বাংলা ভাষা,  বাংলা সাহিত্যের  প্রথম ও প্রধান, বাংলা সাহিত্যের কথা, একনজরে বাংলা সাহিত্য, বিসিএস বাংলা  সাহিত্য, সাধারণ জ্ঞান

ষোড়শ অধ্যায়
বঙ্গানুবাদে ধর্মগ্রন্থ, পরিভাষা, অভিধান ও আইনগ্রন্থ

কোরআন শরীফের প্রথম বঙ্গানুবাদ
ভাই গিরিশচন্দ্র সেন প্রথম পবিত্র কোরআন শরিফ আরবি ভাষা হতে বাংলায় অনুবাদ করেন। ১৮৮১ খ্রিস্টাব্দ হতে ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে গিরিশচন্দ্র অনুদিত কোরআন শরীফের বঙ্গানুবাদ মুদ্রিত হয় এবং ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে সম্পূর্ণ অনুবাদ প্রকাশিত হয়। তাঁর মৃত্যুর পর ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দে অনুবাদের ৪র্থ সংস্করণ প্রকাশিত হয়। পাদরি উইলিয়াম গোল্ডস্যাকও কোরআন শরিফের পূর্ণাঙ্গ বঙ্গানুবাদ করেছিলেন। ভাই গিরিশচন্দ্র সেনের পর মুসলমানদের মধ্যে কোরআন শরিফের প্রথম বঙ্গানুবাদক মৌলবী মুহম্মদ নঈমুদ্দিন। তিনি বোখারি শরিফের প্রথম অনুবাদক হিসেবেও খ্যাত। চব্বিশ পরগণার অধিবাসী মৌলবী আব্বাস আলী প্রথম মুসলিম যিনি কোরআন শরিফের বঙ্গানুবাদ করেছিলেন। ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দে কিরণ গোপাল সিংহ কোরআন শরীফের সার সংকলণ প্রকাশ করেন। ঢাকার ইসলামি একাডেমী প্রকাশিত ‘কুরআনুল করীম’ কোরআন শরিফের একটি নির্ভরযোগ্য বাংলা অনুবাদ।
বাংলা ভাষায় হযরত মোহাম্মদ (সঃ)-এর প্রথম জীবনী লেখক
ভাই গিরিশচন্দ্র সেন বাংলা সাহিত্যে প্রথম হযরত মোহাম্মদ (সঃ) এর জীবনী লিখেন। বাংলা ভাষায় হযরত মোহাম্মদ (সঃ) এর দ্বিতীয় জীবনী লেখক শেখ আবদুর রহিম। এর পর সুধাকর দলের মোহাম্মদ রেয়াজুদ্দিন আহমদ হযরত মোহাম্মদ (সঃ) এর জীবনী লিখেন। হযরতের চতুর্থ জীবনীকার রামপ্রাণ গুপ্ত, তিনি ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দে ৫৫ পৃষ্ঠায় হযরত মোহাম্মদ (দঃ) জীবনী গ্রন্থ লিখেন। গোলাম মোস্তফার ‘বিশ্বনবী’ বাংলা ভাষায় লিখিত হযরত মোহাম্মদ (দঃ) এর প্রথম সর্বশ্রেষ্ঠ জীবনীগ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত।
বাংলা সাহিত্যে সুফি দরবেশের জীবন আলোচনা শাখার স্রষ্টা
গিরিশচন্দ্র সেন বাংলা সাহিত্যে সুফি দরবেশের জীবনী আলোচনা করে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে প্রথম এ শাখার গোড়াপত্তন করেন। ‘তাজকেরাতুল আউলিয়া’ অবলম্বনে গিরিশচন্দ্রের লিখিত ‘তাপসমালা’ গ্রন্থটি এ ধারার প্রথম গ্রন্থ। তিনি মিশকাত শরিফের প্রায় অর্ধাংশ অনুবাদ করেছিলেন। ইসলামি ভাবধারা স¤পর্কিত বিষয়ে গিরিশচন্দ্র অনুদিত অনুবাদ ও মৌলিক গ্রন্থের সংখ্যা ২১। ১৮৩৪ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা জেলার পাঁচদোনা গ্রামে গিরিশচন্দ্র সেন জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ছিলেন সর্বধর্ম সমন্বয়কারী ব্রাহ্মসমাজ মনোনীত ইসলাম ধর্মবিষয়ে লেখার দায়িত্বপ্রাপ্ত লেখক।
আঞ্চলিক ভাষার প্রথম অভিধান
ব্রিটিশ সরকারের উদ্যোগে জি.এ গ্রিয়ারসনের স¤পাদনায় প্রকাশিত হয় খরহমঁহরংঃরপ ঝঁৎাবু ড়ভ ওহফরধ (১৯০৩- ১৯২৮) এবং এফ.ই পার্জিটার এর স¤পাদনায় এসিয়াটিক সোসাইটি হতে প্রকাশিত হয় ঠড়পধনঁষধৎু ড়ভ চবপঁষরধৎ ঠবৎহধপঁষধৎ ইবহমধষর ডড়ৎফং (১৯২৩ খ্রিস্টাব্দ) বাংলা ভাষার আঞ্চলিক ভাষার প্রথম অভিধান।
বাংলা সাহিত্যের আঞ্চলিক ভাষার প্রথম অভিধান
১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে ‘পূর্ব-পাকিস্তানের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান’ পাকিস্তান সরকারের আনুকূল্যে বাংলা একাডেমীর উদ্যোগে সৈয়দ আলী আহসানের পরিচালনায় দুই খণ্ডে প্রকাশিত হয়। ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ হতে সংকলনের কাজ শুরু হয় এবং ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে এর প্রস্তুতি পর্ব শেষ হয়। চৌদ্দটি জেলা হতে গৃহীত ৭৫ হাজার আঞ্চলিক শব্দ নিয়ে অভিধানটি রচিত। এর স¤পাদক ছিলেন ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। তিনি অভিধানের ভূমিকাও লিখেছিলেন। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এটাই একমাত্র নির্ভরযোগ্য আঞ্চলিক অভিধান। ২য় সংস্করণে অভিধানটির নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলাদেশের আঞ্চলিক অভিধান’ রাখা হয়। ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বাংলা ভাষার প্রথম আঞ্চলিক অভিধানের রচয়িতা।
উপভাষা (আঞ্চলিক ভাষা) এর সংজ্ঞা
উপভাষা ভাষা নয়, ভাষার অঙ্গ। নদী এবং উপ-নদীর সাথে ভাষা ও উপ-ভাষার তুলনা করা যেতে পারে। উপভাষা হচেছ খনি হতে সদ্য উত্তোলিত স্বর্ণ আর ভাষা হচেছ উত্তোলিত স্বর্ণের ঘষামাজা রূপ, যা সদ্য উত্তোলিত স্বর্ণের চেয়ে অনেক বেশি সৌন্দর্যমণ্ডিত এবং সর্বজনীন আকর্ষণে উজ্জ্বল।
পরিভাষার গোড়াপত্তন
১৭৮৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলা পরিভাষা নির্মাণের গোড়া পত্তন হয়।
দেওয়ানি কার্যবিধির প্রথম বঙ্গানুবাদ
১৭৮৫ খ্রিস্টাব্দে জোনাথন ডানকান ‘দেওয়ানি কার্যবিধি’র প্রথম বাংলা অনুবাদ মুদ্রণ করেন। এটা বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে বাংলায় অনুদিত প্রথম আইনগ্রন্থ। ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে জোনাথন ডানকানের ‘মফস্বল দেওয়ানি আদালত সকলের’ এবং ‘সদর দেওয়ানি আদালতের বিচার ও ইনসাফ চলন হইবার কারণ, ধারা ও নিয়ম’ গ্রন্থদ্বয় অনুদিত হয়।
ফৌজদারি কার্যবিধির প্রথম বঙ্গানুবাদ
১৭৯১ খ্রিস্টাব্দে এন.বি এডমনস্টোন (ঘ.ই ঊফসড়হংঃড়হব) নামক জনৈক সিভিলিয়ান ‘ফৌজদারি কার্যবিধি’র প্রথম বঙ্গানুবাদ করেন। এ ছাড়া তিনি দুইটি রেগুলেশন গ্রন্থও (১৭৯০-১৭৯২ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে) বাংলায় অনুবাদ করছিলেন।
কর্ণওয়ালিস কোড এবং শব্দকোষ
১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে হেনরি পিটস ফরস্টার (ঐ.চ ঋড়ৎংঃবৎ) ‘কর্ণওয়ালিস কোড’(ঈড়ৎহ-ডধষষরং ঈড়ফব) এর বঙ্গানুবাদ এবং ১৭৯৯ খ্রিস্টাব্দে ‘শব্দকোষ’ প্রথমখণ্ড অনুবাদ ও সংকলন করেন। ১৮০১ খ্রিস্টাব্দে কর্ণওয়ালিস কোড এর ‘শব্দকোষ’ ২য়খণ্ড হেনরি পিটস ফরস্টার কর্তৃক প্রণীত। সরকারি কাজে ফারসি প্রভাব দুর করার জন্য আইন গ্রন্থ প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হলেও ১৮৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ভারতবর্ষে রাজকার্যে ফারসি প্রভাব অক্ষুণ্ন ছিল।
প্রথম ইংরেজি ও বাংলা অভিধান
১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে এ আপজন স¤পাদিত ‘ইঙ্গারাজী ও বাঙালী বোকাবোলারি’ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে প্রকাশিত প্রথম ইংরেজি ও বাংলা অভিধান।
প্রথম আইনবিধি প্রণয়ন
১৭৯৫ খ্রিস্টাব্দে চঁচূঁড়া নিবাসী রামতারক রায় নামক জনৈক ব্যক্তি ইংরেজি আইনগ্রন্থ হতে সার সংকলন করে ‘সদর দেওয়ানি আইনবিধি’ প্রকাশ করেন।
বাংলা ভাষায় পবিত্র বাইবেলের প্রথম বঙ্গানুবাদ
শ্রীরামপুর মিশনারিদের প্রচেষ্টায় ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে বাইবেলের নিউ টেস্টামেন্টের এড়ংঢ়বষ ড়ভ ঝঃ. গধঃযবংি অংশের অনুবাদ মুল গ্রিক হতে ‘মঙ্গলসমাচার মাতীয়ের রচিত’ নামক গ্রন্থের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এটি বাংলা সাহিত্যে বাইবেলের প্রথম বঙ্গানুবাদ। ১৮০১ খ্রিস্টাব্দে বাইবেলের নিউ টেস্টামেন্ট এবং ওল্ড টেস্টামেন্ট এর কিয়দংশের অনুবাদ প্রকাশিত হয়। ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে উইলিয়াম কেরি অনুদিত সমগ্র বাইবেলের অনুবাদ গ্রন্থ ‘ধর্মপুস্তক’ নামে প্রকাশিত হয়। ধর্মপুস্তক গ্রন্থে বাংলা ভাষার নিজস্ব পদবিন্যাস রীতিকে উপেক্ষা করে ইংরেজি পদবিন্যাস রীতি অনুসরণ করায় বাংলা সাহিত্যে এ গদ্যের প্রভাব নগন্য।
আইন গ্রন্থের অনুবাদ
ইস্ট ইন্ডিয়া কো¤পানির শাসনামলে ইংরেজিতে আইনগ্রন্থ প্রনয়ণের প্রয়োজন অনুভূত হয়। ১৭৮৫ খ্রিস্টাব্দ হতে ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে চারটি আইনগ্রন্থ অনুদিত হয়। অনুদিত আইন গ্রন্থের ভাষা প্রসঙ্গে অসিতকুমার বন্দোপাধ্যায় বলেন, ‘এই আইন অনুবাদের ভাষা মিশনারি বাংলা অপেক্ষা অনেক সহজ, এমন কি স্থানে স্থানে সুখপাঠ্য।” ডঃ সুকমার সেনও অনুদিত আইন গ্রন্থগুলোর ভাষা শৈলীর উচছ¡সিত প্রশংসা করেছেন।
এ সময়ে অনুদিত আইন গ্রন্থসমূহ হচ্ছে, (১) ১৭৮৫ খ্রিস্টাব্দে জোনাথান কর্তৃক ই¤েপ কোডের অনুবাদ;(২) ১৭৯১ খ্রিস্টাব্দে নিল বেঞ্জামিন এডমনস্টোন কর্তৃক বাংলা, বিহার ও উড়িয্যার ফৌজাদারি আদালতের কার্যবিধির অনুবাদ; (৩) ১৭৯২ খ্রিস্টব্দে এডমনস্টোন কর্তৃক ম্যাজিস্ট্রেট কার্যবিধির অনুবাদ এবং (৪) ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে ফরস্টার কর্তৃক কর্ণওয়ালিস কোডের অনুবাদ।

 

সপ্তদশ অধ্যায়
বিবিধ : একের ভেতর অগনিত

জাতীয় সঙ্গীত, রণসঙ্গীত ও ক্রীড়াসঙ্গীত
বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতের রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। সঙ্গীতটি ১৩১২ বঙ্গাব্দে বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। বাংলাদেশের রণ সঙ্গীতের রচয়িতা বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। ক্রীড়া সঙ্গীতের রচয়িতা সেলিনা রহমান।
বাংলায় প্রথম পূর্ণ দৈর্ঘ্য ছায়াছবি
বাংলায় প্রথম পূর্ণ দৈর্ঘ্য ছায়াছবি ‘ঋষির প্রেম’। জ্যোতিষ বন্দোপাধ্যায় ছিলেন ছায়াছবিটির পরিচালক ছিলেন।
ভাষাতত্ত্বে বাংলাদেশের প্রথম পিএইচডি ডিগ্রিধারী
কাজী দীন মুহাম্মদ বাংলা ভাষাতত্ত্বে বাংলাদেশের প্রথম পিএইচডি ডিগ্রি লাভের লাভের গৌরবের অধিকারী।
বাংলাদেশের প্রথম রঙ্গীন ছায়াছবি
বাংলাদেশের প্রথম রঙ্গীন ছায়াছবি জহির রায়হানের ‘সঙ্গম’।
ঢাকায় নির্মিত প্রথম ছায়াছবি
ঢাকায় নির্মিত প্রথম ছায়াছবি ‘মুখ ও মুখোশ’। পরিচালক ছিলেন আবদুল জব্বার।
‘জ্যাঁপল সাত্রের ত্রয়ী’ উপন্যাসের প্রথম বাংলা অনুবাদক
‘জ্যাঁ পল সাত্রের ত্রয়ী’ উপন্যাসের প্রথম বাংলা অনুবাদক শহিদ আখন্দ।
বাংলাদেশে বাংলা ভাষায় পি এইচ ডি পর্যায়ে ডিগ্রি প্রদানের অগ্রদূত
মুহম্মদ আবদুল হাই বাংলাদেশে বাংলা ভাষায় পি.এইচ.ডি পর্যায়ে ডিগ্রি প্রদানের অগ্রদূত হিসেবে খ্যাত। তাঁর তত্ত্বাবধানে বাংলা বিভাগ হতে চার জন গবেষক পি.এইচ.ডি ডিগ্রি লাভ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ হতে প্রকাশিত ‘সাহিত্য পত্রিকা’ আবদুল হাইয়ের শ্রেষ্ঠ কীর্তি হিসেবে স্বীকৃত।
বাংলা সাহিত্যে হাসির রাজা
বাংলা সাহিত্যের হাসির রাজা শিবরাম চক্রবর্তী।
বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দে লিখিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ
মাইকেল মধুসূদনের ‘তিলোত্তমা সম্ভব’ বাংলা সাহিত্যের অমিত্রাক্ষর ছন্দে লিখিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
বাংলা সাহিত্যের প্রথম দেশ-প্রেমমূলক নাটক
গিরিশচন্দ্র সেন রচিত ‘সিরাজউদৌল্লা’ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে লিখিত প্রথম দেশ প্রেমমূলক নাটক। এর পর দীনবন্ধু মিত্রের ‘নীলদর্পণ’ নাটকের কথা উল্লেখ করা যায়, যদিও এটি রাজনীতিক নাটক হিসেবে খ্যাত।
বাংলাদেশের প্রথম ছোট গল্পকার
বাংলাদেশের ছোটগল্প সাহিত্যের প্রথম ছোট গল্পকার আবুল মনসুর আহমদ। ‘আয়না’, ‘ফুড কনফারেন্স’ তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।
বাংলাদেশে পরিভাষা স¤পর্কিত চিন্তাধারার সূত্রপাত
১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত মুহাম্মদ আবদুল হাইয়ের ‘আমাদের পরিভাষা সমস্যায় সংস্কৃতের স্থান’ এবং ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত ‘আমাদের পরিভাষা সমস্যা’ গ্রন্থদ্বয়কে বাংলাদেশে বাংলা ভাষার পরিভাষা স¤পর্কিত চিন্তধারার সূত্রপাত বলা যায়।
প্রথম পরিভাষা কমিটি
পরিভাষা স¤পর্কিত সমস্যা সমাধানের প্রয়াসে এনামুল হককে সভাপতি করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে প্রথম ‘পরিভাষা কমিটি’ গঠন করা হয়।
১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের ভবিষ্যদ্বানী
‘ভবিষ্যতের বাঙালি’ নামক গ্রন্থে এস ওয়াজেদ আলীর ভবিষ্যদ্বাণী ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে সত্য প্রতীয়মান হয়েছে। ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দের ১০ জুন তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
বাংলা একাডেমীর প্রতিষ্ঠা
১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দের ৩ ডিসেম্বর বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠিত হয়।
রবীন্দ্র সংগীত প্রচার নিষিদ্ধকরণ
১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দের ২২ জুন পাকিস্তান সরকার রেডিও পাকিস্তান হতে রবীন্দ্র সঙ্গীত প্রচার নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
ঢাকার প্রথম চলচিচত্র
১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দের ৩ আগস্ট আবদুল জব্বার পরিচালিত ‘মুখ ও মুখোশ’ ঢাকার প্রথম চলচ্চিত্র।
বাংলা ভাষার প্রথম ভ্রমণ কাহিনী
ভবানীচরণ বন্দোপাধ্যায় (১৭৮৭- ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দ) রচিত ‘শ্রী শ্রী গয়াতীর্থ বিস্তার’ (১৮৩১ খ্রিস্টাব্দ) বাংলা সাহিত্যে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ ভ্রমণ কাহিনী। ১৮৪৪ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত তাঁর ‘পুরুষোত্তম চন্দ্রিকা’ গ্রন্থটিও একটি ভ্রমণ কাহিনী। এটা বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে বাংলা ভাষায় রচিত ২য় ভ্রমণ কাহিনী। ‘পালামৌ’ গ্রন্থের (১৮৩৪-৮৯ খ্রিস্টাব্দ) লেখক সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৪ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। ‘পালামৌ’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ভ্রমণ কাহিনী হিসেবে খ্যাত।
বাংলা ভাষাকে পূর্ণাঙ্গরূপে প্রকাশের প্রথম প্রয়াস
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের অমর সৃষ্টি ‘ঞযব ঙৎরমরহ ধহফ উবাবষড়ঢ়সবহঃ ড়ভ ঃযব ইবহমধষর খধহমঁধমবদ গ্রন্থটিকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে বাংলা ভাষাকে পূর্ণাঙ্গরূপে উপস্থাপন করার প্রথম ও সার্থক প্রয়াস হিসেবে অভিহিত করা হয়। ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় মৃত্যুবরণ করেন।
নগর পরিচয় ও নাগরিক আচরণমূলক গ্রন্থ
ভবানীচরণ বন্দোপাধ্যায় লিখিত ‘কলিকাতা কমলালয়’ বাংলা সাহিত্যে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম নগর পরিচয়মূলক গ্রন্থ। কলকাতা শহরে আগমনকারী লোকদের আচরণ-বিধি সংক্রান্ত বিষয়ের উপর তিনি গ্রন্থটি রচনা করেন।
কলিকাতা এবং কলিকাতার পাশ্ববর্তী অঞ্চলের মৌখিকভাষার প্রথম সুষ্ঠু প্রয়োগকারী
কালী প্রসন্ন সিংহ (১৮৪০-১৮৭০ খ্রিস্টাব্দ) কলিকাতা এবং কলিকাতার পাশ্ববর্তী অঞ্চলের মৌখিকভাষার প্রথম সুষ্ঠু প্রয়োগকারী হিসেবে খ্যাত। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘হুতোম প্যাঁচার নকশা’য় তিনি এরূপ ভাষার সুষ্ঠ প্রয়োগ করেছেন। তাঁর ছদ্মনাম হুতোম, এজন্য তাঁর ব্যবহৃত ভাষাকে তৎকালে ‘হুতোমী বাংলা’ বলা হত। ‘হুতোম প্যাঁচার নকশা’ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ‘সমাজ জীবনের চাঞ্চল্যকর রূপ’ হিসেবেও খ্যাত।
আধুনিক জীবনের মহাকাব্য ও শ্রেষ্ঠ কাব্যোপন্যাস
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চোখেরবালি’ উপন্যাসকে আধুনিক জীবনের মহাকাব্য বলা হয়। ‘শেষের কবিতা’ তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যোপন্যাস।
পাশ্চাত্য জগত হতে বাংলা ভাষায় রহস্য গল্পের আমদানীকারক
ভুবনচন্দ্র মুখোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে পাশ্চাত্য জগত হতে বাংলা ভাষায় প্রথম রহস্য গল্পের আমদানী করেন। জে.এম রেনল্ডের ইংরেজি রহস্য গ্রন্থ অবলম্বনে তিনি ‘হরিদাসের গুপ্তকথা’ রচনা করে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। ‘মার্কিন পুলিশ কমিশনার’, ‘ঠাকুর বাড়ীর দপ্তর’, ‘সন্তপ্ত শয়তান’, ‘লন্ডন রহস্য’ ইত্যাদি তাঁর বিদেশি রহস্য গল্প অবলম্বনে রচিত বাংলা রহস্য গ্রন্থ।
রূপকথার যথার্থ স্বরূপ অবলম্বনে অসম্ভব রাজ্যের মনোরম চিত্রপটের উম্মোচক
ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায় (১৮৪৭-১৯১৯ খ্রিস্টাব্দ) রূপকথার যথার্থ স্বরূপ অবলম্বনে বাংলা ভাষায় প্রথম অসম্ভব রাজ্যের মনোরম চিত্রপটের উম্মোচন করেন। কঙ্কাবতী (প্রকাশ কাল-১২৯৯বাং) গ্রন্থে তাঁর এ অসাধারণ স্বরূপের প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনিই প্রথম সাহিত্যিক যিনি বাংলা সাহিত্যে কথ্য ভাষাকে লেখ্য ভাষার সাথে অপূর্ব যোজনায় মিলিয়ে দিতে সক্ষম হন।
বাংলা সাহিত্যে পর্যবেক্ষণধর্মী প্রথম সামাজিক উপন্যাস
শিবনাথ শাস্ত্রীকে (১৮৪৭-১৯১৯ খ্রিস্টাব্দ) বাংলা সাহিত্যে পর্যবেক্ষণধর্মী প্রথম সামাজিক উপন্যাসিক বলা হয়। ‘মেজবৌ’ (১৮৮০ খ্রিস্টাব্দ), ‘যুগান্তর’ (১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দ) এবং ‘নয়নতারা’ (১৮৯৯খ্রিস্টাব্দ) তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস।
ঊনবিংশ শতকের মুসলিম বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগের আলো
সুধাকর দলের সুধী প্রধান শেখ আবদুর রহিমকে (১৮৫৯-১৯৩১ খ্রিস্টাব্দ) বাংলা সাহিত্যে ঊনবিংশ শতকের মুসলিম বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগের আলো বলা হয়। তিনি সুধাকর (সাপ্তাহিক), মিহির (মাসিক), মিহির ও সুধাকর (সাপ্তাহিক), হাফেজ (মাসিক), মোসলেম পত্রিকা (মাসিক), মোসলেম হিতৈষী (সাপ্তাহিক) ও ইসলাম দর্শন (মাসিক) ইত্যাদি পত্রিকাগুলো স¤পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন।
কাব্যে হযরত মোহাম্মদ (সঃ)-এর প্রথম জীবনী লেখক
কবি মোজাম্মেল হক বাংলা সাহিত্যে প্রথম ‘হযরত মোহাম্মদ’ নামক কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে হযরত মোহাম্মদ (সঃ) এর পূর্ণাঙ্গ জীবনী লিখেন। কাজী নজরুল ইসলামও ‘মরুভাস্কর’ কাব্যের মাধ্যমে হযরত মোহাম্মদ (সঃ) এর জীবনী রচনা করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে গ্রন্থটি ছিল অস¤পূর্ণ।
বাংলা সাহিত্যে প্রথম তুলনামূলক কাব্য সমালোচক
রঙ্গলাল বন্দোপাধ্যায় (১৮১৭-১৮৮৭ খ্রিস্টাব্দ) এর ‘বাঙ্গালা কবিতা বিষয়ক প্রবন্ধ’ বাংলা সাহিত্যে প্রথম তুলনামূলক কাব্য সমালোচনা গ্রন্থ। গ্রন্থটিতে ইংরেজি ভাষার সঙ্গে বাংলা ভাষার তুলনামুলক আলোচনা করে বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠত্বকে প্রতীয়মান করা হয়েছে।
ইংরেজি সাহিত্যের রসে বাংলা সাহিত্যকে সঞ্জীবিত করার প্রথম প্রয়াস
রঙ্গলাল বন্দোপাধ্যায়ই ইংরেজি সাহিত্যের রসে বাংলা সাহিত্যকে সঞ্জীবিত করার প্রথম প্রয়াস নেন। তিনি ইংরেজি কবি টমাস মুর ও স্যার ওয়াল্টার স্কটের অনুকরণে বাংলা সাহিত্যে প্রথম দেশাত্ববোধসূচক কাব্য রচনার সূচনাকারী হিসেবে খ্যাত।
মাতৃভাষা বর্ণনায় বাঙালির প্রথম প্রচেষ্টা
রামমোহন রায়ের ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ’ (১৮৩৩) মাতৃভাষা বর্ণনায় কোনো বাঙালি লেখকের প্রথম প্রচেষ্টা হিসেবে স্বীকৃত। তবে বর্তমানে সবচেয়ে প্রতাপ ও প্রভাবশালী ছাত্র পাঠ্য ব্যাকরণের রচিয়তা সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায়।
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সচিত্র বাংলা বই
১৮১৬ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত ভারতচন্দ্রের ‘অন্নদামঙ্গল’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম সচিত্র বাংলা বই। বইটিতে ৬ টি ছবি ছিল। এর ডিজাইন তথা ব্লক করেছিলেন রূপচাঁদ রায়।
প্রথম শিল্প শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে কলিকাতা শহরে প্রতিষ্ঠিত ‘বিশ্ববিদ্যালয়’ নামক প্রতিষ্ঠানটি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে প্রাতিষ্ঠানিক শিল্প শিক্ষার প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠান।
বাংলা মুদ্রণ যন্ত্রের ইতিহাসে প্রথম হাফটোন ব্লকের ব্যবহার
উপেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী বাংলা মুদ্রণ যন্ত্রের ইতিহাসে প্রথম হাফটোন ব্লকের ব্যবহার করেন। তিনি ছিলেন একাধারে লেখক, চিত্রকর ও মুদ্রাকর।
বাংলা সাহিত্যের আধুনিক প্রচছদের রূপকার
সত্যজিত রায়কে বাংলা সাহিত্যে আধুনিক প্রচ্ছদের রূপকার বলা হয়। তিনি বাংলা সাহিত্যে পুস্তকের আধুনিক প্রচ্ছদের পথিকৃত হিসেবেও খ্যাত।
সবচেয়ে কমবয়সী মুসলিম কবি
কবি কায়কোবাদ(১৮৫৮-১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করার গৌরব অর্জন করেন। ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দে মাত্র ১২ বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘বিরহ বিলাস’ প্রকাশিত হয়। ১৫ বছর বয়সে ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দে তাঁর দ্বিতীয় কাব্য গ্রন্থ ‘কুসুম কানন’ প্রকাশিত হয়। তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ‘মহাশশ্মান’ ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
মুসলিম সাহিত্য সমাজ
১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে ঢাকায় ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ প্রতিষ্ঠিত হয়। আবুল হুসেন ছিলেন প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম একজন। কাজী আবদুল ওদুদ, কাজী মোতাহার হোসেন, আবদুল কাদির, আবুল ফজল ছিলেন মুসলিম সাহিত্য সমাজের উদ্যোগী ভাবুক ও একনিষ্ঠ কর্মী।
বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক প্রবন্ধকার
রাজা রামমোহন রায়ের উপাধি ছিল ‘ভারত সূর্য’। তাঁর লিখিত ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ’ বাংলা সাহিত্যে বাংলা ভাষায় কোনো বাঙালি লিখিত প্রথম ব্যাকরণ। তাঁকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক প্রবন্ধকারও বলা হয়।
বাংলায় অনুদিত আইন গ্রন্থ
১৭৮৫ খ্রিস্টাব্দে জোনাথন অনূদিত ‘ই¤েপ কোডের’ বঙ্গানুবাদই বাংলা সাহিত্যে কোনো আইন গ্রন্থের প্রথম অনুবাদ হিসেবে স্বীকৃত।
বিলাত যাত্রী প্রথম বাঙালি
১৭৬৪ খ্রিস্টাব্দের ২০ জানুয়ারি মির্জা ইহতিশাম উদ্দিন প্রথম বাঙালি, যিনি প্রথম বিলাত যান। তিনি ভারতীয়দের মধ্যেও প্রথম বিলাত যাত্রী হিসেবে খ্যাত।
স্বল্প দৈর্ঘ্য চলচিচত্র
১৯৩১ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত স্বল্প দৈর্ঘ্য ছবি ‘সুকুমারী’ বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে প্রথম স্বল্প দৈর্ঘ্য ছায়াছবি। জহির রায়হানের ‘স্টপ জেনোসাইড’ বাংলাদেশের প্রথম স্বল্প দৈর্ঘ্য ছায়াছবি।
ঊনিশ শতকের শ্রেষ্ঠ মহিলা কবি
ঊনিশ শতকের শ্রেষ্ঠ মহিলা কবি কামিনী রায়। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘আলো ও ছায়া’।
বাংলা সাহিত্যের স্বভাবকবি
গোবিন্দচন্দ্র দাস বাংলা সাহিত্যের স্বভাবকবি হিসেবে খ্যাত। তিনি মানুষের কবি নামেও পরিচিত।
গজল গানের ঢঙে বাংলা গানে নতুন প্রযুক্তির সুর সংযোজক
গজল গানের ঢঙে বাংলা গানে নতুন প্রযুক্তির সুর সংযোজন করেন অতুল প্রসাদ সেন। যা নজরুলে পরিপূর্ণতা পায়।
বাংলা সাহিত্যের প্রথম পরিভাষা কমিটি
১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ২৯ জুলাই বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ পরিভাষা সমিতি গঠন করে। এটা বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে গঠিত প্রথম পরিভাষা কমিটি। কৃষ্ণকমল ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে ও দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের স¤পাদনায় এ কমিটিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ ৯ জন সদস্য ছিলেন। ১৩০১ হতে ১৩০৩ বঙ্গাব্দ অর্থাৎ তিন বছরের প্রয়াসে পরিভাষা সমিতি প্রকাশ করে ‘ভৌগলিক পরিভাষা’ নামক একটি পরিভাষা গ্রন্থ।
বাংলা সাহিত্যের কৃষকবন্ধু
মুহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন আহমদকে বাংলা সাহিত্যের কৃষকবন্ধু বলা হয়। তিনি মুসলমান, নবসুধাকর, সুলতান, মিহির ও সুধাকর, নবযুগ, রায়তবন্ধু এবং মুসলিম বাণী প্রভৃতি পত্রিকার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কৃষকবন্ধু তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
বঙ্গের মহিলা কবি
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন (১৮৮০-১৯৩২খ্রিস্টাব্দ) বঙ্গের মহিলা কবি হিসেবে খ্যাত। ‘সুলতানার স্বপ্ন’ এবং ‘অবরোধবাসিনী’ গ্রন্থে তিনি অবহেলিত নারী সমাজের প্রতি গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করেন।
স্বামীর মৃত্যুতে কবি
স্বামীর মৃত্যুর কারণে গিরীন্দ মোহনী দাসী কবিতা লেখা শুরু করেন এবং কবি হিসেবে খ্যাতি লাভ করতে সক্ষম হন। মাইকেল মধুসূদনের ভ্রাতুষ্পুত্রী মানকুমারী বসু এবং কামিনী রায়ের নামও এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যায়।

হিন্দীঅবধী সাহিত্যের সাথে বাংলা সাহিত্যের তুলনার প্রথম সফলকাম গ্রন্থ
সৈয়দ আলী আহসানের পদ্মাবতী (১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দ) হিন্দিঅবধী সাহিত্যের সাথে বাংলা সাহিত্যের তুলনার প্রথম সফলকাম গ্রন্থ।
জনপ্রিয় মুসলিম ঔপন্যাসিক
বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় উপন্যাস নজিবর রহমানের ‘আনোয়ারা’। এটা ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়। এ যাবৎ আনোয়ারা উপন্যাসের ৩ লক্ষ কপি বিক্রি হয়েছে। বাংলা সাহিত্যের আর কোনো উপন্যাস এত বেশি বিক্রি হয় নি। বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। তাঁকে অপরাজেয় কথা শিল্পী বলা হয়। বর্তমানে বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদ। তবে সমালোচকেরা তাঁকে উপন্যাসিক না বলে অপন্যাসিক বলে থাকেন।
অপন্যাস
হুমায়ূন আহমদের উপন্যাসকে বাংলা সাহিত্যের অপন্যাস বলা হয়। কারণ তার লেখা উপন্যাসগুলোর একটিও কোনো বিচারে উপন্যাস নয়।
কাজী ইমদাদুল হক
কাজী ইমদাদুল হক বাংলা সাহিত্যের একজন শক্তিশালী মুসলিম ঔপন্যাসিক। তাঁর শ্রেষ্ঠ উপন্যাস ‘আবদুল্লাহ্’ বাংলা সাহিত্যের একটি বিখ্যাত উপন্যাস। ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকায় উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল। ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দে ‘আবদুল্লা’ পুস্তকারে ছাপা হয়।
অরণ্য নিয়ে লেখা বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস
অরণ্য নিয়ে লেখা বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস বিভূতি ভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের ‘আরণ্যক’।
পবিত্র কোরআনের প্রথম বঙ্গানুবাদক
ভাই গিরীশচন্দ্র সেন প্রথম কোরআন শরীফের বঙ্গানুবাদ করেন। ১৮৮১ খ্রিস্টাব্দ হতে ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে গিরিশচন্দ্র সেন অনুদিত কোরআন শরীফের বঙ্গানুবাদ মুদ্রিত হয় এবং ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে তা স¤পূর্ণ হয়।
প্রথম ধর্মান্তরিত লেখক
হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে মুসলিম ধর্ম গ্রহণকারী প্রখ্যাত সাহিত্যিক দীন মোহাম্মদ গঙ্গোপাধ্যায় (১৮৫৩-১৯১৬) বাংলা সাহিত্যের প্রথম ধর্মান্তরিত মুসলিম সাহিত্যিক। ‘ক্রুসেড ও জেহাদ’ তাঁর একটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।
মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি
১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দের ২ এপ্রিল নওয়াব আবদুল লতিফ কলিকাতায় মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন।
স্বদেশ পকেটে বিদেশ ভ্রমণ
মুজতবা আলী বিদেশে থেকে স্বদেশের লেখা লিখতেন। তাই তাঁকে ‘বিদেশে ঘুরতেন আপন স্বদেশ পকেটে করে’ বাখ্যে আখ্যায়িত করা হয়। ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দের ১১ জানুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন। আবদুল গাফফার চৌধুরীকেও অনুরূপ লেখক হিসেবে আখ্যায়িত করা যায়।
বাংলায় প্রাতিষ্ঠানিক নারী শিক্ষার সূচনা
১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় প্রাতিষ্ঠানিক নারী শিক্ষার সূচনা ঘটে। ঐ বছর মে মাসে জে ই ডি বেথুন কলকাতায় ভিক্টোরিয়া গার্লস স্কুল প্রতিষ্ঠা করে প্রাতিষ্ঠানিক নারী শিক্ষার সূচনা ঘটান। বিদ্যালয়টি পরবর্তীকালে প্রতিষ্ঠাতা বেথুনের নামানুসারে ‘বেথুন স্কুল’ নামে পরিচিতি পায়।
বাংলা সাহিত্যে প্রথম মহিলা øাতক
বাংলাভাষাবাসীদের মধ্যে প্রথম মহিলা øাতক কাদম্বিনী বসু। তিনি ১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দে øাতক ডিগ্রি লাভের অনন্য গৌরব অর্জন করেন। ১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দে চন্দ্রমুখী বসু কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এম এ ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি বাংলাভাষাবাসী প্রথম এমএ ডিগ্রিধারী মহিলা। বাংলাদেশি মুসলমানদের মধ্যে প্রথম এম এ পাশ মহিলা ফজিলাতুন্নেসা। তিনি ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে গণিতে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে এম এ ডিগ্রি অর্জন করেন।
মুসলমানদের জন্য প্রথম স্বতন্ত্র বালিকা বিদ্যালয়
১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দে নবাব ফয়েজুন্নেসা চৌধুরানী কুমিল্লা বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মুসলমানদের জন্য উপমহাদেশে প্রথম স্বতন্ত্র বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।
প্রথম মুসলিম গদ্য লেখিকা
প্রথম মুসলমান গদ্য লেখিকা বিবি তাহেরণ নেসা। ১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দে ‘বামাবোধিনী’ পত্রিকায় (প্রকাশ কাল ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দ) তাঁর প্রথম গদ্য নিবন্ধ প্রকাশিত হয়।
শর্টহ্যান্ড লিখন পদ্ধতির প্রথম গ্রন্থ
১৯২২ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত এবং ছন্দে বর্ণিত দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘রেখাক্ষর বর্ণমালা’ বাংলা ভাষার শর্টহ্যান্ড লিখন পদ্ধতির প্রথম গ্রন্থ। তিনি ‘ভারতীয়’ পত্রিকার প্রথম স¤পাদক ছিলেন। উল্লেখ্য ‘ভারতীয়’ পত্রিকাটি প্রথম ১৮৭৭ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়। তাছাড়া তিনি ১৮৪৪ খ্রিস্টাব্দ হতে দীর্ঘ ২৫ বছর ‘তত্ত্ববোধিনী’ পত্রিকার স¤পাদক ছিলেন। ১৮৯১ খ্রিস্টাব্দে তাঁর প্রচেষ্টায় বিখ্যাত ‘হিতবাদী’ পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়।

পোস্ট মাস্টার কবি
বিখ্যাত ‘মহাশশ্মান’ কাব্য গ্রন্থের লেখক কাজেম আলী কোরায়শী (ছদ্মনাম কায়কোবাদ) ছিলেন পেশায় একজন পোস্টমাস্টার। তাই তাঁকে পোস্ট মাস্টার কবি বলা হয়।
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুজন সাহিত্যিক
আবদুল হাই ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দের ৩ জুন ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দের ২২ অক্টোবর কলিকাতায় এক ট্রাম দুর্ঘটনায় কবি জীবনান্দ দাশ নিহত হন। জীবনান্দ দাশ ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দের ১৭ ফেব্রুয়ারি জন্ম গ্রহণ করেছিলেন।
বাংলা একাডেমির প্রথম মহাপরিচালক
বাংলা একাডেমীর প্রথম মহাপরিচালক মোহাম্মদ বরকত উল্লাহ। তিনি প্রথম মুসলিম দার্শনিক প্রবন্ধ লেখক হিসেবেও খ্যাত। তাঁর শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ পারস্য প্রভিতা (১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ)।
বাংলা সন
১৫৮৫ খ্রিস্টাব্দে ১০ মার্চ হতে বাংলা সন প্রবর্তিত হয়। সম্রাট আকবর বাংলা সনের প্রবর্তক।

error: Content is protected !!