বাংলা ভাষা,  বাংলা সাহিত্যের  প্রথম ও প্রধান, বাংলা সাহিত্যের কথা, একনজরে বাংলা সাহিত্য, বিসিএস বাংলা  সাহিত্য, সাধারণ জ্ঞান

দশম অধ্যায়
গীতিকবিতা

বাংলা সাহিত্যের ছন্দের রাজা ও ছন্দের যাদুকর
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তকে বাংলা সাহিত্যের ছন্দের রাজা এবং ছন্দের যাদুকর বলা হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে এ উপাধি প্রধান করে অসাধারণ ছন্দ প্রতিভার স্বীকৃতি প্রদান করেছিলেন।
বাংলা সাহিত্যের “ঞযব গবষড়ফু ড়ভ ঃযব অমব”
হেমচন্দ্রকে বাংলা সাহিত্যের ‘ঞযব গবষড়ফু ড়ভ ঃযব অমব’ বলা হয়। ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত ‘চিন্তাতরঙ্গিনী’ তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
বাংলা সাহিত্যের সমাজসচেতন কবি
কবি বিষ্ণু দে (১৯০৯-১৯৮২ খ্রিস্টাব্দ) বাংলা সাহিত্যের সমাজসচেতন কবি নামে পরিচিত। তিনি চিন্তাাধারায় ছিলেন মাক্সবাদী।
বাংলা সাহিত্যের প্রাকৃতিক কবি
কবি জীবনান্দ দাশ (১৯০৯-১৯৮২ খ্রিস্টাব্দ) বাংলা সাহিত্যে প্রকৃতির কবি নামে খ্যাত।
বাংলা সাহিত্যের ভিক্টর হুগো/শেলি ও ছোটগল্পের স্রষ্টা
রবীন্দ্রনাথকে বাংলা সাহিত্যের ভিক্টর হুগো বলা হয়। রবীন্দ্রনাথ বাংলা সাহিত্যের ছোট গল্পের স্রষ্টা হিসেবেও খ্যাত। তাঁকে বাংলা সাহিত্যে কাব্যজগতের শেলী বলা হয়।
বাংলা গীতি কবিতার ভোরের পাখি
বিহারীলাল চক্রবর্তী (১৮৩৫-১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দ) বাংলা সাহিত্যের গীতি কবিতার প্রবর্তক। তাঁকে বাংলা গীতি কবিতার ভোরের পাখি বলা হয়। তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ‘বিশুদ্ধকবি’ হিসেবেও খ্যাত। সঙ্গীতশতক (১৮৬২ খ্রিস্টাব্দ) বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম কাব্যগ্রন্থ। ‘সারদামঙ্গল’ (১৮৭৯ খ্রিস্টাব্দ) তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ।
বাংলা সাহিত্যে রোমান্টিক আখ্যায়িকা কাব্য ও গাথা কবিতা রচনার ধারার প্রবর্তক
অক্ষয়চন্দ্র চৌধুরী (১৮৫০- ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দ) বাংলা সাহিত্যে রোমান্টিক আখ্যায়িকা কাব্য ও গাথা কবিতা রচনার ধারার প্রবর্তন করেন। উল্লেখ্য তাঁর প্রভাবে রবীন্দ্রনাথ কাহিনীকাব্য রচনায় অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন।
ভাওয়ালের কবি/স্বভাব কবি
বাংলা সাহিত্যের স্বভাব কবি হিসেবে খ্যাত গোবিন্দ চন্দ্র দাস (১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দ- ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দ) ভাওয়ালের কবি হিসেবে পরিচিত।
বাংলা ভাষায় প্রথম শোককাব্য
বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম শোককাব্য বা ঊষবমু ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যা সাগরের ‘প্রভাবতী সম্ভাষণ’। গ্রন্থটির পূর্বে বাংলা সাহিত্যে কোনো শোককাব্য ছিল না।
কবি গানের আদি গুরু
কবি গোঁজলা গুঁই কবি গানের আদি গুরু এবং আদি কবি হিসেবে খ্যাত। লালুন্দনাল, রঘুনাথ দাস ও রাম জীবন তাঁর তিন প্রখ্যাত শিষ্য।
কবি গানের শেষ ও শ্রেষ্ঠ প্রতিনিধি
কবি রামবসু (১৭৮৬-১৮২৮ খ্রিস্টাব্দ) কে কবি গানের শেষ ও শ্রেষ্ঠ প্রতিনিধি বলা হয়।
বাংলা টপ্পা গানের জনক
নিধু বাবু বা রামনিধি গুপ্ত (১৭৪১-১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দ) বাংলা টপ্পা গানের জনক। উল্লেখ্য যে, টপ্পা গান হতে আধুনিক গীতি কবিতার সূত্রপাত। সে হিসেবে তাঁকে গীতি কবিতার উৎসমূল বলা যায়।
পাঁচালী গানের পথিকৃৎ
দাশু রায় নামে খ্যাত দাশরথি রায় (১৮০৬ খ্রিস্টাব্দ-১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দ) কবি গানের যুগে পাঁচালি গান নামে ভিন্ন ধারার এক ধরণের গানের পথিকৃৎ হিসেবে খ্যাত।
পল্লী প্রকৃতির সহৃদয় রূপায়নকারী
শ্রীশচন্দ্র মজুমদার (১৮৬০-১৯০৮ খ্রিস্টাব্দ) বাংলা সাহিত্যে বাংলা পল্লী প্রকৃতির সহৃদয় রূপায়নকারী হিসেবে খ্যাত। তাঁর রচিত ফুলজানী (১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দ) দৈনন্দিন জীবনের মমতার অবিস্মরণীয় আলেখ্য হিসেবে খ্যাত।
মহাকাব্য রচনার উল্লেখযোগ্য শেষ প্রচেষ্টা
যোগীন্দ্রনাথ বসু (১৮৫৪-১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ) রচিত কাব্যগ্রন্থ পৃথ্বিরাজ (১৯১৫ খ্রিস্টাব্দ ) ও শিবাজী (১৯২১ খ্রিস্টাব্দ) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে মহাকাব্য লেখার শেষ প্রচেষ্টা হিসেবে খ্যাত।
ব্রজবুলি ভাষায় লিখিত বিখ্যাত গ্রন্থ
ভানু সিংহের পদাবলী ব্রজবুলি ভাষায় লিখিত বিখ্যাত গ্রন্থ।
আধুনিকতার লক্ষণাক্রান্ত কবি/হাস্যরসের স্রষ্টা
ইশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দ) বাংলা সাহিত্যের প্রথম পরিবেশ সচেতন কবি। তাঁকে আধুনিকতার লক্ষণাক্রান্ত প্রথম কবি বলা হয়। বাংলা সাহিত্যে তাঁকে হাস্যরসের স্রষ্টাও বলা হয়।
স্বদেশ প্রেম ও স্বাধীনতা প্রীতির কবি
রঙ্গলাল বন্দোপাধ্যায় (১৮২৭-১৮৮৬) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে প্রথম দেশাÍবোধক কাব্যে পাশ্চাত্য সাহিত্যাদর্শের রোমান্টিক ভাবধারার প্রয়োগ করেন। ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত ‘পদ্মিনী উপাখ্যান’ রঙ্গলাল বন্দোপাধ্যায়ের প্রথম কাব্যগ্রন্থ। পদ্মিনী উপাখ্যান এর রচয়িতা হিসেবে তাঁকে ‘স্বদেশ প্রেম ও স্বাধীনতা প্রীতির’ কবি বলা হয়।
বাংলা সাহিত্যের রুশো
বাংলা সাহিত্যের রুশো নামে খ্যাত জীবনান্দ দাস। তাঁকে নির্জন কবি বলা হয়। তিনি ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দের ১৭ ফ্রেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। ‘বনলতা সেন’ জীবনান্দ দাসের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ। অনেকে ‘বনলতা সেন’ কাব্যগ্রন্থটিকে একবিংশ শতকের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ বলে অভিহিত করেছেন।
কয়েকজন কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ
ফররুখ আহমদের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ (১৯৪৫)। আহসান হাবিবের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রাত্রি শেষ’ (১৯৬৪)। আবুল হোসেনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘নববসন্ত (১৯৪২)। সৈয়দ আলী আহসানের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘মহাসচকিত’ (১৯৬৬)। শামসুর রাহমানের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে’ (১৩৬৬বাংলা)। আল মাহমুদের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘লোকলোকান্তরে’। মোহাম্মদ মনিরুজ্জমানের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘দুর্লভ দিন’ (১৯৬১)। বিহারী লালের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘বঙ্গসুন্দরী’, তাঁকে বাংলা সাহিত্যের গীতি কবিতার ভোরের পাখী বলা হয়। অক্ষয় কুমার বড়ালের প্রথম কাব্য গ্রন্থ ‘প্রদীপ। মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘জুলেখার মন’। রফিক আজাদের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘অসম্ভবের পায়ে’ যা ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়। দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘আর্য গাঁথা’ যা ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়।

error: Content is protected !!