-এর প্রকৃত নাম বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়।
যাযাবর
যাযাবর এর আসল নাম বিনয় মুখোপাধ্যায়।
শঙ্কর
শঙ্কর এর প্রকৃত নাম মনিশঙ্কর মুখার্জী।
কালকূট
কালকূট সাহিত্যিক সমরেশ বসুর ছদ্মনাম।
কায়কোবাদ
কায়কোবাদ (১৮৫৮-১৯৫২) এর প্রকৃত নাম কাজেম আলী কোরেশী। কায়কোবাদ রচিত বিখ্যাত মহাকাব্য ‘মহশ্মশান’ এমন একটি কাব্যগ্রন্থ যেখানে এক সঙ্গে হিন্দু এবং মুসলিম বীর পুরুষদের গৌরবগাঁথা রচিত।
নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় ও টেনিদা
নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় এর প্রকৃত নাম তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর অন্য একটি ছদ্মনাম টেনিদা।
বাংলা সাহিত্যের শওকত ওসমান
প্রখ্যাত সাহিত্যিক শওকত ওসমানের আাসল নাম আজিজুর রহমান।
বাংলা সাহিত্যের শ্রীকান্ত
অপরাজেয় কথা শিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম শ্রীকান্ত।
অবধূত
অবধূত স্বামী কালিকানন্দ অবধূতের ছদ্মনাম।
সত্যপীর, টেকচাঁদ, রায় পিথৌরা
সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম হচেছ সত্যপীর, টেকচাঁদ এবং রায় পিথৌরা।
বাংলা সাহিত্যের ভানুসিংহ
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম ভানুসিংহ।
বাংলা সাহিত্যের বীরবল
বীরবল প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম। তার রচিত বাংলাকে বীরবলি বাংলা বলা হয়।
হাসির রাজা
বাংলা সাহিত্যের হাসির রাজা শিবরাম চক্রবর্তী।
নীল লোহিত
প্রখ্যাত সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম নীল লোহিত।
টেকচাঁদ ঠাকুর
প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম টেকচাঁদ ঠাকুর।
অদ্ভুতাচার্য
নিত্যানন্দ আচার্যের ছদ্মনাম ছিল অদ্ভুতাচার্য।
শান্তিপুরের কবি
কবি মোজাম্মেল হকর (১৮৬০-১৯৩৩) শান্তিপুরের কবি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোষ্য
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ছদ্মনাম তিনটি যথা কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোষ্য, কষ্যচিৎ তত্ত্বানোষিণ এবং কষ্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপো সহবচষ্য। কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোষ্য ছদ্মনামে তিনি ‘অতি অল্প হইল’, এবং ‘আবার অতি অল্প হইল’, ‘ব্রজবিলাস’, কষ্যচিৎ তত্ত্বানেষিণ ছদ্মনামে ‘বিধবা বিবাহ’ ও ‘যশোহর হিন্দুধর্ম রক্ষিণী সভা’ এবং কষ্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপো সহবচষ্য ছদ্মনামে ‘রত্ন পরীক্ষা’ গ্রন্থ লিখেন।
বাংলা সাহিত্যের বিদ্যারত্ন
গিরিশচন্দ্রের উপাধি বিদ্যারত্ন। তাকে বাংলা সাহিত্যের বিদ্যারত্ন বলা হয়।
দৌলত উজির
লাইলী মজনু রচয়িতা বাহরাম খাঁ-এর উপাধি ছিল দৌলত উজির।
বাংলা ভাষার পথিকৃৎ
উইলিয়াম কেরির উপাধি ছিল বাংলা ভাষার পথিকৃৎ।
সাহিত্য সম্রাট
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে সাহিত্যসম্রাট হিসাবে খ্যাত বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
আধুনিক ভ্রমণ সাহিত্যের অগ্রদূত
সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়কে আধুনিক ভ্রমণ সাহিত্যের অগ্রদূত বলা হয়।
স্বপনবুড়ো
স্বপনবুড়ো অখিল নিয়োগীর (১৯০২-১৯৯৩) ছদ্মনাম।
কবিশেখর
কালিদাসের (১৮৮১-১৯৬০) উপাধি ছিল কবিশেখর।
বাংলা সাহিত্যের ফেলুদা
সত্যজিত রায়ের ছদ্মনাম ফেলুদা।
শরৎচন্দ্রের ছদ্মনাম
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ছিল অণীলা দেবী। বড় বোনের নামানুসারে তিনি এ ছদ্মনাম ধারণ করেন।
প্রমথনাথ শর্মা
বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস নববাবু বিলাসের লেখক ভবানীচরণ বন্দোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ছিলেন প্রমথনাথ শর্মা।

কয়েকটি জনপ্রিয় কলি
কোথায় স্বর্গ কোথায় নরক কে বলে তা বহুদূর
মানুষের মাঝে স্বর্গ-নরক মানুষেতে সুরাসুর
 লেখক শেখ ফজলল করিম (১৮৮২১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দ)।
স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে
কবিতাটির লেখক রঙ্গলাল বন্দোপাধ্যায়।
রঙ্গলাল বন্দোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যে ঐতিহাসিক বিষয়বস্তুকে উপাদান হিসেবে নিয়ে কাব্য রচনার পথিকৃত। তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘পদ্মিনী উপাখ্যান’(১৮৫৮) এবং শেষকাব্য ‘কাঞ্চী কাবেরী’ (১৮৭৯)।
“কতরূপ স্নেহ করি
দেশের কুকুর ধরি
বিদেশের ঠাকুর ফেলিয়া”
কবিতাংশটির লেখক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
ধন ধান্যে পু®পভরা আমাদেরি বসুন্ধরা…
বিখ্যাত গানটির রচয়িতা দ্বিজেন্দ্র লাল রায়। বাংলা সাহিত্যে তিনি ডিএল রায় নামে খ্যাত।
আপনার লয়ে বিব্রত রহিতে
আসে নাই কেহ অবনী পরে
সকলের তরে সকলে আমরা
প্রত্যেকে আমরা পরের তরে
কবিতাটির লেখক কামিনী রায় (১৮৬৪১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দ)।
মোদের গরব
‘মোদের গরব, মোদের আশা, আমরি বাংলা ভাষা’
গানটির রচয়িতা অতুল প্রসাদ সেন। ১৮৭১ খ্রিস্টাব্দের ২০ অক্টোবর তিনি জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দের ১০ জুন মৃত্যুবরণ করেন।
প্রখ্যাত গান ‘মায়ের দেয়া মোটা কাপড় মাথায় তুলে নেরে ভাই…… ।’
রচয়িতা রজনীকান্ত সেন।
বাংলা সাহিত্যে ফারসী কবি সাদী ও হাফিজের প্রথম অনুবাদক
কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার বাংলা সাহিত্যে ফারসি কবি সাদী ও হাফিজের প্রথম অনুবাদক।
‘সুসময়ে অনেকে বন্ধু বটে হয়, দুঃসময়ে হায় হায় কেউ কারে নয়’
কবিতাংশটি কৃষ্ণ চন্দ্র মজুমদারের লেখা।
কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের দুটি বিখ্যাত কবিতা
যে জন দিবসে মনের হরষে জ্বালায় মোমের বাতি…..,
বহুমূল্য পরিচছদ রতন ভূষণ …….,
কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার রচিত কবিতার অংশ বিশেষ। তাঁর কবিতা বাংলা সাহিত্যের প্রথম বঢ়রমৎধস হিসেবে খ্যাত।
নানান দেশের নানান ভাষা
বিনে স্বদেশী ভাষে পুরে কি আশা’
নিধুবাবু রচিত বিখ্যাত একটি টপ্পার অংশ।
শুনহ্ মানুষ ভাই, সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই
 লেখক চণ্ডীদাস।
‘জল ভর সুন্দরী কইন্যা জলে দিছ ঢেউ,
হাসিমুখে কওনা কথা সঙ্গে নাই মোর কেউ’
বিখ্যাত গানটি মৈমনসিংহ গীতিকার মহুয়া পালার অংশ।
কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন কমল তুলিতে
দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?
বিখ্যাত কলির রচয়িতা কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার (১৮৩৭১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ)।
তিনি ছিলেন ’সংবাদ প্রভাকর’ পত্রিকার লেখক এবং ‘ঢাকা প্রকাশ’ ও ‘কবিতাকুসুমাবলী’ পত্রিকার স¤পাদক।
কেন পান্থ! ক্ষান্ত হও হেরি দীর্ঘ পথ?
উদ্যম বিহনে কার পুরে মনোরথ”
কলির রচয়িতা কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার।
শেখ সাদী ও হাফিজের কবিতার ভাবানুবাদ অবলম্বনে রচিত ‘সদ্ভাবশতক’ কৃষ্ণচন্দ্রের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ।
“মহাজ্ঞানী মহাজন যে পথে করেছে গমন
হয়েছেন প্রাতস্মরণীয়
সেই পথ লক্ষ্য করে স্বীয় কীর্তিধ্বজা ধরে
আমরাও হব বরণীয়”
কলির লেখক হেমচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়।
এটি ইংরেজি কবি লংফেলোর কবিতার অনুবাদে রচিত ‘জীবনসঙ্গীত’ কবিতার অংশ।
“যে জন বঙ্গেতে জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী
সে জন কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি”
বিখ্যাত কলির লেখক আবদুল হাকিম।
আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্র“য়ারী,
আমি কি ভুলিতে পারি…
গানটির রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরী।
তিনি বর্তমানে লন্ডনে স্বেচ্ছা নির্বাসনে আছেন।
বন্দেমাতরম
আনন্দমঠ উপন্যাসের ‘বন্দেমাতরম’ গানটি ভারতের জাতীয় সংগীত। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর ২২ বছরের সাহিত্য জীবনে ১৪টি উপন্যাস রচনা করেছেন।
আমার সোনার বাংলা
বঙ্কিমচন্দ্র চট্যোপাধ্যায়ের স¤পাদনায় ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত ‘বঙ্গদর্শন’ সাহিত্য পত্রিকায় ১৩১২ বঙ্গাব্দে রবীন্দ্রনাথের ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটি প্রকাশিত হয়।
অতীত তুমি ভুবনে ভুবনে কাজ করে যাও গোপনে গোপনে….
কবিতাংশের লেখক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
উত্তম নিশ্চিন্তে চলে অধমের সাথে
তিনিই মধ্যম যিনি চলেন তফাতে….
এর রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু
অনলে পুড়িল হায়….
কবিতাংশের রচয়িতা জ্ঞান দাস।
উদয়ের পথে শুনি কার বাণী
ভয় নাই ওরে ভয় নাই
নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান
ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই …..
এর রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
সংসার সাগরে দুঃখ তরঙ্গের খেলা
আশা তার একমাত্র ভেলা……
এর রচয়িতা গিরিশ চন্দ্র ঘোষ।
মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয়,
আড়ালে তার সুর্য হাসে …..
কবিতাংশের লেখক সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত।
ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুদের অন্তরে … …
কাব্যাংশের লেখক গোলাম মোস্তফা।
শৈবাল দীঘিরে বলে উচ্চ করে শির
লিখে রেখো এক ফোটা দিলাম শিশির….
এর রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
হে দারিদ্র্য, তুমি মোরে করেছ মহান!
তুমি মোরে দানিয়াছ খ্রিস্ট্রের সমান …..
এর লেখক কাজী নজরুল ইসলাম।
যতদিন ভবে, না হবে, না হবে, তোমার অবস্থা আমার সম
ঈষৎ হাসিবে, শুনে না শুনিবে, বুঝে না বুঝিবে, যাতনা মম….
এর রচয়িতা কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার।
অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে
তব ঘৃণা তারে যেন তৃণসম দহে…
এর রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
প্রীতি প্রেমের পূন্য-বাঁধনে যবে মিলি পরস্পরে
স্বর্গ আসিয় দাঁড়ায় তখন আমাদেরই কুঁড়েঘরে….
এর রচয়িতা শেখ ফজলল করিম।

error: Content is protected !!