বাংলা ভাষা,  বাংলা সাহিত্যের  প্রথম ও প্রধান, বাংলা সাহিত্যের কথা, একনজরে বাংলা সাহিত্য, বিসিএস বাংলা  সাহিত্য, সাধারণ জ্ঞান

নবম অধ্যায়
বাংলা সাহিত্যে মুসলমান : প্রথম ও প্রধান

প্রথম মুসলমান পদকর্তা কবি
কয়জন মুসলমান কবি পদাবলী রচনা করেছেন তা সঠিক ভাবে জানা যায় নি। তবে যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য ‘বাংলার বৈষ্ণবভাবাপন্ন মুসলমান কবি’ নামক গ্রন্থে শতাধিক মুসলমান কবির নাম উল্লেখ করেছেন, যারা পদাবলী রচনা করেন। শেখ কবির প্রথম মুসলমান পদকর্তা কবি। এছাড়া আফজাল, শেখ ফয়জুল্লাহ, সৈয়দ আইনুদ্দিন, সৈয়দ মুর্তজা, আলাওল, আলি রজা, কমর আলী, নওয়াজিস, সৈয়দ সুলতান প্রমুখ কবি পদাবলী রচনা করেছেন।
প্রথম মুসলিম গদ্য লেখক(১৮০৮-১৮৭০ খ্রিস্টাব্দ)
খন্দকার শামশুদ্দিন মোহাম্মদ সিদ্দিকী বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম গদ্য লেখক। ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত গদ্য-পদ্যে রচিত খন্দকার শামশুদ্দিন মোহাম্মদ সিদ্দিকীর ‘উচিত শ্রবণ’ গ্রন্থটি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কোনো বাঙালি মুসলামান লিখিত প্রথম গদ্যগ্রন্থ। ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দে তাঁর ‘ভাবলাভ’ নামের একটি কাব্যগ্রন্থ পুস্তকারে প্রকাশিত হয়। সুরতজান তার আরেকটি কাব্যগ্রন্থ। তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম, যিনি একাধারে প্রাবন্ধিক ও কবি হিসেবে সিদ্ধহস্ত ছিলেন। বাংলা সাহিত্যের ২য় মুসলিম গদ্য লেখক মীর মশাররফ হোসেন।
বাঙালী মুসলমান লিখিত প্রথম সামাজিক উপন্যাস
১৮৯১ খ্রিস্টাব্দের ১০ এপ্রিল মুদ্রিত আর্জমন্দ আলী চৌধুরীর লেখা ‘প্রেমদর্পণ’ উপন্যাসটি বাঙালি মুসলমান কর্তৃক বাংলা ভাষায় লিখিত প্রথম সামাজিক উপন্যাস। আর্জমন্দ আলী চৌধুরী ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৩০ বছর বয়সে অন্ধ হয়ে যান। আর্জমন্দ আলী চৌধুরী (১৮৭০-১৯১৪) একাধারে কবি, সংগীতজ্ঞ ও ঔপন্যাসিক ছিলেন।

প্রথম মুসলিম সার্থক গদ্য লেখক
‘বিষাদ সিন্ধু’ (১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দ) গ্রন্থের রচয়িতামীর মশাররফ হোসেন (১৮৪৭-১৯১২ খ্রিস্টাব্দ) বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম সার্থক গদ্য লেখক। ১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দ তাঁর প্রথম গ্রন্থ ‘রত্নাবতী’ প্রকাশিত হয়। এটি মুসলমান রচিত প্রথম সার্থক উপন্যাস। ‘গাজী মিয়াঁর বস্তানী’ মীর মশাররফ হোসেনের বিখ্যাত রস-রচনা। এ গ্রন্থের জন্য তিনি বাংলা সাহিত্যে ‘গাজী মিয়া’ নামে খ্যাত হয়ে আছেন। তিনি ‘আজীবননাহার’ নামক একটি মাসিক পত্রিকা স¤পাদনা করেন। ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত ‘বিবি কুলসুম’ তাঁর শেষ গ্রন্থ।
মধ্যযুগের প্রথম মুসলিম মহিলা কবি
মধ্যযুগের প্রথম মুসলিম মহিলা কবি রহিমুন্নেছা (১৭৬৩-১৮০০ খ্রিস্টাব্দ)। ‘পদ্মাবতী’ কাব্য গ্রন্থের লিপিকার হিসেবেও তিনি খ্যাত।
প্রথম মুসলিম মহাকাব্যকার/ প্রথম মুসলিম কবি ও লেখক
মোহাম্মদ কাজেম আলী কোরেশী বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম মহাকাব্যকার। তাঁর ছদ্মনাম ছিল কায়কোবাদ। ‘মহাশশ্মান’ তাঁর বিখ্যাত মহাকাব্য। অন্যদিকে মধ্যযুগের প্রখ্যাত কবি শাহ মুহাম্মদ সগীর বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি ও প্রথম মুসলিম লেখক।
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসিলম প্রণয়োপাখ্যান লেখক
রোমান্টিক সাহিত্য ধারায় প্রাচীনতম মুসলিম লেখক শাহ মুহাম্মদ সগীর (চতুর্দশ শতকের লেখক) বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রণয়োপাখ্যান ‘ইউসুফ জোলেখা’ কাব্যগ্রন্থের লেখক। তিনি বাংলা সাহিত্যে প্রথম মুসলমান প্রণয়োপাখ্যানকারী হিসেবে খ্যাত এবং ‘ইউসুফ জোলেখা’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রণোয়পাখ্যান।
প্রথম মুসলমান মহিলা ঐতিহাসিক
সম্রাট হুমায়ুনের ভগ্নী গুলবদন বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা মুসলিম ঐতিহাসিক। তিনি তাঁর ভাইয়ের রাজত্বকালের ইতিহাস লিখে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম মহিলা সাহিত্যিক হিসেবে খ্যাত হয়ে আছেন। তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের প্রথম মহিলা ঐতিহাসিক হিসেবেও খ্যাত। তাঁর আগে উপমহাদেশের কোনো মহিলা কোনো ঐতিহাসিক গ্রন্থ লিখেন নি।
পুঁথি সাহিত্যের প্রাচীনতম মুসলিম লেখক
সৈয়দ হামজা পুঁথি সাহিত্যের প্রাচীনতম মুসলিম লেখক। মধ্যযুগের শেষদিকে পুঁথি সাহিত্য রচিত হয়। তিনি জন্ম ১৭৩৩ খ্রিস্টব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
শান্তিপুরের কবি/বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম শিশুপাঠ্য গ্রন্থ রচয়িতা
বাংলা সাহিত্যে মুসলমানদের মধ্যে প্রথম শিশুপাঠ্য গ্রন্থ রচনা করেন শান্তিপুরের কবি হিসেবে খ্যাত কবি মোজাম্মেল হক (১৮৬০-১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দ)। উর্দু সাহিত্যে শিশুপাঠ্য রচনায় ইসমাইল মারাঠির যে অবদান, বাংলা সাহিত্যে শিশুপাঠ্য সাহিত্য রচনার ক্ষেত্রে মুসলমান সমাজে মোজাম্মেল হকেরও অনুরূপ অবদান। তিনি ‘লহরী’ নামক একটি মাসিক কবিতা পত্রিকা স¤পাদন করেন। তাছাড়া কবি মোজাম্মেল হক ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকাও স¤পাদনা করেছিলেন। ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত ‘হযরত মোহাম্মদ’ তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্য।
বাংলা সাহিত্যে প্রথম মুসলিম প্রামাণিক বৈয়াকারণিক
ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বাংলা সাহিত্যে প্রথম মুসলিম প্রামানিক বৈয়াকারণিক। তাঁর লেখা ‘বাংলা ব্যাকরণ’ কোনো বাঙালি মুসলিম লিখিত প্রথম প্রামাণিক ব্যাকরণ। গ্রন্থটি ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
মুসলিম বাংলার ইনস্টিটিউশন এর স্রষ্টা
মৌলানা আকরম খাঁ মুসলিম বাংলার ইনস্টিটিউশন এর স্রষ্টা হিসেবে খ্যাত। ‘মাসিক মোহাম্মদী’ ও ‘দৈনিক আজাদ’ স¤পাদনার মধ্য দিয়ে তিনি মুসলিম বাংলার ইতিহাসে এ ইনস্টিটিউশন গড়ে তুলেন।
সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রথম মুসলমান ওপন্যাসিক
মোহাম্মদ নজিবর রহমান (১৮৭৮-১৯২৩ খ্রিস্টাব্দ) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে সবচেয়ে খ্যাতিমান ও জনপ্রিয় মুসলিম লেখক। তিনি আনোয়ারা, প্রেমের সমাধি, গরীবের মেয়ে, চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমনি, দুনিয়া আর চাইনা, মেহের উন্নিসা প্রভৃতি জনপ্রিয় উপন্যাসের রচয়িতা। অন্যান্য জনপ্রিয় মুসলিম ঔপন্যাসিকদের মধ্যে কাজী এমদাদুল হক, আকবর হোসেন প্রমূখ উল্লেখযোগ্য।
জৈনুদ্দিন ও রসুল বিজয়
জৈনুদ্দিন ছিলেন মধ্যযুগের একজন প্রখ্যাত কবি। সপ্তদশ দশকের দ্বিতীয় দশক হতে শেষ দশক বা ততোধিক কাল পর্যন্ত তিনি জীবিত থেকে সাহিত্য সাধনা করে যান। রসুল বিজয় জৈনুদ্দিনের একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ। ইউসুফ খাঁ নামক জনৈক ভু-স্বামীর আদেশে তিনি পারসি ভাষা হতে ‘রসুল বিজয়’ কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেন।
অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুসলিম সাহিত্যিক-পুলিশ
বিখ্যাত সাহিত্যিক সৈয়দ এমদাদ আলী (১৮৭৬-১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দ) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম পুলিশ যিনি সাহিত্যিক হিসেবেও অপরিমেয় খ্যাতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। ‘তাপসী রাবেয়া’ তার একটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।
মুসলিম স¤পাদিত প্রথম সাময়িক পত্রিকা
১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত ‘সমাচার সভারাজেন্দ্র’ বাংলা সাহিত্য পত্রিকার ইতিহাসে মুসলিম স¤পাদিত প্রথম সাময়িক পত্রিকা
প্রথম মুসলিম ঔপন্যাসিক
সাধারণভাবে মীর মশাররফ হোসেনকে প্রথম মুসলিম গদ্য রচনাকারী হিসেবে গুরুত্ব প্রদান করা হলেও তাঁর পূর্বে গোলাম হোসেনের ‘হাড় জ্বালানী’ এবং খোন্দকার সামশুদ্দিন মোহাম্মদ সিদ্দিকীর(১৮০৮-৭০ খ্রিস্টাব্দ) ‘উচিৎ শ্রবণ’ (১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ) এবং শেখ আজিমদ্দির ‘কড়ির মাথায় বুড়োর বিয়ে’ প্রভৃতি গদ্যগ্রন্থ মীর মশাররফ হোসেনের আগের লেখা। তবে তাঁদের উপন্যাসের মধ্যে উপন্যাসের আদর্শমান পুরোপুরি বিকশিত হয় নি। এজন্য মীর মশাররফ হোসেনকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মুসলিম ঔপন্যাসিক বলা হয়।
প্রথম সার্থক মুসলিম ব্যঙ্গ সাহিত্যিক
প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ আবুল মনসুর আহমদ বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মুসলিম ব্যাঙ্গ সাহিত্যিক। কাজী দীন মুহাম্মদ বাংলা সাহিত্যের আরেক বিখ্যাত ব্যঙ্গ লেখক। ‘গোলক চন্দ্রের আত্মকথা’ তাঁর একটি জনপ্রিয় ব্যাঙ্গ রচনা।
ইকবালের শাকাওয়াত কবিতার প্রথম বঙ্গানুবাদক, আত্মহত্যাকারী মুসলিম কবি
কবি আশরাফ আলী খান ইকবালের শাকাওয়াত কবিতার প্রথম বঙ্গানুবাদ করেন। তিনিই বাংলা সাহিত্যের একমাত্র মুসলিম কবি, যিনি আর্থনীতিক দুরবস্থা ও পারিবারিক অশান্তির কারণে আত্মহত্যা করেছিলেন।
পর্দাপ্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী প্রথম মুসলিম ওপন্যাসিক
কাজী এমদাদুল হক (১৮২-১৯২৬ খ্রিস্টাব্দ) প্রথম মুসলিম লেখক যিনি সুনিপন লেখনী ও বক্তব্যের মাধ্যমে পর্দাপ্রথার বিরুদ্ধে প্রথম সোচ্চার আন্দোলন শুরু করেছিলেন। তিনি তাঁর বিখ্যাত ‘আবদুল্লাহ্’ উপন্যাসের মাধ্যমে পর্দাপ্রথার বিরুদ্ধে প্রথম কলম ধরেছিলেন। তাঁকে বাংলা সাহিত্যে পর্দাপ্রথার বিরুদ্ধে প্রথম আন্দোলনকারী বলা হয়।
মুসলমান রচিত প্রথম সার্থক উপন্যাস ও প্রথম সার্থক নাটক
১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত মীর মশাররফ হোসেনের প্রথম উপন্যাস ‘রত্নাবতী’ মুসলমান রচিত প্রথম সার্থক উপন্যাস। ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত মীর মশাররফ হোসেনের ‘বসন্ত কুমারী নাটক’ মুসলমান রচিত প্রথম নাটক। তাঁর লিখিত দ্বিতীয় নাটক ‘জমিদার দর্পণ’। ‘জমিদার দর্পণ’ মুসলমান লিখিত দ্বিতীয় নাটক হিসেবেও খ্যাত। গ্রন্থটি ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়।

মুসলমান রচিত প্রথম সার্থক প্রহসন
১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত মীর মশাররফ হোসেন রচিত ‘এর উপায় কি’ নামক প্রহসন গ্রন্থটি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কোনো মুসলমান রচিত প্রথম সার্থক প্রহসন।

মুসলমান রচি প্রথম পাকপ্রণালী গ্রন্থ
সুধাকর দলের প্রবর্তনকারীদের অন্যতম মুন্সী মোহাম্মদ রেয়াজুদ্দিন আহমদ (১৮৬২-১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দ) লিখিত ‘মোসলেম পাকপ্রণালী’ গ্রন্থটি মুসলমান লিখিত পাকপ্রণালীর বিবরণ সম্বলিত প্রথম গ্রন্থ। গ্রীস তুরস্ক যুদ্ধ, তোহফাতুল মুসলেমিন, কৃষক বন্ধু (কাব্য), হযরত মোহাম্মদ মোস্তফার জীবনচরিত, আমার সংসার জীবন প্রভৃতি তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।
মুসলমান রচিত প্রথম পত্ররচনা শিক্ষাগ্রন্থ
ইসলাম ধর্ম প্রচারে মুন্সী মেহেরুল্লাহর সহকর্মী মুন্সি মোহাম্মদ জমিরুদ্দিন (১৮৭০-১৯৩০ খ্রিস্টাব্দ) রচিত ‘বিশুদ্ধ খতনাম’ গ্রন্থটিই কোনো মুসলমান লিখিত প্রথম পত্ররচনা শিক্ষা গ্রন্থ।
নওয়াব উপাধি প্রাপ্ত প্রথম মুসলিম মহিলা সাহিত্যিক
সারা বাংলাদেশে নওয়াব ফয়জুন্নেসাই (১৮৫৮-১৯০৩ খ্রিস্টাব্দ) একমাত্র মহিলা যিনি নওয়াব খেতাবে ভূষিত হয়েছিলেন। ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত ’রূপজালাল’ নামক আত্মজীবনী গ্রন্থটি নওয়াব ফয়জুন্নেসার একমাত্র গ্রন্থ।
অনগ্রসর মুসলমান সমাজের নবজাগরনের উদ্যোগ
মওলানা আকরম খাঁ (১৮৬৯-১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দ) কে অনগ্রসর মুসলমান সমাজের নবজাগরনের উদ্যোক্তা বলা হয়। তিনি ছিলেন একাধারে রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।
শিক্ষাবিদ, দাবাড়ু, সঙ্গীতঙ্গ ও বিজ্ঞানী সাহিত্যিক
বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের অন্যতম প্রবক্তা ডঃ কাজী মোতাহার হোসেন (১৮৯৭-১৯৮১) ছিলেন একাধারে সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ, দাবাড়ূ, সঙ্গীতজ্ঞ ও বিজ্ঞানী। প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি সমান দক্ষ ও খ্যাতিমান ছিলেন।
বাংলা সাহিত্যে প্রথম মুসলিম ব্যারিস্টার সাহিত্যিক
এস ওয়াজেদ আলী বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম ব্যারিষ্টার সাহিত্যিক। প্রথমে আইনজীবী হিসেবে পেশা শুরু করলেও পরে প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিযুক্ত হন। ‘গুলিস্তান’ নামে তিনি একটি মাসিক পত্রিকা স¤পাদনা করেন। ‘ভবিষ্যতের বাঙ্গালী’তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ।
মওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী
১৮৭৫ খ্রিস্টব্দে চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ উপজেলার অন্তর্গত আড়ালিয়া গ্রামে মওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী জন্মগ্রহণ করেন। চট্টগ্রামের অপর নাম ইসলামাবাদ। সে হিসেবে তিনি ইসলামাবাদী। তিনি ছিলেন অবিভক্ত ভারতের ‘জমিওতে ওলামায়ে হিন্দের’ প্রতিষ্ঠাতা। ‘ভারতে মুসলিম সভ্যতা’ তাঁর শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ। ‘মিহির ও সুধাকর’ এ লিখে তিনি সাহিত্যিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পান। ইসলামাবাদী প্রথমে সাপ্তাহিক ‘সোলতান এবং পরে দৈনিক ‘সোলতান’ এর স¤পাদক হন। তিনি ১২২৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি দৈনিক ‘আমীর’ নামে একটি পত্রিকা স¤পাদনা ও প্রকাশ করেছিলেন।
ভাষাবিদ পণ্ডিত
উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ ভাষাবিদ হিসেবে খ্যাত ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ (১৮৮৫-১৯৯৬৯) ভাষাবিদ পণ্ডিত। গবেষণা গ্রন্থ, গল্প, অনুবাদ, শিশুসাহিত্য, স¤পাদনা ইত্যাদি বিষয়ে তিনি মৌলিক প্রতিভার সাক্ষর রেখেছেন। ‘বাংলা সাহিত্যের কথা’ (১ম ও ২য় খণ্ড) এবং ‘বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত’, ‘ভাষা ও সাহিত্য’, ‘বাংলা ব্যাকরণ’, ‘আমাদের সমস্যা’ ইত্যাদি তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ। ইঁফফরংঃ গুংঃরপ ঝড়হমং চর্যাপদের উপর করা তাঁর একটি গবেষণা গ্রন্থ।
শ্রেষ্ঠ পুথি সংগ্রাহক
বাংলা সাহিত্যের মুসলিম গবেষণার অগ্রদূত আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ (১৮৬৯-১৮৫৩) মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য স¤পর্কে আটশ ত্রিশটি প্রবন্ধ লিখেছেন। তিনি তাঁর একক ও ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় প্রায় আড়াই হাজার হাতে লেখা পুঁথি সংগ্রহ করে বাংলা সাহিত্যকে অবিশ্বাস্য সম্ভারে সমৃদ্ধ করে গেছেন। মুসলামান সমাজ, সাহিত্য ও ঐতিহ্যপ্রীতি স¤পর্কে নিরলস অনুসন্ধানের অভাবনীয় সাফল্যের মাধ্যমে আবদুল করিম সাহিত্যবিশারাদ বাংলা সাহিত্যে মুসলামনদের ললাটে যে ঐতিহ্য ও গর্বের জয়টীকা পড়িয়েছেন তা তিনি না করলে হয়ত কোনোদিন জানা সম্ভব হত না।
শেখ আবদুল লতিফ
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও মীর মশাররফ হোসেনের সমকালীন লেখকদের মধ্যে আবদুল লতিফ ছিলেন যথেষ্ট উদার, প্রতিবাদী এবং স্বাধীন চিন্তাাধারার অধিকারী। বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে তিনিই প্রথম ‘দেশের কাজ বিদেশি ভাষায় স¤পাদন’ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ শুরু করেছিলেন। ‘মানব সংস্কারক’ বা ‘সংসার ধর্ম’ তার একমাত্র প্রবন্ধ গ্রন্থ।

error: Content is protected !!