বাংলা শব্দের পৌরাণিক উৎস সম্পূর্ণ বই, এক মলাটে বাংলা শব্দের পৌরাণিক উৎস পিডিএফ

ড. মোহাম্মদ আমীন

বাংলা শব্দের পৌরাণিক উৎস

চতুর্থ অধ্যায়
উ ঊ ঋ

উদর
‘উদর’ শব্দের অর্থ পেট, জঠর, অভ্যন্তর বা গর্ভ। এর মূল অর্থ কিন্তু ‘পেট’ ছিল না। সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত ‘উদর’ শব্দটির অর্থ ‘যা থেকে বায়ু নির্গত হয়’। এঁদো পুকুর, পচা ইঁদারা, গোবরস্তূপসহ আরও অনেক কিছু থেকে বায়ু নির্গত হতে পারে। বিজ্ঞানে এ বায়ুকে গ্যাস বলা হয়। অবশ্য বিজ্ঞানের বদৌলতে পেট থেকে নির্গত বায়ুও ইদানীং গ্যাস পরিচিতি পেয়ে জাতে উঠে গিয়েছে। তবে একসময় পেট থেকে নির্গত গ্যাসকে বায়ু বলা হতো। কবিরাজগণ এখনও তা বলে থাকেন। বিভিন্ন কারণে পেট থেকে নানান শব্দে বৈচিত্র্যময় গন্ধ সহযোগে কোনোরূপ পূর্ব-ঘোষণা ছাড়া অহরহ গ্যাস নির্গত হয়। বহু কষ্টেও বিব্রতকর এ উদ্গীরণ গোপন রাখার চেষ্টা ব্যর্থ হয়। বস্তুত এ বায়ু নির্গমন কাহিনি থেকে পেটের প্রতিশব্দ হিসাবে সংস্কৃত ‘উদর’ শব্দের বাংলায় আগমন। প্রসঙ্গক্রমে, বাংলায় ব্যবহৃত ‘পেট’ কিন্তু মারাঠি ‘পোট’ শব্দের পরিবর্তিত রূপ।

উদগ্র
‘উদগ্র’ শব্দের আভিধানিক অর্থ উৎকট, ভয়ানক, প্রচণ্ড, সাংঘাতিক। এটি একটি নেতিবাচক ধারণা। উদগ্র বাসনা, উদগ্র চিন্তা, উদগ্র লালসা প্রভৃতি বহুল প্রচলিত নেতিবাচক শব্দ। ‘উদগ্র’ সংস্কৃত শব্দ। এর মূল অর্থ ‘যার অগ্রভাগ উপর দিকে ঠেলে উঠেছে’। কিন্তু বাংলায় এসে শব্দটি তার আদি অর্থ হারিয়ে ভয়ানক এক বিপর্যয়কর অর্থ ধারণ করেছে। উপরদিকে ঠেলে ওঠা যেমন ভয়ানক, তেমনি যে বা যিনি ওঠেন তিনিও ভয়ানক হয়ে যেতে পারেন হয়তো এ অর্থে বাংলার উদগ্র এমন উৎকট অর্থ ধারণ করেছে।

উদাত্ত
উদাত্ত শব্দের আভিধানিক ও প্রচলিত অর্থ উচ্চ, গম্ভীর, গমগমে প্রভৃতি। এটি সংস্কৃত হতে আগত একটি গুণবাচক শব্দ। সংস্কৃত ভাষায় এর অর্থ ছিল মহান, উদার, দাতা, বিশাল, দীর্ঘ প্রভৃতি। কিন্তু বাংলায় এসে অন্য অনেক শব্দের ন্যায় উদাত্ত শব্দটাও তার মূল অর্থ হারিয়ে ফেলেছে। তবে মূল অর্থ হারিয়ে ফেললেও অন্তর্নিহিত প্রায়োগিক অর্থ অভিন্ন রয়ে গেছে। যেমন কাউকে কোনো কিছু করার জন্য যখন উদাত্ত আহ্বান জানানো হয় তখন শব্দটির অর্থ সংস্কৃত ‘উদাত্ত’ শব্দের অনুরূপই থেকে যায়। প্রকৃতপক্ষে যা উদার, মহান, বিশাল তা গম্ভীর, উচ্চ ও গমগমে হয়।

উদোর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে/উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে
প্রবাদ বাক্যটির অর্থ হচ্ছে একের দোষ অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়া। জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাসের ‘বাঙ্গালা ভাষার অভিধান’, প্রথম ভাগ, দ্বিতীয় সংস্করণের দশম মুদ্রণ (জানুয়ারি ২০১১ খ্রিস্টাব্দ) থেকে পাওয়া যায় : “সম্বন্ধ-নির্ণয় নামক কুলগ্রন্থ মতে উৎসাহ মুখোপাধ্যায়ের সংক্ষিপ্ত নাম ‘উধো’। …উৎসাহ মুখোপাধ্যায়ের (উধোর) পত্নীর সহিত যোগেশ পণ্ডিতের (বুধোর) অবৈধ প্রণয় জন্মে, দৈবকীনন্দন তাদের এ অবৈধ প্রণয়জাত সন্তান।” উধোর মৃত্যুতে দৈবকীনন্দন উধোর নামে পিণ্ডদান করিলে বুধ যোগেশ বীজী অধিকারে তাহা পেয়েছিলেন। যথা : “যোগেশের উপজায়া প্রসবিল যোগ ছায়া দৈবকীনন্দন উধোর পত্নী।” “পঞ্চানন নুলো কয় দৈবদত্ত পিণ্ডচয়, ক্ষেত্রী বীজী কেহ নাহি ছাড়ে। পণ্ডিতের বুধ খ্যাতি নহ্যমুলা জনশ্র“তি, উদোর পিণ্ডি পড়ে বুধোর ঘাড়ে।” সম্বন্ধ-নির্ণয়। যোগেশ বুধ বা পণ্ডিতের নামের অনুপ্রাস ঘটাবার জন্য বুধ শব্দটি থেকে এসেছে বুধো বা বুদো। ‘বুধ’ শব্দটির অন্যতম অর্থ পণ্ডিত, বিদ্বান, জ্ঞানী, প্রতিভাধর ব্যক্তি।

উদ্বেল
‘উদ্বেল’ শব্দের প্রচলিত ও আধুনিক অর্থ হলো : উচ্ছলিত, উচ্ছ্বাসময়, আকুলিত প্রভৃতি। এটি সংস্কৃত শব্দ। সংস্কৃত ভাষায় এর অর্থ বেলাভূমি অতিক্রান্ত, কূলাতিক্রান্ত। এটি নদ-নদীর নামের একটি উত্তম বিশেষণ। বেলাভূমি নদ-নদীর সীমা। এ সীমা অতিক্রম করাই হলো উদ্বেল। অর্থাৎ কূল প্লাবিত করে ভেসে যাওয়া বা ভাসিয়ে দেওয়াকে উদ্বেল বলা হয়। তবে বাংলা উদ্বেল-এর সঙ্গে সংস্কৃত ‘উদ্বেল’-এর অর্থের কোনো মিল নেই। হৃদয়াবেগ তথা প্রেম, বিরহ, প্রণয়, স্নেহ, বাৎসল্য, শোক, আনন্দ, দুঃখ, কষ্ট প্রভৃতি প্রকাশের জন্য শব্দটি প্রয়োগ করা হয়। নদী যেমন উদ্বেল হয়ে গেলে অনুভূতির প্রাবল্যে কোনো কিছু চিন্তা না-করে দুকূল ছাপিয়ে সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে যায়, তেমনি মানুষের হৃদয় উদ্বেল হয়ে উঠলে নদীর মতো বাঁধভাঙা স্রোতের ন্যায় প্রমত্ত আচরণ শুরু করে। এ জন্য হয়তো সংস্কৃত নদীর উদ্বেল বাংলা ভাষায় এসে হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে। এ হিসাবে বাংলা ভাষা সংস্কৃতের চেয়ে অনেক বেশি মননশীল ও প্রকাশ-বান্ধব।

উদ্ভট
বাংলায় ‘উদ্ভট’ শব্দটির আভিধানিক অর্থ আজগুবি, উৎকট, অসম্ভব, বেমানান, পাপিষ্ঠ প্রভৃতি। শব্দটি মূলত পরস্পর নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়। উদ্ভট সংস্কৃত শব্দ। সংস্কৃত ভাষায় শব্দটি মহাশয়, মহাত্মা, উদার, দুর্মদ, দুর্ধর্ষ, শ্রেষ্ঠ, প্রকৃষ্ট, উৎকৃষ্ট, মহান প্রভৃতি ইতিবাচক অর্থ বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। অথচ বাংলায় এসে শব্দটি সম্পূর্ণ নেতিবাচক অর্থ ধারণ করেছে। সমাজের নিচুস্তরের লোকেরা অপেক্ষাকৃত উঁচুস্তরের লোকদের আচরণকে উদ্ভট মনে করে। শহুরে শিক্ষিত রমণীদের পোশাক-পরিচ্ছদ ও চালচলন গ্রামের নারীদের কাছে উদ্ভট; আবার অভিনয়-শিল্পীদের আচরণ শহুরে শিক্ষিত রমণীদের কাছেও উদ্ভট; অন্যদিকে বাংলাদেশের অভিনয়-শিল্পীদের কাছে পশ্চিমা দেশেগুলোর অভিনেত্রীর পোশাক-পরিচ্ছদ উদ্ভট। আদিবাসীদের জীবনযাত্রা সমতলবাসীদের কাছে উদ্ভট, আবার সমতলবাসীদের জীবনযাত্রা আদিবাসীদের কাছে উদ্ভট। বানর না কি মানুষের দুপায়ে হাঁটাকে উদ্ভট ভেবে মুখ ভেঙচায়। সুতরাং দেখা যায়, মহাশয়, মান্যবর, দুর্ধর্ষ ও শ্রেষ্ঠগণের আচরণ সবসময় অপেক্ষাকৃত উঁচু ও নিচুস্তরের সাধারণ মানুষের কাছে আজগুবি, উৎকট, পাপময় ও বেমানান। তাই সংস্কৃত মহাশয়, মান্যবর, শ্রেষ্ঠ ও দুর্ধর্ষ বাংলায় এসে আজগুবি, উৎকট ও বেমানান রূপ ধারণ করে আদি অর্থকে বিলোপ করে দিয়েছে।

উদ্ভিন্ন যৌবনা
‘উদ্ভিন্ন যৌবনা’ বাগ্্ভঙ্গিটির অর্থ চমৎকার, আকর্ষণীয়, সদ্য যৌবনপ্রাপ্ত, নতুন, হৃদয়গ্রাহী প্রভৃতি। ১. উদ্ভিন্ন [উৎ = ভিদ্ (ভেদ করা, প্রকাশ পাওয়া) + ত (র্ম্ম = ক্ত = ন্ন)] বিণ, অঙ্কুরিত। ২. প্রকাশিত; প্রস্ফুটিত; বিকশিত। ‘উ’ যৌবন। ৩. প্রকটিত। ৪. পৃথক্কৃত। ৫. [র্ত্তৃ = ত] যা ভেদ করিয়া উঠিয়াছে। জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাসের ‘বাঙ্গালা ভাষার অভিধান’-ভুক্তি উদ্ভিন্ন থেকে উদ্ধৃত। যে সব উদ্ভিদ সদ্য ভূমি থেকে কচি-সবুজ ডগা নিয়ে মাথা তুলে দাঁড়ায় তা যেমন দেখতে সুন্দর তেমনি সদ্যজাত বস্তু সবার কাছে প্রিয় ও আকর্ষণীয়। অনুরূপভাবে, নতুন যৌবনপ্রাপ্ত নারী-পুরুষও আকর্ষণীয় সৌন্দর্য ও অপরূপ দেহবল্লরীর অধিকারী। তাই ‘উদ্ভিন্ন যৌবনা’ বাগ্্ভঙ্গি দিয়ে সুন্দরী রমণীকে প্রকাশ করা হয়।

উন্নতি ও উন্নয়ন
‘উন্নতি’ ও ‘উন্নয়ন’ নিয়ে আজকাল অনেক কথা হচ্ছে। বাংলা ভাষার কথা বললেও এখন আমরা বাংলা শব্দের মানে বুঝি ইংরেজিতে। ইংরেজিতে ‘উন্নতি’ যা, ‘উন্নয়ন’ও তাই ‘ফবাবষড়ঢ়সবহঃ’। কিন্তু বাংলায় শব্দ দুটির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আমাদের ভাষাস্রষ্টা-পূর্বপুরুষেরা একটি বিষয়কে বোঝাতে দুটি শব্দ খরচ করতেন না। তাঁদের কাছে শব্দ দুটোর পৃথক অর্থ ছিল। সে কারণে তাঁরা ‘উন্নয়ন’ শব্দটি তৈরি করেছিলেন ‘নী’ (আনয়ন) ক্রিয়া দিয়ে; এবং ‘উন্নতি’ শব্দটি তৈরি করেছিলেন ‘নম্’ (নত হওয়া) ক্রিয়া দিয়ে। তার মানে, খেটে-খুঁটে অর্জন বাড়িয়ে নিজেকে বা নিজেদেরকে উপরে তুলে আনতে পারলে ‘উন্নয়ন’ হয়। কিন্তু ‘উন্নতি’ হয় কারও ‘নত হওয়া’-র ওপর নির্ভর করে। অন্যেরা নত হলে তবে একজন উঁচুতে উঠেছে বলে প্রতীয়মান হয়। তাই ‘উন্নতি’র জন্য অর্জন বৃদ্ধির পরিশ্রম করতে হয় না, অন্যদের ‘নত হওয়া’র ব্যবস্থা করলেই চলে। বড় হওয়ার অন্তত দুটি পথের কথা আমাদের পূর্বপুরুষেরা জানতেন এবং সেই দুটি পথকে চিহ্নিত করে দুটি পৃথক শব্দ তাঁরা তৈরি করেছিলেন। এখন অনেকে ‘উন্নয়ন’ ও ‘উন্নতি’কে গুলিয়ে ফেলেছে। আসলে শব্দ-দুটোর অর্থ অভিন্ন নয়।

উপনিষদ
‘উপনিষদ’ সংস্কৃত শব্দ। সংস্কৃত উপনিষদ্ শব্দের ব্যুৎপত্তি হচ্ছে : উপ- (কাছে), নি- (সঠিক জায়গায়, নিচে) এবং ষদ্- (বসা) এ তিনটি শব্দাণুর সমষ্টি। যার অর্থ : কাছে নিচু আসনে বসা বা শিক্ষালাভের উদ্দেশ্যে গুরু বা শিক্ষকের কাছে নিচু আসনে এসে বসা। আবার অনেকের মতে, এর অর্থ : গুরুর পদতলে বসা বা গুরুর শরণাগত হওয়া। উপনিষদ মূলত বেদের শিরোভাগ। তাই এর অপর নাম বেদান্ত। এটি হিন্দুধর্মের বিশেষ ধর্মগ্রন্থের সমষ্টি। এ গ্রন্থসমূহে হিন্দুধর্মের তাত্ত্বিক ভিত্তি আলোচিত হয়েছে।
হিন্দুদের বিশ্বাস, উপনিষদ্সমূহে ব্রহ্মের প্রকৃতি এবং মানুষের মোক্ষ বা আধ্যাত্মিক মুক্তি লাভের উপায় বিধৃত আছে। দুশোরও বেশি উপনিষদের কথা জানা যায়। তন্মধ্যে প্রথম বারোটিই প্রাচীনতম এবং সর্বাধিক গুরুত্ববহ। এগুলোকে ‘মুখ্য উপনিষদ’ বলা হয়। ভগবদ্গীতা, ব্রহ্মসূত্র এবং মুখ্য উপনিষদসমূহকে একত্রে প্রস্থানত্রয়ী বলা হয়। ঐতিহাসিকদের মতে, মুখ্য উপনিষদসমূহ প্রাক-বৌদ্ধ যুগ থেকে শুরু করে খ্রিস্টীয় প্রথম সহস্রাব্দের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পর্বে বিভিন্ন লেখকদের দ্বারা রচিত। এ সকল রচয়িতাদের মধ্যে কৌশীতকী, ঐতরেয়, ছান্দোগ্য, কেন, তৈত্তিরীয় এ বারোখানি প্রামাণ্য বলে গণ্য। অপ্রধান উপনিষদসমূহ মধ্যযুগ ও প্রাক-আধুনিক যুগে রচিত হয়েছে। ব্রিটিশ কবি মার্টিন সেমোর-স্মিথ উপনিষদসমূহকে ‘সর্বকালের ১০০টি প্রভাবশালী গ্রন্থের’ তালিকায় স্থান দিয়েছেন। উপনিষদের দর্শনের সঙ্গে প্লেটো ও কান্টের দর্শনের মিল রয়েছে। বিভিন্ন সময় মুনি-ঋষিগণ উপনিষদ রচনা করেন।

উপ-পুরাণ
নানা মুনি রচিত অষ্টাদশ ক্ষুদ্র পুরাণ ‘উপ-পুরাণ’ নামে পরিচিত। মুনিদের মধ্যে আদি, নৃসিংহ, বায়ু শিবধর্ম, দুর্বাসাঃ, নারদ, নন্দিকেশ্বর, উশনঃ, কপিল, বরুণ, শাম্ব, কালিকা, মহেশ্বর, পদ্ম, দেব, পরাশর, মরীচি, ভাস্কর প্রমুখ উল্লেখযোগ্য।

উর্বশী
পুরাণ মতে উর্বশী হচ্ছে স্বর্গের অপরূপ লাবণ্যময়ী অপ্সরা। তাঁর জন্ম সম্পর্কে নানা মত রয়েছে। কেউ বলেন তিনি নারায়ণের ঊরু ভেদ করে নির্গত হয়েছিলেন। অধিকাংশের অভিমত, তিনি সমুদ্রমন্থনকালে অন্যান্য অপ্সরার সঙ্গে উত্থিত হয়েছিলেন। উর্বশী সাতজন মুনির সৃষ্টি এ কথাও প্রচলিত আছে। তবে এখনও উর্বশী বললে সুন্দরী রমণীকেই বোঝায়।

 

শুবাচ গ্রুপের সংযোগ: www.draminbd.com
শুবাচ যযাতি/পোস্ট সংযোগ: http://subachbd.com/

error: Content is protected !!