বাংলা ভাষা,  বাংলা সাহিত্যের  প্রথম ও প্রধান, বাংলা সাহিত্যের কথা, একনজরে বাংলা সাহিত্য, বিসিএস বাংলা  সাহিত্য, সাধারণ জ্ঞান

তৃতীয় অধ্যায়
বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন যুগ

যুগ-বিভাজন
ভাষার বিবর্তন ও সৃষ্টি বৈচিত্র্যের উপর ভিত্তি করে ভাষাতৈহাসিকগণ বাংলা ভাষার বিকাশ কালকে তিনটি যুগে বিভক্ত করেছেন। যথা (১) প্রাচীন যুগ, (২) মধ্য যুগ এবং (৩) আধুনিক যুগ। ৬৫০ খ্রিস্টাব্দ হতে ১২০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রাচীন যুগ, ১২০০ খ্রিস্টাব্দ হতে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মধ্য যুগ এবং ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ হতে চলমান কাল অবধি আধুনিক যুগ। কোনো কোনো গবেষক ১২০০ খ্রিস্টাব্দ হতে ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে বাংলা সাহিত্যের ‘সন্ধিযুগ’ বলে অভিহিত করেছেন। অনেকে সন্ধিযুগকে বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ নামে আখ্যায়িত করেছেন। ইদানীং ‘বাংলাদেশের সাহিত্য’ বলে একটি কথা প্রচলিত। ‘বাংলাদেশের সাহিত্য’ বলতে ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে দেশ বিভাগ তথা পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর হতে পরবর্তী সময়ে সৃষ্ট ও বর্তমান পরিসীমায় রচিত সাহিত্যকে বুঝানো হয়।

প্রাচীন যুগ : প্রাচীন যুগের নিদর্শন ও বাংলা ভাষার উৎপত্তি
৬৫০ খ্রিস্টাব্দ হতে ১২০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ বলা হয়। ‘চর্যাপদ’ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের প্রথম ও একমাত্র আবিষ্কৃত নিদর্শন। মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজকীয় গ্রন্থশালা হতে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন। বাংলা সাহিত্যের প্রারম্ভিক ৫৫০ বছরের ইতিহাসে ‘চর্যাপদ’ ছাড়া আর কিছু রচিত হয়েছে এমন কোনো প্রমাণ আবিষ্কৃত না হওয়া পর্যন্ত চর্যাপদকে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন নিদর্শন ধরে নিতে হবে। ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে চর্যাপদের ৬৫০ খ্রিস্টাব্দ হতে ১২০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে স¤পন্ন হয়েছে। ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় মনে করেন, চর্যাপদ ৯৫০ খ্রিস্টাব্দ হতে ১২০০ খ্রিস্টাব্দ সময়ের মধ্যে রচিত। চর্যাকার তথা চর্যাপদের ৮৪ জন রচিয়তাদের মধ্যে লুইপা, কুক্করী, বিরুআ, ডোম্বী, শবর, ধাম এবং জঅন্দি প্রমূখ বাঙালি ছিলেন। চর্যা কবিদের মধ্যে কাহ্নপা সর্বাধিক পদ রচয়িতা হিসেবে খ্যাত। তাঁর নামে ১৩টি চর্যা পাওয়া গিয়েছে। চর্যাপদের ভাষা ‘প্রাচীন বাংলা’। তৎকালে বৌদ্ধ ধর্মের সাথে সাথে হিন্দু ধর্মেরও যথেষ্ট প্রসার-প্রভাব ছিল। তবু চর্যা রচয়িতা সিদ্ধাচার্যদের সবাই বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ছিলেন। এতে প্রতীয়মান হয় যে, বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগে কোনো হিন্দু বাংলা ভাষায় সাহিত্য চর্চায় নিয়োজিত ছিলেন না। অবশ্য বাংলা ভাষাকে তৎকালে হিন্দু পুরোহিতেরা ধর্মীয় বিধি-বিধানের আড়ালে যে ভাবে ঘৃণা করত সে পরিপ্রেক্ষিতে বাংলা ভাষায় সাহিত্য চর্চা করার সাধ্য কোনো হিন্দুর থাকার কথা নয়। হিন্দু ধর্মাবলম্বী কবি-সাহিত্যিকেরা সংস্কৃত ভাষায় সাহিত্য সৃষ্টি করতেন। ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে সপ্তম শতকের মধ্যভাগ বাংলা সাহিত্যের উৎপত্তিকাল এবং বাংলা ভাষার উৎপত্তি ৫০০ হতে ৫৫০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে।

চর্যাপদের সংকলক ও টিকাকার
চর্যাপদের সংকলক কানুভট্ট ও টীকাকার মুনি দত্ত।

মধ্যযুগ ও মধ্যযুগের আদি নিদর্শন
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাস পরিধিতে ১২০০ খ্রিস্টাব্দ হতে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ‘মধ্য যুগ’ সম্প্রসারিত। অনেকে ১২০০ খ্রিস্টাব্দ হতে ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বিস্তৃত সময়কে বাংলা সাহিত্যের ‘সন্ধি যুগ’ আবার কেউ কেউ এ সময়কে বাংলা সাহিত্যের ‘অন্ধকার যুগ’ নামে অভহিত করে থাকেন। মধ্য যুগের আদিস্তর চতুর্দশ শতক হতে পঞ্চদশ শতক পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। বড়ূ চণ্ডীদাসের ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ মধ্য যুগের আদি নিদর্শন হিসেবে খ্যাত। অনুমান চৌদ্দ শতকের শেষার্ধে কিংবা পনের শতকের প্রথমার্ধে বড়ূ চণ্ডীদাস রাধাকৃষ্ণের প্রেমকাহিনী অবলম্বনে এ কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেন। মধ্য যুগের প্রথম মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর এবং তাঁর রচিত ‘ইউসুফ-জোলেখা’ মধ্যযুগের প্রথম ও শ্রেষ্ঠতম প্রণয়োপাখ্যান। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ অনুবাদ কর্ম হিসেবেও খ্যাত। মধ্যযুগের অন্যান্য নিদর্শনের মধ্যে মালাধর বসুর ‘শ্রী কৃষ্ণবিজয়’, কৃত্তিবাসের ‘রামায়ণ পাঁচালী’, কবীন্দ্র নন্দীর ‘মহাভারত পাঁচালী’, নারায়ণ দে, বিপ্রদাস ও বিজয় গুপ্তের ‘মনসামঙ্গল কাব্য’, মানিক দত্তের ‘চণ্ডীমঙ্গল কাব্য’ শিবমঙ্গল, বৃন্দাবন দাসের ‘চৈতন্যভাগবত’, লোচনদাসের ‘চৈতন্যমঙ্গল’, কৃষ্ণদাস কবিরাজের ‘চৈতন্যচরিতামৃত’ ইত্যাদি ব্যতিরেকে আরাকান রাজসভায় বাংলা সাহিত্য চর্চা, শাক্ত পদাবলী, নাথ সাহিত্য, বাউল, লোকসঙ্গীত, মৈমনসিংহ গীতিকা, পূর্ববঙ্গ গীতিকা, শায়ের, দোভাষী পুঁথিকারের উর্দু-ফারসি মিশ্রিত ভাষায় রচিত পুঁথি উল্লেখযোগ্য।

মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্য
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য চর্চা ও লালন মুসলিম শাসকগণের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতায় সম্পন্ন হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের উপভাষার প্রয়োগ এবং সংস্কৃত শব্দের মাত্রাধিক বাহুল্য ও ক্রমান্বয়ে ফারসি শব্দের প্রবেশ এ যুগের বাংলা সাহিত্যকর্মের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। পদ্যে মানুষের পরিবর্তে দেব-দেবীর মাহাত্ম্য বর্ণনার প্রাধান্য মধ্যযুগের সাহিত্যকর্মের প্রধান বৈশিষ্ট্য। চৈতন্যদেবও তাঁকে ঘিরে চৈতন্য সাহিত্যের উদ্ভব মধ্যযুগের সাহিত্যকর্মের একটি কালজয়ী ঘটনা। চৈতন্যদেবের আবির্ভাব বাংলা সাহিত্যের উৎকর্ষের দুয়ার অবারিত করে দেয়। এ সময় বৈষ্ণব সাহিত্য ও পৌরণিক অনুবাদের কারণে বাংলা সাহিত্যে প্রচুর তৎসম শব্দ প্রবেশ করে। বাংলা ভাষা ছাড়াও মধ্যযুগে রচিত ‘বৈষ্ণব পদাবলীতে’ বাংলা মৈথিলি মিশ্রিত ‘ব্রজবুলি’ কৃত্রিম কাব্য ভাষারূপে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। মধ্যযুগের শেষ কবি ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর প্রচুর আরবি-ফারসি শব্দ ব্যবহার করে বাংলা ভাষাকে অনেকটা মার্জিত ও সার্বজনীন করে গেছেন। ফলে অগ্রসরমান বাংলা ভাষা সংস্কৃত ভাষার অবাঞ্ছিত বাহুল্য হতে নিষ্কৃতি পাওয়ার পথ খুঁজে পায়। বাংলা হতে সংস্কৃতের প্রভাব যতই কমতে থাকে বাংলা ভাষা ততই সুন্দর ও প্রাণবন্ত হয়ে সাধারণ্যের প্রিয় হয়ে উঠে। ভাষা নেমে আসতে থাকে স্বর্গ হতে মর্ত্য,ে মর্ত্যরে মানুষ উদ্বেল হয়ে উঠে সাহিত্য রসের অনুপম তরঙ্গে।

আধুনিক যুগের সূচনা
ভাষা ঐতিহাসিক ও গবেষকদের মতে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ হতে বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ শুরু হয়। ষোড়শ শতক হতে চিঠিপত্র এবং দলিল দস্তাবেজ ইত্যাদি কর্মকাণ্ডে বাংলা গদ্য ব্যবহারের প্রচলন শুরু হয়। বলা যায়, এ সময় বাংলা ভাষা ধীরে ধীরে হাটতে শুরু করে, এগিয়ে যায় প্রসারের দিকে। অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে পর্তুগিজ মিশনারিরা রোমান হরফে বাংলা গদ্য গ্রন্থ রচনা করে বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের সূচনা ঘটান। অবশ্য এর পূর্বেই বাংলা সাহিত্যে প্রচুর পর্তুগিজ শব্দ প্রবেশ করে। আধুনিক যুগের প্রারম্ভে গদ্যের ব্যবহার বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তবে প্রাথমিক পর্যায়ের গদ্য ছিল সংস্কৃত ঘেষা। পরবর্তীকালে কথ্যভাষা-রীতি সাহিত্যে স্থান পাওয়া সংস্কৃত-ঘেষা বাংলা আস্তে আস্তে স্বরূপে মণ্ডিত হতে শুরু করে। বিংশ শতকের দ্বিতীয় দশক হতে কথ্যভাষা সাধু ভাষার ন্যায় সাহিত্য কর্মে নিজের স্থান দখল করে নিতে সক্ষম হয়। বর্তমানে বাংলা সাহিত্যে চলিত বা কথ্য ভাষার প্রাধান্য লক্ষ্যণীয়। ইদানীং কথ্য ভাষার প্রাধান্য এত বেশি যে, সাধু ভাষাকে কথ্য ভাষার পাশে জড়োসড়ো হয়ে থাকা নব বধুর মতো নিষ্ক্রিয় আকর্ষক মনে হয়। সংস্কৃত-মুক্ত বাংলা ভাষা এখন যেমন প্রাঞ্জল তেমনি সাবলীল ও স্বয়ংসম্পূর্ণ।

সন্ধিযুগ বনাম অন্ধকারযুগ
১২০০ খ্রিস্টাব্দ হতে ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে কেউ কেউ বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ বলে অভিহিত করে থাকেন। এ ধারণাটি নিতান্তই অবিবেচনাপ্রসূত। এ সময় ‘প্রাকৃত পৈঙ্গল’ এর মতো প্রাকৃত ভাষায় গীতিকবিতা গ্রন্থ সংকলিত হয়েছে। রামাই পণ্ডিত রচিত ‘শূন্যপুরাণ’, ‘কলিমা জলাল’ বা ‘নিরঞ্জনের রুষ্মা’, ডাক ও খনার বচন, হলায়ূধমিশ্র রচিত ‘সেক শুভোদয়া’র অন্তর্গত পীরের মাহাত্ম্যজ্ঞাপক বাংলা ‘আর্যা’ অথবা ‘ভাটিয়ালি রাগেণ গীয়তে’ নির্দেশক বাংলা গান প্রভৃতি মধ্যযুগের তথা, তথাকথিত অন্ধকার যুগের অন্যতম এবং উল্লেখযোগ্য নিদর্শন। রাহুল সাংকৃত্যায়ন এ সময়ে রচিত কিছু চর্যাপদ সংগ্রহ করে প্রকাশ করেছেন। সৃষ্ট সাহিত্য সংখ্যা বিবেচনা করলে এ সময়কে অন্ধকার যুগ বলার কোনো যৌক্তিকতা খুজে পাওয়া যায় না। ৬৫০ খ্রিস্টাব্দ হতে ১২০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ৫৫০ বছর সময়ে বাংলা সাহিত্যে শুধু চর্যাপদই ছিল একমাত্র নিদর্শন, সেখানে ১২০০ খ্রিস্টাব্দ হতে ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দে সৃষ্ট সাহিত্য সময় পরিধি বিবেচনায় রচিত সাহিত্য অনেক বেশি সমৃদ্ধ ও পর্যাপ্ত। বস্তুতঃ এ সময় বাংলা ভাষার আদি রূপটি গড়ে উঠার প্রয়াস নিচিছল মাত্র; সেখানে উপরে বর্ণিত সাহিত্য কোনো মতে অপর্যাপ্ত নয় বরং অনেক বেশি সমৃদ্ধ মর্মে উল্লেখ করা যায়। এ অবস্থায় মুসলিম শাসকদের পৃষ্ঠপোষকতায় যে সাহিত্যকর্ম হয়েছে তা শুধু পর্যাপ্ত নয়, বলা যায় অসাধারণ। সেন যুগের সাথে তুলনা করলে ১২০০-১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ সময়কে বাংলা সাহিত্যের আদিস্তরের স্বর্ণযুগ বলে অভিহিত করা যায়।

বাংলা সাহিত্যের মৃতযুগ
সেন যুগকে (১১৫৮-) কে বাংলা সাহিত্যের মৃত যুগ বলা হয়। পাকিস্তানিরা বাংলাদেশী ছিলেন না বলে হয়তঃ বাংলাভাষাকে তিরোহিত করে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করতে চেয়েছিলেন। সেন রাজাগণ বাংলাদেশী হওয়া সত্ত্বেও বাংলা সাহিত্যের প্রচারকে প্রচণ্ডভাবে নিরুৎসাহিত করেছিলেন। এ পর্বে সেন বংশের রাজা বল্লাল সেনের লেখা ‘দানসাগর’ ও ‘অদ্ভুতসাগর’ নামক দুটি গ্রন্থ পাওয়া যায়। অবশ্য গ্রন্থদ্বয় সংস্কৃত ভাষায় লিখিত। সেন যুগে সাহিত্য চর্চার অনুকূল পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও বাংলা ভাষায় কোনো সাহিত্য কর্ম হয় নি বলে সেন যুগকে অনেকে বাংলা সাহিত্যের মৃত যুগ বলে থাকেন।

জয়দেব গোষ্ঠী ও অভিনব জয়দেব
গুপ্ত যুগ হতে শুরু করে মুসলামান শাসনের পূর্ব পর্যন্ত বাংলাদেশে সংস্কৃত-প্রাকৃত-অপভ্রংশ ভাষার মিশ্রণে সাহিত্য চর্চা চলে। ক্রমে প্রাকৃত ও অপভ্রংশ বাংলাদেশের সাহিত্য চর্চা হতে লুপ্ত হয়ে যায়, কিন্তু সংস্কৃত সাহিত্যের চর্চা বিদ্যমান থাকে। সেন যুগে বিশেষ করে লক্ষণ সেনের সময়ে সংস্কৃত ভাষায় সাহিত্য চর্চার প্রাবল্য দেখা যায়। সেন রাজারা বাংলা ভাষাকে বিতাড়িত করার লক্ষ্যে শুধু সংস্কৃত ভাষাকে সাহিত্য চর্চার ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রয়াস নেন। এ জন্য লক্ষণ সেন ‘জয়দেব গোষ্ঠী’ নামে পঞ্চরত্নের সমাবেশ ঘটান। উমাপতি ধর, শরণ, ধোয়ী, গোবর্ধণ আচার্য ও জয়দেব তদকালে পঞ্চরত্ন নামে খ্যাত ছিলেন। পঞ্চরত্নের নেতা লক্ষণ সেনের সভাকবি জয়দেব। তিনি সংস্কৃত ভাষায় ‘গীতগোবিন্দ’ কাব্য রচনা করে সারা ভারতে খ্যাতি লাভ করেন। চৈতন্যদেব ‘গীতগোবিন্দ’ কাব্যের একজন ভক্ত ছিলেন। চৈতন্যদেবের নবরসিক বিদ্যাপতি ‘অভিনব জয়দেব’ নামে খ্যাত।

সেনযুগের সাহিত্য
সেন যুগের দুটি উল্লেখযোগ্য কাব্য সংকলণ ‘কবীন্দ্রবচনসমুচচয়’ এবং ‘সদূক্তিকর্ণামৃত’। ‘কবীন্দ্রবচনসমুচ্চয়’ গ্রন্থটির সংকলনকারীর নাম পাওয়া যায় নি। গ্রন্থটিতে ১১১ জন কবির কবিতা সংকলিত হয়েছে। সংকলনে উল্লিখিত কবিদের মধ্যে অধিকাংশ ছিলেন বাঙালি। ১২০৬ খ্রিস্টাব্দের কাছাকাছি সময়ে লক্ষণ সেনের প্রধান কর্মচারীর পুত্র শ্রীধর দাস ছিলেন ‘সদূক্তিকর্ণামৃত’ গ্রন্থটির সংকলক। এ গ্রন্থটিতে ৪৮৫ জন কবির ২৩০৭ টি কবিতার সমাহার রয়েছে। উল্লেখ্য গ্রন্থদ্বয় সংস্কৃত ভাষায় রচিত হয়েছিল, বাংলা ভাষায় নয়।

বাংলাদেশের সাহিত্য
বাংলাদেশের সাহিত্য বলতে ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ তথা পাকিস্তান সৃস্টি হতে পরবর্তী পর্যায়ে বাংলাদেশ সৃষ্টি ও বর্তমান সময়ে রচিত সাহিত্যকে বুঝানো হয়। ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের পর পুনরায় ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশ হতে পাকিস্তান হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীন দেশরূপে আত্মপ্রকাশ করে। অতীতের বাংলা ভাষার সকল সৃষ্টিই বাংলাদেশি সাহিত্যের ঐতিহ্য।

error: Content is protected !!