বাংলা ভাষা,  বাংলা সাহিত্যের  প্রথম ও প্রধান, বাংলা সাহিত্যের কথা, একনজরে বাংলা সাহিত্য, বিসিএস বাংলা  সাহিত্য, সাধারণ জ্ঞান

দ্বাবিংশ অধ্যায়
বাংলা সাহিত্যের প্রথিতযশা কয়েকজন

রাজা রামমোহন রায় (১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দ -১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দ)
বাংলার নবজাগরণের অগ্রদূত ও আধুনিকতার অগ্রপথিক রাজা রামমোহন রায় ১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দের ১০ মে জন্মগ্রহণ করেন। ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে তাঁর উদ্যোগে সতীদাহ প্রথার অবসান ঘটে। ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দে নামেমাত্র দিল্লীশ্বর দ্বিতীয় আকবর তাঁকে রাজা উপাধি দিয়ে ইংল্যান্ডের রাজার নিকট দূত হিসেবে প্রেরণ করেন। কঠ, বাজসনেয়িসংহিতা, তলবকর, মুণ্ডক, মাণ্ডুকা প্রভৃতি উপনিষদের পদ্যানুবাদের মাধমে তিনি বাংলা ভাষায় ‘উপনিষদ’ চর্চার সূত্রপাত করেন। ভারতীয় নারীর উপর যুগ যুগ ধরে চলে আসা বর্বর সামাজিক নিপীড়ন ও আমানবিক আচরণের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিবাদকারী রাজা রামমোহন রায় ভারতীয় উপমহাদেশে নারীদের ক্ষমতায়ন ধারণার প্রবক্তা হিসেবে খ্যাত। তার প্রচেষ্টয় ব্রিটিশ সরকার সতীদাহ ও সহমরণ প্রথা বন্ধ করার জন্য আইন প্রণয়নে উদ্যোগী হয় এবং সতীদাহ ও সহমরণ প্রথা বন্ধ হয়। গির্জা ও পাঠশালার বাইরে উচচতর চিন্তার বাহন হিসেবে বাংলা গদ্যরীতির সুষ্ঠু প্রয়োগ রাজা রামমোহন রায়ের অসাধারণ কৃতিত্ব। তিনিই প্রথম ঊনবিংশ শতকের শুরুতে পাঠ্য পুস্তকের বাইরে বাংলা গদ্যের প্রথম প্রচলন করেন। রাজা রামমোহন রায়ের প্রকাশিত প্রথম বাংলা পুস্তক বেদান্ত গ্রন্থ এবং দ্বিতীয় বেদান্ত সার ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়। ১৮২৬ খ্রিস্টাব্দে রাজা রামমোহন রায় গ্রামার অব দ্যা বেঙ্গলি লেঙগুয়েজ নামক যে গ্রন্থটি রচনা করেন তা পরবর্তীকালে ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ’ নামে বাংলা ভাষায় রূপান্তর করা হয়। একজন বাঙালি লেখক রচিত এটিই প্রথম বাংলা ব্যাকরণ। তিনি বাংলা ভাষার প্রথম প্রাবন্ধিক হিসেবেও খ্যাত। রবীন্দ্রনাথের ভাষায়, “নব্যবঙ্গের সৃষ্টিকর্তা রাজা রামমোহন রায়ই বাংলাদেশে গদ্য সাহিত্যের ভূমিপত্তন করিয়াছেন।” বাংলা ও ফারসি সংবাদপত্র পরিচালনায় তার ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। তিনিই প্রথম বাঙালি যিনি, প্রথম বাংলা এবং ফারসি ভাষার সাময়িক পত্র স¤পাদনা করেছেন। রাজা রামমোহন রায় রচিত গ্রন্থের সংখ্যা ৭০। ১৮৩৩ খৃস্টাব্দের ২৭ সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যু বরণ করেন।
প্যারীচাঁদ মিত্র (১৮১৪-১৮৮৩)
বাংলা কথ্য বাকভঙ্গীর প্রবর্তক এবং প্রথম বাংলা উপন্যাস ‘আলালের ঘরের দুলাল’(১৮৫৮) রচয়িতা প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম টেকচাঁদ ঠাকুর। তিনি ছিলেন হিন্দু কলেজের লেখক গোষ্ঠীর নেতৃত্বস্থানীয় একজন। রাধানাথ সিকদারের সহযোগিতায় প্যারীচাঁদ মিত্র ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে ‘মাসিক পত্রিকা’ নামের একটি সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশ করেন। অন্তপুরবাসিনী স্ত্রী লোকদের জন্য প্রকাশিত পত্রিকাটি ‘চলিত ভাষায় লিখিত প্রথম পত্রিকা’ হিসেবেও খ্যাত। প্যারীচাঁদ মিত্রের ২য় গ্রন্থ ‘ মদ খাওয়া বড় দায়- জাত থাকার কি উপায়’ (১৮৫৯) বাংলা সাহিত্যের প্রহসনের অগ্রদূত হিসেবে খ্যাত। ‘বামাতোষিণী’ (১৮৮১) প্যারীচাঁদ মিত্রের শেষ রচনা। আলালের ঘরের দুলাল গ্রন্থে ভাষা সম্পর্কিত আদর্শ রূপায়িত হয়েছে। সেজন্য প্যারীচাঁদ মিত্রের বাংলাকে আলালি বাংলা বলা হয়।
অক্ষয়কুমার দত্ত (১৮২০-১৮৮৬)
১৮৪০ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত তত্ত্ববোধিনী পাঠশালার শিক্ষকরূপে খ্যাত অক্ষয়কুমার দত্তের প্রথম গ্রন্থ ‘ভূগোল’ পাঠশালা ও তার বাইরে ব্যবহারের জন্য লিখিত প্রথম ভূগোল গ্রন্থ। ১৮৪৩ খ্রিস্টাব্দে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত বিখ্যাত তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার প্রথম স¤পাদক অক্ষয় কুমার দত্ত জর্জ কুম্ব রচিত ‘ঈড়হংঃরঃঁঃরড়হ ড়ভ গধহ’ গ্রন্থ অবলম্বনে ‘বাহ্যবস্তুর সহিত মানবপ্রকৃতির সম্বন্ধবিচার’ গ্রন্থের রচয়িতা। অক্ষয়কুমার দত্তের শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি ‘ভারতবর্ষীয় উপাসক সম্প্রদায়’ (১ম খণ্ড-১৮৭০ এবং ২য় খণ্ড-১৮৮৩)। গ্রন্থটি হোরেস হেম্যান উইলসন রচিত ‘ঝশবঃপয ড়হ ঃযব জবষরমরড়ঁং ঝবপঃং ড়ভ ঃযব ঐরহফঁং ’নামক প্রবন্ধ অবলম্বনের রচিত। ইতোপূর্বে এতবড় গ্রন্থ বাংলা সাহিত্যে আর রচিত হয় নি। গ্রন্থটিকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে গবেষণামূলক সাহিত্যের সূচনাকারী বলা হয়। এতে ভারতবর্ষের ১৮২টি সম্প্রদায়ের বিবরণ লিপিবদ্ধ আছে। পাঠ্যগ্রন্থ ‘চারুপাঠ’ (১ম ভাগ-১৮৫২, ২য় ভাগ- ১৮৫৪, ৩য় ভাগ- ১৮৫৯) অক্ষয়কুমার দত্তের সর্বাপেক্ষা সমাদৃত গ্রন্থ। তাঁকে বাংলা সাহিত্যে বাংলা গদ্যরীতিতে জ্ঞানবিজ্ঞান আলোচনার জনক এবং বাংলায় বিজ্ঞানচর্চার প্রথম সার্থক লেখক বলা হয়।
কালীপ্রসন্ন সিংহ (১৮৪০-১৮৭০)
মাত্র ত্রিশ বছর বয়সে কালীপ্রসন্ন সিংহ বাংলা ভাষায় যে অবদান রেখে গেছেন তা অবিশ্বাস্য। বাংলা রঙ্গমঞ্চের প্রতিষ্ঠা, নাটক রচনা, বিদ্যোৎসাহিনী সভা ও বিদ্যোৎসাহিনী থিয়েটার প্রতিষ্ঠা, একাধিক পত্রিকা প্রকাশ, মহাভারতের গদ্যানুবাদ, সমাজ-সংস্কারক, দেশপ্রেম ইত্যাদি বিষয়ে অবিস্মরণীয় অবদানের মাধ্যমে তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। বিদ্যোৎসাহিনী সভার মাধ্যমে মাইকেল মধুসূদন দত্ত ও নীলদর্পণ নাটকের প্রকাশক মিস্টার লঙকে তিনি সংম্বর্ধনা প্রদান করেছিলেন। বাংলায় মহাভারতের বঙ্গানুবাদ তাঁর অবিস্মরণীয় কীর্তি। ‘সাতজনকৃতবিদ্য সদস্য’ পণ্ডিতের সহযোগিতায় তিনি ব্যাসের মহাভারতের বাংলা অনুবাদ প্রকাশ করেছেন। কলকাতার বিখ্যাত জোড়াসাঁকোর জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। সবকিছু বাদ দিয়ে শুধুুমাত্র ‘হুতোম প্যাঁচার নকসা’র জন্য বাংলা সাহিত্যে তিনি চিরঞ্জীবী হয়ে থাকবেন। কলকাতা ও কলকাতার পাশ্ববর্তী অঞ্চলগুলোর মৌখিকভাষার প্রথাম সুষ্ঠু প্রয়োগকারী কালীপ্রসন্ন সিংহ। কালীপ্রসন্ন সিংহের ছদ্মনাম হুতোম। এজন্য তার ব্যবহৃত বাংলাকে হুতোমি বাংলা বলা হয়।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪)
১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দে কবি ইশ্বরগুপ্তের শিষ্য বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘ললিতা’ ও ‘মানস’ নামক দুটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। এরপর তিনি কবিতা লেখা ছেড়ে দেন। তার প্রথম উপন্যাস ‘জধলসড়যড়হ’ং ডরভব’ ১৮৬৪ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়। ১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত দুর্গেশনন্দিনী তার প্রথম বাংলা উপন্যাস। এ উপন্যাসের মাধ্যমে বঙ্কিম বিদ্যাসাগরের সংস্কৃতানুসারী বাংলা, প্যারীচাঁদের আলালী ও কালীপ্রসন্ন সিংহের হুতোমী বাংলাকে ভেঙ্গে বাংলা গদ্যের প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয় কপালকুণ্ডলা। ১৮৮৮ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত সীতারাম তার শেষ উপন্যাস। তার লিখিত মোট উপন্যাস আট। আনন্দমঠ, মৃণালিনী ও সীতারাম তার রাজনীতিক উপন্যাস। তার সৃষ্ট বঙ্গদর্শন পত্রিকা বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়েছে।
প্রমথ চৌধুরী (১৮৬৮-১৯৯৪)
বাংলা সাহিত্যের নতুন রূপ ও রীতির প্রবর্তক প্রমথ চৌধুরী ‘সবুজপত্র’ নামক সাহিত্য পত্রিকার প্রকাশ ও স¤পাদনার মাধ্যমে অক্ষয় কীর্তির অধিকারী হয়ে আছেন। ‘সবুজপত্র’কে বিংশ শতকের বাংলার আধুনিকতার প্রধান বাহক বলা হয়। তাঁর ছদ্মনাম ছিল বীরবল। ‘বীরবলের হাল খাতা’ তাঁর শ্রেষ্ঠ প্রবন্ধ গ্রন্থ। বাংলা সাহিত্যে তিনি একমাত্র লেখক যিনি রবীন্দ্রনাথ দ্বারা কোনোভাবে প্রভাবিত না হয়ে স্বকীয়তা বজায় রেখে সাহিত্য কর্ম করেছেন। তিনি চলতি ভাষায় গদ্য রচনায় রবীন্দ্রনাথকে প্রভাবিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
মীর মশাররফ হোসেন (১৮৭৪-১৯১২)
আধুনিক যুগের প্রথম উল্লেখযোগ্য মুসলমান সাহিত্যিক মীর মশাররফ হোসেন ১৮৪৭ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘রত্নাবতী’(১৮৬৯)। উপন্যাসটির মাধ্যমে আধুনিক মুসলিম সাহিত্যিকদের মধ্যে উপন্যাস রচনার সূত্রপাত ঘটে। তিনি ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সামসময়িক। কাঙ্গাল হরিণাথ ছিলেন মীর মশাররফ হোসেনের শিক্ষাগুরু। উল্লেখ্য তিনি শুধু ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত লেখা পড়া করেছিলেন। কাঙ্গাল হরিণাথের ‘গ্রামবার্তা’ এবং ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের ‘সংবাদ প্রভাকর’ দিয়ে মীর মশাররফ হোসেনের সাহিত্য জীবনের সূচনা। তাঁকে আধুনিক বাংলা সাহিত্যে সার্থকতর মুসলিম সাহিত্যের পথিকৃৎ বলা হয়। মীর মশাররফ হোসেনের ‘রত্নবতী’ বাংলা সাহিত্যে মুসলিম রচিত প্রথম উপন্যাস।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১)
বাংলা সাহিত্যের ঐশ্বর্য বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দের ৭ মে জন্মগ্রহণ করেন। রবীন্দ্রনাথের প্রথম কাব্য বনফুল (১৮৭৩) এবং গ্রন্থাকারে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস বৌ ঠাকুরাণীর হাট (১৮৭৮)। ১৮৮১ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত ‘য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম গদ্যগ্রন্থ। রবীন্দ্রনাথের প্রথম উপন্যাস ‘করুণা’ যা ‘ভারতী’ পত্রিকায় (১২৮৪-৮৪ বঙ্গাব্দ) প্রকাশিত হয়েছিল কিন্তু গ্রন্থাকারে মুদ্রিত হয় নি। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘কবিকাহিনী’ ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়। রবীন্দ্রনাথের প্রথম গান ‘জ্বল জ্বল চিতা দ্বিগুণ দ্বিগুণ..’, এ গানটি তিনি জ্যোতিরিন্দ্রনাথের সরোজিনী নাটকের জন্য লিখেছিলেন। তাঁর লেখা শেষ গান ‘হে নতুন দেখা দিক আরবার…’ এবং শেষ কবিতা ‘তোমার সৃষ্টির শেষ পথ’। শেষ কবিতাটি ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দের ৩০ জুলাই লেখা হয়। উল্লেখ্য কবিতাটি লেখার ৮ দিন পর ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দের ৮ আগস্ট রবীন্দ্রনাথ মৃত্যুবরণ করেন। গান ও কাব্যনাট্য ছাড়া ৬৫টি কাব্যগ্রন্থ, ২৫০০টি গান, ১১৯টি ছোটগল্প, বিভিন্ন ধরণের ৫০টি নাটক, ৯টি ভ্রমণ কাহিনী, ৯টি শিশুসাহিত্য, কয়েক হাজার চিঠিপত্র, ২০টি প্রবন্ধ আলোচনা ও ভাষণ গ্রন্থ, ২ হাজার ছবি রবীন্দ্রনাথের বিশাল সৃষ্টি কর্মের অনন্যতার স্বাক্ষর বহন করে। কাব্যনাট্য, ভ্রমণসাহিত্য, গদ্যকবিতা, নৃত্যনাট্য, রূপকনাট্য, পত্রসাহিত্য ইত্যাদির মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ বাংলা সাহিত্যে কয়েকটি নতুন ধারার সৃষ্টি করেন। ভাস্কর্য ছাড়া শিল্পের প্রত্যেকটি মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টি সম্ভার যেমন বিপুল তেমনি ইর্ষণীয়।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বাংলার শেলী বলা হয়। ‘ঘরে বাইরে’ তাঁর আত্মজীবনীমূলক এবং ‘গোরা’ রাজনীতিক উপন্যাস। ১৮৮১ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত ‘বাল্মীকি প্রতিভা’ রবীন্দ্রনাথের প্রথম গীতিনাট্য। রবীন্দ্রনাথের গ্রন্থাকারে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস ‘বৌ ঠাকুরাণীর হাট’ কিন্তু সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস ‘করুণা’। এটা ভারতী পত্রিকায় (১২৮৪-৮৫) খ্রিস্টাব্দে প্রথম প্রকাশিত হয়, তবে গ্রন্থাকারে মুদ্রিত হয় নি। রবীন্দ্রনাথের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘বলাকা’ (১৯১৬)। রবীন্দ্রনাথের ‘মানভঞ্জন’ গল্পটি চলচিত্রায়িত হয়। ‘সবুজপত্র’ (১৯১৪) পত্রিকার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যের আকাশে রবীন্দ্রনাথের আবির্ভাব ঘটে। ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চোখেরবালি’ উপন্যাসকে আধুনিক জীবনের মহাকাব্য এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ‘মানব বিধাতার নির্মম সৃষ্টি প্রক্রিয়ার বিবরণ’ বলা হয়। ‘শেষের কবিতা’ রবীন্দ্রনাথের শ্রেষ্ঠ কাব্যপোন্যাস। চি.সি লিজন রবীন্দ্রনাথকে ‘ভারতের মহাকবি’ বলেছেন।
রবীন্দ্রনাথ বাংলা ছোটগল্পের স্রষ্টা। বাংলা সাহিত্যের প্রথম ভ্রমন কাহিনী লেখাতেও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কৃতিত্ব রয়েছে। তাঁর সর্বমোট উপন্যাস ১২টি। তিনি ২ সহস্রাধিক গান, ১ সহস্রাধিক কবিতা, ১১৯টি ছোট গল্প, ১২টি নাটক ছাড়াও প্রবন্ধ, ভ্রমন কাহিনী, গীতিনাট্য ইত্যাদির রচয়িতা। সৃষ্টি বৈচিত্র্য ও বিশালত্ব বিবেচনায় একমাত্র ভিক্টর হুগোর সাথে তাঁর তুলনা চলে, আর কারও সাথে নয়। রবীন্দ্রনাথের ‘মানসী’ বাংলা সাহিত্যে অনুবিশ্ব নামে খ্যাত। ‘সোনারতরী’ কাব্যগ্রন্থকে রবীন্দ্রনাথের প্রথম জীবনের সচেতন কাব্য বলা হয়। ‘গীতাঞ্জলি’ রবীন্দ্রনাথের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ। ১৯১২ খ্রিস্টাব্দে আইরিশ কবি উইলিয়াম বাটলার ইয়েটস ‘গীতাঞ্জলি’র ইংরেজি অনুবাদের ভূমিকা লিখেন। রবীন্দ্রনাথ ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দের ১৩ নভেম্বর ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। ১৯২১ খ্রিস্টাব্দের ২২ ডিসেম্বরে রবীন্দ্রনাথ শান্তি নিকেতনের গ্রামীণ পরিবেশে ‘বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দের ২৯ এপ্রিল জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বৃটিশ প্রদত্ত নাইট উপাধি পরিত্যাগ করেন।
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
বাংলা সাহিত্যের আধুনিকতার পথ প্রদর্শক মাইকেল মধুসূদন দত্তকে বাংলা কাব্যসাহিত্যে আধুনিক যুগের প্রবর্তক বলা হয়। ‘তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য’(১৮৬০) মধুসূদনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ। এটি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্য। ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দের ৪ জানুয়ারি প্রকাশিত তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘মেঘনাধ বধ’ মহাকাব্য বাংলা সাহিত্যের প্রথম, সার্থক ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য। এর মাধ্যমে তিনি বাংলা সাহিত্যে মহাকাব্যের ধারার প্রবর্তন করেন। এজন্য তাঁকে বাংলা সাহিত্যে মহাকাব্য রচনার পথিকৃৎ বলা হয়। এটা এ পর্যন্ত লিখিত মহাকাব্যগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ। মধুসূদন বাংলা সাহিত্যের অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক। তাঁর লিখিত ‘তিলোত্তমা সম্ভব’ কাব্য বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দে লিখিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ। এটা ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়। বাংলা সাহিত্যের প্রথম সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতার প্রবর্তক হিসেবেও তিনি খ্যাত। তাঁর ‘বীরাঙ্গণা’ কাব্য বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শেষপত্র কাব্য। রোমান কবি ওভিদের ঐবৎড়রপ ঊঢ়রংঃষবং এর অনুকরণে এ পত্র কাব্যটি রচিত।
প্রাচ্য এবং পাশ্চাত্য ভাবাদর্শের সমন্বয়ে ‘তিলোত্তমা সম্ভব’ কাব্য রচনা, সাহিত্যিক মহাকাব্যের আদর্শে ‘মেঘনাধ বধ’ কাব্য রচনা, অমিত্রাক্ষর ছন্দের সার্থক প্রয়োগের মাধ্যমে পত্রকাব্যের আদর্শে ‘বীরাঙ্গনা’ কাব্য সৃষ্টি, ‘ব্রজাঙ্গনা’ কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে রাধা-কৃষ্ণ লীলার নুতন বিন্যাস এবং সর্বোপরি ইতালীয় কবি পেত্রার্কার আদর্শে সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতা প্রবর্তন করে মধুসূদন বাংলা সাহিত্যে আযুগ অবিস্মরণীয় হয়ে থাকার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। মাইকেল মধুসূদন ১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সের ভার্সেই এ অবস্থানকালে মধুসূদন ‘চতুর্দশপদী’ কবিতা রচনায় মনোনিবেশ করেন। ১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দে ১০২টি কবিতা সমন্বয়ে ‘চতুর্দশপদী কবিতাবলী’ নামে তাঁর চতুর্দশপদী কবিতাগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। ১৮৭১ খ্রিস্টাব্দে মাইকেল মধুসূদন ঢাকায় এসেছিলেন। এর তিন বছর পর ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দে ২৯ জুন আলীপুর জেনারেল হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। ১৮৪৩ খ্রিস্টাব্দে মাইকেল মধুসূদন হিন্দুধর্ম ত্যাগ করে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। তাঁকে বাংলা সাহিত্যের সত্যিকার বিপ্লবী কবি বলা হয়।
বাংলা নাটকের প্রথম প্রাণদাতা হিসেবেও মাইকেল মধুসূদন খ্যাত। শ্রী অজিতকুমার ঘোষ মধুসূদনকে আধুনিক বাংলা নাটকের জনক ও প্রবর্তক বলে আখ্যায়িত করেছেন। মধুসূদনের প্রথম ও শেষ নাটক যথাক্রমে ‘শর্মিষ্ঠা’ (১৮৫৯) এবং ‘মায়াকানন’। ‘মায়াকানন’ নাটকটির রচনা শেষ করার পূর্বে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ১৮৭৪ খ্রিস্টাব্দে নাটকটি প্রকাশিত হয়। মধুসূদনের সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ নাটক ‘কৃষ্ণকুমারী’ (১৮৬১)। এটা বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক বিয়োগাত্বক নাটক। তাছাড়া বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাটক হিসেবেও এটি খ্যাত। বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রহসন রচয়িতা হিসেবেও মধুসূদন খ্যাত। তাঁর প্রথম প্রহসন ‘একেই কি বলে সভ্যতা’ (১৮৬০) বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রহসন। তাঁর দ্বিতীয় প্রহসন ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ (১৮৬০)।
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৭৬-১৯৩৮)
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় আধুনিক বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক। শরৎচন্দ্রের প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস ‘পরিণীতা’, যা ১৯১৪ খিস্ট্রাব্দে প্রথম পুস্তকারে প্রকাশিত হয়। তিনি শ্রীকান্ত নামে ৩ খণ্ডে একটি আত্মজীবনী লিখে বাংলা সাহিত্যে শ্রীকান্ত নামে খ্যাত হয়ে আছেন। শরৎচন্দ্রের ছদ্মনাম ছিল অণীলা দেবী। বড় বোনের নামানুসারে তিনি এ ছদ্মনাম ধারণ করেন। ‘পথেরদাবী’ শরৎচন্দ্রের বিখ্যাত রাজনীতিক উপন্যাস। বিখ্যাত উপন্যাস ‘শুভদা’ শরৎচন্দ্রের লেখা প্রথম উপন্যাস, যা তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়। প্রভাকর পত্রিকার মাধ্যমে কথাশিল্পী হিসেবে শরৎচন্দ্রের আবির্ভাব। বাংলা সাহিত্যে তিনি অপরাজেয় কথাশিল্পী নামে পরিচিত। ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দের ১৬ জানুয়ারি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মৃত্যুবরণ করেন।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (১৮২০-১৮৯১)
১৮২০ খ্রিস্টাব্দে মেদিনীপুরের এক রক্ষণশলী ব্রাহ্মণ পরিবারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলা গদ্যে প্রথম কলা নৈপূণ্যের সূচনা ঘটান। ‘বাসুদেব চরিত’ বিদ্যাসাগর রচিত প্রথমগ্রন্থ হলেও ‘বেতাল পঞ্চ বিংশতি’(১৮৪৭) ঈশ্বরচন্দ্রের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ। যাকে বাংলা সাহিত্যের উৎকর্ষ বলা হয়। গ্রন্থটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে বাংলা সাহিত্যে নবযুগের প্রবর্তন হয়। এ গ্রন্থে প্রথম ছেদচিহ্নের নিয়মিত ও বিধিবদ্ধ প্রয়োগের মাধ্যমে গদ্যের প্রাঞ্জল কাঠামো সৃষ্টি হয়। বাংলা সাহিত্যের প্রথম শোককাব্য ‘প্রভাবতী সম্ভাষণ’ এর রচয়িতা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তাঁকে বাংলা সাধু গদ্যরীতি এবং বাংলা গদ্যের প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়। ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দের ১৩ এপ্রিল বিদ্যাসাগরের বিখ্যাত ‘বর্ণপরিচয়’ শিশুপাঠ্য গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের অন্তর্নিহিত ছন্দের আবিষ্কারক বলা হয়। তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে বাংলা প্রবাদ বা ইডিয়মের সার্থক প্রবক্তা হিসেবেও খ্যাত। বিধবাবিবাহ ও বহুবিবাহ নিরোধ আন্দোলনের সার্থক স্রষ্টা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর একজন কালজয়ী সমাজসংস্কারকও ছিলেন। তাঁর রচিত ‘বিদ্যাসাগরচরিত’ একজন বাঙালি লেখকের সাহিত্য ইতিহাস রচনার প্রথম প্রচেষ্টা। তিনি বাংলা গদ্যকে গ্রাম্যপাণ্ডিত্য ও গ্রাম্য বর্বরতা- উভয়ের হাত হতে উদ্ধার করে সুশৃঙ্খল সৌন্দর্য্য ও সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা দিয়েছেন। তাই তাকে ‘সাধু বাংলা গদ্যের জনক’ বলা হয়। বাংলায় দাড়ি-কমা প্রভৃতি বিরাম চিহ্নের প্রথম ব্যবহারকারী হিসেবেও বিদ্যাসাগর খ্যাত। তিনি বাংলা গদ্যের ছন্দবোধ এবং ছন্দের স্রষ্টা। এজন্যই রবীন্দ্রনাথ তাঁকে বাংলা ভাষার প্রথম শিল্পী বলেছেন। তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ও শৈল্পিক অনুবাদক হিসেবেও খ্যাত। ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে বাংলা সাহিত্যে বাংলা গদ্যের ক্ল্যাসিক্যাল মহিমা বলা হয়ে থাকে। তিনি বাংলা বাগধ্বনির অপরূপ মাহাÍ্যরে আবিষ্কারক। ‘শকুন্তলা’ এবং ‘সীতার বনবাস’ বিদ্যাসাগরের শ্রেষ্ঠ সাহিত্য কর্ম। তাঁর হাতে বাংলা ভাষা সাহিত্যরসমণ্ডিত হয়ে উঠে। বাংলা গদ্যশৈলীর উদ্ভবের পঁয়তাল্লিশ বছর পরে লেখনী ধারণ করা সত্ত্বেও তাঁকে ‘বাংলা গদ্যের জনক’ বলা হয়। রবীন্দ্রনাথের ভাষায়, “বিদ্যাসাগর বাংলা ভাষার প্রথম শিল্পী এবং তাঁহার প্রধান কীর্তি বঙ্গভাষা।” রাজা রামমোহনের সতীদাহ ও সহমরণ প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রচেষ্টায় নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়।

উপেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী
উপেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দের ২২ মার্চ ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পুত্র সুকুমার রায় এবং পৌত্র বিখ্যাত পরিচালক, লেখক ও চিত্রকর সত্যজিত রায়। ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দের ৩০ মার্চ সত্যজিত রায় অস্কার পুরস্কার লাভ করেন।
জন টমাস (১৭৫৭-১৮০১)
শ্রীরামপুর মিশন স্থাপনের উদ্যোক্তাদের মধ্যে জন টমাস অগ্রগণ্য। তিনি ১৭৮৩ খ্রিস্টাব্দে জাহাজের ডাক্তার হিসেবে প্রথম বাংলাদেশে আসেন। ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে হিন্দুদের মাঝে ‘গসপেল’ প্রচারের সংকল্প নিয়ে পাদরি হন এবং তার মুন্সি হিসেবে কাজ করার জন্য ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে রামরাম বসুকে সংগ্রহ করেন। টমাসের পরিচয় সূত্রে রামরাম বসু পরে কেরি’র মুন্সি হন। ১৭৯২ খ্রিস্টাব্দে স্বদেশ ফিরে গিয়ে ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে উইলিয়াম কেরিকে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। জন টমাস এর নেতৃত্বে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে উইলিয়াম কেরির প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এবং জোশুয়া মার্শম্যান ও উইলিয়াম ওয়ার্ড এর সহযোগিতায় শ্রীরামপুর মিশন প্রতিষ্ঠিত হয়। এর অল্প কদিন পর টমাস উন্মাদ হয়ে যান এবং উন্মাদ অবস্থায় মারা যান।
হ্যানাক্যাথরিন ম্যালেন্স
প্যারীচাঁদ মিত্র ওরফে টেকচাঁদ ঠাকুরের ‘আলালের ঘরের দুলাল’ (প্রকাশ কাল-১৮৫৮) বাংলা ভাষার আদি উপন্যাস। সম্প্রতি কলিকাতা ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে মিসেস হ্যানা ক্যাথরীন ম্যালেঞ্চ রচিত ‘ফুলমণি ও করুণার বিবরণ’ নামে একখানি গ্রন্থের সন্ধান পাওয়া গেছে। এর রচনাকাল ১৮৫২ খ্রিস্টাব্দ। অনেকে এটাকে বাংলা সাহিত্যের আদি উপন্যস বলেন। ১৮২১ খ্রিস্টাব্দে হ্যানা ক্যাথরীন ম্যালেঞ্চ এর পিতা ফ্রাঁসোয়ালা ক্রোড়া নেদারল্যান্ড মিশনারি সোসাইটির সদস্য হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের চঁচূড়ায় আসেন। হ্যানাক্যাথরীন ম্যালেঞ্চ ১৮২৬ খ্রিস্টাব্দে ১ জুলাই কলিকাতায় জন্মগ্রহণ করেন ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দের ২১ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।
বেগম রোকেয়া (১৮৮০-১৯৩২)
মিসেস আর এস হোসেন নামে পরিচিত বেগম রোকেয়া রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। পর্দার নামে মেয়েদের ব্যক্তিত্বের অবমাননা বেগম রোকেয়াকে ছোটবেলা হতে প্রচলিত সামাজিক কুসংস্কারের প্রতি ক্ষুব্ধ করে তুলেছিল। মুসলমান রমনীদের কুসংস্কার হতে মুক্ত করে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার লক্ষ্যে তার নিরলস শ্রম, অনবদ্য প্রয়াস এবং প্রত্যয়ী মনোভাব উপমহাদেশে মুসলিম নারী জাগরনের পাথেয় হয়ে আছে। মতিচুর, সুলতানার স্বপ্ন, পদ্মরাগ, অবরোধবাসিনী ইত্যদি বেগম রোকেয়ার প্রসিদ্ধ গ্রন্থ।

 

প্রয়োজনীয় কিছু লিংক

শুবাচ গ্রুপ এর লিংক: www.draminbd.com

একনজরে বঙ্গবন্ধু এক মলাটে পুরো বই

শুদ্ধ বানান চর্চা (শুবাচ) প্রমিত বানানবিধি

শুদ্ধ বানান চর্চা (শুবাচ) প্রমিত বানানবিধি

শুবাচ আধুনিক প্রমিত বাংলা বানান অভিধান

শুদ্ধ বানান চর্চা (শুবাচ) থেকে শুবাচির প্রশ্ন থেকে উত্তর সমগ্র

শুবাচ প্রায়োগিক বাংলা ও সাধারণ জ্ঞান

এক মিনিট সময় দিন বানানগুলো শিখে নিন

বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম

দাপ্তরিক প্রমিত বাংলা বানান

বাংলা একাডেমি নির্ধারিত সর্বশেষ প্রমিত ও সংগততর বানান অভিধান

শুদ্ধ বানান চর্চা (শুবাচ) থেকে শুবাচির প্রশ্ন থেকে উত্তর সমগ্র

প্রাত্যহিক প্রায়োগিক আধুনিক প্রমিত বাংলা বানান অভিধান সমগ্র

অবাক বানান কৌশল সহজ সূত্রে কঠিন বানান নিমোনিক বাংলা বানান অভিধান অভিধান

বাংলা শব্দের পৌরাণিক উৎস সম্পূর্ণ বই, এক মলাটে বাংলা শব্দের পৌরাণিক উৎস পিডিএফ

খানকি মাগি ফাজিল কাফের মালাউন চুদুরবুদুর বোদা ভোঁদা ভোদা: শব্দার্থ

চুত চুতমারানি চোদা চোত, চূত চ্যুত: বাংলা বানান শ্লীল অশ্লীল ব্যবহার অর্থ প্রয়োগ

 

 

 

 

 

 

 

 

error: Content is protected !!